হান্ড্রেড ফেসেস অফ উইমেন

Hundred Faces Of Women

Author: শাপলা সপর্যিতা
Cover By: মুক্তিরাম মাইতি, কলকাতা
ISBN: প্রথম প্রকাশ- ৯৭৮-৯৮৪-৯৫২১০-০-৬, দ্বিতীয় প্রকাশ- ৯৭৮-৯৮৪-৯৬২৪৪-৯-৩
Publish Date: প্রথম প্রকাশ ১৪-০২-২০২১, দ্বিতীয় প্রকাশ ১৪-০৩-২০২২

$ 2.43

25% Off
Close
Price Summary
  • $ 3.24
  • $ 2.43
  • 25%
  • $ 2.43
  • Overall you save $ 0.81 (25%) on this product
In Stock
Highlights:
ভূমিকা – দ্বিতীয় মুদ্রণ
একটি বছর পার হতে না হতেই আমার মতো দল-মত-সংঘ-সংগঠনের বাইরে একা দাঁড়িয়ে ঘরের কোণে ধ্যানে বসা একজন লেখকের লেখার প্রথম মুদ্রণ শেষ হয়ে যাবে, দ্বিতীয় মুদ্রণে যেতে হবে প্রকাশককে, এই ঘটনাটা যেন আমার জন্য অভাবিত। তবু সুন্দর। উৎসাহ দেবার মত ঘটনা।
আত্মজৈবনিক লেখার জন্য নাকি যথেষ্ট বয়স লাগে। আর ঝুলিতে থাকা লাগে দেশ-পৃথিবীজুড়ে থাকা কিছু সফলতার গল্প! কিন্ত আমার তো তা নাই। আমার বয়স জীবনের হিসাবে যতই হোক আমার সঞ্চয়ে আছে কিছু ব্যর্থতা, আছে অপমান, আছে অন্যায়ের নিচে পদদলিত হবার গল্প। আমি জীবন জীবন প্রেমের তাপসী। সাধ্বী নারীর মতই বন্দনা করেছি প্রেমের দেবতাকে। মাত্রার বাইরে গিয়ে তার জন্য কিছু করার দায়িত্ব ও তাগিদ অনুভব করেছি বার বার। তাই এই দায়ের ভিতরে পড়েছে প্রেমিক, পড়েছে ভাই, পড়েছে বোন, পড়েছে অন্য কোনো নারী। কিন্তু আসলে এই সমাজে পরিবারে পৃথিবীতে যার যতটুকু কাজ তাকে ততটুকুই করতে দিতে হবে বা করিয়ে নিতে হবে। তাই করতে দেইনি বা করিয়ে নিতে পারিনি বলে তারই দায়ভার নিজেকেই বহন করতে হয়েছে। তাই সব পাপ ও অন্যায়ের ফলাফল হয়ে উঠেছে আমার জীবন। একটা সময় দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। পারগেশন বলে একটা বিষয় আছে, হয়তো এ লেখা তাই, অথবা নিজের সন্তানের কাছে একটা কৈফিয়ত। এই সামাজ ও রাষ্ট্রের কাছে একজন নারীর চলার পথে মাথা উঁচু করবার জন্য চরম মূল্য দেবার বয়ান। হারানোর ব্যথা। আর অন্যসব নারী ও পুরুষের সামনে রেখে যাওয়া এক দলিল। এত যে ব্যথার কথা তারই মাঝে অপরূপ সুন্দর বলতে ছিল আমার লালমাই পাহাড়ের কোলের কাছে পড়ে থাকা একটা শৈশব, ছিলেন একজন মহীয়সী মা। ছিলেন একজন সন্তানবৎসল বাবা। একই সাথে একজন নারী হিসাবে এই সমাজে বেড়ে উঠার গহীন গুঢ় বেদনা ও অপার আনন্দ। এই দুই সম্বল করে লেখা এই আত্মজৈবনিক জার্নাল ‘হান্ড্রেড ফেসেস অফ উইমেন’।
লিখতে বসেছিলাম যখন সংসারে দম আটকে মরতে বসেছিলাম দুই অবুঝ শিশুসন্তান নিয়ে। যখন লেখার বিরুদ্ধে প্রতি মুহূর্ত। চরম বিপরীত প্রতিবেশ। বেঁচে থাকা দুঃসহ। সময় দুরন্ত। তখন বেঁচে থাকা মানে লেখা। একমাত্র লেখা ছাড়া আর অন্য কোনো পথ নেই বাঁচবার। আর এই বই লিখতে লিখতেই বের হয়ে এলাম স্বামী সংসার ছেড়ে। বছর দুই অনলাইন পোর্টাল চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত হল ‘নারী’ নামে। কলকাতা থেকে এক প্রকাশক এলেন এই ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে। বললেন, ‘নারী পড়তে পড়তে মনে হল বাংলাদেশ থেকে এই লেখকের একটি লেখা আমাকে প্রকাশ করতে হবে’। তখনও ভাবিনি কোনোদিন বই হবে এই অপাংক্তেয় লেখাটাই।
কলকাতা থেকে চিত্রকর মুক্তিরাম মাইতি বিনিময়হীন শর্ত দিয়ে প্রচ্ছদ এঁকে দিলেন সেও প্রায় বছর তিন আগে। কয়েকজন প্রকাশক প্রশ্ন করলেন কেন তিনি এই বই টাকা ছাড়া প্রকাশ করবেন? আমি সেদিন তার উত্তর দিতে পারি নি। আজ যখন পাঠক বন্ধু পরিচিত কিংবা অপরিচিত কেউ বইটি পড়ে ভেতর বাহির নিয়ে কথা বলেন তখন আমিও বিস্মিত হই।
পরাজয়ের গল্প এতটা ভালোবাসবে কেন মানুষ! হয়তো এমন কোনো সত্য এখানে আছে যা পাঠক পড়বার সাথে সাথেই উপলব্ধি করতে পারে। শব্দে শব্দে বাক্যে বাক্যে মিথ্যা, লুকানো, শাসকের ভয়ে থাকা কোনো নারীর আড়াল ভেঙে বের হয়ে আসার এই সত্য বলবার অসম সাহসই হয়তো গোপনে কেউ লালন করে। সামনে আসতে বা আনতে পারে না। তখন অন্য কোনো নারীর মধ্যে আবিস্কার করে নিজেরই কোনো গোপন সত্য। তাই হয়তো আজ পাঠকের কাছে এর এতটা আদর।
আমি জানি এই দলবাজ সাহিত্যের উঠানে আমার কোনো পালনকর্তা নাই। আর আমিই বা তা মানবো কেন? আমি তো নারী থেকে স্বাধীন মানুষ হয়েছি। তাই আমার যা অর্জন তা আমাকেই করতে হবে, একা। আর তাতেই আমার অহংকার। তাতেই আমার প্রতিষ্ঠা। এই আমার জগৎ মাঝে একমাত্র পাওয়া। তাই কোন প্রচার মাধ্যম আমার আমার লেখা নিয়ে নিশ্চুপ তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই কোনো। কোনো বুদ্ধিজীবী-কামেল আমার লেখা নিয়ে কিছু বললেন কি না তাতে আমার কোনো আগ্রহ নাই। আমার ঈশ্বর পাঠক। আমি জানি পাঠক নাই তো ওইসব কামেল-বিদ্বান-সাহিত্যবোদ্ধারা কে কি বলল তাতে কিই বা এসে যায়।
লেখক থাকেন পাঠকের মনে। যদি সেই হাজার হাজার মনকে ছুঁতে পেরেছি আজ এবং পারি আগামীর কালগুলাতে এই হবে আমার জয়। পাঠকের এই ভালোবাসাকে পাথেও করেই লিখে যেতে চাই আমরণ। অন্তত আরও তিনটি খন্ডের দলিলে রেখে যেতে চাই আমার যাবতীয় কাজ যা এই সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে আজও।
বইটি আদরে যত্ন করে প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়ে অনুপ্রাণন প্রকাশনের স্বত্ত্বাধিকারী আবু এম ইউসুফ ভাই কৃতজ্ঞতায় বাঁধলেন। চিত্রকর মুক্তিরাম মাইতির কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। ‘চিন্তাসূত্র’ অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই যিনি প্রথমবারের মতো ধারাবাহিক ভাবে লেখাটি প্রকাশ করেছিলেন বছর দুয়েক ধরে। অস্ট্রেলিয়ার ‘প্রশান্তিকা’ বইঘরের স্বত্ত্বাধিকারী আতিকুর রহমান ভাইকেও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রথমবারের মতো এই বইটিকে বাংলাদেশের বাইরের পাঠকের কাছে নিয়ে যাবার জন্য।
আর, দুই বাংলা জুড়ে আমার যত পাঠক। সারা পৃথিবী জুড়ে যারা বইটি পড়েছেন ও পড়ছেন তাদের প্রতি রইল ভালোবাসা।
শাপলা সপর্যিতা
১১ মার্চ, ২০২২
ধানমন্ডি/ঢাকা
Description

Description

বাড়ির একটু বাইরে, উঠোনে অথবা পাড়ার মোড়ের দোকানে কিংবা স্কুল থেকে বিশ^বিদ্যালয়ে, ঘর-অফিস-কিংবা রাষ্ট্রে ‘নারী’ এক কর্মবহুল জীবনের নাম। একই সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত কুণ্ঠিত দলিত নিষ্পেষিত সাংঘর্ষিক এক জীবনেরও নাম নারী। এ কুণ্ঠা তার দৈহিক আকার থেকে শুরু করে শারিরীক সক্ষমতা কিংবা অক্ষমতারও। এ দলন তার ওপর পেশীশক্তির-পুঁজিবাদের-রাষ্ট্রের। এ নিষ্পেষণ সমাজিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে শুরু করে ধর্ম আর পারিবারিক প্রথারও। প্রতিনিয়ত নারীকে পেশিশক্তির মুখোমুখি হতে হয়। এত বিরোধ পার হতে হতে নারী কখনও নিশ্চিহ্ন হয় হতাশায়, কখনও জ¦লে ওঠে রোষে। কখনও বিক্ষিপ্ত হয় তার মেধা, কখনও ধার চকচকে হয়ে ওঠে তার প্রজ্ঞা। নারীর ওপর এ নিষ্পেষণ দেশ-কাল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক। তবু নারীর মেধা বংশগতির ধারায় প্রবাহিত, মাতৃত্বে বিভাজিত। এই নিগ্রহের ত্রাশ তার অভিজ্ঞতায় অর্জিত। জীবনের পর্বগুলো পার হতে হতে সংঘর্ষে সংঘর্ষে নারীর মুখ প্রজ¦লিত। বহুর অবয়ব ধারণ করে। শতরূপে ঘটে তার প্রকাশ। কখনও মায়াময়-ব্রতী-পথদর্শী। কখনও নিরীহ লাজুকতার কোমলতা ছিঁড়ে খুঁড়ে হয়ে ওঠে নির্মম আগ্রাসী, কখনও সর্বনাশী। নারীর খুব গভীরের যে কথা বলা যায় না যে নির্মমতা সামাজিকভাবে গোপন থাকাই শ্রেয়, যে বিক্ষোভ পারিবারিক প্রথার বাইরে, যে প্রেম সমাজ মানে না ‘হান্ড্রেড ফেসেস অফ উইমেন’ বইটিতে তারই সত্যাসত্য রূপ দেখা যায়। ব্যক্তির জীবন এখানে ছড়িয়ে পড়েছে এক থেকে বহুতে। এখানে ঘটনার বিন্যাস যখন যে চরিত্রের সংস্পর্শ গ্রহণ করেছে তখন সেই চরিত্রটিই বিশেষ হয়ে ধরা পড়েছে। এখানে ব্যক্তির জীবনের বয়ান অথচ চরিত্রগুলো উপন্যাসের মতো প্রভাববিস্তারকারী। এই বিশেষের আড়ালে ঘটনার প্রবহমানতায় ব্যক্তির যন্ত্রণা কিংবা অবোধ-অব্যক্ত কান্না কখনও সংক্ষুব্ধ অভিমান আর ক্ষোভের পারগেশন এমন এক একটি পর্যায় অতিক্রম করেছে যা পাঠকের মনে সংখ্যাতীত প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।

Additional information

Additional information

Weight 0.300 kg
Reviews (0)
0 ★
0 Ratings
5 ★
0
4 ★
0
3 ★
0
2 ★
0
1 ★
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “হান্ড্রেড ফেসেস অফ উইমেন”

Your email address will not be published.

Scroll To Top
Close
Close
Shop
0 Wishlist
0 Cart
Close

My Cart

Shopping cart is empty!

Continue Shopping