কাওড়ামঙ্গল – রোমেল রহমান
‘কাব্রা বিটা শুয়োর চরায়,
হাইগে-মুইতে খায়,
কাব্রা মাগীর ভাতার ছাড়া
খোঁয়াড় ভইরে যায়।’
কাওড়া বা শুকর পালক সম্প্রদায়ের আধা গৃহী, আধা যাযাবর জীবনের আশ্চর্য গল্পচক্র ‘কাওড়ামঙ্গল’; ছোটো ছোটো অধ্যায়ে আদিম সেইসব মানুষদের বুনোগন্ধি সংলাপের মধ্যে দিয়ে জ্যান্ত হয়ে উঠেছে তাদের আনন্দ-বেদনা কলহ আর তীব্রভাবে ঘিরে থাকা এক বৈরাগ্য না কি পথের টান যেখানে-একেকটা জীবন মানুষে-শুয়োরে একাকার হয়ে বিলিন হয়ে যায় মৃত নক্ষত্রের ছাইভস্মে; এই উপন্যাস সেই অচ্ছুৎ মানুষদের মহৎ আর্দ্র গঞ্জনা।
Kawramangal by Romel Rahman
লাভ অর সিডাকশন – শাপলা সাদি
আমিও বাবার মতো সার্নের একজন নামকরা ইঞ্জিনিয়ার হব। এটাই আমার স্বপ্ন।
কিন্তু এই স্বপ্নের মধ্যে বাঁধ সাধলো আমার উঠতি যৌবনের শারীরিক অনুভূতিগুলো। চাইছিলাম মনের মতো কাউকে, পেয়েও গেলাম। শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্যই গড়ে তুললাম তার সাথে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। পরবর্তী সময়ে বুঝতে পারলাম মন থেকে আমিও তার প্রেমে পড়েছি। দেখতে সে যতই সুদর্শন, সুপুরুষ এবং ধনী হোক না কেন, পড়াশোনার দিক দিয়ে সে আমার চেয়ে অনেক গবেট।
ভালোবাসলাম ঠিকই তবে তাকে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই। কিন্তু আমার শরীরের সুধা পান করে সে হয়ে উঠেছে নাছোড়বান্দা। সর্বশক্তি লাগিয়ে হলেও সে আমাকে বিয়ে করবেই করবে। কিন্তু আমি বিয়ে করব না, সে যদি একরোখা হয় আমিও কম জেদি মেয়ে নই; দেখি কে জেতে- আমি না সে ?
Love Or Seduction by Shapla Sadi
স্বপ্নপুরুষ – শাপলা সাদি
আমি শায়না হামিদ, আমার প্রশ্ন হলো প্রেম ভালোবাসায় সমতা ও বৈষম্য কাজ করে কি?
আমার তো মনে হয় অবশ্যই সমতা ও বৈষম্য কাজ করে, তাই তো আমার মা বিবাহিত হওয়ার পরেও আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি সিঙ্গেল মাদার হয়ে একাই সংগ্রাম চালিয়ে আমাকে লালন-পালন করে যাচ্ছেন। আর আমার ধনী বাবা… থাক তার কথা।
জল্পনা ও কল্পনায় না ভাবতে পারা আমার এই বৈচিত্র্যহীন জীবনে স্বপ্নের মতো এক ঘটনা ঘটে গেলো। সেই সুদূর ইংল্যান্ড থেকে আমার কাছে প্রেম-ভালোবাসার প্রস্তাব এলো। তাও আবার রয়েল ফ্যামিলি থেকে ।
কিন্তু মাকে তো আমি কথা দিয়েছি আমি কখনওই আমার চেয়ে ধনী ফ্যামিলির পরিবারে প্রেম, ভালোবাসা বা বিয়ে করব না।
কারণ মা চায় না, আমার ভাগ্যটাও তার মতো হোক।
তারপরেও স্বপ্ন পুরুষকে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসে ফেললাম তাকে। তারপর ভুল ভাঙলে বুঝতে পারলাম- কোনো অংশে আমি আমার স্বপ্ন পুরুষের যোগ্য প্রিন্সেস নই।
Swapnapurush by Shapla Sadi
স্বর্গভূমির দূত – শাপলা সাদি
ভালোবেসে ছ্যাকা খেলাম। আমার প্রেমিকপ্রবর আমাকে অপবাদ দিলো, আমি না কি মোটেও রোমান্টিক ধরনের মেয়ে নই।
ছ্যাকা খেয়ে মন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো, আমার বেস্টফ্রেন্ড জ্যানেটকে সব কথা খুলে বললাম।
জ্যানেটের বুদ্ধিতেই আমেরিকা থেকে উড়াল দিলাম স্বর্গভূমিখ্যাত বালি দ্বীপে।
স্বর্গভূমিতে এসেই নিজেকে সেক্সি লেডিতে পরিবর্তন করে নিলাম। পরিচয় হলো লেডি কিলারখ্যাত এক প্রেমদূতের সাথে। প্রেমে পড়লাম তার, মন থেকে কোথায় হারিয়ে গেলো আমাকে ধোঁকা দেওয়া সেই প্রথম প্রেম?
কিন্তু ভাগ্যে আমার সুখ লেখা নেই… জীবনটা কেবল উপভোগ করতে শুরু করেছি, সেই মুহূর্তে ছ্যাকা দেওয়া সেই প্রথম প্রেম নতুন করে আবার আমার জীবনে ফিরে আসতে চাইছে।
এদিকে স্বর্গভূমির দূত নীরব ও নিশ্চুপ, এখন আমি কী করব?
Swargovumir Dut by Shapla Sadi
পরস্পর – নভেরা হোসেন
মধুপুরে ওরা গিদিমা রেমাদের মাগাস্তিনগর গ্রামে যাওয়ার পথে এক জায়গায় গাড়ি থামায়। ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ব্যাগ সব নিয়ে রওনা হয়। ওখানে সিরিন নকরেক ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। বন বিভাগের সৌজন্যে বনের ভেতরে রাস্তা তৈরি হয়েছে। সিরিন বলে, এই সব বন, সারি সারি শাল-সেগুন গাছ সব এক সময় আমাদের ছিল। আমরা তো বনেরই সন্তান।কিন্তু এ বন আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
রাকিব বলে, আগে যখন রাষ্ট্র ছিল না। একেক জাতি নানা গোত্রে গোষ্ঠিবদ্ধ হয়ে থাকতো তখন খাবার, পানি, ভূমির জন্য অন্য গোত্রের মানুষের সাথে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকতো। এখন আধুনিক রাষ্ট্র হয়েছে কিন্তু সেই কামড়া-কামড়ি রয়ে গেছে। এটা হয়তো চিরন্তন, চলতেই থাকবে। তবে মান্দিরা নিজের দেশে, নিজের ভূমিতেও নিজেদের অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এই আধুনিক রাষ্ট্রযন্ত্র বনের উপর ওদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ওরা তো বনের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বসবাস করে, কোনো ক্ষতি করে না। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা দেশটাকে শুধু নিজেদের সম্পত্তি ভাবতে শুরু করেছি। এখানে যে অন্য জাতি-ভাষার মানুষ আছে তা যেন গ্রাহ্যই করতে চাই না।
Paroshpor by Novera Hossain
কৃষ্ণপক্ষ – আবদুল মান্নান সরকার
‘দুর্ভাগ্য আমাদের এক করেছে ’- হ্যাঁ, ভাগ্য বিড়ম্বিত দুজন মানব-মানবীর জীবনের গল্প। তবে এটি নিছক কোনো কল্পকাহিনি নয়। লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্জাত এই কাহিনি পাঠককে কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয়। এক সময়ে লেখক বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে তিনি আন্তরিকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অচিরেই সেই ভুল ভাঙে। বামদলগুলোর মধ্যে তত্ত্বগত দ্বন্দ্ব ছিল, রণকৌশল, রণনীতি নির্ধারণ নিয়েছিল তুমুল বিতর্ক, তাছাড়া ছিল নেতৃত্বের কোন্দল। সাধারণ কর্মীদের মাঝে কোনো দ্বিধা ছিল না, তারা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, অনেকে তা দিয়েছেও। কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নেতারা কর্মীদের উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অনেকেই বিপুল বিত্তের অধিকারীও হয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে তখন টালমাটাল অবস্থা। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া মাত্র সত্তুর বছরের মধ্যেই আদর্শ থেকে সরে এসেছে এবং টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক শিবির তখন উল্টো পথে হাঁটছে।
তবে লেখক রাজনীতির এই কাসুন্দি ঘাটতে চাননি। এই গ্রন্থভুক্ত একটি চরিত্র যার নাম ‘সাবরিনা’, দলীয় কার্যসূত্রেই মেয়েটির সাথে লেখকের পরিচয় হয়। সাবরিনা তার জীবনের অনেক কথাই শুনিয়েছিল তাকে। সাবরিনা পতিতা পল্লীর মেয়ে আর সে জন্মেও ছিল একজন পতিতার গর্ভে। তবে তাদের বংশানুক্রমিক এক ধরনের আভিজাত্য ছিল। সাবরিনা একজন বিপ্লবীর প্রেমে পড়েছিল এবং সে তার বংশধারার নিয়মের বাইরে গিয়ে পুত্র সন্তান গ্রহণ করেছিল। তাদের বংশে কেবল কন্যা সন্তান গ্রহণের রেওয়াজ ছিল। পুত্র সন্তানদের জন্মের পর পরই হত্যা করা হতো। সাবরিনা তার সন্তানটিকে পতিতা পল্লীর পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করতে মিশনারীতে দিয়েছিল। কিন্তু তার সেই সন্তান শেষ পর্যন্ত একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় আর এর জন্য দায়ী ছিল একজন তথাকথিত ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা। তারই হাত ধরে ছেলেটি রাজনীতিতে আসে এবং নেতার পক্ষে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে বাধ্য হয়। পরে খুনের দায়ে ছেলেটির মৃত্যুদন্ড হয়েছিল। লেখক এই কাহিনির মধ্য দিয়ে মানবজীবনের এক গভীর ট্রাজেডিকে তুলে ধরেছেন। আর জগত জীবন সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠকের সামনে।
Krishnapokkho by Abdul Mannan Sarker
বাঁচার কী যে আনন্দ – কামরুন নাহার
সদালাপী, সুদর্শন, হাসিখুশি ডাক্তার আমাকে খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, গল্পচ্ছলে জানিয়ে গেলেন, ‘আই অ্যাম অ্যা পেশেন্ট অব একিউট প্রো-মাইলোসাইটিক লিউকেমিয়া!’ সহজ-সরল ভাষায় যাকে বলে ব্লাড ক্যানসার!
আমার কী ভীত হওয়া উচিত? নাকি আতঙ্কিত হওয়া উচিত? আমি কি বিষন্ন হব? নাকি বেদনার্ত হব? আমার এই মুহুর্তে ঠিক কেমন লাগা উচিত? কী আশ্চর্য! আমার কিছুই মনে হচ্ছে না। বরং একরাশ নির্লিপ্ততা যেন আমাকে ঘিরে ফেলল। সেই সময় আমি চলৎশক্তিহীন হয়ে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল মানুষ। মনে মনে ভাবার শক্তিও যে মানুষ কখনো কখনো হারায় কে জানত!
আমি যদি মারা যাই, তাতে এই পৃথিবীর তেমন কিছুই এসে যাবে না। আমি পুরো ব্যাপারটা হিসাব করতে চাইলাম। যেমন : আমার বরের বয়স কম, আমার মৃত্যুর পর সে কিছু দিন মন খারাপ করে ঘুরবে, তারপর আরেকটা বিয়ে করবে, সোজা-সাপটা হিসাব। আমার মায়ের আরেকজন কন্যা আছে। দুজন ছিল, একজন থাকবে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কয়েকদিন কাঁদবে। তারপর ভুলেও যাবে, যে যার মতো কাজে মন দেবে। কখনো আমার কথা মনে হলে হয়তো ভাববে, আহা মেয়েটা এত অল্প আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল, মরে গেল! আমার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হবে যে,সে হলো আমার ছেলে জারিফ। ওর বয়স যে মাত্র বিশ মাস। মানে এক বছর আট মাস। ও তো এখনও এই পৃথিবীর কিছুই বোঝে না। ও তো জানবেই না ওর জন্য মা কতো কষ্ট করেছে এক সময়। কত ভালোবাসার ধন ছিল সে তার মায়ের। এমনকি ও যখন বড় হবে, ওর মায়ের কোন স্মৃতি ওর মনে থাকবে না।
আমার ঘুম আসে না একদমই। দিনের পর দিন না ঘুম আসা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা অন্যরা ভাবতেও পারবে না। মনে হতো আমার সাথে মৃত্যুর দূরত্ব কেবল একটা পাতলা নাইলন সুতোর। সুতোটার উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। হাঁটতে গেলেই সোজা মৃত্যু কূপ। একটু নড়ব তো সোজা নিচে মৃত্যুদূত অপেক্ষায়।
কামরুন নাহার
piyakm19@gmail
Banchar Ki Je Ananda by Kamrun Nahar
তবুও ভ্যালেন্তিনা- তাহমিদ হাসান
হাসান রোমান্টিক বিপ্লবী। ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় অংশিদার। বিপ্লবের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়ে সে পালিয়ে যেতে চায়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হাসান কে পথ করে দেয় ইউরোপে পাড়ি দেবার। কিন্তু এই পথ কোনো সহজ পথ নয়—পথের প্রতিটি বাঁকে ওৎ পেত আছে মৃত্যু। লোমহর্ষক যাত্রার শেষে জার্মানের মাটিতে পা দেয় হাসান। অথচ জার্মান নয়, নিয়তি হাসান কে টেনে নিয়ে যায় রোমে।
একদিকে মাফিয়াদের সাথে মিশে একের পর এক বিপদে জড়িয়ে পড়ে, অন্য দিকে ভ্যালেন্তিনার ভালোবাসায় ভেসে যেতে চায়; তাকে নিয়ে নিয়তির এই নিষ্ঠুর নাটকীয়তায় বিপর্যস্ত হাসান কী করবে? জীবনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার শেষ কোথায়?
হৃদয়ের দারুণ দোলাচলে দগ্ধ হাসান, নিঃসঙ্গ হাসান হাঁটতে থাকে জীবনের এক ভয়ানক পথে, কিন্তু এই পথ হাসান কে কোথায় নিয়ে যাবে?
Tobuo Valentina - Tahmid Hassan
নিকুন্তিলা – নাসরীন জাহান
আমাদের দেশের মেয়েরা নানা রকম প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ছোটো থেকে বড়ো হয়। আমাদের সমাজ এমন, যেখানে বাবা-মা তাদের সেসব প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে ছোটো বয়স থেকে সচেতন করে না। ‘নিকুন্তিলা’ উপন্যাসে নিকুন্তিলা এমন এক চরিত্র যে ছোটো বয়স থেকে অনেক সচেতন। এই সচেতনার জন্ম দিয়েছে তার মা। খুব অল্প বয়সে সে পিরিয়ডের মতো বিষয় সম্পের্কে জানতে পারে। নিকুন্তিলাও তার মাকে নানা রকম প্রশ্ন করে অনেক বিষয় জেনে নেয়। ছোটো বয়সে অনেক বিষয় জেনে গেলেও নিকুন্তিলা নিজেকে সংযত রাখতে পেরেছে। এখানেও তার মা তাকে সাহায্য করেছে। এমনকি মেয়েকে সচেতন করতে মা তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা একে একে বলতে থাকে। একটা সময় সে জানতে পারে বাবা ছাড়াও তার মায়ের জীবনে অন্য কোনো পুরুষ এসেছিল। সেই পুরুষ চরিত্র নিয়ে নিকুন্তিলার মনে জন্ম হয় নানা রকমের প্রশ্ন।
নিকুন্তিলা বিয়ের উপযুক্ত হয় এবং বিয়ে হয়। মূলত নিকুর বিয়ে মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক পাঠকের চিন্তাকে অন্য দিকে নিতে চেয়েছেন। যেখানে আমরা সমাজের মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা রকম জটিলতা দেখতে পাই। যেখানে স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আরও নানা রকমের ঘটনা, টানাপোড়ের থাকলেও উপন্যাসে মূলত আমাদের সমাজ-বাস্তবতায় একজন নারীর ছোট থেকে বেড়ে ওঠা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে যেসব জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেসব বিষয়ই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
Nikuntila by Nasreen Jahan
ত্রয়ী নভেলা – মঞ্জু সরকার
গ্রামের স্কুলশিক্ষক মোস্তফা এবং মধ্যবিত্ত কৃষককন্যা মালা। অসমবয়সী শিক্ষক-ছাত্রীর প্রেম প্রশ্রয় পায় না গ্রামসমাজে । তারা পালিয়ে আসে রাজধানী ঢাকায়। স্বামী-স্ত্রীর ছদ্মবেশে হোটেলবাস, অতঃপর নগরীর অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে বস্তিবাসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুজন। আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কে হরণ করে তাদের মিলনান্তক পরিণতির সুখস্বপ্ন? সুখপাঠ্য কাহিনির গতিতে পাঠককেও রুদ্ধশ্বাসে খুঁজতে হয় স্বপ্নচোর।
মানবসম্পদের মা-বাপ নামের কাহিনিতে নায়ক হয়ে এসেছে উত্তরবঙ্গের দারিদ্র্যপীড়িত গাঁয়ের ক্ষেৎমজুর আইনুল। গরিবের আরো গরিব হওয়ার প্রক্রিয়ায় বৈষম্যমূলক ভোগবাদি সমাজ ছায়া ফেলে অভাব-অনটন সর্বস্ব পরিবারেও। আইনুল-উপালির দাম্পত্যের ফসল যে শিশুকন্যা, শহুরে ভদ্রলোকদের সেবাভোগের দাবি মেটাতে রাজধানী হয়ে ওঠে তাদের অনিবার্য গন্তব্য। শিকড়চ্যুত আইনুলও সপরিবারে এগিয়ে চলে নতুন ঠিকানার সন্ধানে।
অন্তর্লীন সুরভি নামের প্রণয়োপখ্যানেও ফুটে উঠেছে সময় ও সমাজবাস্তবের নগ্ন চেহারা, একই সঙ্গে সৎ ও অসৎ ব্যক্তির প্রেম এবং পরিবারার রক্ষার প্রাণান্তকর প্রয়াস।
পেশাদার লেখক হবার স্বপ্নে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বল্প সময়ে রচিত লেখকের তিনটি পৃথক ক্ষুদ্রায়তন উপন্যাসের পরিমার্জিত ও একত্রিত রূপ ত্রয়ী নভেলা।
Troyee Novella by Monju Sarkar
তানযানিয়ার হৃদয় হতে – ফাতিমা জাহান
আফ্রিকা মহাদেশ নামটি শুনলেই অনেকের মনে আসে রঙিন পোশাক আর ভারী ভারী গয়না পরিহিত আদিবাসী মানুষ, ভয়ংকর জঙ্গল বা মরুভূমি। কারো মনে আসে রঙিন হস্তশিল্পের বিশাল ভাণ্ডার, কেউ কেউ মনে করেন সেখানে গেলে তাল তাল হীরের সন্ধান পাওয়া যাবে। কেউ-বা মনে করেন বিস্তীর্ণ ভূমিতে বিভিন্ন পশুপাখির আবাসস্থল। কেউ আবার মনে করেন বঞ্চিত, শোষিত, অবদমিত, বিভাজিত এক মানবসমাজ।
আসলে আফ্রিকার প্রকৃতি, জনসাধারণের জীবনযাপন কেমন তা নিরীক্ষা করতেই লেখক ভ্রমণ করেছেন আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ। বাইরে থেকে ঝলমলে মনে হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, তাদের বেদনা-বঞ্চনা লেখক তুলে ধরেছেন এই ভ্রমণকাহিনিতে।
আফ্রিকা বিখ্যাত নিজস্ব বনভূমিতে পশুপাখির অভয়ারণ্য বানিয়ে সংরক্ষণের জন্য। তানযানিয়ার মতো বৈচিত্র্যময় দেশে তাই লেখকের পদচারণা থেমে থাকেনি সেইসব শ্বাপদসংকুল জঙ্গলেও। সেখানকার আদিবাসী মানুষ কিংবা আধুনিক শহরের মানুষের জীবনযাত্রার ছবি উঠে এসেছে লেখকের কলমে।
তানযানিয়ার গুপ্তধন কোনো হীরে বা দামি খনিজের খনিতে লুকিয়ে নেই, লুকিয়ে আছে এর শান্ত ও অসামান্য সুন্দর বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জের মাঝে। পান্না সবুজ জল আর জলের অদ্ভুত-অজানা জগতে লেখকের হাত ধরে অনেক অজানা দুয়ার খুলে গিয়েছে।
তানযানিয়া আফ্রিকার গড়পড়তার একটি দেশ নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ, রঙিন পোশাকে আবৃত অতিথিপরায়ণ মানুষের হাসিমুখ, পশুপাখির নির্ভয় আবাসস্থল, সমুদ্রসৈকতের ঐশ্বর্য, নিখাদ আনন্দে মুখর নৃত্যগীত, হস্তশিল্পের অবারিত সম্ভারের সাথে লেখক নিজ দায়িত্বে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
Tanzaniar Hridoy Hotey by Fatima Jahan
পূর্ব আফ্রিকার তিনকাহন – এলিজা বিনতে এলাহী
রহস্য ও বৈচিত্র্যের মহাদেশ আফ্রিকা! দীর্ঘ এক পথ চলে গেছে দেশ হতে দেশান্তরে! সেই রহস্যে মোড়া ভূখণ্ডের প্রতিটি অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভৌগলিক বৈচিত্র্য যে কোন ভ্রমণকারী ও ভবঘুরের আগ্রহের স্থান।
“পূর্বআফ্রিকার তিনকাহন” একজন বাংলাদেশী নারী ভ্রমণকারীর পূর্ব আফ্রিকার তিন দেশ – কেনিয়া, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা’র ভ্রমণ আখ্যান। লেখক পথ চলতে চলতে প্রাচীন ইতিহাসের মুখোমুখি হয়েছেন, দেখেছেন নানা জনপদ, জানবার চেস্টা করেছেন তাদের সংস্কৃতি, বুঝতে চেয়েছেন নানাবিধ ভাষার রহস্য। সেই সব আবেগ, অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, স্বীকারোক্তি ও কৈফিয়তের হিসেবনিকেশ নিয়েই আবর্তিত “পূর্বআফ্রিকার তিনকাহন” ।
Purbaafricar Tinkahon by Eliza Binte Elahi























