Latest News
সিঙ্গেল মাদার বইয়ের পাঠ উন্মোচন
অনুপ্রাণন প্রকাশন রাজশাহী বিক্রয় ও বিপণন শাখা উদ্বোধন
অনুপ্রাণন প্রকাশন এর চট্টগ্রাম শাখা উদ্বোধন
অনুপ্রাণন সাম্প্রতিকের গল্প ও গল্পকার (৪র্থ পর্ব) মোড়ক উন্মোচন
অনুপ্রাণন লেখক সম্মেলন ২০২৫- দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত
অনুপ্রাণনের ‘সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কবি ও কবিতা সংখ্যা’র মোড়ক উন্মোচন
অনুপ্রাণন লেখক সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত- পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের জমকালো আয়োজন
কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন বাংলার দুই কবি – কবি ফারুক মাহমুদ ও কবি ফেরদৌস নাহার।
অনুপ্রাণন লেখক সম্মেলন – ২০২২
নতুন প্রকাশিত বইসমূহ
অভিনেত্রী – শাপলা সাদী
ভারতের তৈরি করা নীলনকশার নতুন একটা প্রজেক্টের জন্য তাদেরকে এই শিপে ডেকে পাঠানো হয়েছে গোপন মিটিং করা এবং জরুরি কিছু নথি আদান প্রদানের জন্য। প্রথমে তারা বাংলাদেশ থেকে বাই এয়ারে মাদাগাস্কার এসেছে। তারপর মাদাগাস্কার থেকে ১৩২ কিলোমিটার দূরসমুদ্রে হেলিকপ্টার নিয়ে এই ক্রুজ শিপে অবতরণ করেছে। তাদের ম্যাডাম নন্দিতা মিত্র তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে দেখা করতে বলেছে। বলা হয়েছে নতুন একটা কনট্র্যাক্ট আছে। সফলভাবে করে দিতে পারলে ভারত সরকার আরও কোটি কোটি টাকা দিয়ে তাদের সুইস অ্যাকাউন্টগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে ঢোল বানিয়ে দেবে। টাকার গন্ধ পেয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের চার কুকুর নাচতে নাচতে ভারতের দালালি করতে চলে এসেছে।
তারপর…
Ovinetri - Shapla Shadi
তমস্যায় আলোর রেখা – মোজাম্মেল হক নিয়োগী
হয়তো অনেকেই নিয়তিকে অস্বীকার করে, আবার নিজের সংকটে মেনে নেয় নিয়তি। এ-কারণে সাহিত্যেও নিয়তিবাদ বলে একটি কথা প্রচলিতও রয়েছে। এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার এক সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারায়। এক অজানা মানুষের একটি টেলিফোন কল পেয়ে অসুস্থ মাকে ঢাকায় দেখার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকায় এসে শোনে মা সুস্থ। তার খুব জানতে ইচ্ছে করে কে ফোনটি করেছিল? কেন মিথ্যা খবরটি দিয়েছিল? কিন্তু এই রহস্য সে আর উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বন্ধুর দুর্দশায় প্রেমিকা এবং পৈতৃক সম্পদ বিসর্জন দিয়ে কেন একজন মানুষ নিজেকে উৎসর্গ করল? তা কি কেবলই মানবতা বা বন্ধুত্ব নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে? এই রহস্যময় জটই উন্মোচিত করা হয়েছে উপন্যাসের পাতায়।
Tamosay Alor Rekha - Mozammel Haque Neogi
প্রতিপাদ্য গদ্যরেখা – ফকির ইলিয়াস
একটা কঠিন সময় পার করছে রাষ্ট্র ও সময়। চারিদিকে চরম স্থবিরতা! এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। যে বিষয়টি ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পরে প্রমাণিত হয়েছে- তা হলো, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিহীন সাহিত্য খুবই ফ্যাকাশে। শিকড়ের অন্বেষণবিহীন প্রজন্ম ঠাঁইহীন।
একাত্তর বাঙালী জাতিসত্তার অহংকার। তা তো কোনোভাবেই ম্লান হতে পারে না। হতে দেওয়া যায় না। বিশ্ব আজ যুদ্ধের ক্রীড়াক্ষেত্র। কেন চলছে এই যুদ্ধ, তা ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, ইরানের দিকে তাকালে বোঝার কোনো উপায় নেই। সাহিত্য-সংস্কৃতি তো রক্তযজ্ঞকে সমর্থন করে না। করতে পারে না।
আমার এই গ্রন্থের লেখাগুলো মানবতাবাদী পাঁজরকেই চিহ্নিত করার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। প্রজন্মকে চিন্তাশীল সাহিত্যমানসে ধ্যানমগ্ন করার প্রচেষ্টা- বলা যায়। বৈশ্বিক, ভাষিক ও কালিক চেতনা এবং সমাকালকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি প্রবন্ধগুলোতে। আমার বিশ্বাস সম্মানিত পাঠক-পাঠিকার ভালো লাগবে। অনুপ্রাণন প্রকাশন ও এর সত্ত্বাধিকারী বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবু মোহাম্মদ ইউসুফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, এই প্রতিকূল সময়ে তারা বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবাইকে শুভেচ্ছা। সকলের কল্যাণ হোক।
ফকির ইলিয়াস
২৫ এপ্রিল ২০২৬।
Protipadya Goddorekha - Fakir Elias
সংস্কৃতি প্রতিসংস্কৃতি – প্রদীপ দেওয়ানজী
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের তাগিদে কিছু লেখা আমাকে লিখতে হয়েছে। দীর্ঘদিন নাটকের সঙ্গে যুক্ত আছি। শুরুতে শখ, তারপর ভালোবাসা, পরবর্তী সময়ে দায় থেকে নাটক করেছি। এখনও করছি। নাটক করতে গিয়ে ভালো-মন্দ দুধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে। অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে আরও জমা হয়েছে- আজন্ম যা কিছু দেখেছি, শুনেছি আর ভেবেছি। যৎসামান্য পড়াশুনা আর সেসব অভিজ্ঞতাই গ্রন্থভুক্ত লেখাগুলোর ভিত্তি। তাই লেখাগুলো বাঁধা পথে হাঁটেনি। হেঁটেছে কখনও মসৃণ, কখনও আবার অমসৃণ পথে। আমার ভাবনাগুলো অন্যদের সাথে বিনিময় করতেই এ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ।
গ্রন্থের সব লেখা প্রাবন্ধিক ও নাট্যগবেষক ড. ইউসুফ ইকবাল দেখে দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। অনুপ্রাণন প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ ইউসুফ সংস্কৃতিবিষয়ক গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা অশেষ। আমি কৃতজ্ঞ মোহাম্মদ রকিবুল হকের কাছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতিকর্মীদেও কাছে বইটি পৌঁছে যাক এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।
Sanskriri Protisanskriti - Prodeep Dewanjee
টোপন হত্যা রহস্য – পার্থসারথি
মেধাবী ছাত্র টোপন হত্যা রহস্য বিখ্যাত গোয়েন্দা চিনুদার ওপর ন্যস্ত হতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন; আমি নিশ্চিত এটা খুন! ভূতের ভয়ে মৃত্যু বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যেখানে হাত গুটিয়ে নিয়ে তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। চিনুদার ওপর তদন্তের ভার ন্যস্ত হতেই পুলিশ বিভাগও নড়েচড়ে বসে। টোপন হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে নেমে চিনুদা বুঝতে পারেন এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে বিশাল চক্রান্তের বিস্তৃত জাল। ভেবেছিলেন খুব সহজেই এর সমাধান করে ফেলবেন কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সকল কুশীলব চিনুদাকে একেবারে শেষ করে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। চিনুদা অবাক হয়ে যান- এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাহলে কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে! টোপন একজন সাধারণ ছাত্র, তাহলে? গোয়েন্দা চিনুদা বেশ সিরিয়াস হয়ে যান। পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামেন। রাতের অন্ধকারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত হামলা করে বসে ভাগ্যিস পিস্তলটা সাথে ছিল নয়তো নির্ঘাত মৃত্যু ছিল। নিজেরা নিরাপদ থাকতে তদন্তের ধারায় আধুনিক প্রযুক্তি করার পরও হামলার শিকার হন! তবুও দমে যাননি তুখোড় গোয়েন্দা চিনুদা! বিস্তৃত করেন অপরাধীদের ধরার অভিনব সব দুর্দান্ত ফাঁদ।
একের পর এক অপরাধী ধরা পড়তে থাকে আর সকলের কপালে ভাঁজ পড়তে থাকে যাদেরকে কেউ কল্পনাও করেনি! ভূতের ভয়ে মৃত্যু অথচ বাঘা বাঘা সব অপরাধীরা গোয়েন্দা চিনুদার পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে! এই খুনের সাথে ঘরের লোক জড়িত! সবাই হতবাক! টোপনের আসল খুনি কে তবে? সকল নাটকীয়তার বেড়াজাল ভেঙে গোয়েন্দা চিনুদা বের করে আনেন আসল মাস্টারমাইন্ড ও প্রকৃত খুনিকে। কে সেই খুনি? জানতে পড়ুন টানটান উত্তেজনায় ভরপুর, এক বসায় পড়ে শেষ করার মতো গোয়েন্দা উপন্যাস ‘টোপন হত্যা রহস্য’!
Topon Hotya Rahasya - Parthasarathi
হেরম্ব-কিরিলভ সংলাপ – মাহবুব অনিন্দ্য
এক মহাপৃথিবী আরেক মহাপৃথিবীকে অনর্গল প্রশ্ন করে যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যাবেলা কি ভোরবেলা, বোঝা যায় না। মৃদু হাওয়া ভাসিয়ে নিয়ে যায় মহাকালকে। ততধিক মৃদু হাওয়া এসে রচনা করে রূপকাহিনির রাজ্য। ঝরাপাতাদের সাথে ঝরাপাতারা নৈঃশব্দ্যের ভাষায় কথা বলে। তারাদের সাথে তারারা কথা বলে গোপন ও গহন অন্ধকারে। এতসব অতিরঞ্জন ও অতিমুহূর্তের বাইরে- কোথাও বিরাজ করছে আরো এক মহাপৃথিবী, আরো মহাকাল, মহাগ্যাঞ্জাম আর মহাপরাবাস্তব। এই মহাফুলবাগান থেকে কতক দৃশ্যঘ্রাণ লিপিবদ্ধ করে রাখি।
Herambo-Kirilov Songlap - Mahbub Anindo
কুহেলীকুহক – মোজাম্মেল হক নিয়োগী
মানবজীবন রহস্যময়। প্রতিটি মানুষের জীবন যেন মহাকাব্য। প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত কত সত্য, কত তথ্য অলক্ষে অজানা থেকে যায়! অজানা থাকে চারপাশের মানুষের জীবনের ইতিবৃত্ত। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক চাপে অনেক সমাজে অনেক সত্য প্রকাশ করা অসম্ভব, আবারও অনেক সমাজে অকপটে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত কিংবা অপ্রকাশিত যা-ই হোক না কেন মানুষের জীবনের গভীরের সত্যকে কি অস্বীকার করা যাবে? এই উপন্যাসে এমনই কিছু অপ্রকাশিত অথচ সত্য- রহস্যময় কয়েকজন নারীর চরিত্র নিয়ে নির্মিত এই উপন্যাস।
Kuhelikuhok - Mozammel Haque Neogi
নরউড রহস্য – অনুবাদ : হাফিজ উদ্দীন আহমদ
কে খুন করেছে নরউডের বিখ্যাত নির্মাতা জোনাস ওল্ডাক্রেকে? তার লাশটাও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পোড়া মৃতদেহটা পাওয়া গেছে আঙিনাতে। আগের রাতে একমাত্র ম্যাকফারলেন গিয়েছিলেন তার বাসায়। ইন্সপেক্টর লেস্ট্রেড গ্রেফতার করলেন তাকে। কিন্তু তিনি কি সত্যি খুনি? প্রখ্যাত গোয়েন্দা শার্লক হোমস নেমে পড়লেন তদন্তে।
Norwood Rahasya - Translated by Hafiz Uddin Ahmed
বিচিকলা(র) বজারজাতকরণ পদ্ধতি – রোমেল রহমান
কল্পবাস্তব এক দুনিয়ার কেচ্ছাকাহিনি ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’! বিচিত্র মেটাফোর আর মুক্তির আদিম আকাক্সক্ষা হাত-ধরাধরি করে পাঠককে তার চেনা দুনিয়া থেকে মনের গহিনে জিয়িয়ে রাখা আরেক দুনিয়ার রাস্তায় নিয়ে ছেড়ে দেয়; সেখান থেকে তাকে হয়তো আবার টেনে তোলে কিংবা তোলে না! উদোম সংলাপ আর রাডারের নিচে থাকা বৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচতে মাথায় পলিথিন ব্যাগ পড়া মানুষদের সংস্কৃতি- গল্পগুলোর দাঁত নখ চোখ হয়ে ওঠে। যারা পুনরাবৃত্তিময় একঘেঁয়ে বেঁচে থাকার বাজারে খ্যামটা নেচে উবে গেছে ভিড়ের ভিত্রে, মুখের মধ্যে মুখ মিলিয়ে। রাজা শুধু জলপাই কাঠে খাকি রং করা সিংহাসনে বসে নিজেকে বাঁচাতে মানুষ শিকার করতে করতে জীর্ণ হয়েছে দিনের বিচারে।
জন্মান্ধ মনের সুষম পুষ্টির জন্য ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’ উপাদেয়।
Bichikalar Bazarjatkaron Poddhoti - Romel Rahman
কাজুবাদামের কৌশল : রিলকের নির্বাচিত কবিতা – রায়হান শরীফ
‘শূন্য মাঠগুলো ঘুমিয়ে আছে
শুধু জেগে থাকে একা আমার হৃদয়!’
‘কেন্দ্রের ভেতরেও কেন্দ্র থাকে,
শাঁসের ভেতরে শাঁস;
দেখো কাজুবাদামের কৌশল :
নিজের গভীরে ডুবে থাকে;
ক্রমে বাড়ে সুমিষ্টতায়!’
‘বিচ্ছিন্ন থাকা, একা থাকা যেন বৃষ্টির মতো
সমুদ্রের বুক থেকে উঠে এসে সন্ধ্যার দিকে যায়।’
Kajubadamer Koushal : Rilker Nirbachito Kobita - Raihan Sharif
Pre-Order
প্রবন্ধ
প্রতিপাদ্য গদ্যরেখা – ফকির ইলিয়াস
একটা কঠিন সময় পার করছে রাষ্ট্র ও সময়। চারিদিকে চরম স্থবিরতা! এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। যে বিষয়টি ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পরে প্রমাণিত হয়েছে- তা হলো, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিহীন সাহিত্য খুবই ফ্যাকাশে। শিকড়ের অন্বেষণবিহীন প্রজন্ম ঠাঁইহীন।
একাত্তর বাঙালী জাতিসত্তার অহংকার। তা তো কোনোভাবেই ম্লান হতে পারে না। হতে দেওয়া যায় না। বিশ্ব আজ যুদ্ধের ক্রীড়াক্ষেত্র। কেন চলছে এই যুদ্ধ, তা ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, ইরানের দিকে তাকালে বোঝার কোনো উপায় নেই। সাহিত্য-সংস্কৃতি তো রক্তযজ্ঞকে সমর্থন করে না। করতে পারে না।
আমার এই গ্রন্থের লেখাগুলো মানবতাবাদী পাঁজরকেই চিহ্নিত করার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। প্রজন্মকে চিন্তাশীল সাহিত্যমানসে ধ্যানমগ্ন করার প্রচেষ্টা- বলা যায়। বৈশ্বিক, ভাষিক ও কালিক চেতনা এবং সমাকালকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি প্রবন্ধগুলোতে। আমার বিশ্বাস সম্মানিত পাঠক-পাঠিকার ভালো লাগবে। অনুপ্রাণন প্রকাশন ও এর সত্ত্বাধিকারী বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবু মোহাম্মদ ইউসুফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, এই প্রতিকূল সময়ে তারা বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবাইকে শুভেচ্ছা। সকলের কল্যাণ হোক।
ফকির ইলিয়াস
২৫ এপ্রিল ২০২৬।
Protipadya Goddorekha - Fakir Elias
সংস্কৃতি প্রতিসংস্কৃতি – প্রদীপ দেওয়ানজী
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের তাগিদে কিছু লেখা আমাকে লিখতে হয়েছে। দীর্ঘদিন নাটকের সঙ্গে যুক্ত আছি। শুরুতে শখ, তারপর ভালোবাসা, পরবর্তী সময়ে দায় থেকে নাটক করেছি। এখনও করছি। নাটক করতে গিয়ে ভালো-মন্দ দুধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে। অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে আরও জমা হয়েছে- আজন্ম যা কিছু দেখেছি, শুনেছি আর ভেবেছি। যৎসামান্য পড়াশুনা আর সেসব অভিজ্ঞতাই গ্রন্থভুক্ত লেখাগুলোর ভিত্তি। তাই লেখাগুলো বাঁধা পথে হাঁটেনি। হেঁটেছে কখনও মসৃণ, কখনও আবার অমসৃণ পথে। আমার ভাবনাগুলো অন্যদের সাথে বিনিময় করতেই এ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ।
গ্রন্থের সব লেখা প্রাবন্ধিক ও নাট্যগবেষক ড. ইউসুফ ইকবাল দেখে দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। অনুপ্রাণন প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ ইউসুফ সংস্কৃতিবিষয়ক গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা অশেষ। আমি কৃতজ্ঞ মোহাম্মদ রকিবুল হকের কাছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতিকর্মীদেও কাছে বইটি পৌঁছে যাক এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।
Sanskriri Protisanskriti - Prodeep Dewanjee
বাংলাদেশের কবি ও কবিতা (জন্ম : ১৯১১-১৯৬৫) – সম্পাদক : আবু মোহাম্মদ ইউসুফ
২০২২-এর বসন্তকালে একাদশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন-এর সকল মুদ্রিত সংস্করণে নিয়মিতভাবে দেশের শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও নিবিড়ভাবে তুলে ধরার জন্য শিল্প-সাহিত্যের বিশেষ ধরন, বিশেষ বিভাগ, বিশেষ ধারা অথবা বিশেষ বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ফলে লেখক, পাঠক ও অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের চাওয়া থেকে একাদশ বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সংখ্যা চারটিতে নির্বাচিত কবি ও কবিতা সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংখ্যা ৪টিতে বাংলাদেশের ১০০ জন নির্বাচিত কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, প্রকাশনা, স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ও পুরস্কার, উল্লেখযোগ্য কবিতা ও তাদের রচিত কবিতারাশি নিয়ে সামষ্টিক আলোচনা প্রকাশিত হয়। সম্মানিত এই কবিদের কবিতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও আড্ডার অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের শিল্প ও সাহিত্যচর্চার বৃত্তটিকে প্রসারিত করার প্রয়াস গ্রহণ করতে কবিতাপ্রেমী পাঠকসমাজ এগিয়ে আসেন।
কালক্রমে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ এই সংখ্যাগুলোর সংরক্ষণ ও প্রাপ্যতার সমস্যার কথা ভেবে আমরা অনুপ্রাণন সম্পাদকমণ্ডলী ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণনের একাদশ বর্ষের চারটি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশের ১০০ জন নির্বাচিত কবি যাদের জন্ম ১৯১১ থেকে ১৯৬৫-এর মধ্যে, তাদের কবিতা, জীবনী, প্রকাশনা, পুরস্কার ও সম্মাননা-সংক্রান্ত তথ্যাবলির পাশাপাশি তাদের উল্লেখযোগ্য কবিতা ও কবিতাকর্ম নিয়ে সামষ্টিক আলোচনা একত্র করে একটি আকর গ্রন্থ প্রকাশ করার এই উদ্যোগ গ্রহণ করি।
আশা করি বাংলাদেশের কবি ও কবিতা-সংক্রান্ত তত্ত্ব, তথ্য ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞান আহরণে আগ্রহী বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক, ছাত্র, গবেষক ও সাধারণ কবিতাপ্রেমী পাঠকের চাহিদা মেটাতে এই বই সক্ষম হবে।
Bangladesher Kobi O Kobita (Born : 1911-1965) - Editor : Abu Mohammed Yousuf
নাসরেদ্দিন হোজ্জা : একজন বুদ্ধিমান-বোকার গল্প – শেরজা তপন
তিনি কি একজন সুফি দার্শনিক? না কি নিছকই ভাঁড়?
তুরস্ক থেকে আজারবাইজান, ইরান থেকে চীন সব জায়গায় যার হাসির গল্পে মানুষ খুঁজে পেয়েছে গভীর প্রজ্ঞা, সেই নাসরেদ্দিন হোজ্জাকে নিয়ে এ এক বিস্ময়কর বই। বইটি পড়তে গিয়ে নতুন ধরনের পাঠ-অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েছি।
বহু শতাব্দী ধরে হোজ্জার নামের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য কিংবদন্তী ও কাহিনি। কিন্তু আসল মানুষটা কে ছিলেন, তা জানার প্রয়াস খুব কমজনই করেছেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় এমন কাজ নজরে আসেনি। হয়তো এমন কাজ সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রথম। লেখক এখানে ইতিহাস, লোকগাথা ও ধর্মদর্শনের আলোয় হোজ্জাকে পুনরাবিষ্কার করেছেন একজন চিন্তক, সমাজসচেতন ব্যঙ্গকার এবং সর্বোপরি এক অনন্য মানবপ্রেমিক হিসেবে।
বইটি পাঠককে শুধু হাসাবে না, ভাবাবে, আলোড়িত করবে। এতে আছে ইতিহাসের দলিল, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং আন্দোলনের গল্প। একজন প্রজ্ঞাবান মোল্লার গল্পে আপনি খুঁজে পাবেন নিজের সমাজ, নিজের সময়, আর হয়তো নিজেকেও। প্রসঙ্গক্রমে আমরা কেউ কেউ শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে বলে ফেলি তার দুএকটি গল্পও। এতদিন পরেও হোজ্জা তাই আজও প্রাসঙ্গিক দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীব্যাপী।
Nasreddin Hozza : Ekjon Buddhiman Bokar Golpo - Sherza Tapon
কলমশিল্পী : স্মৃতিতে সৃজনে – মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন
ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন-এর লেখালেখির হাতেখড়ি স্কুলজীবন থেকে। ছোটগল্প দিয়ে সূচনা; কবিতা, বেতার নাটক হয়ে বর্তমানে প্রবন্ধ-গবেষণা-স্মৃতিকথা রচনায় নিমগ্ন। প্রায় চার দশক তিনি বাংলাদেশ বেতারে নাট্যকার, নাট্যশিল্পী, কথক ও সাহিত্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। টেলিভিশনের সাহিত্য অনুষ্ঠানেও তিনি সক্রিয়।
ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে শিল্পসাহিত্যসম্পর্কিত আলোচক, প্রাবন্ধিক, স্মারকবক্তা ও সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি বহু মনীষীর সাহচর্য পেয়েছেন। তাঁদের নিয়ে লেখেন স্মৃতিকথা আর প্রিয় সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্মের আলোকে রচনা করেন প্রবন্ধ। এ-সব স্মৃতিসঞ্চয় ও প্রবন্ধ নিয়েই বর্তমান গ্রন্থ- ‘কলমশিল্পী : স্মৃতিতে সৃজনে’।
Kalamshilpi : Smrityte Srijone - Mohammed Zainuddin
আমার কন্যা যেন থাকে নির্ভয়ে – উম্মে মুসলিমা
দৈনিক প্রথম আলোর উপ-সম্পাদকীয় পাতায় ২০১৫ থেকে ২০২৪ এর জানুয়ারি পর্যন্ত উম্মে মুসলিমার যেসকল আর্টিকেল ছাপা হয়েছে তার বেশিরভাগই এ বইয়ে সংকলিত। নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য যেমন তাকে পীড়িত করে তেমনি কন্যাশিশুর নিরাপত্তাহীন বেড়ে ওঠা তাকে আতঙ্কিত করে। তার ‘আমার কন্যা যেন থাকে নির্ভয়ে’ প্রবন্ধের নামানুসারে এ প্রবন্ধ সংকলনের নাম রাখা হয়েছে। এ ন’দশ বছরে অনেককিছু বদলেছে তবুও সময়ের দলিল হিসেবে লেখাগুলো নতুন পাঠককেও পেছন ফিরে দেখার আগ্রহ যোগাবে বলে বিশ্বাস।
Amar Konna Jeno Thake Nirvoye by Umme Muslima
অণুগল্প
দর্পণ – অনুবাদ : আসাদ মিরণ মূল : এদুয়ার্দো গালেয়ানো
স্প্যানিশে Historia শব্দটি যেমন ‘ইতিহাস’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তেমনি ‘গল্প’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যদিও শাস্ত্রীয় বিচারে এ দুয়ের পার্থক্য সত্য ও মিথ্যার মতোই পরস্পর-বিরোধী। কিন্তু লাতিন আমেরিকান লেখকরা, বিশেষ করে কথাসাহিত্যিকরাই এই দুইয়ের ভেদরেখা বা পরস্পরবিরোধিতাকে কখনো কখনো এতটাই মুছে দিয়েছেন যে তা পড়তে গিয়ে মনে হবে ইতিহাস ও গল্প যেন সহোদরা। আর এই কারণে লাতিন আমেরিকান কোনো লেখকের গল্প বা আখ্যানগুলো ইতিহাস হয়ে ওঠার শোরগোল তুলে বৈষম্যবিরোধী পাঠকের ইতিহাসপাঠের ক্ষুধা মেটায়। কিন্তু বিপরীতে ঐতিহাসিকরা ওই রকম কিছু করেছেন কখনো? করাটাই ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু এদুয়োর্দো গালেয়ানো আসার আগে পর্যন্ত কখনোই তা ঘটতে দেখা যায়নি। গালেয়ানো মূলত ঐতিহাসিক। অসামান্য সব ইতিহাস গ্রন্থের জনক। এক একটি গ্রন্থে তিনি ইতিহাসের শিরা-উপশিরা উন্মোচন করে দেখিয়েছেন মানুষের রক্তের ক্রন্দন। পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণী শক্তিতে তিনি অসামান্য এক ইতিহাসবিদ হলেও, The Mirror নামক বইটি লেখার আগে পর্যন্ত ইতিহাসের ঘটনাকে গল্পে রূপান্তরিত করার সৃজনী পরীক্ষা তিনি করেননি। বইটি একই সঙ্গে যেমন ইতিহাসের, তেমনি গল্পেরও। গল্প ও ইতিহাস এমন এক সঙ্গমে রঙিন হয়ে উঠেছে যা পাঠবিমুখ পাঠককেও উজ্জীবিত করে তোলে। এই গ্রন্থের আরও একটি বড় আকর্ষণ এর বৈশ্বিক পরিসর আর সর্বজনীনতা, কিন্তু গালেয়ানোর শৈল্পিক মিতভাষিতায় তা হয়ে উঠেছে বহনযোগ্য এক দর্পণের মতো, যেখানে যেকোনো কাল, যেকোনো জাতি, এমনকি ইতিহাস-বঞ্চিত অজ্ঞাতকুলশীল ব্যক্তিও তার নিজের চেহারা দেখে নিজেকে চিনে নিতে পারবে। এটি এমনই এক দর্পণ যেখানে পৃথিবীর অন্য সব মহাদেশের মতো আমাদের এই উপমহাদেশ, এমনকি রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের ঘটনাও প্রতিফলিত হয়েছে ঐতিহাসিক নিষ্ঠায় আর সাহিত্যিক সুজনশীলতায়। অমূল্য হীরকখণ্ডের এই লোভনীয় ভার পাঠকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিশ্বস্ত বাংলা তর্জমায় আসাদ মিরণ।
Dorpon (Mirror) by Eduardo Galeano. Translated by Asad Miron
রুখসানা কাজলের অণুগল্প
‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’। ‘পাতা নড়ে’ এর স্পন্দনটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেত তাহলে কোনো কথাই ছিল না। আসলে তো ঝরেপড়া জলবিন্দু পাতার সাথে আমাদের অন্তরাত্মাকে নাড়াতে নাড়াতে নিয়ে যায় সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে। অণুগল্প সে-রকমই কিছু।
রুখসানা কাজলের অণুগল্প
গরু চোর
গরুচোর
সেদিন এক গরুচোরের সাথে সাক্ষাত হয়ে গেল সবার, চোরটি নিজে থেকেই বলল—আমার নাম মজিদ। আমি একটা গরুচোর।
দলে নিয়োগ চলছিল। ইন্টার ডিস্ট্রিক বাস ডাকাতদলের সভাপতি জুম্মন খাঁ, অজ্ঞানপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, নিখিলবাংলা পকেটমার মহাসঙ্ঘের সেক্রেটারি বসা। এরাই দলের নিয়োগদাতা।
কিন্তু মজিদকে দেখে মোটেও গরুচোরের মতো লাগছিল না। গরুচোর হবে গরুচোরের মতো কিন্তু এরে সে রকম লাগছে না। এরে মকবুলের মতো লাগে।
মকবুল কে? মকবুল হলো মুরগি চোর। একসময় এই দলের হয়ে কাজ করত। এখন দল ভেঙে আলাদা দল করেছে। টেক্কা দিতে চায়।
অজ্ঞান স্পেশালিস্ট একাব্বর আলি সরু চোখে মজিদের দিকে তাকাল। তার ইচ্ছে করছে চোখেমুখে মলম ঘষে দিতে। একরাশ সন্দেহ নিয়ে বলল—তা মজিদ মিয়া, কয়টা গরু তুমি চুরি করছ?
মজিদ মাথা চুলকায়। ঘাড় চুলকায়। একটু লজ্জাও পায়। বলল—খুব বেশি না ওস্তাদ, আমি তো রেনডম গরু চুরি করি না। যখন কোরবানি আসে, গরুর হাটে ঘোরাঘুরি করে চান্সে চুরি করি। বছরে ওই একটাই সিজন আমার।
—তাই বল! একাব্বর হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সন্দেহ আমার ঠিকই ছিল—ভাবতে ভাবতে সবার দিকে তাকিয়ে একটু ফুলে ওঠে, গর্বে। আসলে এই ব্যাটাকে মুরগি চোরের মতো লাগছিল। বিশ্বাসঘাতক মকবুলের চেহারার লগে মিল আছে। মকবুলও ছিল বিরাট মুরগি চোর।
—তা এইখানে কি মনে করে?
মজিদ বলল—ওস্তাদ, আমারে দলে নেন। চুরিধারী দল থেকে না করলে পোষায় না। একলা একলা ভালো লাগে না। মামারা ধরলে ছাড়ানোর কেউ থাকে না কোর্টে চালান খাইয়া যাই।
মজিদের কথায় সিদ্ধান্তের জন্যে সেক্রেটারি তাকায় সহ-সভাপতির দিকে, সহ-সভাপতি তাকায় সভাপতির দিকে। সভাপতি কারো দিকে না তাকিয়ে নিজের ডানহাতের চার আঙুলে পরা আংটির দিকে তাকিয়ে রইল। দুর্লভ পাথর বসানো সব আংটি। কোনোটি হীরা। ইয়াকুত আর লাল জমরুদ পাথরের আংটি দুটি নাকি খুবই বিখ্যাত। সাদা চুনি নাকি পৃথিবীর কোথাও নেই। একটিই। তাও জুম্মনের হাতে, ভাবা যায়! এই আংটিগুলির বৈশিষ্ট্য হলো ডান হাতে পরতে হয়। কিন্তু জুম্মনের হাতে মোট আঙুল চারটি। একবার ডাকাতি করতে গিয়ে গৃহস্থের দায়ের কোপে একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল। ফলে চার আঙুলেই আংটি পরতে হয়।
কাটা আঙুলের দিকে তাকিয়ে জুম্মন ডাকাত হতাশায় মাথা নাড়ে—মজিদ, গরুচোর মুরগি চোরের বিষয় না, আমরা এমন এক হাত সাফাইয়ের খোঁজ করছি, যে মুরগি নয়—মুরগির পিত্তথলি হাত চালিয়ে বাইরে আনতে পারবে, কিন্তু মুরগি টের পাবে না। পারবে?
ওস্তাদের কথায় খুব হতাশ হয়ে গেল গরুচোর মজিদ। চোখেমুখে পানি চলে এলো প্রায়। এত সুক্ষ্ম কাজ পারবে না সে। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল—খুব ইচ্ছা ছিল আপনাদের সাথে কাজ করার। হলো না। বিদায় দেন ওস্তাদ।
বলে সবার সাথে হাত মিলিয়ে মজিদ চলে গেলে জুম্মন খাঁ নিজের আঙুলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল—আমার আংটি, আমার আংটি!
…………
মকবুলের ডেরায় যখন মজিদ চারটি আংটি ছড়িয়ে দিল তখন খুব হাসাহাসি হলো, জুম্মন ওস্তাদের থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়ে গেছে কল্পনা করে। হাত সাফাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেল মজিদ।
মকবুল কথা দিলে কথা রাখে।
গরুচোর
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
গ্রামের পাশে যে বিশাল বাদাম ক্ষেত আর ক্ষেতের পাশে যে ছোট নদী, সে নদীতে মাঝারি সব ঢেউ ওপার থেকে এপাড়ে আসে খড়কুটো মুখে নিয়ে। আর কত কিছু ভেসে আসে আর চলেও যায়—সারা দিনভর ছোটনেরা সেইসব দেখে পাড়ে বসে বসে।
ছোটনেরা মানে হলো—হাবিবুল, রতন, মোবারক, শেফালি বকুল এরা। কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা। তারা প্রতিদিন নদীতে আসে আর কাঁচা বাদাম খেতে খেতে লক্ষ করে নদীটাকে। নদীর ভেতরে কত কিছু। কাদাখোঁচা একটি দুটি। বালিয়া হাঁসের সাদা পাখনা উড়তে থাকে। আর ওপারের মেঘ যখন উড়তে উড়তে এপারে আসে তখন জলিল কাকার সময় হয় জোয়ালের গাই দুটাকে গোসল দেয়ার। গাই দুটার গোসল দেখতে দেখতে আর বাদাম খেতে খেতে দলের মধ্যে মোবারক নামে যে আছে, সে একটা প্রস্তাব দিল। প্রস্তাব দেয়ার আগে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে কয়েকটা জানাশোনা তথ্যও দিল। যেমন—এই নদীতে কিছুই ডোবে না।

বাকিরা মাথা নাড়ে—হুম।
গরু ডোবে না, খড় ডোবে না। নাও-লঞ্চ কিছুই ডোবে না। ভেলা ডোবে না।
সবাই মাথা নাড়ে। কাঁচা বাদাম খায়।
—চল আজকে একটা খেলা খেলি। মিনুরে ডুবাই দেই। দেখি ডোবে কি না?
ছোটনরা একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। প্রস্তাবে জোর সমর্থন দেয় নুরু। প্রস্তাব সমর্থন নিয়ে নুরু কারো দিকে তাকায় না। নদীর পেটে জলের প্রবাহ দেখতে দেখতে তারা স্কুলঘর দেখে। দূরের আকাশছোঁয়া মিনার মসজিদ দেখে।
—মিনুও ডুবত না। এই নদীতে কিছুই ডোবে না–বলে সাহস দেয় নুরু। ততক্ষণে মিনুকে নিয়ে এসেছে মোবারক।
মিনু জল দেখে ভয় পায়। বলে—মিঁউ!
বিশাল নদী। বিশাল চর। মিনু ভয় পায়। ডাকাডাকি শুরু করে দেয়—মিঁউ মিঁউ।
মিনুকে কোলে নেয় হাবিবুল। হাবিবুল থেকে নেয় রতন। রতন থেকে নেয় শেফালি। শেফালি থেকে নেয় রাজন। রাজন থেকে নেয়া নুরু। নুরু থেকে কেউ নেয় না। কারণ নুরু কাউকে দেয় না। সে মিনুকে ছুড়ে দেয় নদীতে।
সবাই হাসে। মিনু সাঁতার কাটে। ঠিকমতো পারে না। নদীতে ঢেউ। তলিয়ে যায়। ছোট্ট মাথা। ডোবে ভাসে। সবাই হাসে–খুশিতে হাততালি দেয়।
দুই ঢেউয়ের চাপে পড়ে মিনু ডাকে—মিঁউ মিঁউ।
প্রাণপণ চেষ্টা করে মিনু কচি পা দিয়ে পাড়ে আসতে পারে না। দূরে সরে যায়। আবার আসে। পাড়ের কাছে আসেও। কিন্তু নুরুরা ঢিল ছোড়ে। হি হি করে হাসে। হাত তালি দেয়।
মিঁউ মিঁউ করতে করতে নদীর ভেতরে চলে যায় মিনু। ঢেউয়ের ভাঁজের ভেতরে চলে যায়। ডুবে যায়। পাড়ে বসে রাজন শিস দেয়।
…………
রাতের বেলায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পুরো ব্যাপারটা আবার দেখে ছোটন। মিনু ডুবে যাচ্ছে। ভেসে উঠছে। চিৎকার করে ওঠে ছোটন। ঘামে নেয়ে ওঠে সে। কিন্তু তার ঘুম ভাঙে না। ঘুমের মধ্যেই ছোটন বোঝে ঘুম না ভাঙলে সে নদী থেকে আর মিনুকে উঠাতে পারবে না।
সকালবেলা তাড়াতাড়ি মিনু যে কাজটি করে তা হলো ছোটনের বাবা-মাকে নিয়ে নদীর পাড় চলে এলো। তারা দেখল—নদীর ভেতরে একটা লাল জামা ভাসছে ছোটনের।
২৪১৯
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
জোড়া নারিকেল বাড়ি
হাতেগোনা যে-ক’জন লেখক অণুগল্পের ভিত্তি গাড়তে কিংবা প্রচার প্রসার করার মাধ্যমে প্রথম দশকেই একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছেন কিংবা বলা যায়, অণুগল্পের বিভিন্ন ধরন এবং ধারণায় সাহিত্যের এ-মাধ্যমটি বর্তমানে বহুচর্চার ফল্গুধারায় দুইবাংলার পার ছাপিয়ে গেছে বটে, আশার কথা হচ্ছে, কামরুজ্জামান কাজল বিশুদ্ধ অণুগল্পের ধারক-বাহক হয়েই পাঠকমহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে সক্ষম হয়েছেন। পূর্ববর্তী ৩টি গ্রন্থে আমরা তা-ই দেখেছি। আর এখানেই প্রকৃত অণুগল্প আর কাজল সমার্থক হয়ে উঠেছেন।
‘জোড়া নারিকেল বাড়ি’ লেখকের চতুর্থ অণুগল্পের বই। বইটির সাফল্য কামনা করি।
-বিলাল হোসেন
জোড়া নারিকেল বাড়ি
রোজনামচা
রোজনামচা বা দিনলিপি কেন পড়ে মানুষ? কী দরকারে আসে এই দিনপঞ্জীপাঠ? স্যামুয়েল পেপিস (১৬৩৩-১৭০৩) কেন বিখ্যাত হয়ে গেলেন কেবলমাত্র ডায়েরি লিখে? কেননা তাঁর ডায়েরি তৎকালীন লন্ডনে (১৬৬৫) ছড়িয়ে পড়া মহামারী প্লেগ ও চারদিন (২রা-৬ই সেপ্টেম্বর, ১৬৬৬) ধরে চলা লন্ডন শহরকে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়া বিধ্বংসী অগ্নিকা-ের অনুপুঙ্খ বিবরণ তাঁর ডায়েরিতে ধরেছেন পেপিস। যা আজ ইতিহাসের মর্যাদা পেয়েছে। কিংবা ধরুন, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি’-র ‘নোটবুক’ বা পাবলো নেরুদার ‘মেমোয়্যার্স’ আমাদের কাছে আকর্ষণীয় কেন? না, যে যুগ আমরা পেরিয়ে এসেছি আর কোনোদিন যাওয়া যাবে না সেখানে, দিনপঞ্জী আমাদের নিয়ে যায় সে মুহূর্তক্ষণে! চিলেকোঠায় অথবা বহুদিন বন্ধ থাকা তোরঙ্গের গর্ভান্ধকার থেকে খুঁজে পাওয়া কোনো ডায়েরি এক অপরিসীম আনন্দে মন ভরায়, দেয় আবিষ্কারের আনন্দ-মূর্ছনা!
রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’-র যে অংশে কবি নানান মানুষের স্নান করার দৃশ্যের বর্ণনা দিচ্ছেন, সে ছবি রচনার মধ্যে সেই পুরোনো কলকাতার যে স্কেচ উঠে আসে, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, অথচ কী আশ্চর্য চিত্রময় লিপ্যাঙ্কন। মনের ভেতর ছবি হয়ে বেঁচে আছে শতাব্দী পেরিয়ে। এও তো সেই রোজনামচাই! কবিগুরুর অজস্র চিঠিতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য তাৎক্ষণিকতা, ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ হিসেবে নানান দৃশ্যকল্প, ছবি সে-ও সেই দিনপঞ্জীর কথাই মনে করায়। পুরোনো দিন, পুরোনো সম্পর্ক সবই ধরা থাকে প্রকৃত শিল্পীর কলমে। সে কারণেই একজন শক্তিমান লেখকের লেখা রোজনামচা বা দিনলিপি আমাদের সাগ্রহবস্তু। যে দিন চলে গেছে, যাকে ধরে রাখতে পারিনি, সে সন্ধানে ডুব দিতে পারি ইচ্ছে করলেই। মনে করতে পারি, ‘বন্ধু কী খবর বল, কতদিন দেখা হয়নি!’
এ-কারণেই ‘রোজনামচা’-র বহুল প্রচার আশা করি।
সিদ্ধার্থ দত্ত
৮.১০.১৮
রোজনামচা
কবিতা
হেরম্ব-কিরিলভ সংলাপ – মাহবুব অনিন্দ্য
এক মহাপৃথিবী আরেক মহাপৃথিবীকে অনর্গল প্রশ্ন করে যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যাবেলা কি ভোরবেলা, বোঝা যায় না। মৃদু হাওয়া ভাসিয়ে নিয়ে যায় মহাকালকে। ততধিক মৃদু হাওয়া এসে রচনা করে রূপকাহিনির রাজ্য। ঝরাপাতাদের সাথে ঝরাপাতারা নৈঃশব্দ্যের ভাষায় কথা বলে। তারাদের সাথে তারারা কথা বলে গোপন ও গহন অন্ধকারে। এতসব অতিরঞ্জন ও অতিমুহূর্তের বাইরে- কোথাও বিরাজ করছে আরো এক মহাপৃথিবী, আরো মহাকাল, মহাগ্যাঞ্জাম আর মহাপরাবাস্তব। এই মহাফুলবাগান থেকে কতক দৃশ্যঘ্রাণ লিপিবদ্ধ করে রাখি।
Herambo-Kirilov Songlap - Mahbub Anindo
কাজুবাদামের কৌশল : রিলকের নির্বাচিত কবিতা – রায়হান শরীফ
‘শূন্য মাঠগুলো ঘুমিয়ে আছে
শুধু জেগে থাকে একা আমার হৃদয়!’
‘কেন্দ্রের ভেতরেও কেন্দ্র থাকে,
শাঁসের ভেতরে শাঁস;
দেখো কাজুবাদামের কৌশল :
নিজের গভীরে ডুবে থাকে;
ক্রমে বাড়ে সুমিষ্টতায়!’
‘বিচ্ছিন্ন থাকা, একা থাকা যেন বৃষ্টির মতো
সমুদ্রের বুক থেকে উঠে এসে সন্ধ্যার দিকে যায়।’
Kajubadamer Koushal : Rilker Nirbachito Kobita - Raihan Sharif
মায়াবী ট্রেন – মৃন্ময় মনির
ভ্রমণ অনির্দিষ্ট। জন্ম থেকেই তার শুরু। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত একশো বছরের ভেতরেই তা ঘোরাফেরা করে! বেড়ানোর জন্য অনেক যন্ত্রযান রয়েছে কিন্তু ট্রেনের মতো এমন মায়াবী ভ্রমণ আপনি কোথাও পাবেন না! অবশ্য আপনি বসে থাকলেও আপনার পথচলা একদিন শেষ হবেই, প্রাণীর জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ এখনো খোলা নেই।
Mayabi Train - Mrinmay Monir
নির্মোহ পৃথিবীর কথা – আব্দুল্লাহ্ জামিল
নির্মোহ পৃথিবীর কথা, নামের মধ্যে একধরনের সত্যের অহংকার এবং সাহসের স্বচ্ছরূপ দেখতে পাওয়া যায়। নামকরণ কবির একটি গ্রন্থের তাৎপর্যপূর্ণ সংযুক্তি। হঠাৎ কখনো নামকরণের সঙ্গে বইয়ের বিষয়ের কোনো মিল থাকে না। তবে নামকরণ যে লেখকের সুচিন্তিত একটি অধ্যায়, তা লেখকমাত্র জানেন। আব্দুল্লাহ জামিল একজন স্থিরমগ্ন কবি। তিনি চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার কারণে, খুব বেশি লিখতে পারেন না। তবে, খুব যে কম লেখেন তাও নয়। বর্তমান ‘নির্মোহ পৃথিবীর কথা’ কাব্যগ্রন্থে তিনি কখনো নস্টালজিক, কখনো প্রকৃতিপ্রেমিক, কখনো প্রতিবাদী, কখনো কোমল। তবে তার প্রতিটি উচ্চারণই অকপট, সরল ও সাবলীল। এটি কবিতার একটি অনমনীয় গুণ। ছন্দসচেতনতা তার কবিতাকে আভিজাত্য এনে দিয়েছে। প্রাজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি কথা বলার ঢঙে কবিতা লিখে চলেন, তবে তার লেখা বলার চেয়ে অলংকৃৃত। বইয়ের কবিতাগুলোতে কোথাও কোনো ঝুলে পড়া বা মেদস্বর্বস্ব অতিকথন নেই। টানটান সাবলীলতায় তিনি একবার প্রেম আর একবার বিষাদের সংগীত শোনান। তবে তার কবিতার সময় ও মৃত্যুচেতনার বিষয়টি গভীর তাৎপর্য বহন করে। প্রিয়জনের কাছ থেকে অবহেলা, প্রত্যাখানের মতো অনাকাক্সিক্ষত বিষাদও তার কবিতার অন্যতম সমাপ্তি। কবির নির্বাচিত শব্দ আর আর অলংকৃত বিন্যাস, তাকে পরিণতি দিয়েছে। শব্দ ও বাক্যের পরিমিতি বোধ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ তার কবিতার নিটোল চারিত্র।
-ওবায়েদ আকাশ
কবি ও সাংবাদিক
Nirmoho Prithibir Katha - Abdullah Jamil
অন্য করিডোরের ফুল – কাদের পলাশ
ধোঁয়াটে ‘আত্মা’ থেকে নয়, বরং কবিতা তার অন্তর্বলয়ের মোক্ষম ভাষাটি খুঁজে পায় কেবলই বোধসামুদ্রিক শব্দের স্বচ্ছন্দ প্রবাহের স্বতঃস্ফূর্তি থেকে, কবির তিনটি চোখের সম্মিলিত পর্যবেক্ষণের সারাৎসার হয়ে যা একাধারে দৃশ্যমানতা ও অদৃশ্যমানতাকে ধারণ করে তার একান্ত নিজস্ব নিপুণ কৌশলে, দৃশ্যত কখনো যা আটপৌরে বসন পরা, কখনো আবার গা-ভর্তি অলংকারের চোখ ঝলসানো সাজগোজে।
কবি কাদের পলাশের ‘অন্য করিডোরের ফুল’ সংকলনটি এমনই একজোড়া ও অনুসন্ধানী চোখের নজরকাড়া ভিন্ন ভিন্ন ৪২টি কথালিপি, যেখানে বোধের পারম্পর্য বজায় রেখে শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত সীবনে কবিতার আত্মভাষার রচন।
এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত অধিকাংশ কবিতার সহজ-কথার কথায় অনেক চিত্রকল্প, অনেক তির্যকে অনেক ইঙ্গিত। সেসবের সবকিছুই বিষাদ-কবিতা হয়ে ওঠার শর্তবহ। ছত্রে ছত্রে নরত্বারোপের কুশলী সীবন এই কবির কবিতায় এক ভিন্ন ধরনের আলাপচারিতার মাত্রা আরোপ করে বৈকি! কবি কাদের পলাশ তাই বর্তমানের মাটিতে দাঁড়িয়েও ইতিহাসকে নিয়ে আসতে পারেন অতি অনায়াসে তাঁর কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবনার অনুসারী করে। তিনি একজন সু-সাংবাদিক দর্শকমাত্র নন, নিবিড় পর্যবেক্ষক আগাপাশতলা। তাঁর নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের হাত ধরেই ভবিষ্যতের ইতিহাস লেখা কাগজের কলামে কলামে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কবি কাদের পলাশের অন্য করিডোরের ফুল কাব্যগ্রন্থখানি সংবেদনশীল পাঠকের কাছে গভীরতর জীবনবোধের অনবদ্য কিছু উপাদান জুগিয়ে অকৃত্রিম মান্যতা কুড়োবে অনায়াসে।
-সুভাষ সরকার
Anyo Corridorer Ful - Kader Palash
দুঃখ নদীর ধারাপাত – আদ্যনাথ ঘোষ
কাব্যস্বরের নিজস্বতা একজন কবির জন্য বড়ো বেশি প্রয়োজন। আদ্যনাথ ঘোষ কবিতায় সেই চিরায়ত কাব্যস্বরের পরিবর্তন ঘটিয়ে আলাদা ইমেজ, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অনুপ্রাস, প্রতিমা ব্যবহারে পাঠকচিত্তে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। শব্দ ও চিত্রকল্পের ক্ষেত্রে আদ্যনাথ ঘোষের কবিতার স্বতন্ত্রধারা পরিলক্ষিত হয়। কবিতার শরীরসজ্জা গদ্যাত্মক হলেও আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা আত্মাকেই ধারণ করে। তাঁর কবিতার শিল্পভাষা, কল্পনার উচ্ছ্বাস, কাব্যিক ঢং অন্যান্য কবিদের থেকে অনেকটাই আলাদা। আদ্যনাথ ঘোষ মূলত স্বতন্ত্রস্বরের রূপকাশ্রয়ী লিরিকধর্মী ও ব্যঞ্জনাধর্মী কবি। কবিতার ভেতরে ঘোর, আত্মমগ্নতা ও পরাবাস্তবতা নির্মাণে ঈর্ষণীয় কারিগর। ইমেজের ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় এ-কবিকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে উন্নীত করেছে। তাঁর কবিতার আত্মা কাব্যপাঠকচিত্তে আলাদা অনুরণন সৃষ্টি করে। উত্তরাধুনিক যুগের এ-কবির কবিতার বাঁকবদল সত্যিই অনন্য।
প্রকাশক
Dukkho Nodir Dharapat - Adyanath Ghosh
উপন্যাস
অভিনেত্রী – শাপলা সাদী
ভারতের তৈরি করা নীলনকশার নতুন একটা প্রজেক্টের জন্য তাদেরকে এই শিপে ডেকে পাঠানো হয়েছে গোপন মিটিং করা এবং জরুরি কিছু নথি আদান প্রদানের জন্য। প্রথমে তারা বাংলাদেশ থেকে বাই এয়ারে মাদাগাস্কার এসেছে। তারপর মাদাগাস্কার থেকে ১৩২ কিলোমিটার দূরসমুদ্রে হেলিকপ্টার নিয়ে এই ক্রুজ শিপে অবতরণ করেছে। তাদের ম্যাডাম নন্দিতা মিত্র তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে দেখা করতে বলেছে। বলা হয়েছে নতুন একটা কনট্র্যাক্ট আছে। সফলভাবে করে দিতে পারলে ভারত সরকার আরও কোটি কোটি টাকা দিয়ে তাদের সুইস অ্যাকাউন্টগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে ঢোল বানিয়ে দেবে। টাকার গন্ধ পেয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের চার কুকুর নাচতে নাচতে ভারতের দালালি করতে চলে এসেছে।
তারপর…
Ovinetri - Shapla Shadi
তমস্যায় আলোর রেখা – মোজাম্মেল হক নিয়োগী
হয়তো অনেকেই নিয়তিকে অস্বীকার করে, আবার নিজের সংকটে মেনে নেয় নিয়তি। এ-কারণে সাহিত্যেও নিয়তিবাদ বলে একটি কথা প্রচলিতও রয়েছে। এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার এক সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারায়। এক অজানা মানুষের একটি টেলিফোন কল পেয়ে অসুস্থ মাকে ঢাকায় দেখার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকায় এসে শোনে মা সুস্থ। তার খুব জানতে ইচ্ছে করে কে ফোনটি করেছিল? কেন মিথ্যা খবরটি দিয়েছিল? কিন্তু এই রহস্য সে আর উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বন্ধুর দুর্দশায় প্রেমিকা এবং পৈতৃক সম্পদ বিসর্জন দিয়ে কেন একজন মানুষ নিজেকে উৎসর্গ করল? তা কি কেবলই মানবতা বা বন্ধুত্ব নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে? এই রহস্যময় জটই উন্মোচিত করা হয়েছে উপন্যাসের পাতায়।
Tamosay Alor Rekha - Mozammel Haque Neogi
কুহেলীকুহক – মোজাম্মেল হক নিয়োগী
মানবজীবন রহস্যময়। প্রতিটি মানুষের জীবন যেন মহাকাব্য। প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত কত সত্য, কত তথ্য অলক্ষে অজানা থেকে যায়! অজানা থাকে চারপাশের মানুষের জীবনের ইতিবৃত্ত। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক চাপে অনেক সমাজে অনেক সত্য প্রকাশ করা অসম্ভব, আবারও অনেক সমাজে অকপটে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত কিংবা অপ্রকাশিত যা-ই হোক না কেন মানুষের জীবনের গভীরের সত্যকে কি অস্বীকার করা যাবে? এই উপন্যাসে এমনই কিছু অপ্রকাশিত অথচ সত্য- রহস্যময় কয়েকজন নারীর চরিত্র নিয়ে নির্মিত এই উপন্যাস।
Kuhelikuhok - Mozammel Haque Neogi
রায়নন্দিনী – শানু মজুমদার
রইছ উদ্দিন দাঁড়িয়ে বললো, স্যার আমি জীবনানন্দ দাশের লিখা ‘সে’ কবিতাটি আবৃত্তি করার চেষ্টা করছি।
“আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে;
বলেছিলো: ‘এ নদীর জল
তোমার চোখের মত স্নান বেতফল;
সব ক্লান্তি রক্তের থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি;
এই নদী তুমি
‘এর নাম ধানসিঁড়ি বুঝি?
মাছরাঙাদের বললাম;
গভীর মেয়েটি এসে দিয়েছিলো নাম।
আজো আমি মেয়েটিকে খুঁজি।
জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে
কোথায় যে চলে গেছে মেয়ে।
সময়ের অবিরল শাদা আর কালো।
বনানীর বুক থেকে এসে
মাছ আর মন আর মাছরাঙাদের ভালোবেসে
ঢের আগে নারী এক- তবু চোখ ঝলসানো আলো
ভালোবেসে ষোলো আনা নাগরিক যদি
না হয়ে বরং হতো ধানসিঁড়ি নদী।”
Raynandini - Shanu Mazumder
চরকেদেরখোলা – আমির হোসেন
নদীর কূলেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতার ঐশ্বর্য। আবার নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা ও ঐশ্বর্য ধ্বংসও হয়েছে নদীর বুকেই। নদীর রয়েছে এক অদ্ভুত রহস্যময়ী রূপ। নদী মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা যেমন, তেমনি ধ্বংসের রাহুগ্রাসীর মতো ভয়ংকরও। নদীভিত্তিক উপন্যাস ‘চরকেদেরখোলা’য় মেঘনা নদী-তীরবর্তী ভাঙনকবলিত জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। সেই দেশভাগের পূর্ব থেকে মেঘনার তীরবর্তী গ্রামের মানুষ এবং তার পরিবেশ-প্রতিবেশ, কৃষি ও মৎস নির্ভর জীবন-জীবিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। রাক্ষসী মেঘনার ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে যাওয়া আবার নতুন চর জেগে ওঠা এবং সেই চর দখলের লড়াইসহ অসহায় নিঃস্ব মানুষদের দেশান্তর, ভয়াবহ বন্যা-খরা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালো থাবায় বিপর্যস্ততা, কলকাতাতে ইংরেজ শোষক এবং ব্রাহ্মণ বাবুদের শাসন-শোষণ ও যৌন নির্যাতনের কুৎসিত-বিভৎসতা, আসমে দেশান্তরী হওয়া মানুষের খাদ্যাভাব ও ম্যালেরিয়াসহ বন্য হিংস্র জীব-জন্তুর আক্রমণে বেঘোরে জীবন দেওয়ার সকরুণ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে। তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া মুক্তিসংগ্রামের ভয়াবহতা, দেশীয় রাজাকারদের লুটতরাজ, নির্যাতনের কথা।
উপন্যাসটির পরতে পরতে বর্ণিত হয়েছে অসংখ্য লোকজ কাহিনী-আচার, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, পশ্চাদপদতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা চরের প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের অস্তিত্বের লড়াই, সেই সাথে শোসক ও শোষিতের নিরন্তর কাহিনী চিত্র। বর্ণিত হয়েছে প্রেম-ভালোবাসাসহ মানুষের চিরন্তন স্বপ্ন ও সম্পর্ক, স্বপ্ন ও সম্পর্ক ভঙ্গ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার নিদারুন হাহাকার এবং যাপিত জীবনে ঘটে যাওয়া শত দুঃখ-কষ্টের এলিজিও।
Charkederkhola - Amir Hossain
যেতে চাও যাও – রওশন রুবী
‘যেতে চাও যাও’- ভালোবাসা, জীবনসংগ্রাম এবং মানুষের অন্তরযাত্রা নিয়ে রচিত এক শক্তিশালী উপন্যাস। এহসানুল হক একজন নীতিবান, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তার ভেতরে আছে সততা, সহমর্মিতা ও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সহজাত মন।
জীবনের পথে তিনি দেখেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের বহুমুখী রূপ। তবু তিনি নিজের নৈতিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি।
এক সময় গভীর ব্যক্তিগত ক্ষত তাকে ভেঙে দেয়, কিন্তু সে ভাঙন থেকেই এহসানুল নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। হারানোর বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করেন; জীবনজয়ের আকাঙ্ক্ষা তাকে উদ্দীপ্ত করে, আর ব্যর্থতা তাকে পথ দেখায়। তার কাছে ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়- এটি শেখার জায়গা, আত্মদর্শনের আয়না এবং জীবনকে পুনর্গঠনের আলোকশিখা।
উপন্যাসটি এগোয় সম্পর্ক, নৈতিকতা ও মানবজীবনের অন্তর্গত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। সময়ের পরিবর্তন, পারিবারিক দায়- সবকিছুর মাঝেও এহসানুল অবিচল থাকেন নিজের পথ ও নীতিতে। মানুষের জন্য কাজ করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং চরিত্রের দৃঢ়তা- এসবই হয়ে ওঠে তার জীবনের আসল ভিত্তি। যেমন মানুষ ভাঙে না- নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য আবার জন্ম নেয় নিজের কাজে। এহসানুল হকও তেমনি একজন।
‘যেতে চাও যাও’ শুধুই প্রেমের গল্প নয়; এটি এক মানুষের গড়ে ওঠার গল্প। অতীতের অভিজ্ঞতা কীভাবে বর্তমানকে বদলে দেয় এবং একজন মানুষ কীভাবে নিজের ভেতর আলো খুঁজে পায়- উপন্যাসটি সেই রূপান্তরযাত্রার মর্মস্পর্শী বর্ণনা।
Jete Chaw Jaw - Rowshon Rube
পেপার ব্যাক
সিমান্তিনী
ভূমিকা
‘সীমান্তিনী’ আমার লেখা দীর্ঘ কবিতার মধ্যে অন্যতম। বারোটি কবিতা নিয়ে এই বইটি। কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে প্রেমের পাশাপাশি পাহাড়ি সৌন্দর্য, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো, হাজং প্রভৃতি আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও তাদের জীবনধারা। পাহাড়ি নারীর সৌন্দর্য, বালুকণা, সমুদ্র, আঁকাবাঁকা-উঁচুনিচু পথের দৃশ্যও এই বইতে চিত্রিত হয়েছে। প্রতিটি কবিতার পাতা রাঙানো হয়েছে ভালোবাসার রঙে।
কিসিঞ্জার ভূঁইয়া
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সীমান্তিনী
গরু চোর
গরুচোর
সেদিন এক গরুচোরের সাথে সাক্ষাত হয়ে গেল সবার, চোরটি নিজে থেকেই বলল—আমার নাম মজিদ। আমি একটা গরুচোর।
দলে নিয়োগ চলছিল। ইন্টার ডিস্ট্রিক বাস ডাকাতদলের সভাপতি জুম্মন খাঁ, অজ্ঞানপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, নিখিলবাংলা পকেটমার মহাসঙ্ঘের সেক্রেটারি বসা। এরাই দলের নিয়োগদাতা।
কিন্তু মজিদকে দেখে মোটেও গরুচোরের মতো লাগছিল না। গরুচোর হবে গরুচোরের মতো কিন্তু এরে সে রকম লাগছে না। এরে মকবুলের মতো লাগে।
মকবুল কে? মকবুল হলো মুরগি চোর। একসময় এই দলের হয়ে কাজ করত। এখন দল ভেঙে আলাদা দল করেছে। টেক্কা দিতে চায়।
অজ্ঞান স্পেশালিস্ট একাব্বর আলি সরু চোখে মজিদের দিকে তাকাল। তার ইচ্ছে করছে চোখেমুখে মলম ঘষে দিতে। একরাশ সন্দেহ নিয়ে বলল—তা মজিদ মিয়া, কয়টা গরু তুমি চুরি করছ?
মজিদ মাথা চুলকায়। ঘাড় চুলকায়। একটু লজ্জাও পায়। বলল—খুব বেশি না ওস্তাদ, আমি তো রেনডম গরু চুরি করি না। যখন কোরবানি আসে, গরুর হাটে ঘোরাঘুরি করে চান্সে চুরি করি। বছরে ওই একটাই সিজন আমার।
—তাই বল! একাব্বর হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সন্দেহ আমার ঠিকই ছিল—ভাবতে ভাবতে সবার দিকে তাকিয়ে একটু ফুলে ওঠে, গর্বে। আসলে এই ব্যাটাকে মুরগি চোরের মতো লাগছিল। বিশ্বাসঘাতক মকবুলের চেহারার লগে মিল আছে। মকবুলও ছিল বিরাট মুরগি চোর।
—তা এইখানে কি মনে করে?
মজিদ বলল—ওস্তাদ, আমারে দলে নেন। চুরিধারী দল থেকে না করলে পোষায় না। একলা একলা ভালো লাগে না। মামারা ধরলে ছাড়ানোর কেউ থাকে না কোর্টে চালান খাইয়া যাই।
মজিদের কথায় সিদ্ধান্তের জন্যে সেক্রেটারি তাকায় সহ-সভাপতির দিকে, সহ-সভাপতি তাকায় সভাপতির দিকে। সভাপতি কারো দিকে না তাকিয়ে নিজের ডানহাতের চার আঙুলে পরা আংটির দিকে তাকিয়ে রইল। দুর্লভ পাথর বসানো সব আংটি। কোনোটি হীরা। ইয়াকুত আর লাল জমরুদ পাথরের আংটি দুটি নাকি খুবই বিখ্যাত। সাদা চুনি নাকি পৃথিবীর কোথাও নেই। একটিই। তাও জুম্মনের হাতে, ভাবা যায়! এই আংটিগুলির বৈশিষ্ট্য হলো ডান হাতে পরতে হয়। কিন্তু জুম্মনের হাতে মোট আঙুল চারটি। একবার ডাকাতি করতে গিয়ে গৃহস্থের দায়ের কোপে একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল। ফলে চার আঙুলেই আংটি পরতে হয়।
কাটা আঙুলের দিকে তাকিয়ে জুম্মন ডাকাত হতাশায় মাথা নাড়ে—মজিদ, গরুচোর মুরগি চোরের বিষয় না, আমরা এমন এক হাত সাফাইয়ের খোঁজ করছি, যে মুরগি নয়—মুরগির পিত্তথলি হাত চালিয়ে বাইরে আনতে পারবে, কিন্তু মুরগি টের পাবে না। পারবে?
ওস্তাদের কথায় খুব হতাশ হয়ে গেল গরুচোর মজিদ। চোখেমুখে পানি চলে এলো প্রায়। এত সুক্ষ্ম কাজ পারবে না সে। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল—খুব ইচ্ছা ছিল আপনাদের সাথে কাজ করার। হলো না। বিদায় দেন ওস্তাদ।
বলে সবার সাথে হাত মিলিয়ে মজিদ চলে গেলে জুম্মন খাঁ নিজের আঙুলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল—আমার আংটি, আমার আংটি!
…………
মকবুলের ডেরায় যখন মজিদ চারটি আংটি ছড়িয়ে দিল তখন খুব হাসাহাসি হলো, জুম্মন ওস্তাদের থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়ে গেছে কল্পনা করে। হাত সাফাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেল মজিদ।
মকবুল কথা দিলে কথা রাখে।
গরুচোর
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
গ্রামের পাশে যে বিশাল বাদাম ক্ষেত আর ক্ষেতের পাশে যে ছোট নদী, সে নদীতে মাঝারি সব ঢেউ ওপার থেকে এপাড়ে আসে খড়কুটো মুখে নিয়ে। আর কত কিছু ভেসে আসে আর চলেও যায়—সারা দিনভর ছোটনেরা সেইসব দেখে পাড়ে বসে বসে।
ছোটনেরা মানে হলো—হাবিবুল, রতন, মোবারক, শেফালি বকুল এরা। কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা। তারা প্রতিদিন নদীতে আসে আর কাঁচা বাদাম খেতে খেতে লক্ষ করে নদীটাকে। নদীর ভেতরে কত কিছু। কাদাখোঁচা একটি দুটি। বালিয়া হাঁসের সাদা পাখনা উড়তে থাকে। আর ওপারের মেঘ যখন উড়তে উড়তে এপারে আসে তখন জলিল কাকার সময় হয় জোয়ালের গাই দুটাকে গোসল দেয়ার। গাই দুটার গোসল দেখতে দেখতে আর বাদাম খেতে খেতে দলের মধ্যে মোবারক নামে যে আছে, সে একটা প্রস্তাব দিল। প্রস্তাব দেয়ার আগে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে কয়েকটা জানাশোনা তথ্যও দিল। যেমন—এই নদীতে কিছুই ডোবে না।

বাকিরা মাথা নাড়ে—হুম।
গরু ডোবে না, খড় ডোবে না। নাও-লঞ্চ কিছুই ডোবে না। ভেলা ডোবে না।
সবাই মাথা নাড়ে। কাঁচা বাদাম খায়।
—চল আজকে একটা খেলা খেলি। মিনুরে ডুবাই দেই। দেখি ডোবে কি না?
ছোটনরা একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। প্রস্তাবে জোর সমর্থন দেয় নুরু। প্রস্তাব সমর্থন নিয়ে নুরু কারো দিকে তাকায় না। নদীর পেটে জলের প্রবাহ দেখতে দেখতে তারা স্কুলঘর দেখে। দূরের আকাশছোঁয়া মিনার মসজিদ দেখে।
—মিনুও ডুবত না। এই নদীতে কিছুই ডোবে না–বলে সাহস দেয় নুরু। ততক্ষণে মিনুকে নিয়ে এসেছে মোবারক।
মিনু জল দেখে ভয় পায়। বলে—মিঁউ!
বিশাল নদী। বিশাল চর। মিনু ভয় পায়। ডাকাডাকি শুরু করে দেয়—মিঁউ মিঁউ।
মিনুকে কোলে নেয় হাবিবুল। হাবিবুল থেকে নেয় রতন। রতন থেকে নেয় শেফালি। শেফালি থেকে নেয় রাজন। রাজন থেকে নেয়া নুরু। নুরু থেকে কেউ নেয় না। কারণ নুরু কাউকে দেয় না। সে মিনুকে ছুড়ে দেয় নদীতে।
সবাই হাসে। মিনু সাঁতার কাটে। ঠিকমতো পারে না। নদীতে ঢেউ। তলিয়ে যায়। ছোট্ট মাথা। ডোবে ভাসে। সবাই হাসে–খুশিতে হাততালি দেয়।
দুই ঢেউয়ের চাপে পড়ে মিনু ডাকে—মিঁউ মিঁউ।
প্রাণপণ চেষ্টা করে মিনু কচি পা দিয়ে পাড়ে আসতে পারে না। দূরে সরে যায়। আবার আসে। পাড়ের কাছে আসেও। কিন্তু নুরুরা ঢিল ছোড়ে। হি হি করে হাসে। হাত তালি দেয়।
মিঁউ মিঁউ করতে করতে নদীর ভেতরে চলে যায় মিনু। ঢেউয়ের ভাঁজের ভেতরে চলে যায়। ডুবে যায়। পাড়ে বসে রাজন শিস দেয়।
…………
রাতের বেলায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পুরো ব্যাপারটা আবার দেখে ছোটন। মিনু ডুবে যাচ্ছে। ভেসে উঠছে। চিৎকার করে ওঠে ছোটন। ঘামে নেয়ে ওঠে সে। কিন্তু তার ঘুম ভাঙে না। ঘুমের মধ্যেই ছোটন বোঝে ঘুম না ভাঙলে সে নদী থেকে আর মিনুকে উঠাতে পারবে না।
সকালবেলা তাড়াতাড়ি মিনু যে কাজটি করে তা হলো ছোটনের বাবা-মাকে নিয়ে নদীর পাড় চলে এলো। তারা দেখল—নদীর ভেতরে একটা লাল জামা ভাসছে ছোটনের।
২৪১৯
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
প্রেমালিঙ্গম
ঝুমকি
কত পথ পার হলাম ঝুমকি;
তবু মানুষ চেনা হলো না!
বারো প্যাচের নারী, চোখে জড়িচুমকির খেল্ দেখালো
অমলেশ সেই দেখে দেখে শেষে উন্মাদের খাতায় নাম লেখালো
পত্রিকার শেষ পাতায় ওকে নিয়ে কতো ফিচার হলো
তবুও অমলেশকে কেউ ভালোবাসলো না।
ঝুমকি পৃথীবির সবচে’ হিংস্র প্রাণী মানুষের
গায়ে বিপদের গন্ধ লেগে আছে;
ফাঁক পেলেই নষ্টামি করতে লেগে যায়
কেউ কেউ বলে সত্যিকারের ভালোবাসা নেই
বড় র্দূভাগা ওরা!
সত্যিকারের ভালোবাসাই দেখেনি চোখে; পাবে কোত্থেকে
প্রেমালিঙ্গম
সরদার ফারুকের ১০০ কবিতা
ভূমিকা-
আমার ৪টি কবিতার বই বিভিন্ন সময়ে কলকাতা এবং আগরতলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠক বইগুলো হাতে পাননি বলেই সেখান থেকে ১০০টি কবিতা বাছাই করে এই প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রাণন প্রকাশনের প্রাণপুরুষ শ্রদ্ধাভাজন আবু এম ইউসুফ ভাইয়ের সহৃদয় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ।
অনুজপ্রতিম তুহিন ভূঁইয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
রূপনগর আবাসিক এলাকা
মিরপুর, ঢাকা।
সরদার ফারুকের ১০০ কবিতা
অন্যান্য
ফিরোজা রঙের দেশ – ফাতিমা জাহান
খ্রিস্টের জন্মের প্রায় হাজার বছর আগে লোকালয় গড়ে ওঠে উযবেকিস্তানে। মধ্য এশিয়ায় উযবেকিস্তান প্রথম জনপদ যেখানে তুর্ক জনগোষ্ঠী বসবাস করতে শুরু করে এবং সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা শুরু করে। এক সময় আলেক্সান্ডার দা গ্রেট এই জনপদ নিজের অধীনে করে নিয়েছিলেন।
খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগে চীন থেকে বণিকরা আরব ও ইউরোপে সিল্ক, মসলা, দামি পাথর, চা ইত্যাদি বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে মধ্য এশিয়ার পথ ধরে যাত্রা শুরু করেন। সেই থেকে সিল্ক রোড বা রেশম পথ মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেয়। দেড় হাজার বছরের বেশি সময় রেশম পথ ধরে বণিকরা নিয়মিত যাতায়াত করেছিলেন।
আল বুখারি, আল তিরমিজি, ইবনে সিনা, আল বিরুনি, সম্রাট বাবরের মতো বিখ্যাত ব্যক্তি উযবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে বতুতা, মার্কো পোলো, ওমর খৈয়ামের পায়ের ধুলা পড়ে এই ভূমি ধন্য হয়েছে।
মায়োলিকা শিল্প, ইকাত কাপড়, তামা ও কাঠ শিল্প বিমূর্ত থেকে মূর্ত হয়েছে শিল্পীদের হাতে।
চেঙ্গিস খান থেকে আমির তিমুর বা আরও পরের আমিরগণ শুধু যোদ্ধাই ছিলেন না, সুশাসক ও শিল্প-সাহিত্যের বোদ্ধাও ছিলেন।
উযবেকিস্তানে লেখকের ভ্রমণ সেই শিল্প-সাহিত্য ও রেশম পথের বাঁকে বাঁকে চলে গিয়েছে। এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে শুধু রেশম পথের দিশাই নেই, সাথে আছে প্রাচীন স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের গল্প।
Firoza Ronger Desh - Fatima Jahan
ফেসবুক রঙ্গ রসিকতা – গ্রন্থনা ও সম্পাদনা শফিক হাসান
ফেসবুক কি সময় নষ্ট করায়, দিয়ে যায় ক্লান্তি-হতাশা?
না; ফেসবুকের প্রাপ্তিও কম নয়। ইতিবাচক ব্যবহার করা গেলে। বিনোদনের দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাঙালি জন্ম থেকে রসিক। কথাবার্তা থেকে যাপিত জীবনের কাজ-কর্মে রসবোধের পরিচয় মেলে। ফেসবুকও হয়ে উঠছে রসাধার।
কেউ কেউ স্ট্যাটাসে এমন সব কথা লেখেন। হা হা হা কিংবা খিলখিল করে হেসে উঠতে হয়। চেপে রাখার সুযোগ নেই। বাছাইকৃত মজাদার ও রসাত্মক ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বইটি। খ্যাতিমান মানুষ থেকে সাধারণের মধ্যে যে রসবোধ প্রখর, প্রমাণ মিলবে এতে।
পাঠককে নিষ্কলুষ হাসি উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টায় মেতেছেন শফিক হাসান। উদ্যোগ সার্থক নাকি অন্যকিছু সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে বইয়ের পাতায় পাতায়।
Facebook Rongo Rosikota - Collection & edited by Shafique Hasan
কুনাফার শহরে – ক্ষমা মাহমুদ
ভ্রমণকাহিনি কেবল কোনো জায়গার প্রকৃতি বা রূপ বর্ণনাই নয়, তার সঙ্গে অনুপান হিসেবে থাকতে হয় জায়গাটার ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষ এবং তাদের জীবনযাপনের সুলুক-সন্ধানও। তবে তথ্য বা ইতিহাসের অনুপাত কতখানি হবে, তারও রয়েছে কিছু অলিখিত হিসাব। তথ্য-উপাত্ত এবং সাহিত্যরসের ভারসাম্য রক্ষা করে একটা উপাদেয় ভ্রমণবৃত্তান্ত উপস্থাপন করার ক্ষমতা একজন কুশলী ভ্রমণলেখকের বিরল গুণ। এই বইতে এসব উপাদান ও রসে জারিত সাতটি ভ্রমণগল্প পাঠককে নিয়ে যাবে জর্ডানের ইতিহাসের অলিগলিতে যেখানে থমকে আছে হাজার বছর আগের সময়, যার পরতে পরতে পাওয়া যাবে নানান জানা-অজানা তথ্য।
গ্রেকো-রোমান সময়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের নাম ছিল ফিলাডেলফিয়া, আরব দেশ হলেও জর্ডানে যে একসময় গ্রিক রোমানদের জবরদস্ত উপস্থিতি ছিল-সেসব নিদর্শনের সুস্বাদু বর্ণনা ও ইতিহাস পাওয়া যাবে এই বইতে। নরম হলুদ গমের মতো মিঠে রোদমাখা আরাম পাওয়া যাবে ওয়াদিরাম মরুভূমিতে যাযাবর বেদুইনদের ঘরবাড়ি আর জীবনযাত্রার অনুপুঙ্খ বর্ণনায়। আবার পাওয়া যাবে একই মরুভূমিতে তাঁবুর ভেতর রাতের তারা দেখে রাত কাটানোর বিরল অভিজ্ঞতাও। প্রাচীন রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য সুন্দর পাথুরে নগরী পেত্রার ভেতর ফারাও রাজাদের ধন ভান্ডারের দরজাও যেন খুলে যাবে বর্ণনার মুনশীয়ানায়। জর্ডানের মৃত সাগরের জীবন্ত বর্ণনার সঙ্গে এই সাগরটি সম্পর্কে বহু মিথ ভেঙে দিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্য-আগ্রাসনে এই বিচিত্র সাগর যে ক্রমে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে লেখকের উদ্বেগের আভাসও পাওয়া যাবে এই বইতে।
Kunafar Shahore - Khama Mahmud
দেখি বাংলার মুখ – শফিক হাসান
শফিক হাসানের দেখা বাংলার মুখ আদতে কেমন!
‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’
তারপরের কথা—‘একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু’।
মনে এই খেদ যেন না থাকে, শফিক হাসান বেরিয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের নানা জায়গা প্রাণভরে দেখতে। তার বর্ণনা রম্য, সহাস্য আনন্দময় ও প্রাঞ্জল। নানা সব জায়গার ভেতরে—লালনের স্মৃতিভরা স্থান, কেওক্রাডং চূড়া, মুজিবনগর, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের নানা জায়গা, সমুদ্র ও পর্বত, রেলযাত্রায় তূর্ণা নিশিথায় নিশিযাপন এবং জলজোছনায় ভেসে যাওয়া হাতিরঝিল—এমনি মায়াময়, সুরভিময় নানা স্থানে। আমরা যখন ফট করে বাইরে ঘুরতে যাই কখনো কি ভাবি দেশের কতটুকু দেখেছি।
না, শফিক হাসান তেমন কোনো খেদ করবেন না যেদিন বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়বেন। ‘দেখি বাংলার মুখ’ এমনই একটি গ্রন্থ। সবকিছু দেখার আগে নিজেদের দেখো। অপূর্ব। সুন্দর ঝরঝরে গদ্যে দেখার সেইসব বর্ণনা আমাদের দেশটাকে নতুন করে চেনাবে। আমি এই গ্রন্থের বহুল প্রচার কামনা করি।
সালেহা চৌধুরী
ঢাকা
মার্চ, ২০২৪
Dekhi Banglar Mukh by Shafique Hasan
সুপ্রিয় দিনলিপি ( দ্বিতীয় খণ্ড)
ভূমিকা
মূলত: ‘সুপ্রিয় দিনলিপি’ শিরোনামে আমার এই লেখাগুলো যে শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, লেখাগুলো যে আসলেই মান-সম্পন্ন, পরিশীলিত এবং এতে যে সামগ্রিকভাবে একটি স্পষ্ট বক্তব্য বা ম্যাসেজ বিদ্যমান থাকে এবং তা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতেও প্রকাশিতও হচ্ছে- এই সামগ্রিক ব্যাপারটি আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি বহু বছর পরে, ১৯৯৮ সালের দিকে যখন ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’ এ আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। তখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর বিবিএ (অনার্স) এর শিক্ষার্থী। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য, ছোট-গল্প, বিভিন্ন ন্যাশনাল ইস্যু, উপন্যাসের সমালোচনা, বঙ্গবন্ধুর জীবনী, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়াবলীর ওপর আমার আর্টিক্যাল ও কলামগুলো একে একে দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক আজাদী ইত্যাদি জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হতে থাকে। দ্যাট মীনস্ সিরিয়াসলি কাউন্ট করলে আমার লেখালেখির বয়স হচ্ছে বিশ (২০) বছর। কিন্তু যেহেতু আমি প্রফেশনাল রাইটার নই, তাই আমার লেখাগুলো প্রকাশিত হয় অনিয়মিতভাবে এবং সংখ্যায় খুবই কম। ‘সুপ্রিয় দিনলিপি’ শিরোনামে এখনো আমি ক্লান্তিহীনভাবে লিখে যাচ্ছি। এই পর্যন্ত আমার সেইসব লেখা সর্বমোট ১৯টি ডায়রীতে এসে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকে বাছাইকৃত কিছু লেখার ‘পরিবর্ধন -পরিমার্জিত’ রূপ নিয়েই রচিত ‘সুপ্রিয় দিনলিপি (দ্বিতীয় খণ্ড)’ পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করার নিমিত্তে। গ্রন্থটিকে রূপক অর্থে মূলতঃ ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ’ও বলা যায়। এই গ্রন্থটিতে প্রধানত যে সময়কালের ঘটনাবলী বিশ্লেষনাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেই সময়কাল হচ্ছে- ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। অদূর ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে ‘সুপ্রিয় দিনলিপি’ এর- তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম খণ্ডে পরবর্তী সময়কালের ঘটনাবলী বিশ্লেষণাত্মকভাবে তুলে ধরা হবে এবং একটা পর্যায়ে এর ইংলিশ ভার্সনও বের করা হবে- এইরকম একটি প্লান আমার রয়েছে।
আমি মনে করি,
“সময়ের সাথে সাথে নিজের মন ও মেধাকে আপডেটেড রেখে ধর্মীয় কুসংস্কার, বিজাতীয় সংস্কৃতির আধিপত্য ও দৌরাত্ম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পারস্পারিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মেধার অবমূল্যায়ন, শিক্ষা-ব্যবস্থার ভগ্নদশা, শিক্ষকদের অবমূল্যায়নসহ সামাজিক আরও নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি পরিহার করে বাংলাদেশের যে নিজস্ব একটি আদর্শ, ঐতিহ্য, ইতিহাস, কৃষ্টি-কালচার, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক মূল্যবোধ রয়েছে- সামগ্রিকভাবে তার অনুশীলন করা- বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ১৯৭১ সালে সবাই সময়ের প্রয়োজনে যুদ্ধ করেছিল, তখন যুদ্ধ করে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে ‘স্বাধীন’ করাই ছিলো তখনকার সময়ের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। আর এখন আকাশ-সংস্কৃতির এই আগ্রাসনের যুগে অর্থাৎ এই সময়ের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হচ্ছেÑ ‘আলোকিত এবং একই সঙ্গে মানবিক, দেশপ্রেমিক, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন , অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, আধুনিক মানুষ ও চাই, যাতে করে একটি উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যেÑ আমরা বাংলাদেশের সকল মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারি ঠিক সেই মুক্তিযুদ্ধের মতো।
অর্থাৎ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি আত্মনির্ভরশীল, সংস্কারমুক্ত, স্বশিক্ষিত, মেধাবী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে হলে- আমাদের সকলকে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং যেখানে আমাদের মূল অস্ত্র হবেÑ আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও অন্যান্য সকল জাতীয় অর্জন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ! ‘আলোকিত মানুষ চাই এবং একই সঙ্গে মানবিক, দেশপ্রেমিক, নৈতিকমূল্যবোধসম্পন্ন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, আধুনিক মানুষও চাই’- মূলত এটাই হওয়া উচিত আধুনিক বাংলাদেশ এর শ্লোগান’।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর উপকার করতে চাইলেও করা যায় না, তার চেয়ে বরং আমরা যা করতে পারি তাই যদি করি তাহলে আপনা-আপনি পৃথিবীর উপকার হয়ে যায়’।
মূলত: পাঠকের ভালো লাগা এবং ভালোবাসাই হচ্ছে লেখকের প্রত্যাশা পূরণ। আশা করি, আপনারা কখনো আমাকে এবং আমার লেখাকে সেই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করবেন না। আমি মূলত প্রফেশনাল রাইটার নই। আমার মূল পেশা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা’ আর নেশাÑ ‘লেখালেখি করা’। ‘পেশা’য় জড়িত না থাকলে আমার এ পৃথিবীতে জীবন-ধারণ ও অস্তিত্ব রক্ষাই দুরূহ হয়ে উঠবে কিন্তু ‘নেশা’টা আমার মাঝে-মধ্যে করলেও চলবে। ‘শিক্ষকতা’ পেশায় ব্যস্ত থাকার কারণে, এই গ্রন্থটির প্রতি হয়তবা পরিপূর্ণ মনোনিবেশ ঘটাতে পারিনি। ‘সুপ্রিয় দিনলিপি (প্রথম খণ্ড) অথবা সুপ্রিয় দিনলিপি (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এর কোথাও যদি পাঠকেরা অতৃপ্তি কিংবা অসম্পূর্ণ ফিল করেন, তাহলে তাদের কাছে অনুরোধ- ‘আপনারা রেগুলারলি ‘সুপ্রিয় দিনলিপি’-এর পরবর্তী খণ্ডগুলো সংগ্রহ করবেন’। আশা করি, তাহলে আর কোনো অতৃপ্তিবোধ থাকবে না। উল্লেখ্য, সুপ্রিয় দিনলিপি (দ্বিতীয় খণ্ড) -এর পাঠকগণ ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’ থেকেই ‘সুপ্রিয় দিনলিপি (প্রথম খণ্ড)’-বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
‘সুপ্রিয় দিনলিপি’ গ্রন্থটি প্রকাশের ব্যাপারে আমাকে বাংলাদেশের যে দু’জন স্বনামধন্য সাংবাদিক সবসময় সহযোগীতা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন, তারা হচ্ছেনÑ ১. সাংবাদিক ‘সালিম সামাদ’ (বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক) যিনি ‘দি ডেইলী আওয়ার টাইমস্’ সহ আরও বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে এ কাজ করছেন এবং তিনি ২০০৫ সালে প্রেসটিজিয়াস ঐবষষসধহ-ঐধসসবঃঃ অধিৎফ অর্জন করেন এবং একসময় ‘ইন্ডিয়া টু ডে’, ‘বাংলাদেশ অবজাভার’, ‘বিবিসি’সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফবহঃ ধহফ জবঢ়ড়ৎঃবৎ হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২. সাংবাদিক ‘রাশেদ রউফ’ যিনি বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক আজাদী’র সহযোগী-সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য শিশু-সাহিত্যিক এবং কবি। তিনি ২০১৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন।
এ গ্রন্থটির প্রচ্ছদ নির্বাচন করেছেনÑ সাংবাদিক, কবি ও শিশু সাহিত্যিক ‘রাশেদ রউফ’ এবং গ্রন্থটি প্রকাশনা করেছেন ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে সাংবাদিক ‘সালিম সামাদ’, ‘রাশেদ রউফ’ এবং ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’ এর কর্ণধারসহ সকল কলাকুশলীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ফারহানা আকতার
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ
১৫ জানুয়ারি ২০২০
Suprio Dinlipi, Part-2














































































































































































































































































































































