Short Story (ছোটগল্প)
Showing 1–12 Products of 198 ProductsSorted by latest
এই ঋণ শোধ হবে না – জোনাকী দত্ত
১৯৫২ থেকে ১৯৭১ আমরা বাঙালিরা চরম চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পেয়েছি লাল-সবুজ পতাকা। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামক দেশটি স্থান করে নিয়েছে সগৌরবে। যাঁদের নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তাঁদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমার এই বইটি লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো গল্পের মাধ্যমে সেই মহান ব্যক্তিদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ঘটনা, ভাষা আন্দোলন, গণ আন্দোলন, পঁচিশে মার্চ, তাদের জন্য নির্মিত শহিদ মিনার, স্মৃতিসৌধ আরো নানান ঘটনা পাঠকের কাছে তুলে ধরা। আশা করছি ছোটো-বড়ো সকল পাঠকের গল্পগুলো ভালো লাগবে।
Ei Reen Shodh Hobe Na - Jonaki Dutta
কুড়িয়ে পাওয়া ছায়া – ইসরাত জাহান
কেউ কেউ নিরন্তন হেঁটে চলে। চলতে চলতে মুখোমুখি হয় অগুনতি মানুষের। যাদের ছায়া দীর্ঘ অথবা হ্রস্ব। ছায়া পেরিয়ে ঐসব মানুষের প্রকৃত নাগাল পাওয়ার চেষ্টাও থেমে থাকে না।
প্রাগৈতিহাসিকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে সে-ই সন্ধান মানিক বন্দোপাধ্যায়ই হয়তো শুরু করেছিলেন। এরপর আরও অনেকেই ঐ পথ অনুসরণ করেছে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে কখনও কখনও ছায়ার ওপারের মানুষকে অস্বীকারও করা হয়েছে। ঘোষিত হয়েছে, ‘থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার।’ অন্ধকারের ফ্রেমে যদিও এভাবেই তারা অবয়বহীন থেকেছে, তবু লীন হয়ে যায়নি।
‘কুড়িয়ে পাওয়া ছায়া’ সেইসব অবয়বহীন মানুষের গল্প, যেখানে গল্প নির্মাণে অন্ধকার মূখ্য হয়ে উঠলেও আলোকে অস্বীকার করা হয়নি।
Kuriye Pauya Chaya - Israt Jahan
সোনালতার কবিতা – শেখ নাজমুল হাছান
ওভিদের কাব্যকথা অনেককালের ব্যবধানে আসলে রোমান্সস্বপ্নের গল্প হয়ে ওঠে, খুব সিরিয়াস জায়গাগুলো পেরিয়ে। মেটামরফোসিস সম্পর্কে এমন কথা সত্য। সোনালতার কবিতা সেরকমই রূপান্তর, গল্পের রূপান্তর; প্রেম-বাঁশরী-বিশ্রম্ভালাপ-মাতৃস্নেহ-প্রকৃতি সবটুকু যেন হীরকখণ্ডস্বরূপ স্থিত এক প্যাকেজ। অথচ এ লেখক যখন পাখিডুবি গ্রামের গল্প বলতেন তখন পাখি গল্প হলেও কড়া-উৎকোচে তা মেটাতে হতো কঠোর বাস্তবতা দিয়ে। বাস্তবতা ওই সময়ে তুমুল, কঠোর কিছু ছাড়িয়ে কুবলা খাঁ-র অশ্বক্ষুরের বদলে খুঁজে নিত কবি কোলরিজের ব্যথাতুর মনকে।
শেখ নাজমুল হাছানের সোনালতার কবিতা উইটসমেত মূলত এঁকে-বেঁকে চলা কঠোর ক্লান্তির গল্প। বাস্তবতাই তার পটভূমি; এটি ভাষণে আলাদা, একদম এ-সময়ের গল্প, আলাদা গল্প, ঝরাপাতার সন্নিহিত সম্পর্কের- নিজের কিন্তু সবার, সকলের। আবার জানুন, রোমান্টিকতার খোসা ছাড়িয়ে কীভাবে বুক চিতিয়ে চেনা গল্পটাও চেতনায় রাখা যায়। হাঁটুন ওর সবুজ আগাছা কিছু থেকে এই সোনালতার কবিতা পর্যন্ত। পরিতৃপ্তির অশেষ আনন্দ!
-শহীদ ইকবাল
Sonalatar Kobita - Shakh Najmul Hasan
ট্রুথ অর ডেয়ার – আব্দুল্লাহ্ আল বাকী
বইটিতে আধুনিক জীবনের জটিল মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, সম্পর্কের ঘাত-প্রতিঘাত, নৈতিক সংকট, প্রতারণা ও সামাজিক নির্মম বাস্তবতার এক বহুমাত্রিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। বইটির বিভিন্ন পটভূমিতে কয়েকটি সতন্ত্র গল্প সন্নিবেশিত হয়েছে, যার প্রতিটি মানবচরিত্রের অবচেতন মন ও জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করে। প্রতিটি গল্পেই প্রকাশ পেয়েছে, মানব মনের গোপন বাসনা, যৌনতা, সমাজ ও ব্যক্তির মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের নিখুঁত বিশ্লেষণ। গল্পের চরিত্রগুলো অদ্ভুত এক টানাপোড়েনে ক্ষতবিক্ষত, যা পাঠককে জীবনের গভীর ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবে বলেই মনে করি।
Truth Or Dare - Abdulla Al Baky
নির্বাচিত ছেটোগল্প – মোখলেস মুকুল
মোখলেস মুকুলের নির্বাচিত ছোটোগল্প মূলত তার দুটি গল্পগ্রন্থ চাকা এবং কাঁকড়াকাল থেকে নেওয়া বেশকিছু ছোটোগল্পের সমাহার। গল্পগুলোর বিষয়-বৈভব অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এর পরিসর ব্যাপক আর রসরোমন্থনের বোধিচর্চাটি সহজসাধ্য। খুব বেশিরকম পাঠনন্দন না হলে পরের পৃষ্ঠাগুলোর প্রতি তৃষ্ণা বা আগ্রহ জাগায় না। আর সেটির ঘাটতি নেই বলেই গল্পগুলো পাঠকের পক্ষে সহজেই গলাধঃকরণ করা সম্ভব।
প্রতিটি গল্পই স্বতন্ত্র। আলাদা স্বাদ। এক একটি গল্প এক একটি জীবন, দর্শন, স্বপ্ন, ভালোবাসা আর নিষ্ঠুর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। গল্পগুলো পাঠ করার পর বরাবরই আমার মনে হয়েছে, ওগুলো কোনো গল্প নয় যেন প্রতিটি উপাদান সত্য এবং বাস্তব কোনো যাপিত জীবনের খনি থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে তোলা।
মোখলেস মুকুলের এই কাজে যুগপৎ মনন এবং সৃজননিষ্ঠা হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে। তার রচনার সাহিত্য আকর্ষণ এখানেই। মুন্সি দক্ষতাও বটে। প্রহেলিকার যে অতীন্দ্রিয়তা, যে নৈপুণ্যে তিনি মিস্টিসিজমকে আহরিত আকরের সাথে অঙ্গীভূত করেছেন, সেখানেও প্রাঞ্জল অভিগম্যতা বিস্ময়ের উদ্রেক করে। একেবারে পুঞ্জীভূত জোছনার মতো আঁধারের সাথে সমৃদ্ধ রমণ। তার মনিষা এবং আলোকদৃষ্টির প্রশংসা না করে পারা যায় না।
আবদুল মান্নান সরকার
কবি ও কথাসাহিত্যিক।
Nirbachito Choto Golpo - Mokhles Mukul
বিবর্ণ আঁচল (যুদ্ধশিশুদের গল্প) – ফরিদ আহমেদ ও সৈনিক
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরিকল্পিত পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের লাখো নারী। যুদ্ধশেষে স্বাধীন দেশের বুকে যখন নতুন সূর্য উঠল, তখন তাঁদের কোল আলো করে এলো একদল অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ নিষ্পাপ শিশু। ইতিহাস এদের চেনে ‘যুদ্ধশিশু’ হিসেবে। সেই সময়কার রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় এই শিশুদের কপালে জুটেছিল ‘অবাঞ্ছিত’ বা ‘জারজ’ তকমা। এমন এক চরম সংকটের মুখে রাষ্ট্র এবং মাদার তেরেসার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে বহু শিশুকে দত্তক পাঠিয়ে দেওয়া হয় ক্যানাডা, আমেরিকা কিংবা ইউরোপের দূরবর্তী দেশগুলোতে।
সুদূর প্রবাসে বড়ো হলেও পরিণত বয়সে এসে এই যুদ্ধশিশুরা মুখোমুখি হয় তীব্র এক অস্তিত্বের সংকটের। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারা হাতড়ে বেড়াতে থাকে নিজেদের শিকড় আর প্রকৃত পরিচয়কে। বুকের ভেতর জমা হওয়া একরাশ প্রশ্ন আর না-দেখা মাকে একবারের জন্য ছুঁয়ে দেখার সুতীব্র বাসনা জন্ম নেয় তাদের মাঝে। সেই তীব্র বাসনা নিয়ে তারা পা বাড়ায় দূর প্রান্তের এক সবুজ মানচিত্রের দিকে, যার নাম বাংলাদেশ।
জেসিকা, শিখা, বাদল, রাণী আর রাধিকা-এই পাঁচ যুদ্ধশিশুর শেকড় সন্ধানের পাঁচটি সমান্তরাল, মর্মস্পর্শী ও সত্য-আশ্রয়ী আখ্যান নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বিবর্ণ আঁচল’। এদের মধ্যে কেউ হয়তো বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে খুঁজে পেয়েছে মায়ের সেই চেনা স্নেহের স্পর্শ, কেউ সেটা পায়নি। যে পেয়েছে, সে সাময়িক আনন্দে ভেসেছে। আর যে পায়নি, সে হারিয়ে গিয়েছে অপার্থিব এক বিষাদের অতল অন্ধকারে।
যুদ্ধশিশুদের মাকে খোঁজার সেই অনিশ্চিত কঠিন যাত্রা আর আনন্দ-বেদনার এক অনন্য কাব্যই হচ্ছে এই বই-‘বিবর্ণ আঁচল’!
Biborno Achol (The Stories of War Babies) - Farid Ahmed And Shoinik
বিচিকলা(র) বজারজাতকরণ পদ্ধতি – রোমেল রহমান
কল্পবাস্তব এক দুনিয়ার কেচ্ছাকাহিনি ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’! বিচিত্র মেটাফোর আর মুক্তির আদিম আকাক্সক্ষা হাত-ধরাধরি করে পাঠককে তার চেনা দুনিয়া থেকে মনের গহিনে জিয়িয়ে রাখা আরেক দুনিয়ার রাস্তায় নিয়ে ছেড়ে দেয়; সেখান থেকে তাকে হয়তো আবার টেনে তোলে কিংবা তোলে না! উদোম সংলাপ আর রাডারের নিচে থাকা বৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচতে মাথায় পলিথিন ব্যাগ পড়া মানুষদের সংস্কৃতি- গল্পগুলোর দাঁত নখ চোখ হয়ে ওঠে। যারা পুনরাবৃত্তিময় একঘেঁয়ে বেঁচে থাকার বাজারে খ্যামটা নেচে উবে গেছে ভিড়ের ভিত্রে, মুখের মধ্যে মুখ মিলিয়ে। রাজা শুধু জলপাই কাঠে খাকি রং করা সিংহাসনে বসে নিজেকে বাঁচাতে মানুষ শিকার করতে করতে জীর্ণ হয়েছে দিনের বিচারে।
জন্মান্ধ মনের সুষম পুষ্টির জন্য ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’ উপাদেয়।
Bichikalar Bazarjatkaron Poddhoti - Romel Rahman
সিঙ্গেল মাদার – সম্পাদনা : কাজী লাবণ্য
‘সিঙ্গেল মাদার’ গল্প সংকলনের একেকটি গল্প যেন একেকটি অসমাপ্ত জীবনের সম্পূর্ণ অধ্যায়। এখানে উল্লিখিত নারীদের নামের আগে সমাজ আরোপিত ‘সিঙ্গেল’ শব্দটি বসে গেলেও তাদের শক্তি, সংগ্রাম আর ভালোবাসা কোনোদিনই ‘সিঙ্গেল’ হয়ে থাকে না। এই মায়েরা ভঙ্গুর স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন ভোরের জন্ম দেন; সমাজের প্রশ্ন, তিরস্কার, অবহেলা পেরিয়ে সন্তানের জন্য হয়ে ওঠেন আশ্রয়, আকাশ, পৃথিবী। আর তাদের সন্তানেরা তাদের চোখে খুঁজে পায় সাহসের নির্মল সংজ্ঞা। সংকলনে সমকালীন গল্পকারদের কলমে উঠে এসেছে মায়েদের জীবনের নানা রং, অভাব, অপমান, লড়াই। আবার এসবের মধ্যেও চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে অদ্ভুত এক আলো। গল্পপাঠ করতে করতে তাই কখনও কখনও চোখ ভিজে উঠবে। কখনও-বা মনে হবে, এই গল্প তো আমার চেনা, জানা। ‘সিঙ্গেল মাদার’ এখানে মায়েদের জন্য বিশেষ কোনো পরিচয় বা সংকোচের নাম নয় বরং এ এক গর্বিত উচ্চারণ যা ভালোবাসার, দায়িত্বের এবং অদম্য বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। এক কথায় বলা যায়- এই বই শুধু গল্পের সাজি নয়, এটি নিঃশব্দ বিপ্লবের দলিল।
SIngle Mother - Edited by Kazi Labonno
শখের বাগানে সাপ – মঞ্জু সরকার
দুঃশাসনে পিষ্ঠ জনজীবন ও সাম্প্রতিক অস্থির সময়ের চেহারা জীবন্ত হয়ে উঠেছে এ গ্রন্থের ছোটো ও বড়ো আটটি গল্পে। ক্ষুদে কৃষকের ‘গৃহপালিত গরুটার গতিপথ’ ও শিক্ষার্থী সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ‘কুড়ানি বুড়ি ভাদুর মা’য়ের প্রকৃতি-নির্ভর জীবন-সংগ্রাম, প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনতৃষ্ণার মাঝেও ‘দাঁত ভাঙা হাসি’র মতো দুর্ঘটনার শঙ্কা কিংবা ‘কবর’ শাসিত উন্নয়নের পটভূমিতে রচিত গল্পে যে স্বাদ-বৈচিত্র্য, তা যেন সাম্প্রতিক দেশকালের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠককে। ‘জনৈক পেশাদার প্রতিবাদী’র মধ্যেও রাষ্ট্র-ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং স্বৈরাচারী রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতে গণ-আন্দোলনের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে ‘লুণ্ঠিত সিংহাসন’, ‘শখের বাগানে সাপ’ ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নিনাদ’-এর মতো গল্প রচনা করে সত্যসন্ধ দায়বদ্ধ শিল্পীর ভূমিকা পালন করেছেন লেখক। প্রথম সাড়াজাগানো গল্পগ্রন্থ ‘অবিনাশী আয়োজন’-এর ধারাবাহিকতায় শক্তিমান এ কথাশিল্পীর চতুর্দশতম গল্পগ্রন্থটিও সাধারণ মানুষের মুক্তিসংগ্রাম ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শৈল্পিক দলিল হয়ে টিকে থাকবে।
Shokher Bagane Shap - Manju Sarkar
ভাত ও ভাতারের গল্প (দ্বিতীয় সংস্করণ) – লতিফ জোয়ার্দার
আমি আমার বুকের ভেতরে যে যন্ত্রণা লালন করি তার রং আমার বড়ো অচেনা, কোনোদিন দেখিনি তারে। অথচ কত মধুর উপলব্ধিতে তাকে অনুভব করি। আমার স্বপ্নগুলো অধরা একটা জগৎ, অধরা একটা সময়।
জীবনের বহুমাত্রিক রূপ দেখে দেখে কখনো বিষণ্ণতার ভেতর হারাই সে স্বপ্ন। যে সময়ের গল্প লিখি আমি। সেখানে অচেনা মানুষের ভিড়। অথচ আমি চোখ মেলে দেখি আমার গল্পগুলো হেঁটে বেড়ায়। সেখানে যেমন নিম্নবিত্তের মানুষ আছে। আছে শহুরে যান্ত্রিকতায় নিমজ্জিত কিছু অচেনা মানুষের গল্প। খুব বেশি সময় ধরে লেখা না হলেও আমার ‘ভাত ও ভাতারের গল্প’ গ্রন্থের গল্পগুলো কয়েক যুগের। সেখানে যেমন জীবনযন্ত্রণা আছে, আছে মানুষের জৈবিক চাহিদা এবং হৃদয়ের কারুকার্যখচিত প্রেম ও ভালোবাসা। এই গ্রন্থের ষোলোটি গল্প ষোলোটি সংসারের। গল্পগুলো কখনো ক্লান্তিকর মনে হবে না পাঠকের কাছে। পড়তে পড়তে কখনো একঘেয়েমি আসবে না।
Bhat O Bhatarer Golpo (Second Edition) - Latif Joarder
পেখম ফিরে আসার পর বদলে গেল বিশ্ব চরাচর – সালেহা ফেরদৌস
বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে উধাও হয়ে গেল পেখম।
একবছর পরে ফিরে আসলে জানা গেল, স্থলে নয় জলের নিচের এক অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে ছিলো পেখম। কেউ বিশ্বাস করলো আবার কেউবা বিশ্বাস করলো না, তবে বিজ্ঞানীদের একটি দল ধরে নিয়ে গেলো পেখমকে। পেখমের অপেক্ষায় থাকা প্রাণিবিদ অহম ছুটে গেল ফিরে আসা প্রেমিকাকে উদ্ধার করতে। কিন্তু পুরো পৃথিবীর বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করে প্রেমিকাকে উদ্ধার করা যখন অসম্ভব মনে হলো তখন জলের নিচ থেকে উঠে এসে ওদের পাশে দাঁড়ালো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধারক ও বাহক কিছু উদার মনের মানুষ।
পেখম ও অহমকে ছাড়িয়ে যুদ্ধ লেগে গেল জলের সাথে স্থলের! সভ্যতার সাথে সভ্যতার! পুরানোর সঙ্গে নতুনের! আধুনিকতার সাথে মানবতার! কে বা কারা জয়ী হলো সেই যুদ্ধে? কীভাবে পেখম নামক এক সাধারণ মেয়ের কারণে বদলে গেল বিশ্ব মানচিত্র জানতে হলে পড়ে ফেলুন গতিময় এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিটি।
জলের পৃথিবীর অপরূপ বর্ণনার সঙ্গে পাবেন বিজ্ঞান, প্রেম ও মানবতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। স্থলের মহেঞ্জদারো হারিয়ে গেলেও চলুন পেখমের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও ডুব দিই জলের মহেঞ্জোদারোতে। ঘুরে আসি এক অজানা পৃথিবী থেকে।
Pekhom Fire Ashar Por Bodle Gelo Bishwa Charachar - Saleha Ferdous
বলো না কখনো চলে যাই – রুচি রোকসানা
প্রাচীন মানুষ এক সময় ছিলো প্রকৃতিপুজারী। আকাশ-পাহাড়-সাগর-নদী-জঙ্গলের অপার রহস্য, মানুষের আচরণ ও মনোবৃত্তির অপার বৈচিত্রের থই পেতো না মানুষ। রহস্যের সমাধান বা হাইপোথেসিস দাঁড় করানোর মত সবল যখনো হয়ে ওঠেনি বিজ্ঞান কিংবা দর্শন, প্রকৃতির নানা ঘটনাপুঞ্জি মানুষকে অবাক করতো খুব সহজেই। আজ একটি শিশুও যা জানে, একসময় সেরকম অনেক বিষয়ই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছেও ছিলো অজানা, বিস্ময়কর! বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সবল প্রয়োগে প্রকৃতির আমাদেরকে অবাক করবার ক্ষমতা আজ সত্যিই অনেক কম। তা বলে কি অবাক করা, ব্যাখ্যাতীত ঘটনা আর ঘটে না এ জগতে?
নীরব ইঙ্গিত, অদৃশ্য সূত্র আর অপ্রত্যাশিত মোড়-মোট ষোলোটি গল্প নিয়ে রুচি রোকসানার নতুন বই ‘বলো না কখনো চলে যাই’। এই রহস্যগল্পগুলি পাঠককে টেনে নিয়ে যায় অজানার দিকে, অতিপ্রাকৃত জগতের দরজা খুলে দেয়। পরিচিত বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ, মানসিক দ্বন্দ্ব ও বুদ্ধির লড়াই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিটি গল্প শেষ হলেও রেশ থেকে যায়-পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে, সত্যিই কি সব রহস্যের সমাধান একরকম?
প্রতিটি গল্পে বাস্তব ও অবাস্তবের মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম রেখা টানা আছে, যা একসময় ঝাপসা হয়ে যায়। কখনো অচেনা ছায়া, কখনো অজানা শক্তি, আবার কখনো মানুষের অন্তর্লোকের অন্ধকার-সব মিলিয়ে গল্পগুলো তৈরি করে এক অমোঘ কৌতূহল ও শিহরণ।
Bolo Na Kakhono Chole Jai - Ruchy Rockshana























