কবিতার গৃহস্থালি – ডালিয়া চৌধুরী
সবুজ গালিচায় বসে আছে দুজন
দু-দিকে মুখ করে
মধ্যিখানে গাঢ় সবুজ রয়ে যায় স্পর্শহীন,
বুকের ভেতর উথাল-পাথাল ঢেউ
রাজ্যের বিষণ্নতা।
দুজনের পথে ছড়িয়ে আছে ফণীমনসার কাঁটা
রোদ শাদা কপোতের সতর্কবাণী
ধ্রুব নক্ষত্র ঝরা রাতের অনিদ্র গতিরেখা।
ঘাসবনে শালিক জোড়ার কথোপকথনে
প্রজাপতি প্রদক্ষিণ করে সবুজ বেষ্টনী,
বাতাসে ভেসে আসা প্রণয় প্রতিস্বরে
দুজনে নদী অববাহিকায় ভেসে যেতে উদগ্রীব,
স্বপ্ন স্রোতের অনুকূলে, অথচ
প্রতিকূল স্রোত থেকে দীর্ঘশ্বাস নেয়।
শীতল দাঁড় টানা নাবিকের মতো
পাড়ি দিতে থাকে কুয়াশার উপকূল।
দুজন শুনতে থাকে মেঘের সংগীত,
তীব্র বর্ণিল বর্ষণে ভেসে যাওয়ার অপেক্ষায়
নোঙর ফেলে মহাকালের সমুদ্রে।
Kobitar Grihosthali
জলসন্ধি – সানজিদা সিদ্দিকা
ফুল হতে ফলে পরিণত হওয়ার জন্য প্রয়োজন পরাগায়নের। তাতে সাহায্য করে পাখি, বাতাস, ভ্রমর, প্রজাপতি প্রভৃতি। তেমনি কবির অন্তর্নিহিত ভাবকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে কবিতা। আবার কবির ভাবকে নিজের ভাবের সাথে মিলিয়ে পাঠ করেন পাঠক। অতএব, বইয়ের অন্দরের কবিতা পড়ে পাঠক অন্তরে যা অনুভব করবেন তা-ই হলো জলসন্ধি-র নির্যাস। সেই নির্যাস আস্বাদন করতে কবির আহ্বান—পড়ুন পাঠক, কবির নামে।
Jolsondhi - Sanjida Siddiqua
নরকের Wi-Fi ও কয়েকশ ভবিষ্যৎ – শারদুল সজল
নরক পৃথিবীর সংযোগে আছে
প্রতিটি মস্তিষ্ক এখন অনলাইনে
পাসওয়ার্ড বদলালেও
নরকের সিগন্যাল ঠিক থাকে
অপমান, ক্ষুধা, যুদ্ধ, হতাশা ও একাকিত্ব
যেন অস্তিত্বের ছেঁড়া স্নায়ু
যাকে সেলাই করে মানুষ দৌড়ায়…
আর ভবিষ্যৎ?
একটা নয়—কয়েকহাজার
প্রতিটি—
অন্য ১ পৃথিবী, অন্য ১ তুমি
অন্য ১ আমি, অন্য ১ শেষ
নরক কী পৃথিবীর বাইরে?
নাকি পৃথিবীই নরক?
এই প্রশ্নে সক্রেটিস নক্ষত্র সেদ্ধ করে
ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেলে দিল জন্ম ও মৃত্যুর
মধ্যকার দূরত্ব
আর জন্ম হলো—
(শূন্যস্থান পূরণ করুন, যার যা মনে হয়…)
Naroker Wi-Fi O Kayeksha Vobisshat - Shardul Sajal
অক্ষরবৃত্তের জলে নামি – মোস্তফা তারিকুল আহসান
জীবনকে প্রচল ভেবে নিতে পারি নি বলেই হয়তোবা আমার ধানের ক্ষেতে অসময়ে
আসে বানের জল; পাকা ধান ডুবে যায় তবু মাছ ধরার স্বপ্ন উকি দেয় স্বপ্নভুক মাতালের মতো
আমি বানান ভুল করা বালকের দলে সারাজীবন ভাঙা টিনের চালের স্কুলের ছাত্র, মাস্টার
মশাইয়ের পাঠে বুঁদ হয়ে শিখতে পারিনি পাণিনি পতঞ্জলি; প্রকৃতির পাঠশালায় বনমোরগের ডাক
অথবা ভোরের কুয়াশামাখা মাঠ আমাকে কতিপয় ঘাসের ব্যাকরণ শিখিয়েছে। এই পথ্য নিয়েই
আমার জীবন বাহিত হয়েছে যমুনা মেঘনার বহতায়; নদী পয়োপ্তির ঘরে আমার ঘাসের
ছোট্ট মাঠে প্রজাপতির ঝাঁক আমাকে কবিতা শেখাতো, পলিমাটির লবণ নিয়ে মাছেদের কাছে
Aksharbretter Jale Nami
ছায়ার ভোঁ – চঞ্চল নাঈম
মুহূর্তের সন্দর্ভ দানকারী ব্যঞ্জনাকে চঞ্চল নাঈম এই কাব্যে একান্তে এঁকেছেন। অতিরিক্ত শব্দের ও অনুষঙ্গবিহীন চিত্রকল্পের আসক্তি নেই। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতায় পর্যবেক্ষণগুলো স্বাভাবিক, তেমনি অস্বাভাবিকও। ছায়া, গণিত, ডট, অপেক্ষা, নৈঃশব্দ্য, শূন্যতা, সংখ্যা পরিমাপ, সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে তীব্র উপলব্ধি আছে। বিমূর্তে না গিয়েও অপার বিস্ময় শিল্পদক্ষ কবির আয়ত্তে এসে গেছে। আমরা অনেক সময় ভাজ্য, ভাজক, ভাগফলকে মান্যতা দিই, ভাগশেষ ব্রাত্য থাকে। চঞ্চল নাঈম লিখছেন— ‘সব ভাগশেষ/অপ্রয়োজনীয় না।’ সত্যিই তো জীবনে কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকে বলেই, শুরু হয় নতুন কল্পনা। ‘বসে থাকা ঘড়ি’— নয়টি শব্দের কবিতা, যেখানে চিরকালীন বৈজ্ঞানিক সত্য আবর্তিত। আধুনিকতার নিয়ামক হলেও বিভিন্ন কারণে যন্ত্র রুদ্ধ হয়ে যায়। বাস্তবতার গতি কখনো রুদ্ধ হয় না। ‘ছায়ার ভোঁ’ নামকরণ থেকেই বিস্ময়। এরপর প্রতিটি কবিতায় চমক, ভিন্নভিন্ন পর্যবেক্ষণে। প্রতিটি কবিতার শিল্পসম্মত হয়ে ওঠা বিস্ময় সৃষ্টি করে। হয়ে ওঠার চারুশিল্পকে ভাষাদক্ষতার সঙ্গে নিষ্পন্ন করেছেন চঞ্চল নাঈম। কাঁথাস্টিচের সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম শৈল্পিক মেধা স্বল্পশব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘আমার ছায়া/মাটিতে পড়ে/কিন্তু/ওজন অনুভব করি না’— সহজ সত্য, কাব্যের সত্যে পরিণত। ডট চিহ্নকে নিয়ে কতো মধুর বচন রচিত হয়, সেটা ‘ডট’ কবিতার পাঠে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষণীয়। এই কাব্যের প্রতিটি কবিতা বিমূর্ততা ছাড়াই জীবনের বহু না-দেখা অবস্থাকে ইঙ্গিত করছেন কবি।
অলোক বিশ্বাস
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
Chayar Vo - Chanchal Nayeem
নীল আগুনে পুড়ে গেছে বিশটি আঙুল – রেহানা বীথি
পৃথিবী নানাবিধ যুদ্ধে জর্জরিত। মানুষের শরীরের রক্ত মনের রক্ত ঝরছে অবিরাম এইসব নিদারুণ যুদ্ধের আঘাতে আঘাতে। মানুষকে ঘিরে আছে বোমা-বন্দুক : ঘিরে আছে ঝড়-ঝঞ্ঝা-বন্যা-খরা : ঘিরে আছে ক্ষুদ্রতম ও দীর্ঘতম নানারকম স্বার্থের ফিতা। মানুষের মুক্তি যেন নাই।
মুক্তি যে একবারেই নেই তা কিন্তু নয়, আছে। এই মুক্তির অপরূপ রূপ দেখার জন্য আমাদের প্রবেশ করতে হবে কবি রেহানা বীথির ‘নীল আগুনে পুড়ে গেছে বিশটি আঙুল’ কাব্যগ্রন্থে। প্রেমমাধুর্যে পূর্ণ কবিতার এই বইটি আমাদের দেখিয়ে দেয় হাজারও যুদ্ধ এবং যুদ্ধপ্রায় অবস্থা থেকে মুক্তির প্রয়োজন আর এই মুক্তি নিয়ে বসে আছে প্রেম। আমাদের পৌঁছতে হবে প্রেমের নরম পরশের কাছে। সেখানে পৌঁছতে পারলেই প্রেমের স্নিগ্ধ পরশে মানুষ পূর্ণ হবে; আনন্দের শস্যে ভরে উঠবে জীবন। এই আনন্দ শস্য থেকে জন্মে যাবে আরও আরও আনন্দ।
যুদ্ধের পক্ষে থাকা বোমা বারন্দ বন্দুক। যুদ্ধের পক্ষে থাকা ঝড় ঝঞ্ঝা বন্যা; যুদ্ধের পক্ষে থাকা ক্ষুদ্রতম বা দীর্ঘতম স্বার্থের ফিতা ক্ষয় হয়ে যাবে প্রেমের কোমল পরশে। কারণ ‘প্রীতিতে গন্ধরাজ’ ফোটে। কবিতাগুলো বলে দেয়- প্রেমের পাথর শুধু পাথর নয়, এ পাথর ‘আশ্চর্য পাথর’; প্রেমের যে আগুন তা ‘মিঠিমিঠি আগুন’ : প্রেমের ভেতর দিয়ে দেখা অন্ধকার ‘রঙিন অন্ধকার’, এ ‘অন্ধকারে সুগন্ধ’ আছে। প্রেমের ভেতর দিয়ে যা ঘটে তার সবই মানবিক; ব্যক্তিজীবনের জন্যেও, পৃথিবীয় জীবনের জন্যেও। সুতরাং প্রেমের ‘নীল আগুনে’ পোড়া বা প্রেমের জলে ভেজা দুই-ই শান্তির, দুই-ই অপার্থিব সুখের। প্রেম মধুর : প্রেমের কবিতা পড়া এবং তা অনুভব করাও মধুর। এসব কথা সত্য হয়ে আছে কবি রেহানা বীথির প্রেমবাস্তবতার কবিতাবই ‘নীল আগুনে পুড়ে গেছে বিশটি আঙুল’-এ। সুতরাং কবিতাবইটিতে ডুব দেওয়া যায় নির্দ্বিধায়।
আনিফ রুবেদ
কবি ও কথাকার
Neel Agune Pure Geche Bishti Angul - Rehana Bithi
অনশ্বর অনুভব – প্রণব মজুমদার
অন্তর্নিহিত ভাবনার ছন্দময় প্রকাশ কবিতা। অনশ্বর অনুভব চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগুচ্ছ সাম্প্রতিককালে রচিত। অধিংকাশ কবিতা দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত। বৈষম্যে আচ্ছাদিত সমাজবাস্তবতাকে শব্দ বিন্যাসের মাধ্যমে কাব্যে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সহজে প্রকাশ; নয় তো সহজ! কাব্যিক ব্যঞ্জনায় কতটুকু পারঙ্গম তা পাঠক ভালো বলতে পারবেন।
Anaswor Anuvob - Pranab Majumder
হেরম্ব-কিরিলভ সংলাপ – মাহবুব অনিন্দ্য
এক মহাপৃথিবী আরেক মহাপৃথিবীকে অনর্গল প্রশ্ন করে যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যাবেলা কি ভোরবেলা, বোঝা যায় না। মৃদু হাওয়া ভাসিয়ে নিয়ে যায় মহাকালকে। ততধিক মৃদু হাওয়া এসে রচনা করে রূপকাহিনির রাজ্য। ঝরাপাতাদের সাথে ঝরাপাতারা নৈঃশব্দ্যের ভাষায় কথা বলে। তারাদের সাথে তারারা কথা বলে গোপন ও গহন অন্ধকারে। এতসব অতিরঞ্জন ও অতিমুহূর্তের বাইরে- কোথাও বিরাজ করছে আরো এক মহাপৃথিবী, আরো মহাকাল, মহাগ্যাঞ্জাম আর মহাপরাবাস্তব। এই মহাফুলবাগান থেকে কতক দৃশ্যঘ্রাণ লিপিবদ্ধ করে রাখি।
Herambo-Kirilov Songlap - Mahbub Anindo
মায়াবী ট্রেন – মৃন্ময় মনির
ভ্রমণ অনির্দিষ্ট। জন্ম থেকেই তার শুরু। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত একশো বছরের ভেতরেই তা ঘোরাফেরা করে! বেড়ানোর জন্য অনেক যন্ত্রযান রয়েছে কিন্তু ট্রেনের মতো এমন মায়াবী ভ্রমণ আপনি কোথাও পাবেন না! অবশ্য আপনি বসে থাকলেও আপনার পথচলা একদিন শেষ হবেই, প্রাণীর জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ এখনো খোলা নেই।
Mayabi Train - Mrinmay Monir
নির্মোহ পৃথিবীর কথা – আব্দুল্লাহ্ জামিল
নির্মোহ পৃথিবীর কথা, নামের মধ্যে একধরনের সত্যের অহংকার এবং সাহসের স্বচ্ছরূপ দেখতে পাওয়া যায়। নামকরণ কবির একটি গ্রন্থের তাৎপর্যপূর্ণ সংযুক্তি। হঠাৎ কখনো নামকরণের সঙ্গে বইয়ের বিষয়ের কোনো মিল থাকে না। তবে নামকরণ যে লেখকের সুচিন্তিত একটি অধ্যায়, তা লেখকমাত্র জানেন। আব্দুল্লাহ জামিল একজন স্থিরমগ্ন কবি। তিনি চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার কারণে, খুব বেশি লিখতে পারেন না। তবে, খুব যে কম লেখেন তাও নয়। বর্তমান ‘নির্মোহ পৃথিবীর কথা’ কাব্যগ্রন্থে তিনি কখনো নস্টালজিক, কখনো প্রকৃতিপ্রেমিক, কখনো প্রতিবাদী, কখনো কোমল। তবে তার প্রতিটি উচ্চারণই অকপট, সরল ও সাবলীল। এটি কবিতার একটি অনমনীয় গুণ। ছন্দসচেতনতা তার কবিতাকে আভিজাত্য এনে দিয়েছে। প্রাজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি কথা বলার ঢঙে কবিতা লিখে চলেন, তবে তার লেখা বলার চেয়ে অলংকৃৃত। বইয়ের কবিতাগুলোতে কোথাও কোনো ঝুলে পড়া বা মেদস্বর্বস্ব অতিকথন নেই। টানটান সাবলীলতায় তিনি একবার প্রেম আর একবার বিষাদের সংগীত শোনান। তবে তার কবিতার সময় ও মৃত্যুচেতনার বিষয়টি গভীর তাৎপর্য বহন করে। প্রিয়জনের কাছ থেকে অবহেলা, প্রত্যাখানের মতো অনাকাক্সিক্ষত বিষাদও তার কবিতার অন্যতম সমাপ্তি। কবির নির্বাচিত শব্দ আর আর অলংকৃত বিন্যাস, তাকে পরিণতি দিয়েছে। শব্দ ও বাক্যের পরিমিতি বোধ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ তার কবিতার নিটোল চারিত্র।
-ওবায়েদ আকাশ
কবি ও সাংবাদিক
Nirmoho Prithibir Katha - Abdullah Jamil
দুঃখ নদীর ধারাপাত – আদ্যনাথ ঘোষ
কাব্যস্বরের নিজস্বতা একজন কবির জন্য বড়ো বেশি প্রয়োজন। আদ্যনাথ ঘোষ কবিতায় সেই চিরায়ত কাব্যস্বরের পরিবর্তন ঘটিয়ে আলাদা ইমেজ, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অনুপ্রাস, প্রতিমা ব্যবহারে পাঠকচিত্তে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। শব্দ ও চিত্রকল্পের ক্ষেত্রে আদ্যনাথ ঘোষের কবিতার স্বতন্ত্রধারা পরিলক্ষিত হয়। কবিতার শরীরসজ্জা গদ্যাত্মক হলেও আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা আত্মাকেই ধারণ করে। তাঁর কবিতার শিল্পভাষা, কল্পনার উচ্ছ্বাস, কাব্যিক ঢং অন্যান্য কবিদের থেকে অনেকটাই আলাদা। আদ্যনাথ ঘোষ মূলত স্বতন্ত্রস্বরের রূপকাশ্রয়ী লিরিকধর্মী ও ব্যঞ্জনাধর্মী কবি। কবিতার ভেতরে ঘোর, আত্মমগ্নতা ও পরাবাস্তবতা নির্মাণে ঈর্ষণীয় কারিগর। ইমেজের ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় এ-কবিকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে উন্নীত করেছে। তাঁর কবিতার আত্মা কাব্যপাঠকচিত্তে আলাদা অনুরণন সৃষ্টি করে। উত্তরাধুনিক যুগের এ-কবির কবিতার বাঁকবদল সত্যিই অনন্য।
প্রকাশক
Dukkho Nodir Dharapat - Adyanath Ghosh
অতলের পদ্মপুরাণ – লীনা ফেরদৌস
‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে- রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন। সহজ কথা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক আর সংবেদনার ভাষা, দর্শনের একরকম উন্মোচনই তো!
লীনা ফেরদৌস কবি এবং তার এই কবিতাগুলোর ভেতর শৈশবস্মৃতি, একাকীত্ব, নৈঃসঙ্গ্য-স্বরূপ আর দেশ-ভাবনা ডুব-সাঁতারের মতোই পাঠকের কাছে ধরা দেয়।
‘নদী আসলে নরম নয়-অভিমানের স্রোতে সব ভাসায়।‘
কিংবা-
‘নারীরাই হয়তো নীল আকাশ, প্রতিটি মেঘে লুকিয়ে আছে একটি অপেক্ষমান জন্ম।’
দুটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে লীনার এর আগে, এটি তৃতীয় বই-সম্ভাবনার একরাশ পাপড়ি ছড়ানো লীনার কবিতা। বইটির পাঠক-মনোযোগ আকৃষ্ট হোক প্রভূত পরিমাণে-এই প্রত্যাশা করাই যায় অনায়াসে।
Ataler Padmapuran - Lina Ferdows























