নির্বাণমার্গের আগারিক কবি জীবনানন্দ – পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
এই বইটি জীবনানন্দের জীবন রহস্যের প্রগাঢ় এক পাঠ। মানবদেহ অর্থে নয়, যাপনের ধরন ও অর্থবহতায়। জীবনের টানাপোড়েন তাঁকে অস্বস্তি দিয়েছে। তবু তাঁকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন। কে এই বনলতা? শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মোনালিসার মতোই সে রহস্যে ভরা। পাখির নীড়কে আশ্রয় করে চোখের উপমা চোখ বন্ধ করলেই যেন জীবন্ময় হয়ে ওঠে।
নির্জনতার কবি বলে তাকে অনেকেই লোকালয় থেকে দূরে ঠেলে দেয়। এ নিয়ে তার আপত্তি বরাবরই ছিলো। গুণমুগ্ধদের কাছে তিনি শুদ্ধতম কবি। কবিতার বিবেচনায় তিনি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম কবি। কবিতার সংখ্যা সাকুল্যে একশো বাষট্টি। ‘ঝরাপালক’ নিয়ে তিরস্কৃত হলেও পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ হতে নিজস্ব কাব্যভাষা ও শৈলীতে সিদ্ধ হয়ে ওঠেন।
শিক্ষক হিসেবে আদর্শ হলেও শিক্ষকতায় তার স্থিরতা মেলেনি। অনবরত প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষ পাল্টাতে হয়েছে। কখনও নিজের কারণে কখনও রোষানলে পড়ে। সংসার তার জন্যে আক্ষরিক অর্থেই ছিল কুরুক্ষেত্র। অস্বীকৃত ও অসংগত প্রেমের ছোট্ট ঘুলঘুলি দিয়েই তার জীবনে মিলেছিল কিছুটা আশার হাওয়া।
জীবনের ঘাতে পুড়ে পুড়ে খাঁটি সোনা হওয়া কবির লেখায় জগৎ শাস্তা বুদ্ধ প্রকট হয়ে ওঠেন অনিরুদ্ধ প্রজ্ঞায়, অতুলনীয় জ্যোতির্ময়তায়। নিবিড় পাঠে উপলব্ধি, তিনি নির্বাণমার্গের এক আগারিক কবি বুঝি। ছাপ্পান্ন বছরের জীবন সাহিত্যিক ব্যাপ্তিতে ছাড়িয়ে গেছে কয়েক হালি আকাশগঙ্গা। আপনভুবনে সুরসিক, বহির্ভুবনে রামগরুড়ের ছানার জীবনধারী কবি জীবনানন্দ দাশকে পড়ে পেরে ওঠা কঠিন। তবুও ভালোবেসে, অনুসন্ধিৎসা প্রশমনে উৎখননের প্রয়াসে ‘নির্বাণমার্গের আগারিক কবি’কে জাগিয়ে তোলা হলো কলমে, কল্পনায়।
Nirmanmarger Agarik Kobi Jibanananda - Pijush Kanti Barua

