নৈঃশব্দ্যের নির্ঝর – সজল রায়
কবি সজল রায়। ঝিনাইদহের আলো-বাতাস গায়ে মেখে বড়ো হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ দিন কবিতার সাথে তার ঘর-বসতি হলেও কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। এবার প্রকাশিত হচ্ছে তার কাব্যগ্রন্থ— ‘নৈঃশব্দ্যের নির্ঝর’। যার কবিতার আকার ও আকৃতি ক্ষুদ্রকায় হলেও প্রাত্যহিক জীবনযাপন, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, প্রেম-বিরহ, নিদারুণ কষ্ট ও দার্শনিক প্রজ্ঞা তার কবিতায় বিদ্যমান। জর্জ টমসন বলেছিলেন—অসম্ভবের আকাঙ্ক্ষাই কবিতার প্রধান ভিত্তি। এই কবির কবিতা জুড়ে সেই বার্তাই লক্ষ্যণীয়। বোঝা যায় শব্দগুলোকে কুঁড়িয়ে কবিতা করেছেন। এটাই বুঝি কবির পূর্ণতা। মানুষের ভীষণ একাকিত্ব, দুঃসময়ের অন্ধকারময় সময়ের প্রতিচ্ছবি এই কবিতা। কবিতাই তো সেসব সময় জীবন ইতিহাসকে উপস্থাপন করেন—বয়ে চলেন কালের ক্ষত। এই কবিতা সেই সময়কেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে চেনায়। কবির বোঝাপড়া কিংবা দার্শনিক জায়গা যতটা পরিষ্কার হয় তার কবিতায় প্রজ্ঞার স্পর্শ প্রতিফলন পাঠক ততটাই দেখতে পান। ‘নৈঃশব্দ্যের নির্ঝর’ কাব্যগ্রন্থের কবিতায় কবি অজানিত দুঃখবোধ, ব্যক্তিগত অনুভূতি, নিঃসঙ্গবোধ কিংবা বর্তমান সমাজবাস্তবতা কিংবা আদর্শহীনতার ছাপ স্পষ্ট; তবু কবির কবিতায় নিমগ্নতা; তার কবিতা পড়লে আমাদের নিশ্চয়ই মুগ্ধ করবে। প্রেমিকার প্রেমে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়েও কবি বহন করেন ক্ষত—কবি বিষণ্ন, আক্রান্ত তবুও মগ্নতায় কাটান রাত—তাই বলেন—‘মগ্ন রাতের নির্জনতায়/তুমি খুঁজবে কুসুমকানন/প্রণয়ের ক্ষত-চুমুর তিলক চিহ্ন’… কবি মাত্রেই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন—অন্যের দুঃখে পীড়িত হন। আত্ম জিজ্ঞাসা কবিকে দিনের পর দিন ব্যথিত করেছে। এই ব্যথিত কবি পারিপার্শ্বিকতায় ভেতরে লালন করেন যন্ত্রণা। আর এই জন্য বলেন—ডাস্টবিনে নষ্ট হয় নাঙলের ভ্রুণ/যারা নষ্ট করে/তারা আমাদেরই পাশের উল্লুক। শুভকামনা রইল এই কবির জন্য।
বঙ্গ রাখাল
কবি ও গবেষক
Noishobder Nirjhor - Sajal Roy

