বিবর্ণ আঁচল (যুদ্ধশিশুদের গল্প) – ফরিদ আহমেদ ও সৈনিক
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরিকল্পিত পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের লাখো নারী। যুদ্ধশেষে স্বাধীন দেশের বুকে যখন নতুন সূর্য উঠল, তখন তাঁদের কোল আলো করে এলো একদল অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ নিষ্পাপ শিশু। ইতিহাস এদের চেনে ‘যুদ্ধশিশু’ হিসেবে। সেই সময়কার রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় এই শিশুদের কপালে জুটেছিল ‘অবাঞ্ছিত’ বা ‘জারজ’ তকমা। এমন এক চরম সংকটের মুখে রাষ্ট্র এবং মাদার তেরেসার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে বহু শিশুকে দত্তক পাঠিয়ে দেওয়া হয় ক্যানাডা, আমেরিকা কিংবা ইউরোপের দূরবর্তী দেশগুলোতে।
সুদূর প্রবাসে বড়ো হলেও পরিণত বয়সে এসে এই যুদ্ধশিশুরা মুখোমুখি হয় তীব্র এক অস্তিত্বের সংকটের। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারা হাতড়ে বেড়াতে থাকে নিজেদের শিকড় আর প্রকৃত পরিচয়কে। বুকের ভেতর জমা হওয়া একরাশ প্রশ্ন আর না-দেখা মাকে একবারের জন্য ছুঁয়ে দেখার সুতীব্র বাসনা জন্ম নেয় তাদের মাঝে। সেই তীব্র বাসনা নিয়ে তারা পা বাড়ায় দূর প্রান্তের এক সবুজ মানচিত্রের দিকে, যার নাম বাংলাদেশ।
জেসিকা, শিখা, বাদল, রাণী আর রাধিকা-এই পাঁচ যুদ্ধশিশুর শেকড় সন্ধানের পাঁচটি সমান্তরাল, মর্মস্পর্শী ও সত্য-আশ্রয়ী আখ্যান নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বিবর্ণ আঁচল’। এদের মধ্যে কেউ হয়তো বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে খুঁজে পেয়েছে মায়ের সেই চেনা স্নেহের স্পর্শ, কেউ সেটা পায়নি। যে পেয়েছে, সে সাময়িক আনন্দে ভেসেছে। আর যে পায়নি, সে হারিয়ে গিয়েছে অপার্থিব এক বিষাদের অতল অন্ধকারে।
যুদ্ধশিশুদের মাকে খোঁজার সেই অনিশ্চিত কঠিন যাত্রা আর আনন্দ-বেদনার এক অনন্য কাব্যই হচ্ছে এই বই-‘বিবর্ণ আঁচল’!
Biborno Achol (The Stories of War Babies) - Farid Ahmed And Shoinik
গ্রন্থিক
ফরিদ আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতা করেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে টরেন্টোতে ।
ফরিদ আহমেদ


