Product Tag: যুদ্ধ

যুদ্ধ

Single Product Found

Show:
Filter
New

অনুপ্রাণন পঞ্চদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা – বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত

5 ★
5 ★
1 Rating
5 ★
1
4 ★
0
3 ★
0
2 ★
0
1 ★
0
(1)
Highlights:

সম্পাদকীয় – অনুপ্রাণন পঞ্চদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা- বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত

মানবসমাজে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রধান আটটি কারণ হলো অর্থনৈতিক লাভ, ভূখণ্ডগত লাভ, ধর্ম, জাতীয়তাবাদ, প্রতিশোধ, গৃহযুদ্ধ, বিপ্লবী যুদ্ধ ও আত্মরক্ষামূলক বা প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ। অষ্টম শতাব্দীতে ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক লাভ বৃদ্ধির লোভে বাংলার ভূখণ্ড করায়ত্ত করে। ২০০ বছরের অবৈধ ও অনৈতিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। এসব সংঘাতের পেছনে কারণ ছিল আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ। মধ্য ও আধুনিক যুগের বাংলা শিল্প-সাহিত্যে পলাশীর যুদ্ধ ও পরবর্তী প্রতিরোধের কাহিনী পাওয়া যায়। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের হাত থেকে বাংলার মুক্তির পথ ছিল কণ্টকপূর্ণ ও রক্তাক্ত। কায়েমি স্বার্থবাদীরা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলে বাংলার আকাশ ধোঁয়া আর অন্ধকারে ঢেকে দেয়। মানুষের দৃষ্টির স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়। বাংলার হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তিমূল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ফলে ভয়াবহ রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারপ্রসূত সীমানা নির্ধারণ পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হয়ে যায়। ’৪৭-এর দেশভাগের ফলে বর্তমান বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, ঔপনিবেশিক কায়দায় অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে। বাংলার মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত আসে। মুক্তবুদ্ধির চর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় অধিকারের লড়াই ছিল না। এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ভৌগোলিক কাঠামোতে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির ভিত্তি ও আত্মপরিচয় গঠনের শুদ্ধ চেতনার উন্মেষ ঘটে। যার মূল সুর ছিল সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করে মানবিকতা-সমৃদ্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশ। বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। বাংলার মানুষের মাতৃভাষার জন্য লড়াই ও আত্মদানের ন্যায্যতা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় এখন। অথচ তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের শাসক ব্যক্তিদের নির্দেশে মাতৃভাষার অধিকার চেয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়। শহীদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়। তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের শাসক গোষ্ঠী ভাষার অধিকার মেনে নিলেও নানা অজুহাতে বাঙালির সাংস্কৃতিক বিকাশ ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করে চলে।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপর রাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঊনসত্তরে ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন গুলি চলে ও কয়েকজন ছাত্রনেতা শহীদ হন তখন তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। পরবর্তীকালে দেশে নির্বাচন হয়ে বাঙালি রাজনৈতিক নেতারা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু রাষ্ট্রের শাসনভার বাঙালি নেতাদের হাতে ছেড়ে দিতে গড়িমসি করলে একাত্তরের মার্চে বাংলার জনগণ ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই অসহযোগ আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে লুট, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা শুরু করে। বাঙালি মহান প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেয়। বাঙালির সামনে বাংলা ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দেশ ও জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। কিন্তু স্বাধীন দেশে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী শক্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবার সামরিক বাহিনীর একটি দলের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হন। পরবর্তী সময়ে দেশে ১৫ বছর সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের দ্বারা স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী গোষ্ঠী স্থায়ী শক্তি অর্জন করে। নব্বইয়ের তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে সামরিক আমলার শাসনের হাত থেকে দেশ মুক্তি পায় এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। কিন্তু নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে অনৈক্যের কারণে দেশে সংঘাত পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে।

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কয়েকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পায়। এক/এগারোর সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচন হয় কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একাংশের ধারাবাহিক প্রতিবাদ রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তি বিঘ্নিত হতে থাকে। ২০১৩ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তীব্র গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ ও সেই মঞ্চের বিপরীতে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিশাল সহিংস সমাবেশ গড়ে তোলে। ফলে দেশে রাজনৈতিক বিভক্তি রেখা আরও গভীর হয়। এই বিভক্তি রেখা ধরে ২০২৪-এ ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন ও সামরিক বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে সরকার পরিবর্তন হয়। যার মধ্য দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী শক্তি আরও একদফা শক্তি বৃদ্ধি করার সুযোগ গ্রহণ করে।

বাংলাদেশের মানুষ দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুগের পর যুগ ধারাবাহিক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। এসব যুদ্ধ ও সংঘাতের ঘটনায় অবিরাম রক্ত ঝরেছে। মানুষের জীবন তছনছ হয়েছে। কিন্তু বাঙালি কখনো পিছপা হয়নি। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, যুদ্ধ, সংগ্রাম ও আত্মদানের প্রকৃত সাক্ষী। ইতিহাসের সত্য বয়ান।

Quarterly Anupranan Year- 15 Issue- 2 : War and Conflict in Art, Leterature and Movies of Bangladesh.

Scroll To Top
Close
Close
Close

My Cart

Shopping cart is empty!

Continue Shopping