নগদ আলীদের আন্দোলন – ইলিয়াস ফারুকী
নগদ আলীর নগদ চিন্তায় প্রতিদিন সকালে দুটো রুটি যোগাড় হলেই ও মহা খুশি। তারপরই আন্দোলনে নেমে পড়ে। রমনা পার্কের সামনের রাস্তায় তার আন্দোলন চলে। একটি গাছের ডাল ভেঙে মাথার উপর নাচাতে নাচাতে রাস্তার এইপাশে একবার, ওপাশে একবার। পাকা ফুটবল খেলোয়াড়দের মতো মাঝেমধ্যে চলন্ত গাড়িকে কাটিয়ে পারাপার। মাঝে মধ্যে দুএকটা গাড়ি ব্রেক কষলে দৌড়ে সামনে গিয়ে বলবে ‘দেয়, দশটা টাকা দেয়, ভাত খামু।’ কচিৎ কেউ কেউ দেয়। কেউ হয়তো ক্ষেপে উঠে, ‘এ বেটা মরতে চাস, তো ট্রেন লাইনের নিচে যা।’ কিন্তু ও তো বুঝে, ও তো মরার জন্য এগুলো করে না, এটা ওর আন্দোলন। ও এর নাম দিয়েছে ‘ ন্যাংটা ক্ষুধা আন্দোলন।’ এভাবেই চলে ওর প্রতিবাদ। সাঁই সাঁই করে ওকে কাটিয়ে বেরিয়ে যায় চকচকে প্রাইভেট কার। মাঝেমধ্যে কেউ হয়তো ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গালি দেয় ‘ওই হারামজাদা, ফাইজলামির আর জায়গা পাস না। ইতরামি করিস, নামবো যখন পিটিয়ে হাড্ডি ভেঙে দেবো। গায়ের চামড়া খুলে নেবো।’ নগদ আলী আপন মনে হাসে। ওর নাকি পিটিয়ে হাড্ডি ভাঙবে। চামড়া খুলে নেবে। ওর শরীরের মাংস কোথায়! লোকটা আস্ত বোকা! এইটুকু বুঝে না যে, ও তো আমাকে মেরে ঠকবে। আমার তো কাঠামোর উপর শুধু একটা প্রলেপ দেওয়া।
Nogod Alider Andolon - Elias Faruqui
আয়না মানবী – সৈয়দা নাজমুন নাহার
পারদবিহীন আয়নায় কখনো মুখ দেখা যায় না। সে বেলজিয়াম গ্লাসই হোক কিংবা বাংলাদেশের শুকতারা ফেক্টরির আয়না, পারদবিহীন আয়না মূল্যহীন। তবে কেউ যদি কাঁচ দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকতে চাইলে ভিন্নকথা। তবে কাঁচের ঘরে বাস করার অন্যরকম সুখ আছে। চারপাশের খোলা পৃথিবীটাকে স্বচ্ছ কাঁচের ঘরে বসে দেখা যায়। উপভোগ করা যায় প্রকৃতিকে, শুধু কি নিজে দেখা-নিজেকেও দেখানো যায় দর্শন-প্রদর্শনের খেলা। আবার ভয়ও আছে ঝড়ে কিংবা শুধু একটি ঢিল ছুড়ে যেকোন মুহূর্তে ভেঙে-গুড়িয়ে দিতে পারে কাচের প্রাসাদ।
মানুষ কি তা ভাবে কখনও- তাদের ভেতরটা কদর্য-নোংরা, পুতি-দুর্গন্ধময়। শুধুমাত্র পারদের মতো ভদ্রতার মুখোশ ঢাকা নোংরা ইতিহাস আর হিংস্রতার থাবা। সেই মানুষরূপী হায়েনাদের কথা উঠে আসবে আয়না মানবীর জবানীতে।
Ayna Manobi - Syeda Nazmun Nahar
বিবিধ গল্প – পারভেজ আহসান
পারভেজ আহসানের কবিতা বহুমাত্রিক বোধের আয়না। বিভিন্ন তন্তুতে তাঁর কবিতার বুনন। দেশাত্ববোধ, সংকীর্ণতার বৃত্ত ভেঙে দ্যুতিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশা, অন্তর্লীন সৌন্দর্যের অনুসন্ধান , শেকড় ও ঐতিহ্য প্রবণতা, দুঃস্বাপ্নিক যন্ত্রণার ভেতরে আনন্দবিকেল খোঁজার ব্যাকুলতা মূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর কবিতায়। অভিনব রূপক এবং প্রতীকের ব্যবহারে এ কবির কবিতা ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে অনন্য উচ্চতায়। তাঁর কবিতা পাঠককে নিয়ে যায় ভাবনার অতলান্তে।
Bibidha Galpo - Parvej Ahsan
রাশিয়ার বোমা বনাম আছিয়ার উনুন – হাবিবুল্লাহ রাসেল
ষোলোটি গল্প নিয়ে এই গ্রন্থ। ষোলোটি গল্প ষোলোটি আয়না। কী দেখতে চান আয়নায়? নিজের না সমাজের মুখ? নাকি দেখতে চান- বৈশ্বিক রাজনীতির কালি কীভাবে পালটে দেয় স্বদেশের মুখশ্রী?
কেউই চায় না আয়নায় ফুটে উঠুক নিজের ছদ্মবেশ। তবু কখনও যদি ফুটে ওঠে মুখোশের প্রতিবিম্ব, সে দায় আয়না বিক্রেতার নয়।
আপনি হাসবেন না কাঁদবেন, প্রেমে দুলবেন না দহনে দগ্ধ হবেন, নিজেকে নিজে সুড়সুড়ি দিবেন না শরীর চুলকোবেন, রেটিনায় ধরবেন দৃষ্টিভ্রম না দূরদৃষ্টি, সত্য লালন করবেন না পরাজিত প্রেতাত্মার কপালে তিলক পরাবেন- সবই আপনার অনুভূতির ব্যাপার। তবে তীব্র শ্লেষে যদি আপনার অনুভূতি বিদ্ধ হয়, তবেই আয়নার কারিগর সার্থক।
Russir Boma Bonam Achiyar Unun - Habibullah Rasel
নাচের শহর রূপেশ্বরী – নুসরাত সুলতানা
প্রথম গল্পগ্রন্থ মৌতাত শেষ হয়ে গিয়েছিল ২০২২ মেলায়ই। পাঠকের এই সহজ এবং গভীর গ্রহণ আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে ছোট গল্প রচনায়। নাচের শহর রূপেশ্বরী গল্পগ্রন্থে মোট গল্প আছে এগারোটি। গল্পগুলোর আত্মায় যেমন আছে- গভীর ভালোবাসা, মানবতা, সহমর্মিতা এবং সর্বোপরি মানব প্রেম এবং বিশ্বচরাচরের প্রেম, তেমনি এর শরীর জুড়ে রয়েছে বর্ণবাদ, ডমিস্টিক ভায়োলেন্স, পুঁজিবাদ, খুন, হিংসা, প্রতিহিংসা। তবে অধিকাংশ গল্পেই সময় এবং জীবনের চিত্রকল্প আঁকতে প্রয়োগ করেছি সমাজ বাস্তবতা, যাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা এবং কল্পবাস্তবতা। তেমনি ভাষায় নিজস্বতা প্রতিষ্ঠিত করতে চালিয়েছি ব্যপক নিরীক্ষা। আমার সুপ্রিয় ঋদ্ধ পাঠকের প্রজ্ঞা এবং বিচারের ওপর আস্থা আছে পুরোপুরি। যিনি বইটি হাতে নিয়ে পড়ছেন তাকে প্রগাঢ় ভালোবাসা।
Nacher Shahor Rupeshworee - Nusrat Sultana
এভাবে হবে না জেনেও – জুনান নাশিত
কবিতার জগতে জুনান নাশিতের স্বতন্ত্র প্রকাশ নব্বই দশকের শেষভাগে। ‘কুমারী পাথর’ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। প্রথম বইতেই কবি সাবলীল ভাষা আর শব্দের সাংকেতিকতায় নিজস্বতার নির্দিষ্ট চূড়া স্পর্শ করেছেন। ‘এভাবে হবে না জেনেও’ তার অষ্টম কাব্যগ্রন্থ।
জুনানের কবিতা আধুনিক কবি মানসের সেই অন্তর্চেতনার প্রতিফলন যা একাকিত্ব, খণ্ডিত অস্তিত্ব এবং অনিশ্চিতের সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করে অনবরত।
জুনান আত্মলিপ্ত। একইসঙ্গে সমাজ ও সময়ের বাস্তবতাতেও আত্মলীন। জীবনের বহুমাত্রিক জটিলতা ও দ্বন্দ্ব এবং সময়ের সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষণজাত উপলদ্ধি তার কবিতাকে করেছে তির্যক ও তেজস্বী।
কবিতার রাজসিক একাকিত্বকে অঙ্গীকার করেই জুনান পথ হাঁটেন মানুষ ও প্রকৃতিকে সাথে নিয়ে। তার ব্যক্তিমানসের ছায়ায় প্রসারিত আবেগ সংযত ও পরিমিত।
কবিতায় জুনানের সুতীব্র ও বিষাদঘন উচ্চারণ যেন প্রতিশ্রুত মানবিকতারই প্রসারণ।
Avhabey Hobey Na Jenay - Junan Nashit
যন্ত্র ও জন্তু – ইমরান খান
‘যন্ত্র ও জন্তু’ গল্প-সংকলনে সমকালীন গল্প যেমন আছে, তেমনি আছে ইতিহাস ভিত্তিক গল্প; কিছু গল্পে পাওয়া যাবে পরাবাস্তবতার স্বাদ, আবার কিছু গল্প দেবে অলঙ্করণহীন বর্ণনাভঙ্গি। প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের কথা বলবে কিছু গল্প, কয়েকটি কাহিনি উঁকি দেবে মানব প্রকৃতির রন্ধ্রে- যে প্রকৃতির মধ্যে আছে রাজনীতি, দর্শন, স্বার্থপরতা, অসহায়ত্ব, এবং সর্বোপরি আত্মোপলব্ধি। যেমন, ‘যন্ত্র ও জন্তু’ গল্পটি মহামারীর কারণে চাকরি হারানো একজন যুবকের সাথে বিলুপ্ত এক বন্যপ্রাণির প্রহেলিকাময় আত্মিক সম্পর্কের কথা বলে। ‘মসলিন পতাকা’ গল্পে দেখা মিলবে এক ভিন্নমাত্রার মুক্তিযোদ্ধার। তবে সব মিলে গল্পগুলো নিজেকে জানার। ভবিষ্যতের দিকে গলা বাড়িয়ে দেয়ার আগে অতীতের দিকে ঘাড় ঘোরানো জরুরি। নিজেকে সংজ্ঞায়িত করার আগে প্রয়োজন মহাজগতের সাথে নিজের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কটি উপলব্ধি করা। বিচ্ছিন্নভাবে নিজেকে ব্যাখ্যা করা যায় কি? তবে, অবিচ্ছিন্ন সম্পর্কটি উপলব্ধি করে ফেললে কিছু কিছু মানুষ সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই সংকলনটি সেই ধরনের কিছু বিচ্ছিন্ন নারী-পুরুষের গল্প। মানুষ বহুমাত্রিক প্রাণি, তাই দশটি গল্প দশটি মাত্রা থেকে মানব জীবনের দিকে তাকিয়ে আছে।
Jontro O Jontu By Imran Khan
তুলসীমাটি – পিন্টু রহমান
প্রণয়গন্ধি হাওয়ায় মাটিগন্ধিপরাণ। পরাণের গহীণে আছে পরাণ; আর মাটির পরতে-পরতে লুকানো রয়েছে যাপিত জীবনের ফসিলসমূহ। ফসলের সম্ভারে পূর্ণতার ডালি সাজাতে কেউ কেউ অন্তরিক্ষচারী। চারদিকে ভাঙনের পদধ্বনী। রাতের স্বপ্ন দিনের আলোয় ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। তবুও বিস্তর পথ হেঁটে জীবনের তরে পান্ডুলিপি করে আয়োজন। তুলসীপাতার ঐশী ঘ্রাণে বিমোহিত প্রাণিকুল। অথচ পালছেঁড়া নৌকো এবঙ হালভাঙা নাবিকের দুঃখ-যাতনা বোঝে না, কেউ বোঝে না।
Tulsimati By Pintu Rahman
আমি আর সরদার – সরদার ফারুক
সায়ংসন্ধ্যা শেষে তুলসীতলায় নামে
সারবন্দী নীরবতা, নিবিড় কুহক
মাটির ঘরের দীপে কাঁপা কাঁপা মুখ
স্পর্শের অপেক্ষা নিয়ে ফুটে আছে
অধীর প্রসূন
দূরের দিঘির দিক থেকে
সারারাত ভেজা হাওয়া আসে
Ami R Sardar - Sardar Faruque
ঝড়ের ব্যর্থতা প্রদীপে – জাফর সাদেক
যে আশ্রয় দেয়
তার মুখটাই প্রভাতের সূর্যোদয়
তার তো থাকে না কোনও মুখোশ
যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘায় রক্তিম প্রশ্রয়ে
সূর্য জানে
পাইনসারির আশ্রমে থাকা কুয়াশামেঘ
পর্যটকের চোখে অভিমান
এতে সূর্য আর পাহাড়ের ভালোবাসা হয় আরও গাঢ়
যে গড়ে সেও তো ওই পাহাড়চূড়ার মতো
ক্ষতবিক্ষত ও আহত
তবুও নত হয়ে উন্নত
Jhorer Barthota Prodepe - Jafar Sadeque
সেলাই – টিপু সুলতান
মুখ থেকে শেষ কথাটি কেড়ে নিয়ে যে পাখি রেলিঙের ডানায় আজও বসে রয়েছে। তার যাপনযোগ্য স্পর্শ আর আলগোছ চোখ-
সেসব আমার পুরানো দিনের অবশিষ্ট পরমায়ু ও কবিতা।
টিপু সুলতান
কেশবপুর। যশোর
Selai By Tipy Sultan
সাংবাদিকের কলম – মিলু শামস
মিলু শামসের নির্ভার গদ্যভাষার সঙ্গে পাঠককে নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। বিষয়ের যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষনের সঙ্গে প্রকাশ ভঙ্গির সাবলীলতাকে তিনি এমনভাবে মিশিয়ে দেন যা পাঠককে এক নিশ্বাসে শেষ লাইন পর্যন্ত পড়ে যেতে বাধ্য করে। জীবন ও জগতকে দেখার তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে প্রতিটি লেখা হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। প্রখর ব্যক্তিত্বময় দৃঢ় একটি স্বর অণুরনিত হয় পাঠক মননে।
দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত তাঁর নিয়মিত কলামের নির্বাচিত কিছু কলাম নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইয়ের লেখাগুলো।
Sangbadiker Kalam By Milu Shams























