অনুধ্যানে নিবিড় পাঠ ও অন্যান্য – নাহার আলম
নাহার আলমের গদ্যভাস্কর্যের ভেতর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শওকত আলী, আল মাহমুদ, হাসান আজিজুল হক, রিজিয়া রহমান, হুমায়ূন আহমেদ, হেলাল হাফিজ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের যৌক্তিক বিশ্লেষণসহ কবিতার সেকাল-একাল, মৈমনসিংহ গীতিকা-বিধৃত লোকায়ত জীবন, মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান ও ছোটোকাগজের সম্ভাবনা সম্পর্কিত বীক্ষা দ্যুতিময় হয়ে উঠেছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পুতুল নাচের ইতিকথা-য় গাওদিয়া তথা পূর্বতন বিক্রমপুরের গ্রামীণ জীবনপ্রবাহ ও নিসর্গের অন্তর্লীন রূপকে বর্ণময় করে তুলেছেন। নাহার আলম এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শশীর প্রেম, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং বৃষ্টি-ডোবা মশক অধিকৃত পল্লি জীবনের জটিলতা ও গভীরতা উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন। শওকত আলীর রচনা বিশেষত তাঁর উপন্যাস ও গল্পে স্ফুরিত প্রাকৃতজনের দর্শন, ব্রাত্য জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব-সংকট, নরনারীর হিংস্রতা, মধ্যবিত্তশ্রেণির যাপনপ্রক্রিয়া, নৈঃসঙ্গ্যচেতনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রাবন্ধিক আলোকপাত করেছেন। আল মাহমুদের বহুমুখী প্রতিভা সত্ত্বেও তাঁর কবিখ্যাতিকে প্রাবন্ধিক সমধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে প্রতিভাত হয়েছে, হাসান আজিজুল হক চেতোমান সত্তা দিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র নিপুণভাবে অঙ্কন করেছেন। রিজিয়া রহমানের ছোটোগল্পের সামগ্রিক পর্যালোচনায় প্রাবন্ধিকের তন্নিবিষ্টতা উল্লেখ্য। দ্রোহ-প্রেম-বিরহের কবি হেলাল হাফিজের প্রতি প্রাবন্ধিক জ্ঞাপন করেছেন সহমর্মিতা। তিনি কবি ও লেখক হিসেবে আব্দুল মান্নান সৈয়দের বহুমাত্রিক প্রতিভার সমুজ্জ্বল পরিচয় তুলে ধরেছেন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘আজগুবি রাত’ উপন্যাসে নারীর অন্তরায়ণ, কাহিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রতীক-রূপকল্পের ব্যবহার, বস্তুসত্যের সাথে পরাবাস্তবতার মিশ্রণ-কৌশলের ভেতর প্রাবন্ধিক আবিষ্কার করেছেন শিল্পকিরণ। পাঠকের চেতনায় নাহার আলমের অনুধ্যান প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করি।
গৌরাঙ্গ মোহান্ত
কবি ও গবেষক
Anodyane Nibir Path O Anyanyo
ফানুস – আফরোজা আলম – ৭১-এর দিনলিপি
আফরোজা আলমের গদ্য পড়তে ভালো লাগে। একটা আটপৌরে ভাব আছে আর আছে একটা ভিতর থেকে টান। বিষয় যখন পরিবারের কথা নিজের স্মৃতি-গ্রন্থের পাতাগুলি উল্টে যাওয়া, প্রায় নিজের পুরোনো ডায়েরি খুলে পড়ার মতো তখন ভালো তো লাগবেই। তার সঙ্গে যদি যোগ হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কিছু বর্ণনা। এইসব কারণে আফরোজার লেখা ভালো লাগলো।

হাসান আজিজুল হক
Fanush - ফানুস
Anu-Poromanuvuti by Hisham M Nazer
মৃত্যু পেরিয়ে জীবন – জিম ম্যাকিনলি – অনুবাদ : নাহার তৃণা
১৯৫৮ সালে জিম ম্যাকিনলি নামের এক আমেরিকান মিশনারি কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সপরিবারে ফেনী অবস্থানকালে পাক বাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল তাঁর পরিবার। সুযোগ পেয়েও তিনি পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। নিজের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফসল ৮ মাসের দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত ‘ডেথ টু লাইফ’। নাহার তৃণার বাংলা রূপান্তর ‘মৃত্যু পেরিয়ে জীবন’। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও সেদেশের অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ নিজ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঙালিদের জন্য খুলে দিয়েছিলেন উদারতা ও মমত্বের দুয়ার। ম্যাকিনলি রচিত এই স্মৃতিকথা তারই এক অনন্য উদাহরণ।
Mrittu Periye Jibon By JIm Mckinley, Translated By Nahar Trina - এক আমেরিকান মিশনারির একাত্তরের স্মৃতি
সুখের রঙ চোখের জলের মতন – আসাদ জামান
মানুষ প্রত্যাশা করে একটা ঘুর্ণায়মান সুখের স্রোত তাদের সারাক্ষণ ঘিরে থাকবে কিন্তু এমনটা কখনো হয় না। সৃষ্টীকর্তার নিয়ম বা রহস্য অনুযায়ী মানুষ খানিকটা সুখের জন্য অনেকটা দুঃখ যাপন করে। আমাদের ঘিরে থাকা সম্পর্কগুলো থেকে সবসময় ঠান্ডা জলের স্রোত বইতে থাকে, মাঝে মধ্যে অল্পকিছুক্ষণের জন্য উষ্ণ স্রোত। দীপার জীবনে ফয়সাল বা ফাহাদের জীবনে বাবা –মা , এমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ প্রেমিকা নায়ারা তেমনি এক স্রোত। এই নিরন্তন স্রোতের মধ্য দিয়েই মানুষ যেমন অল্প সময়ের সুখ খুঁজে পায়, যেমনটা ফাহাদ খুঁজে পায় জীবনযুদ্ধে প্রতারিত একাকি রিপা আর তার ছোট্ট মেয়ে রুপার মধ্যে। ফাহাদের, দীপার, রুপার কাছে মনে হয় তাদের সুখের রঙ চোখের জলের মতন!
SHUKHER RONG CHOKHER JOLER MATON - সুখের রঙ চোখের জলের মতন
PRACHIN BANGLAR PORAMATI-FALAKSHILPA O ANNANNO - প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি-ফলকশিল্প ও অন্যান্য
খুলনার মুক্তিযুদ্ধ : বটিয়াঘাটা – রিয়াদ হোসেন
“খুলনার মুক্তিযুদ্ধ : বটিয়াঘাটা” শীর্ষক গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধকালীন বটিয়াঘাটা উপজেলার সশস্ত্র সংগ্রাম, মানবতাবিরোধী অপরাধ (গণহত্যা, নির্যাতন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস), শরণার্থীসহ বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেকটি ঘটনার পেছনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় রেখে বিষয় বিবরণ সন্নিবেশিত হয়েছে।
কৃষক আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সংগ্রামী ইতিহাস রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা অপ্রতুল। ফলে আঞ্চলিক ইতিহাস তুলে ধরার তাগিদে এ গবেষণাগ্রন্থটি মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে ।
khulnar Muktijuddho : Batiyaghata -- খুলনার মুক্তিযুদ্ধ : বটিয়াঘাটা
বর্ষা এলেই ভূতটা আসে – জুয়েল আশরাফ
তখন আমি ক্লাস সেভেনে। একটি ছেলের সাথে আমার গাঢ় বন্ধুত্ব। টিফিনের টাকায় খাবার কিনে দুজনেই খাই। সেও আমাকে খাওয়ায়। একদিন সে প্রস্তাব করল, ‘আমাদের বাড়ি চলো।’ আমি সানন্দে রাজি হলাম। প্রথমত, নতুন নতুন বাড়ি যাওয়া আমার শখ। দ্বিতীয়ত, খাওয়ার লোভ। বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছি না খাইয়ে ছাড়বে না। সে আমাকে তাদের বসার ঘরে এনে বসালো। আমি সপ্রতিভ হয়ে বসলাম। সে ভেতরে চলে গেল। নিশ্চিত খানিক বাদেই প্লেট ভর্তি খাবার এনে আমার সামনে হাজির হবে। কিন্তু অল্প পরেই বন্ধু খালি হাতে ফিরে এলো। বিষণ্ন মুখে বলল, ‘মা বাড়িতে নেই। তোমাকে কিছু খাওয়াতে পারলাম না।’ এই বলেই সে আবার গেল ভেতরে। ফিরে এলো একটি বই হাতে। বইটি আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা নিয়ে যাও।’ যেন আমাকে খাওয়াতে না পারার দুঃখ ভোলানোর চেষ্টা করছে সে। গল্পের বই হাতে আমিও বিষণ্ন মনে বাড়ি ফিরি। সেদিনই প্রথম গল্প পড়া শুরু। পড়তে পড়তে আমি অভিভূত আর অবাক। গল্প এতো মজার হয়! বন্ধুর বাড়িতে খেতে না পারার দুঃখ ভুলে গেলাম। ঠিক করলাম একদিন আমিও বড় হয়ে গল্প লিখব। আজ আমি হাতে পায়ে বড় হয়েছি, কিন্তু শিশু-কিশোরদের বই পড়া আজও ছেড়ে উঠতে পারিনি। ভবিষ্যতেও পারব না। এই বইটিতে আমার লেখা ভূতের গল্পগুলো তোমাদের ভালো লাগুক। এই প্রত্যাশা।
– লেখক
Borsha Eley Vutta Ase - Jewel Ashraf
খেজুর গাছে ভূতের পা – রাহমান ওয়াহিদ
তো গল্পটা কী? দাদু শাকিলকে বলেছিলেন- একটা মস্ত বড়ো ভূত প্রতি মঙ্গলবার রাত ঠিক বারোটায় এসে এই দুটো খেজুর গাছের মাথার ওপর দুদিকে দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর লম্বা হাত বাড়িয়ে সবাইকে ডাকে বন্ধু হওয়ার জন্য। কার বুকে এত সাহস যে, ভূতের বন্ধু হবে? কেউ ওর ধারে কাছেও যায় না। তখন ভূতটার খুব রাগ হয়। সে তখন হাত দুটোকে লম্বা বানিয়ে ফেলে আর যাকে সামনে পায় তাকেই ধরার চেষ্টা করে। দাদু আবার এসব ভূতে-টুতে ভয় পান না। তিনি লম্বা একটা তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন ওই হাত দুটোকে কেটে ফেলার জন্যে। যেই না দাদু হাত দুটোকে কাটতে যান, অমনি ভূতটা ভয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এভাবেই চলছিল। কিন্তু দাদুটা বছর খানেক আগে হঠাৎ করে মারা গেলেন। তারপর থেকে আবারো সেই ভূত সেই মঙ্গলবার রাত বারোটায় একইভাবে দুই গাছের ওপর দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর ডাকে। কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। কিন্তু ওই রাতে সবারই গা ছমছম করে ভয়ে। মাঠের দিকে কারো ঘরের জানালাই তখন খোলা থাকে না। এই হলো গল্পটা। অনু যতই শুনছিল ততই ভয়ে ঘামছিল। পরীক্ষায় এত যে ভালো রেজাল্ট করেছে সে- ভুলেই গেল সেটা। বাড়ি ফিরেও কিছুতেই ভয়টাকে তাড়াতে পারে না। ভয়ের কথাটা কাউকে বলতেও পারছে না সে। সবাই ওকে ভীতু বলবে- সেই লজ্জায়।
Khejur Gache Vuter Pa - Raahman Wahid, খেজুর গাছে ভূতের পা - রাহাম ওয়াহিদ
নীরু আপা – জুলিয়ান সিদ্দিকী
সাধারণ এক স্কুল শিক্ষিকার উচ্চাকাঙ্খী মেয়ের সুপার মডেল হওয়ার এক অদম্য বাসনার গল্প নীরু আপার জীবন। যে জীবনের পরতে পরতে আছে একজন নারীর নীরবে নিভৃতে নিষ্পেষণ আর নানা বঞ্চনার কাহিনি। যার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়িগুলোর নানা ধাপ পার হতে গিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে পড়তে হয়েছিল লোভী পুরুষের কামনার ইচ্ছাদাসী। এক সময় সে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তার চেনা আর পরিচিত জগত থেকে। সমাজ আর আত্মীয়-পরিজনের কাছে হয়ে উঠেছিল লজ্জা আর অসম্মানের এক অচ্ছুৎ নাম। সে সঙ্গে খেসারত দিতে হয়েছিল তারই ছোট ভাইয়ের মতো আরেকটি কিশোরকে। কিন্তু তাদের দুজনের কেউ প্রথম দিকে জানতে পারেনি যে, তাদের মাঝে অবচেতনে গড়ে উঠবে অবিচ্ছেদ্য গাঢ়তম এক অসম প্রেম।
জীবনের দুরুহতম এক পরিস্থিতিতে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের ফেরে তারা পরস্পর আবার কাছাকাছি হয়ে ওঠে। যা তাদের পারস্পরিক আত্মসমর্পণেরই এক দুর্লভ আর দুর্লঙ্ঘ্য পরিণতির সূচনা করে। শেষপর্যন্ত তাদের পরিণতি কী হয়েছিল জানতে হলে শুরু থেকে শেষাবধি পড়তে হবে নীরু আপা উপন্যাসটি।
Niru Apa - Julian Siddiqi
অলৌকিক গৃহকোণ – রোখসানা ইয়াসমিন মণি
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
ভুল প্রণয়ের গন্ধ – আইরিন সুলতানা লিমা
হাজার হ্রদের দেশ নক্ষত্র দিনের কথা মনে করো
মনে করো মাছ ধরি, ঘুরে বেড়াই।
মনে করো পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপে
আঁশ ছাড়ানো পাটের গন্ধ শুঁকি,
শাদা কাশফুলের শরৎ দেখি।
নিশীথ সূর্যের আইসল্যান্ড, নক্ষত্র দিন
রাতহীন রাতের কথা মনে করো।
কিছুই কি মনে পড়ে না?
অর্ধেক আকাশ ছড়িয়ে ক্ষণেক্ষণে বিদায় নাও
এ কেমন স্বভাব?
অর্ধেক ডুবিয়ে বিষাক্ত করো না
মাছি ডুবানোর মতো করে ডুবিয়ে মারো
ডুবিয়েই হও প্রশান্ত।
মনে করো রোমানদের মতো স্বচ্ছ মনের আয়নায়
চীনের চিত্রশিল্পের প্রতিফলন দেখি।
ডুবিয়ে মারো, পিষে মারো
মৃত্যুতে ভয় নেই
মৃত্যুর দরজা জানালা সবসময় খোলা।
Vul Pronoyer Gandha - Irene Sultana
























