ঘোড়ামুখী – জিল্লুর রহমান শুভ্র
জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিকী, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও নানা নামের ছোট কাগজগুলোতে বেশুমার গল্প ছাপা হচ্ছে। দু’চারটে গল্প ছাড়া অধিকাংশ গল্পই বায়বীয় পদার্থের মতো হাওয়া হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কেন? কেন গল্পগুলো অমরত্বের পথে হাঁটছে না? কারণ, সরল বয়ান এবং একই প্রেক্ষাপটের চর্বিত চয়ন। কিন্তু এই গল্পগ্রন্থে জিল্লুর রহমান শুভ্র প্রিজমের মতো নানাবিধ আলো ফেলে গল্পগুলোকে নানা ঢংয়ে বিন্যাস করেছেন। বাস্তবতার সঙ্গে পরাবাস্তবতা ও শ্বাশত আবেগের মিশেল ঘটানো গল্পগুলো পাঠকদের মনস্তত্বের ভূগোলে জেগে ওঠে কুয়াশাবৃত হিমশৈলের মতো; যা একদিকে চিত্তাকর্ষক অন্যদিকে প্রপঞ্চময়। তিনি সোডিয়াম ও ফ্লুরেসেন্সের আলোর নিচে বসবাস করলেও নিভৃতচারী পল্লিকথকের লেপ মুড়ি দিয়ে কুপির আলোয় পুঁথিপাঠ ও হেমন্তের ফসল কাটার গান শুনতে পান; ফলে তার গল্পে নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, রিরংসা ও কদর্য অন্ধকার যেমন ধরা পড়ে, তেমনি গ্রামীন চরিত্রগুলোও সেলুলয়েডের মতো জীবন্ত। তাছাড়া, রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে ৪৭-এর দেশভাগ ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বয়ান তার অনেক গল্পে উঠে এসেছে নির্মোহ ও নির্মম সংবেদনশীলতায়। পাঠক, বাড়িয়ে বলছি না। নতুন স্ট্যাইলে তার গল্পের বুনন ও ভাষার চমৎকারিত্ব সমানভাবে আপনাদের মুগ্ধ করবে।
Ghoramukhi By Zillur Rahman Shuvro
খেলাপি ঋণ : ক্ষমতাবলয় এবং উন্নয়ন প্রেক্ষিত – বাবলু রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৩ এর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বিবিসি’র খবর, ২০০৯ থেকে গত ১৩ বছরে খেলাপি বেড়েছে ৬ গুণ।
খেলাপি কমানোর দায়িত্ব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিতে হবে- এ বক্তব্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স-বাংলাদেশ (এবিবি) বলেছে- খেলাপি নিয়ন্ত্রণ একাকী সম্ভব নয়। তবে এবিবি’র সুপারিশ মত ব্যবস্থা নিলে নাকি ২ বছরে খেলাপি শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে।
খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস। খেলাপিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পিপলস ব্যাংক চেয়ারম্যান আটক। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি: ৫৮ মামলার আসামি চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দুদকের চিঠি।
২০২৩ এর ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা ৭,৮৬,০৬৫ জন। অর্থমন্ত্রী ২০২০ সালে সংসদে ৮,২৩৮ প্রতিষ্ঠানের খেলাপির তালিকা দেন। এই সংখ্যাগুলো বাড়ে বেশি, কমে খুবই সামান্য।
২০১৯ এর জুন পর্যন্ত খেলাপির অর্থে কী কী হতো? সিপিডি’র সমীক্ষায় এর জবাব পাওয়া গেছে। ১ লাখ ১২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকায় পদ্মা সেতু সড়কে ব্যয়ের অঙ্কের সমান ৩টি সড়ক সেতু অথবা পদ্মা সেতু রেল লিংকের সমান আরও ৩টি রেল সেতু বা মাতারবাড়ীর মতো ৩টি বিদ্যুৎ প্রকল্প অথবা ঢাকা মেট্রোরেলের মতো ৫টি প্রকল্প বা দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং ঘুমধুমের মতো ৬টি রেলপথ কিংবা রামপালের মতো ৭টি বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করা যেতো।
তাই প্রশ্ন উঠছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ খেলাপির টাকা বছরের পর বছর কেন অনাদায়ী পড়ে থাকবে?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ। এর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতা ও আলোর দিশারী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ অনেক দৃশ্যমান সাফল্যলাভ হয়েছে। মানুষের বিশ্বাস, দেশপ্রেমিক এই জাতীয় নেতার নির্মোহ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই লাখ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণও পুনরুদ্ধার হবে। এবং দেশে শুরু হবে আরও মৌলিক সমস্যা নিরসন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উৎসব।
Khelapi Rin : Khomotaboly Ebong Unnoyon Prekkhit



