টাইম মেশিন – শাপলা সপর্যিতা
প্রতিরাতে ঘুমাতে যাবার সময় মায়ের কাছে রাজকন্যা রাজপুত্র আর দেওদৈত্যর কিসসা কাহিনী শুনতো না মেয়েটি। শুনতো মায়ের ছোটবেলার প্রকৃতিঘেঁষা স্মৃতিময় সব সত্য গল্পগুলো। এসব শুনতে শুনতে ঢাকা নামক ইট কাঠ কংক্রিটের শহরে বড় হয়ে ওঠা অথচ প্রকৃতির সঙ্গলিদায় বিভোর এক বাংলাদেশী কিশোরীর পৃথিবীবিখ্যাত গবেষক হয়ে উঠার গল্পের শুরু। সে মেতে উঠে টাইম মেশিন আবিষ্কারের নেশায়। টাইম মেশিনে চড়ে যাবে মায়ের ছোটবেলায়, ভোরের হালকা আলো ফুটতে না ফুটতেই ছুটে যাবে শেফালিতলায়, পেয়ারা বাগানের অন্ধকারে বাঁদূরঝোলা দেখবে, পাহাড় জঙ্গলে খুঁজবে সবুজ পেয়ারা, ধানক্ষেতের আইলে দেখবে সাদা বকের অলস দাঁড়িয়ে থাকা। ভরা বর্ষায় পুকুর উপচে ওঠা পানিতে ভরে গেলে ঘাসের মাঠ থেকে ছোটমাছ ধরবে নিজের হাতে-এই তার স্বপ্ন। সময় বয়ে যায়। বিয়ে সংসার করা হয় না। জীবনের মাঝবেলাতে এসে বিপুল পরিশ্রম আর গভীর মায়ায় তৈরি করতে পারে টাইম মেশিন। তাতে চড়েও বসে। টাইম মেশিনে সফল ভ্রমণের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় এই বাংলাদেশী নারী। কিন্তু ২০৩৭ সাল থেকে ভ্রমণ করে ২০০৭ সালের পর আর পিছে যেতে পারে না টাইম মেশিন? কেন যেতে পারে না? ঐখানেই যে পড়ে আছে মায়ের। প্রকৃতি ঘেঁষা অতীত। যা ছুঁয়ে দেখবে বলেই টাইম মেশিনের আবিষ্কার। আসলে কি সে যেতে পেরেছিল মায়ের ছোটবেলাটাতে? পেয়েছিলো কি সেই বিপুল রহস্যময় সুন্দর প্রকৃতির সঙ্গ? যুগান্তকারী আবিষ্কারের পিছনে মানুষের প্রকৃতিলগ্ন হবার যে একাগ্র ও নিবিড় ধ্যান তারই গল্প নিয়ে ‘টাইম মেশিন’।
Time Machine - Shapla Shawparjita
গুপ্তহত্যা… অতঃপর – শাপলা সপর্যিতা
কোনো কোনো মাঝরাতে কেন খালার পোষা কুকুর বব অস্থিরভাবে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। পোশা ময়নাটাও তখন অস্থির। কিন্তু কেন? শত বছরের পুরানা বাড়িটি ফেলে ভারতে চলে যাবার সময় হিন্দু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন রাশেদের খালু। বাড়ির সামনে খোলা লন। তারপর বিশাল প্রশস্ত সিঁড়ি পার হয়ে উঠেই টানা বারান্দা। বারান্দায় চওড়া পিলারগুলো যে রাশেদ কোনোদিন দুহাত ধরে এগুলোর বেড় পেত না। বাড়ির উপরে সিংহ মূর্তিটি খালু ভেঙে ফেলে সেখানে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন। বাড়ির সদরদরজা পার হয়ে সামনে আগানোর পথে প্রতি বিকালে অনেক অনেক পায়রা আসে। খালা ওদের খাবার দেন। খুঁটে খায়। রাত হতে হতে ওরা আবার নিজেদের বাসায় চলে যায়। কিন্তু পায়রাগুলো আসলে কারা? ওরা কি পাহারা দেয় এ বাড়িতে? দুটি পায়রা কেন সদর দরজার বাইরে থেকে গুলি করে মারা হলো? খালা পায়রাগুলোকে নিতে দিলেন না। তারপরই কী কী অঘটন ঘটতে শুরু করল বাড়িটিতে? সামনে খোলা পথে একটা বড়ো লম্বা তালগাছ। তার ওপর থেকে মাঝরাতে কেউ একজন নেমে আসেন। খালার সাথে কি গোপন কথা তার? কি গোপন শলাপরামর্শ করেন খালা ওর সাথে? কে বা কারা কাজের ছেলে রহিমের ওপর চড়াও হয় রাতের বেলা! মধ্যরাতে ঘরের ভিতর মেরে ওর হাড়-মাংস একাকার করে ফেলে। হঠাৎ কেন বাড়ির সব আলো অন্ধকার হয়ে যায়! বাড়ির বড়ো ছেলে ফাইয়াদকে কেন কাজের ছেলে রহিম পিছনের পুকুরে ফেলে বুকের উপর উঠে বসে পানিতে ডুবিয়ে মারতে চায়? রহিমের গায়ে এমন বোটকা গন্ধ কীসের? রহিমের গলায় এ কার অচেনা স্বর? তবে কি কোনো অতৃপ্ত আত্মা রহিমের উপর চড়াও হয়ে বসেছে? এই বাড়ির মানুষের উপর ওদের কেন এত রাগ? ওরা কারা? কুলকিনারা কি করা যাবে এ রহস্যের!
Gupto Hotya... Otohpar - Shapla Shawparjita



