হাসপাতালের বারান্দা – আতিকুর রহমান হিমু
হাসপাতালের বারান্দা।
ক্যান্সারাক্রান্ত বাবার পাশে বিষণ্ন মা বসে আছেন।
কেমোথেরাপি চলছে; তখন ছোটোভাই বাঁধন বিদেশে, আমি অনেক দূরের শহরে কর্মসূত্রে, কখনো-বা ফিরি উৎকণ্ঠিত পথ পেরিয়ে মধ্যরাতের ক্লান্তি নিয়ে; এইসব লেখা লিখিয়ে নিয়েছে একটা অসুখমুখর সময়। অধিকাংশই ২০২২-২৩ সময়ের। তারপরে সে-বার (কবি মালেকা
ফেরদৌস) আপার সাথে, ২০২৪-এ তনুশ্রীকে নিয়ে হাসপাতালে কুঁড়িয়ে পাওয়া শব্দগুচ্ছ টুকে রেখেছিলাম। কবিতার হয়ে উঠলো কি না! সংশয়…
Haspataler Baranda by Atiqur Rahaman Himu
অক্ষরে আঁকা কণ্ঠস্বর – আকিব শিকদার
কবিতা মানুষের চেতনকে জাগায়, প্রতিবাদকে উসকে দেয় এবং সত্যকে তুলে ধরার সাহস জোগায়। একজন কবি তার কলম দিয়ে যেমন শিল্প সৃষ্টি করেন, তেমনি একটি সমাজের মানসিকতাকেও বদলাতে পারেন।
কবি কবিতার মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য, শোষণ, দুর্নীতি, বা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং মানুষকে জাগ্রত করার আহ্বান জানান। শক্তিমান কবিতা কেবল সাহিত্য নয়, বরং এটি আন্দোলনের হাতিয়ার। এই বইয়েতে স্থান পাওয়া কবিতাগুলো শুধু শিল্পসুষমায় পরিপূর্ণ নয়, বরং একটি দৃঢ় বার্তা বহন করে—সমাজকে বদলানোর, মানুষকে সচেতন করার এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর।
আকিব শিকদার
Akkhare Anka Kanthosor - Akib Shikder
সুন্দরের স্বপ্নদ্রষ্টা – রাসেল মুহাম্মেদ খাইরুল
সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই কবির কাজ। কিন্তু এটা নেহায়েৎ সহজ কোনো কাজ নয়। এজন্য কবিকে সারা জীবন সাধনা করে যেতে হয়, হতে হয় দুঃসময়ের মখোমুখি আর কবি হয়ে ওঠেন সুন্দরের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সৌন্দর্য ক্রমেই সংক্রামিত হয়ে মানুষের মনের মন্দিরে রূপ লাভ করে।
Sundorer Shwapnodroshta - Rasel Muhammad Khairul
সোনালি রোদ ও কুয়াশা দিন – আইনাল হক
নাগরিক বিগ্রহে ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ ‘সোনালী রোদ ও কুয়াশা দিন’, যার ডালে বাসা বেঁধেছে ৫৬ টি রংবেরঙের পাখি। বিদগ্ধ সময়, সামাজিক অসঙ্গতি, দ্রোহ ও ভালোবাসা এর সমন্বয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাবার এক অনন্য অনুভূতি। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব ক্রমশ যখন প্রজন্মকে বিপথগামীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তখন প্রতিরোধের পোস্টার হোক ভালো বই। ব্যস্ততম জীবনের মূল্যবান অবসর প্রাণবন্ত করতে বইয়ের বিকল্প কোথায়?
Sonali Rod O Kuyasha Din - Ainal Hoque
বিভ্রান্ত জাদুকর – হিরণ্য হারুন
কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।
Bibhranto Jadukor - Hiranya Harun
মন ও মননে – ফারহানা খানম
কবিতা কখনো জন্মায় না একদিনে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা অভিজ্ঞতা, অদৃশ্য কোনো ব্যথা কিংবা নিঃশব্দ আনন্দ থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে কবিতার ভাষা। এই বইয়ের কবিতাগুলোও তেমনই, কখনো হঠাৎ বৃষ্টিভেজা বিকেলের মতো, কখনো নির্জন দুপুরে জানালার পাশে বসে থাকা নিঃসঙ্গতার মতো, আবার কখনো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া একাকিত্বের মতো।
প্রতিটি শব্দ আসলে একেকটি ছোট্ট ভ্রমণ, যেখানে পাঠক নিজেকে খুঁজে নিতে পারেন। হয়তো কারও মনে হবে এ তো আমার নিজের গল্প! হয়তো কেউ খুঁজে পাবেন না কোনো মিল, তবুও শব্দগুলোর ভেতর দিয়ে অচেনা এক জগতে হেঁটে যাবেন। এই বইয়ের পাতাগুলো তাই শুধু লেখকের নয়, পাঠকেরও; কারণ প্রতিটি কবিতা তখনই পূর্ণ হয়, যখন তা কারও অন্তরের ভেতর নতুন আলো জ্বালাতে পারে।
কবিতা পড়তে গিয়ে আমরা সবাই একসময় থমকে দাঁড়াই। কোনো লাইন হঠাৎ আমাদের পুরোনো স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, কোনো শব্দ ঝাপসা চোখে জল আনে, আবার কোনো বাক্য অকারণ হাসি ফোটায়। এই বইয়ের কবিতাগুলোও তেমন কিছু করার চেষ্টা করেছে মনকে প্রশ্ন করতে, উত্তর খুঁজতে, আর হয়তো কোনো এক মুহূর্তে চুপ করে বসে থাকতে।
পাঠকের হাতে এই বই তুলে দেওয়ার মানে শুধু কিছু কবিতা ভাগ করে দেওয়া নয়; এর মানে নিজের ভেতরের অগোছালো, এলোমেলো, কাঁচা অনুভূতিগুলোকে পাঠকের সঙ্গে বসে পড়তে দেওয়া। যদি এই শব্দগুলো আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে বাধ্য করে তাহলেই এ যাত্রা সার্থক হবে।
Mon O Manane - Farhana Khanam
এশিয়ার ছাই – শিশির আজম
পৃথিবী আর কমলালেবু
সত্যি আমি দুটোকেই কামড়ে দিতে চাই
কামড়াতে না পারি
অন্তত ওদের রক্ত দিয়ে
আঁকতে চাই নিজের প্রতিকৃতি
কিন্তু পৃথিবী আর কমলালেবু দুটোই গোলাকার
আর এরা গড়িয়ে চলে
থামে না
হ্যাঁ
আমিও স্থির নেই
আমার ভেতরও রক্তের প্রস্রবণ
না কি আগ্নেয়গিরি
Asiar Chai - Shishir Azam
ভ্রূণফুল – নুরুন্নাহার মুন্নি
নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতা আমার ভালো লাগে, এমনকি তার সাহিত্যিক তৎপরতাও আমার পছন্দের। কারণ কবি হওয়ার জন্য একজন মানুষের যতটা নিমজ্জন, পরিশুদ্ধতা দরকার- তার মধ্যে সেটা আছে। সামাজিক মাধ্যমেও আমি তাকে অনুসরণ করি, তার কবিতা পড়ি এবং সাহিত্যিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড লক্ষ করি। এবার তার ‘ভ্রূণফুল’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পড়তে গিয়ে এ ধারণা আরও প্রগাঢ় হলো। সত্যি সত্যি এই বইয়ের কবিতাগুলো আমায় মুগ্ধ করল। সচারচর অনেকে কবিতা লেখার ক্ষেত্রে পরিবেশ স্থানিকতা ভাষা এবং লৈঙ্গিক উপস্থিতি সঠিকমাত্রায় উপলব্ধি করতে পারে না; এতে কবিতায় কৃত্রিমতা ভর করে। কিন্তু মুন্নির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি, তার কবিতার বিষয়, ভাষাশৈলী বেশ জীবন্ত এবং ভাবের উদ্রেককারী। একটি গার্হস্থ্য জীবন, সমকালীন রাজনৈতিক জীবন, মানবচরিত্রের কপটতা- তিনি শব্দ, উপমা, উৎপ্রেক্ষার দ্বারা তুলে ধরেন; তাই বলে তিনি ভুলে যান না প্রাণ-প্রকৃতি, প্রেম-রিরংসা, মানবচৈতন্যের রূপবৈচিত্র্য। মুন্নির কবিতার মধ্যে, বাক্যবন্ধের মধ্যে, শিরোনাম ও ভাষাশৈলীর মধ্যে এক সপ্রাণতা রয়েছে- যা কাব্যপাঠককে সহজে উজ্জীবিত করতে পারে, ভাবের ঘরে নিয়ে যেতে পারে। যেমন তার দুএকটি কবিতার কথা উল্লেখ করা যায়- আঙুলের মদ গিলে কামনার খইফুল, গ্রাফিতি জীবন, রক্ত ফোটে গাছে গাছে, মুখোশ পরা দিন, আমার খেয়ালে ছেঁড়া মানচিত্র, কাটা মাদুলীর নিহত স্বর, ঠোঁট ও উদ্ভ্রান্ত বিকেল, জংলি ফুল, বউ হবো, চেনা মুখ অপরিচিত ছায়া। আমার বিশ্বাস কাব্যপাঠক নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতার নান্দনিক উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হবেন না।
-মজিদ মাহমুদ
কবি ও প্রাবন্ধিক
Vrunful - Nurunnahar Munni
একুশ – আবদুল মতিন
মানুষের মন একটি বিমূর্ত বৈচিত্র্যের আধার। বস্তুত মানুষের মনের চেয়ে অধিক বৈচিত্র্যময় কিছু বুঝি এ বিশ্বলয়ে দ্বিতীয়টি নেই। একজন মানুষের মনে একই সময়ে, একইসাথে লক্ষ-কোটি দ্বন্দ্ব-সংঘাত ক্রিয়া করে। এ মানসিক দ্বন্দ্বের ওপর ব্যক্তির আসলে তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির শ্রেণিগত ও পেশাগত ভিন্নতার কারণে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এ দ্বন্দ্বসমূহের আচরণগত বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
জনাব মো. আবদুল মতিন পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার। কর্মজীবনে পেশাগত কারণেই প্রতিদিন তাঁকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মিশতে হতো। এরই সুবাদে তিনি তাদের মনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করতেন। তারই লব্ধজ্ঞানে মানুষের মনের কথাগুলো তিনি কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন, প্রকাশ করে থাকেন সমাজের স্তরে স্তরে বিদ্যমান নানান অসংগতিসমূহ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বর্ণনায়, কখনো-বা প্রতিবাদী ভাষায়। তাছাড়াও সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে একজন মানুষের করণীয়, মানুষের সাথে মানুষের আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ ইত্যাদি কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়গুলিও উঠে আসে তার কবিতায়। উঠে আসে প্রকৃতি, বাদ পড়ে না সাম্প্রতিক বিষয়াদিও।
Ekush -Abdul Matin
বধিরের পাঠশালা – কামাল মুহম্মদ
কামাল মুহম্মদ সত্যসন্ধানী কবি। ‘বধিরের পাঠশালা’ কবির ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তার কবিতায় চিত্রকল্প কল্পনা ও প্রতীকে মূর্ত হয়ে জীবন ও জগতের ইমেজ তৈরি করে। তার বাস্তবতা আর্তের ধ্বনি হয়ে চিৎকার করে এবং শেষতক শিল্পের রূপ-দুয়ার খুলে দর্শনে গিয়ে থামে। তখন কবিতায় দার্শনিকতা যেমন ফুটে ওঠে তেমনই কবিতা হয়ে ওঠে শিল্পমণ্ডিত। কবি আগে সমষ্টিকে ধারণ করেন নিজের ভেতরে। তারপর সামষ্টিক ধারণার অভিব্যক্তিকে শিল্পরূপ দেন কবিতায়। যেমন- ‘ডানার বাইরে যেতে পারে না পাখি’ অথবা ‘আমিকে ভাঙতে ভাঙতে গড়ি/জন্মাই আমি, নাম ধরে ডাকি হেই কামাল? কোথায়?’-এ এক দার্শনিক জিজ্ঞাসা। নিজেকে চেনার-জানার এবং জগৎকে বোঝার। এভাবেই বুনন হয় কবির কবিতা-দর্শন। যে দর্শন মানবিকতা, কল্যাণ, নৈতিকতা ও সৌন্দর্যকে নিয়ে হাঁটে। তিনি যখন বলেন, ‘দাঁড়কাক হই, ডালে বসে ডাকি দুপুরে-ভাত দে, রুটি দে/মদ দে…’ সত্যি সত্যিই আমরা তখন এমন এক জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াই যেখানে আর্তমানবতার হাহাকার ছাড়া কিছুই ভাবা যায় না। এমতাবস্থায় কবিতাকে তিনি যে সত্যের মুখোমুখি নিয়ে যান তাতে একুশ শতকের পোশাক পরা সভ্যতার মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। গ্রন্থের প্রতিটি কবিতায় তার এই বোধ বিস্ময়ের উদ্রেক করে। তখন পরিশুদ্ধ এক বাস্তবতা কল্পনা করা ছাড়া পাঠকের আর উপায় থাকে না। গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয় হোক।
কবি সরকার আজিজ
Bodhirer Pathshala - Kamal Muhommod
বৃষ্টি : মনোমুগ্ধকর খুনি – এমরান কবির
তোমার ভূগোলে আসার পর
ভেবে দেখ
কীরূপ ছিল আমার জয়োল্লাস
আজ ভূগোলের গোলে
থামিয়ে রেখেছি গান
ফেরার পথে নিয়ে যাব
তোমার না-দেখানো
বৃষ্টির সোনালি আগুন
যার জন্য অনেক আগেই আমি
হয়েছিলাম খুন
Brishti : Monomugdhokor Khuni - Emran Kabir
ইদানীং নীল হওয়া বনে – জহুরুল ইসলাম
সবুজ পাতার মুখে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের মতো জহুরুল ইসলামের কবিতা। বসন্তদিনের ভোরের আলোর সাথে খেলা করে রূপ, রস ও ছন্দে। এ যেন মানবজীবনের উষ্ণতা আর সৌরভের সুরেলা হাওয়া। সাম্প্রতিক আধুনিকতার শিল্পিত পাল্লায় জহুরুল ইসলাম এক অনিবার্য নাম। তার কবিতা লোভনীয় ডালিম দানার মতো টুকটুকে লাল। নির্মাণ করেন জীবনপ্রবাহের চিত্রাবলি কবিতার চরণ ও পঙ্ক্তির মুরতিজুড়ে। কবিতা তো এমনই : জীবনের চলমানতা, প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন। নদীর গতিপথ যেমন এঁকেবেঁকে চলে তেমনি মানবজীবনের গতিপথও মসৃণ নয়। তাই তো কবিতার পরতে পরতে আঁকা হয় মানবচরিত্রের বৈচিত্র্যময় অনুভব। জহুরুল ইসলামের কবিতার আঙিনা উপমার আবরণে অবিরল আলোকচ্ছটার রূপসী নারীর সুরভিত সুর আর ভাবের ব্যঞ্জনায় ভেসে ওঠে যৌবনের রঙিন অনুভূতির উন্মাতাল জোয়ার। কবিতার শরীরজুড়েও ঢলে পড়ে ষোড়শী নারীর বাঁধভাঙা যৌবন। আমি তাঁর কবিতার সিথানে মন রাখি প্রার্থনার মতো। আমার বিশ্বাস এ-কাব্যটি আপনাদের হৃদয়কে স্নিগ্ধ করবে।
আদ্যনাথ ঘোষ
০২.০৯.২০২৫
Edaning Neel Hawya Bone - Jahurul Islam























