Short Story (ছোটগল্প)

Short Story (ছোটগল্প)
Show:
Filter
25% Off

সঙ-সারের গল্প-১ – রীতা রায় মিঠু

Highlights:

লেখকের কথা-
ছোটোবেলা থেকেই আমি চারপাশের মানুষের সকাল থেকে সন্ধ্যার জীবন যাপন দেখতে ভালোবাসি। কাছে থেকেও দেখি, দূর থেকেও দেখি। আমি শুধু দেখি, আর ভালো-মন্দ সব দৃশ্য মস্তিষ্কের কোষে জমা রাখি।
আমার জন্ম নারায়ণগঞ্জ শহরে, ছোটো থেকে তরুণী হয়ে ওঠাও নারায়ণগঞ্জ শহরে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের যে এলাকায় বড়ো হয়েছি, সেখানে হিন্দু মুসলমান বন্ধুর মতো, আত্মীয়ের মতো থেকেছি। হিন্দু মুসলমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো না, রেষারেষি ছিলো না, প্রতিযোগিতা ছিলো না। সকলের রান্নাঘরের হাঁড়ি পাতিল সকলের চেনা। ফলে সকলের জীবন যাপন প্রণালীটা খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছি।
এরপর আমার বিয়ে হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়িয়ে স্বামীর সাথে ঢাকা, সাভার,  কিশোরগঞ্জ, সিলেট চিটাগাং সুনামগঞ্জ রাজশাহী পাবনা, বগুড়া যেখানেই গিয়েছি, সবখানেই আমি শুধু মানুষ দেখেছি, মানুষের নানা রঙের জীবন দেখেছি।
এরপর বাংলাদেশ ছাড়িয়ে নেপাল, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত বেড়িয়েছি, অস্ট্রেলিয়া তিন বছর থেকেছি, সবশেষে আমেরিকা এসে স্থিতু হয়েছি।
জীবনের এই দীর্ঘ সফরে কত রকম মানুষ দেখেছি, মানুষের জীবনের গল্প শুনেছি, কত রকমের গল্প স্মৃতি ভাণ্ডারে জমা হয়েছে। গল্পগুলো চোখের সামনে সাজালে দেখতে পাই, সকলের জীবনের গল্পগুলো প্রায় একইরকম।
সকলেই প্রতি সকালে ঘুম থেকে ওঠে, সারাদিন কিছু আনন্দ কিছু সুখ, কিছু আড্ডা, হাড়ভাঙা পরিশ্রম, রান্নাঘর হাট বাজার অফিস হাসপাতাল কোর্ট কাচারি, ভ্রমণ, ঝগড়া হিংসে বিদ্বেষ রেষারেষি, ভালোবাসা, প্রেম, বিরহ কান্না শেষে ক্লান্ত দেহ মন নিয়ে রাতে নিদ্রা যায়।
জীবন যদি হয় সাধারণ গণিতের সহজপাঠ, যোগ বিয়োগে মাঝে মাঝে হিসেবে ভুল হয়, কখনওবা সমীকরণ মিলে যায়।
আর জীবনটা যদি হয় রঙ্গমঞ্চ অথবা যাত্রা মঞ্চ, আমরা প্রত্যেকে সেই মঞ্চে একেকজন দক্ষ অথবা কম দক্ষ অভিনেতা অভিনেত্রী, অথবা মুখে রঙ মাখা সঙ।
এই সকল দক্ষ-অদক্ষ অভিনেতা অভিনেত্রী, রঙ মাখা সঙদের জীবনের গল্প দিয়ে সাজিয়েছি আমার বই ‘সঙ-সারের গল্প’ প্রথম পর্ব।
সঙ-সারের গল্প বিশেষ কোনো একজনের গল্প নয়। সঙ-সারের প্রতিটি গল্পই হয় আমার গল্প,  নয়তো আপনার গল্প, অথবা পাঁচ মিশেলি জীবনের পাঁচ মিশেলী গল্প।

 

Song-Sarer Golpo - Rita Roy Mithu

$ 3.09
25% Off

মুখোশ – সিরাজউদ্দিন আহমেদ

Highlights:

‘ এ তোদের কেমন কথা সই। আমার যক্ষ রামগিরি পর্বতে নির্বাসনে, আর আমি প্রাসাদে সোনার পালঙ্কে রূপচর্চা সাজসজ্জার আনন্দে মত্ত থাকবো ?

সে সাধারণ, অতি সাধারণ এক যক্ষ। যক্ষ প্রাসাদ নির্মাণের এক কর্মকার মাত্র। তুমি রাজেন্দ্র রাজনন্দিনী। আমাদের সকলের চোখের মনি। অচিরে তোমার হৃদয় জয় করতে রাজপুত্র যুবরাজগণ স্বয়ংবর সভায় হাজির হবেন।

তোদের চোখে সে সাধারণ। আমার চোখে সে অসাধারণ। সে রাজপুত্র অধিক রাজপুত্র। যুবরাজ অধিক যুবরাজ। সে আমার প্রাণেশ্বর। কীরুপে তাঁকে বিস্মৃত হই, বল সখি ?

চাপা স্বরে সখি বলল, রাজকন্যা, কী সর্বনাশা কথা বলছো তুমি !  যদি রাজার কর্ণকুহরে এ সংবাদ পৌঁছায় তোমার কঠিন দন্ড হবে।

দন্ড আমার প্রাপ্য। আমার জন্য যক্ষ আজ নির্বাসনে। কী অপরাধ যক্ষের ? পাথর কেটে সে আমাকে নির্মাণ করতে চেয়েছে। তাঁর চোখে দেখেছি অমরত্বের স্বপ্ন। রাজা আসে রাজা যায়। সব একদিন ভেসে মুছে যায়। অমর হয়ে থাকবে যক্ষের নির্মাণ, যক্ষ যাঁকে নির্মাণ করেছে তাঁর স্বপ্ন থেকে সেই আমি। আমি কোন রাজকন্যা নই, সাধারণ এক প্রেমিকা মাত্র। আমাকে নিয়ে  ভবিষ্যত রচনা হবে নশ্বর প্রেমের অবিনশ্বর কীর্তি। হাজার বছর পরও প্রেমিক-প্রেমিকার  অন্তরে হবে আমাদের বসবাস ( দেবতা ও মানুষ) । ‘

Mukhosh By Sirajuddin Ahmed

$ 2.65
25% Off

বৃত্তের মাঝে – বেবী নাজ করিম

Highlights:

“বৃত্তের মাঝে ” গল্পগ্রন্থে নাম গল্প ” বৃত্তের মাঝে ” সহ মোট সাতটি ভিন্ন স্বাদের গল্প আছে। সব কটি গল্পই গড়ে উঠেছে আমাদের চারপাশের রক্তে মাংসের গড়া মানুষ , তাদের প্রাত্যহিক জীবন,তাদের হাসি- কান্না ,সুখ- দুঃখ,চাওয়া- পাওয়া, ভাল লাগা – মন্দ লাগা ইত্যাদিকে ঘিরে। প্রত্যেকটি গল্পে আছে নানা রকমের সম্পর্কের জটিলতা , মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। তবে প্রতিটি মানুষের জীবনই একটা নির্দিষ্ট গণ্ডি বা বৃত্তের মাঝেই আবর্তিত হয়। বৃত্তের বাইরে যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো মানুষ দেখে কিন্তু কতটুকু সফল হতে পারে বা তার বাস্তব রূপায়ণ কতটুকু ঘটাতে পারে এই গল্পগ্রন্থে তারি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

Britter Majhe - Baby Naz Karim

$ 2.12
25% Off

বর্ষা এলেই ভূতটা আসে – জুয়েল আশরাফ

Highlights:

তখন আমি ক্লাস সেভেনে। একটি ছেলের সাথে আমার গাঢ় বন্ধুত্ব। টিফিনের টাকায় খাবার কিনে দুজনেই খাই। সেও আমাকে খাওয়ায়। একদিন সে প্রস্তাব করল, ‘আমাদের বাড়ি চলো।’ আমি সানন্দে রাজি হলাম। প্রথমত, নতুন নতুন বাড়ি যাওয়া আমার শখ। দ্বিতীয়ত, খাওয়ার লোভ। বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছি না খাইয়ে ছাড়বে না। সে আমাকে তাদের বসার ঘরে এনে বসালো। আমি সপ্রতিভ হয়ে বসলাম। সে ভেতরে চলে গেল। নিশ্চিত খানিক বাদেই প্লেট ভর্তি খাবার এনে আমার সামনে হাজির হবে। কিন্তু অল্প পরেই বন্ধু খালি হাতে ফিরে এলো। বিষণ্ন মুখে বলল, ‘মা বাড়িতে নেই। তোমাকে কিছু খাওয়াতে পারলাম না।’ এই বলেই সে আবার গেল ভেতরে। ফিরে এলো একটি বই হাতে। বইটি আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা নিয়ে যাও।’ যেন আমাকে খাওয়াতে না পারার দুঃখ ভোলানোর চেষ্টা করছে সে। গল্পের বই হাতে আমিও বিষণ্ন মনে বাড়ি ফিরি। সেদিনই প্রথম গল্প পড়া শুরু। পড়তে পড়তে আমি অভিভূত আর অবাক। গল্প এতো মজার হয়! বন্ধুর বাড়িতে খেতে না পারার দুঃখ ভুলে গেলাম। ঠিক করলাম একদিন আমিও বড় হয়ে গল্প লিখব। আজ আমি হাতে পায়ে বড় হয়েছি, কিন্তু শিশু-কিশোরদের বই পড়া আজও ছেড়ে উঠতে পারিনি। ভবিষ্যতেও পারব না। এই বইটিতে আমার লেখা ভূতের গল্পগুলো তোমাদের ভালো লাগুক। এই প্রত্যাশা।

– লেখক

Borsha Eley Vutta Ase - Jewel Ashraf

$ 3.97
25% Off

খেজুর গাছে ভূতের পা – রাহমান ওয়াহিদ

Highlights:

তো গল্পটা কী? দাদু শাকিলকে বলেছিলেন- একটা মস্ত বড়ো ভূত প্রতি মঙ্গলবার রাত ঠিক বারোটায় এসে এই দুটো খেজুর গাছের মাথার ওপর দুদিকে দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর লম্বা হাত বাড়িয়ে সবাইকে ডাকে বন্ধু হওয়ার জন্য। কার বুকে এত সাহস যে, ভূতের বন্ধু হবে? কেউ ওর ধারে কাছেও যায় না। তখন ভূতটার খুব রাগ হয়। সে তখন হাত দুটোকে লম্বা বানিয়ে ফেলে আর যাকে সামনে পায় তাকেই ধরার চেষ্টা করে। দাদু আবার এসব ভূতে-টুতে ভয় পান না। তিনি লম্বা একটা তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন ওই হাত দুটোকে কেটে ফেলার জন্যে। যেই না দাদু হাত দুটোকে কাটতে যান, অমনি ভূতটা ভয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এভাবেই চলছিল। কিন্তু দাদুটা বছর খানেক আগে হঠাৎ করে মারা গেলেন। তারপর থেকে আবারো সেই ভূত সেই মঙ্গলবার রাত বারোটায় একইভাবে দুই গাছের ওপর দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর ডাকে। কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। কিন্তু ওই রাতে সবারই গা ছমছম করে ভয়ে। মাঠের দিকে কারো ঘরের জানালাই তখন খোলা থাকে না। এই হলো গল্পটা। অনু যতই শুনছিল ততই ভয়ে ঘামছিল। পরীক্ষায় এত যে ভালো রেজাল্ট করেছে সে- ভুলেই গেল সেটা। বাড়ি ফিরেও কিছুতেই ভয়টাকে তাড়াতে পারে না। ভয়ের কথাটা কাউকে বলতেও পারছে না সে। সবাই ওকে ভীতু বলবে- সেই লজ্জায়।

Khejur Gache Vuter Pa - Raahman Wahid, খেজুর গাছে ভূতের পা - রাহাম ওয়াহিদ

$ 2.65
25% Off

অলৌকিক গৃহকোণ – রোখসানা ইয়াসমিন মণি

Highlights:

মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…

 

Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony

$ 3.09
25% Off

আগুনফুল – সৈয়দ নূরুল আলম

Highlights:

সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া একশ্রেণির মানুষের চাওয়া-পাওয়া, মানুষে মানুষে সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, কখনোবা মানুষের অমানবিক হয়ে ওঠা, বিরহ-ব্যথা, যুদ্ধোত্তর ভালো মানুষের আড়ালে মুখোশ পরা মানুষের আবির্ভাব- এসব মনস্তাত্তিক বিশ্লেষণ নিয়ে ‘আগুনফুল’ গল্পগ্রন্থ।
বইয়ে চৌদ্দটি গল্পের মধ্যে দুটি মুক্তিযুদ্ধের ওপর গল্প। গল্প দুটি- ‘হরিদাশের সাইকেল’ ও ‘গোপন চিঠি’। লেখকের জীবনে অনেকটা জায়গা দখল করে আছে মুক্তিযুদ্ধ, তাই তো তাঁর লেখায়, ঘুরেফিরে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্যভাবে চলে আসে। ‘লেখকের মৃত্যু ও একটি উপন্যাস’ গল্পে একজন লেখকের মর্মবেদনার কথা বলা হয়েছে। সুন্দর যখন অতিসুন্দর হয়, বিশেষ করে কোনো তরুণীর সৌন্দর্য; তখন তা ভয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তখন ফুল হয়ে যায়- ‘আগুনফুল।’ বইয়ের শিরোনামের গল্পটি ঠিক এরকম। এক ঝড়ের রাতে বহু বছর পর অভিন্ন স্বপ্নের প্রেক্ষাপটে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুটি মনভাঙা তরুণ-তরুণী, তাদের কথন উঠে এসেছে ‘দরজার ওপাশে কার ছায়া’ গল্পটিতে। এভাবে প্রতিটি গল্পই জীবনবোধের শ্রোতধারায় আবর্তিত।

আগুনফুল - Agun Ful

$ 2.65
25% Off

প্রোপাগান্ডা – রোমেল রহমান

Highlights:

১৩ টা নিরীক্ষাধর্মী গল্প নিয়ে প্রোপাগান্ডা বইটা রাষ্ট্রনৈতিক চিহ্নের নানান উপসর্গের মধ্যে দমিত গল্পের বিস্ফুরণ। ক্ষমতা, সিংহাসন বা কর্তৃত্ববাদ  থেকে জন্ম নেওয়া সামাজিক স্বৈরতান্ত্রিক আধিপত্যের কাঠামোয় ধাবমান মানুষের আকাঙ্ক্ষার উচ্চারণ।

বাংলা গল্পের ধারায় এই বইয়ের উপস্থিতি পৃথক পদধ্বনির ঈঙ্গিত।

প্রোপাগান্ডা - Propaganda

$ 2.12
25% Off

অদৃশ্য সেতু – নভেরা হোসেন

Highlights:

রাত বাড়ার পর লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে এক ফাঁকে চটের বস্তা দুটোকে  নিয়ে পুকুর পাড়ে যায় রোজিনা । শীতের রাত কুয়াশায় কিছু দেখা  যায় না, পুকুরের চারপাশে কলাগাছের সারি, একটা সারির ফাঁক দিয়ে চটের বস্তা দুটোকে পুকুরের কালো জলে ছুড়ে ফেলে। জোরে একটা শব্দ হয়, পানি চারদিকে ছড়িয়ে তরঙ্গের মতো সৃষ্টি হয়। রোজিনা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেদিকে, মনে হয় আজ স্বামীর সাথে সাথে তার সমস্ত পাপকেও যেন কবর দেয়া হলো। হাশরের ময়দানে তার কোনো দায় থাকবে না, সৃষ্টিকর্তা তাকে বলতে পারবে না তুই তোর স্বামীর ইজ্জত বাঁচাইতে পারলি  না। লতিফ মিয়ার লোভের চোখ যেন রোজিনাকে গিলে খায়। কাদামাখা পায়ে রোজিনা পুকুরে নেমে পৌষের ঠাণ্ডা জলে ডুব দেয়, সারা শরীর কাঁপতে থাকে, পুকুর থেকে ঘরে আসার পথটুকু তার কাছে দীর্ঘ মনে হয় । ঘরে এসে কাপড় ছেড়ে রান্নাঘরে বসে হাড়িতে পড়ে থাকা ভাত খায় আর ভাবতে থাকে লতিফ মিয়া এমনভাবে কয়লা হইয়া পুইড়া মরলো, তার মরণটা যেন আজরাইলরেও হার মানাইলো, চটের বস্তার অস্ত্রগুলো সারাজীবনের জন্য তার সাথী হয়ে পুকুরের মিশমিশে কালো পানিতে  হারায়া  গেলো। যেমনভাবে লতিফ মিয়াও হারায়া গেলো। লতিফ মিয়া দুনিয়াতেই যেন বিচার পাইয়া গেলো । তার আর অনন্তকাল অপেক্ষা  করতে হবে না, পোড়া মরিচ ঠাণ্ডা  ভাতে মেখে খেতে খেতে রোজিনা এইসব কথা ভাবতে থাকে। শীতের রাতে দলা  পাকানো ভাত আর পোড়া মরিচ তার কাছে অমৃতের মতো লাগে ।

অদৃশ্য সেতু - Adrirshyo Setu

$ 3.18
25% Off

আলোকিত মানুষ – তামান্না চৌধুরী

Highlights:

তন্ময়  ও সুস্ময় নামের দুই জমজ ভাইয়ের কার্যকলাপ নিয়েই “আলোকিত মানুষ ” গল্পটি সুন্দরভাবে সাজানো  হয়েছে। এই দুভাই পড়ালেখায় বেশ মনোযোগী কিন্তু তাদের শিক্ষক পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিক  কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এক ঈদে তিনি তার শিক্ষার্থী দের প্রত্যেককে এমন এক একটা ভালো কাজ করতে বলেন, যে কাজের উজ্জ্বলতার রেশে তাদের চারপাশ আলোকিত হবে এবং তারা আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিগণিত হবে।

সেই স্যারের আদেশমতো তারা  আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে সমাজের অবহেলিত সমবয়সি রোজকার ময়লা নিতে আসা ছেলে রাজা আর টোকাই বাদশাকে ঈদের দিন তাদের বাসায় দাওয়াত দেয়। দুই ভাই তাদের প্রিয়  লোভনীয় স্পেশাল খাবারের একটা মেন্যু তৈরি করে যেগুলো এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলো কখনো টাটকা খায়নি। দোকানের শোকেসের কাচের বাইরে থেকে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এই দুই জমজ ভাই তাদেরকে সেই খাবার চেখে দেখাবার প্রয়াস নেয়। এই মেন্যু ও খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে তৈরী করতে খুশিমনে এগিয়ে আসেন  তাদের মা। সুস্ময় আগত সমবয়সি প্রত্যেক শিশুকে নতুন জামা, বই, খাতা, স্কুলব্যাগ আর তন্ময় তাদের অতি প্রয়োজনীয় জুতা ও স্যান্ডেল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

তাদের এসব পরিকল্পনা শুনে ও দেখে  তাদের প্রিয় দাদু নাতিদের কাছে এই শুভকাজে নিজে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ চান। তিনি রাজার মাকে তন্ময় ও সুস্ময়ের মায়ের  সেলাই শেখার স্কুলে কাজ শেখানোর সুযোগ দেওয়র প্রস্তাব রাখেন। তিনি মনে করেন, রাজার মা ভালোভাবে  কাজ শেখার পরে  তাকে নতুন সেলাই মেশিন কিনে দিলে সে  স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আর তরকারির ফেরিওয়ালা বাদশার বাবাকে  তরকারির ফেরি করার সুবিধার্থে ভ্যানগাড়ি কিনে দিতে চান। এতে  কষ্ট করে তাকে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে  ঘুরে বেড়াতে হবে না।

তন্ময় ও সুস্ময়ের পরিবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যদি এগিয়ে আসে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফুটবে। পরিশেষে লেখিকার এই গল্পে বর্ণিত মানুষ গড়ার কারিগর সেই শিক্ষাককে স্যেলুট যিনি তার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোকিত মানুষ হবার অনুপ্রেরণা বেশ সফলভাবে জাগিয়ে তুলেছেন এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সফল হয়েছেন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। সেই শিশুদেরকে আলোকিত মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা  দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন পরিবারের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা।  এই গল্পে সেটাই লেখিকা অত্যন্ত  সুন্দর ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আলোকিত মানুষ - Alokito Manush

$ 3.53
25% Off

স্মৃতির ছায়াশিস – রফিকুজ্জামান রণি

Highlights:

আমার পূর্বপুরুষরা এই গ্রামেরই বাসিন্দা। সে সম্পর্কে যথেষ্ঠ ধারণা পেয়েছি আগে। কিন্তু আমার মতো একজন আগুন্তুককে কি চিনতে পারবে তারা? অতীতে কল্পনার ঝুলিতে যে ছবি এঁকে রেখেছিলাম, মুহূর্তের মধ্যেই তা যেন আষাঢ়ে গল্পে পরিণত হয়ে গেলো। কিন্তু বাবাকে তো কখনো মিথ্যে বলতে শুনিনি।
অজানা-অচেনা আগুন্তুকের দিকে উৎসুক মানুষের নজর পড়ছে। টের পাচ্ছি। তবুও দ্বিধাহীন খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছি গ্রামটিকে। কোথায় সেই ছনের ঘর। কোথায় সেই দোচালা টিনের বাড়ি। কোথায় সেই বনবাদাড়ে ঘেরা বসতঘর। এ যে রীতিমতো অট্টালিকার অরণ্য, ইটপাথরের জঙ্গল। যে কল্প-ছবি বুকে নিয়ে এখানে পা ফেলেছি, সেটা যে দেখছি এই গ্রামের সম্পূর্ণ বিপরীতরূপ। তাহলে কি ভুল পথে পা বাড়িয়েছি আমি? নাকি আধুনিকতা এবং উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে সবকিছু? প্রতিনিয়ত পৃথিবী বদলায়, গ্রাম বদলাবে না কেন? সবকিছু দেখার পর অজ্ঞাত এক কবির কবিতার দুটি লাইন মনে পড়ে গেলো- ‘ক্রমশ বড় হয় শহর, ছোট হয় গ্রাম/ পাথরের কাছে হেরে যায় মানুষ।’

স্মৃতির ছায়াশিস - Smritir Chayashish

$ 1.59
Scroll To Top
Close
Close
Close

My Cart