Short Story (ছোটগল্প)
Showing 61–72 Products of 198 ProductsSorted by latest
মুনশি প্রেমচাঁদ : নির্বাচিত ১০টি গল্প – এহছানুল মালিকী
গল্প মানবজীবনের প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব। বিন্দুর ক্যানভাসে গল্পের কলকবজায় গল্পকার তুলে আনেন জীবনের বিচিত্র রূপ ও রূপান্তর। উর্দু ছোটোগল্পে মুনশি প্রেমচাঁদ ছিলেন স্থপতি পুরুষ বা যুগ প্রবর্তক। সামাজিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্তি¡ক, ঐতিহাসিক প্রায় সব ধরণের গল্পই লিখেছেন তিনি। প্রেমচাঁদের এই বইয়ের গল্পগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে স্বদেশের প্রতি প্রেম, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর লাঞ্ছনা, সামন্ততান্ত্রিক সমাজে কৃষিজীবি, শ্রমজীবি মানুষের শোষণ ক্লিষ্ট জীবনের ছবি, সাধারনের প্রতি ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের ভয়ংকর জুলুম এবং সেই সঙ্গে নিম্নবিত্ত, নিম্নবর্ণ শ্রমজীবি মানুষের জীবন সংগ্রাম ও সামাজিক আর্থিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অনন্য ছবি। “মুনশি প্রেমচাঁদ নির্বাচিত ১০টি গল্প” বইয়ের কালজয়ী গল্পগুলো ভাষান্তর করে বাঙালী পাঠক সমাজে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুবাদক এহছানুল মালিকী খুব যত্ন করে ও আন্তরিকতার সাথে অনুবাদ সম্পন্ন করেছেন। পাঠক প্রেমচাঁদকে নতুন রূপে আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন এই বইয়ের গল্পগুলো পাঠ করে।
অনুবাদকের কথা : মুনশি প্রেমচাঁদ উর্দু সাহিত্যের এক কিংবদন্তি ছোটোগল্পকার। তার কলম চলেছে হিন্দি, উর্দু উভয় ভাষাতেই। প্রেমচাঁদ ছিলেন একান্নবর্তী পরিবারের প্রবক্তা। এই একান্নবর্তী পরিবারই ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আর একে কেন্দ্র করেই ছোটোগল্প ও উপন্যাস রচনায় একটি আদর্শ রূপ দাঁড় করিয়েছিলেন প্রেমচাঁদ।
মুনশি প্রেমচাঁদ সমাজের বঞ্চিত মানুষের না বলা কথাগুলো তাঁর কলমে লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর গল্পগুলো পড়লে পাঠকের চোখে ভেসে উঠে জমিদার কর্তৃক কৃষকের শেষ রক্তটুকু শোষণ, মহাজন বা সুদি ব্যবসায়ী কর্তৃক দরিদ্র জনবলকে উচ্চহারে সুদ দিয়ে তাকে সর্বস্বান্ত করে দেয়া। মহাজন থেকে পিতা সুদে টাকা গ্রহণ করে, যা সুদে আসলে ছেলে পর্যন্ত গড়ায়। তবুও তা শেষ করতে পারে না, যা পরবর্তী বংশধর পর্যন্ত বর্তায়। প্রাক ঐতিহাসিক যুগে নারীদের যেমন কোনো মূল্য ছিল না তেমনি আঠারো শতকে সমাজে নারীরা ছিল উপেক্ষিত। না ছিল বাবা-মার কাছে সম্মান, না ভাই-বোন, না শ্বশুর-শাশুড়ি, না স্বামী-সন্তানের কাছে, আর না সমাজে বসবাসরত আধুনিক মানব সমাজে। শুধু মহাজন, কৃষক বা নারীকে নিয়েই নয়, তিনি মসজিদ-মন্দির, পশু-পাখি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অচ্ছুতবর্গ সহ নানান বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছেন।
‘‘মুনশি প্রেমচাঁদ নির্বাচিত ১০টি গল্প” বইটিতে প্রেমচাঁদের বিভিন্ন গল্প সংকলন থেকে নেয়া হয়েছে এ গল্পগুলো। বইটি অনুবাদ করার ক্ষেত্রে বাঙালী মনন, চিন্তার ও রুচির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যে সমাজব্যবস্থা সে সমাজের সাথে মিল রেখে ১০টি গল্প বেছে নেয়া হয়েছে। তবে তার গল্পে এমন কিছু স্থানীয় শব্দ ব্যবহার হয়েছে সে গুলোর অর্থ উদ্ধার করা অনেক দুঃসাধ্য ছিল। সামগ্রিক ভাবে বাঙালী পাঠকদের জন্য বইটি সহজ ভাষায় অনুবাদ করতে চেষ্টা করেছি। পাঠক বইটি পড়লেই উপলব্ধি করবে গল্পগুলো যেনো আজও জীবন্ত, যা সমাজ জীবনের অনুভূতি আজকের জীবনেও বর্তমান। যদি আমার এ অনুবাদের মাধ্যমে বাঙালী পাঠক সমাজ বিন্দুমাত্র উপকৃত হয়, অনুবাদক হিসেবে সেখানেই আমার সার্থকতা।
এহছানুল মালিকী
Munshi Premchand : Nirbachita 10 golpo by Ehsanul Maliki
সুবর্ণপুরাণে এখন নিগুঢ় অন্ধকার – নাহার আলম
বাংলা ছোটোগল্পে কল্লোল (১৯২৩) যুগ আমাদের পাঠাভ্যাসকে বদলে দেয়। নতুন কিছু তো অবশ্যই। যেমন পরিবর্তন হয়েছে গল্পের ন্যারেটিভ তেমনই বিষয়-ভাবনা। পাঠকের রুচির অনুকূল ছিল কি না সেসব গল্প- তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ-পর্যায়ে সে গল্পগুলোই এখন আমাদের প্রাণ-সংকেত; ওই গল্পগুলোর দিকে তাকিয়েই আধুনিক বাংলা গল্পের বৈচিত্র্যময় টেক্সট নির্মিত হচ্ছে। কী ছিল ওইসব গল্পে? গল্প তো মানুষেরই। রবীন্দ্রনাথের গল্পও তো মানুষেরই গল্প; তারপরও যখন কল্লোলীয় গল্প পাঠকের কাছে এলো, তখন পাঠক একটি স্বতন্ত্র রুচির চর্চা করতে সক্ষম হয়। এর অনেক পরে হাসান আজিজুল হক লিখলেন ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)’। এখান থেকে বাংলা গল্প আরো সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। যাকে বলা যায় সবল অস্তিত্ব নিয়ে বাংলা ছোটোগল্পের পরম্পরা নির্মিত হয়। কে বা কারা ছিলেন এগিয়ে সে প্রশ্নও অবান্তর। কিন্তু গল্পের অগ্রযাত্রায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ভাবনা; বৈশ্বিকবোধ তাড়িত বিজ্ঞানমনস্ক সামজচিন্তা। সত্তর, আশি, নব্বই অতিক্রম করে যখন শূন্য কিংবা এক, দুই-য়ে বাংলা গল্প দাঁড়ালো, তখন গল্পও উত্তরাধুনিক চেতনায়, অনেক বেশি সাংকেতিক; আবার কখনো অনেক বেশি বিষয়ানুগ। বিষয় হিসেবে সামাজিক কদর্য, রীরংসা, নারীর প্রতি নিগ্রহ গল্পের আধার হয়ে উঠতে থাকে।
নাহার আলম শেষোক্ত ধারার একজন। তার গল্পসমূহে সময়ের চিত্রায়ণ করতে গিয়ে বস্তুত সমাজবাস্তবতাকে টাচ করতে চেয়েছেন। সময়ের সঙ্গী হওয়া বস্তুত কঠিন; কিছুটা চ্যালেঞ্জেরও। প্রথমত- সামাজিক সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয়ত হলো- প্রকাশ ক্ষমতার শিল্পিত সংকোচ। সম্ভবত নাহার আলম-এর ক্ষেত্রে এ-দুয়ের কোনোটিই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিরোনামের একটি মার্কেটট্রেন্ড থাকে। এ-ধারণা থেকে নাহার আলম মুক্ত। এর মৌল কারণ হয়তো বাজারাক্রান্ত হওয়ার স্থুল বাসনা তার নেই।
শ্বাপদ সুন্দর, ধনদাসের রজনিচর, প্রসথেটিক মাস্ক, প্রত্যাখান বা প্রত্যাবর্তন, যোগচিহ্ন ইত্যাদি শিরোনামের গল্পগুলোতে যাচিত সময়ের লড়াই আছে। বেঁচে থাকার লড়াই, আবার আত্মপ্রতীতির লড়াইও। স্বোপার্জিত অর্জনের খেরোখাতায় বস্তুত কোনো বিলাসের গল্প থাকে না; থাকে টিকে থাকার নন্দিত পরমতা। তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকে না। কিন্তু অবশ্যই সমাজবাস্তবতার চলচ্চিত্রায়ণে এর মূল্য অধিক। একজন সিনথিয়ার সফল জননী হয়ে ওঠা, নিবিড়ের বিশ্বাস ও চেতনার সঙ্গে তথাকথিত রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব, শবনমের সমুদ্রসম কষ্ট, অরিণ এবং নীলান্তির জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতি সবই তো আমাদের সমাজে বিস্তীর্ণমান দূষিত সম্পর্কায়নের কুফল। এসব কিছুকে যখন লেখক একটি মলাটে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন সেখানে অজস্র পাঠকের অন্তর্জিজ্ঞাসার বাতায়নটা খুলে যায়। পাঠক ওই বিন্দুতে থামতে চান; এবং বলেন এমনই হয়তো চেয়েছি। এ-ধারার গল্পকথায় নাহার আলম পাঠককে মুগ্ধ করার হয়তো প্রত্যয় নেননি- কিন্তু পাঠকের কাছে পৌঁছুতে চেয়েছেন। এখানে তার স্বাতন্ত্র্য অনেকেরই চোখে পড়বে।
আবার কিছু গল্পে উপভাষার প্রয়োগেও তার সিদ্ধহস্ততা কোনো কোনো পাঠককে আগ্রহী করে তুলবে। পাঠকমাত্রই নতুনের সন্ধান চান; তবে সে নতুন, পুরোনোর ভেতর থেকে উত্থিত হলে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকে ভিন্নরকম। এবং বলা বাহুল্য ওই পুরোনোর ভেতর থেকে নতুনের উদ্ভাসন মূলত উত্তরাধুনিক চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। পোস্ট-মডার্ন পাঠক তার গল্প থেকে সে স্বাদও নিতে পারবে বলে মনে হয়েছে। গল্প পাঠান্তে অনেকের হয়তো মনে হতে পারে, গল্পটা আমারই; গল্পের সিনথিয়া, অরিণ, নিবিড় কিংবা শবনম মূলত আমিই।…
Subornopurane Ekhon Neguro Andhokar by Naher Alam
বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্প – এমরান কবির
বইটার নাম হতে পারত শামুকের ডিম। কিন্তু হলো না। হতে পারতো বমির দোকান, কিংবা ভ্রম ও বিভ্রম অথবা হতে পারত জোসনাখেকো মানুষের রূপকথা। কিন্তু কোনোটাই হলো না। জগতে কত কিছুই তো হওয়ার কথা থাকে! হয় না।
অবশেষে বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্পটাই টিকে গেল। কিন্তু এর ভেতরে ভেতরে রয়ে গেল শামুক ও শামুকের ডিম। রয়ে গেল ভ্রম ও বিভ্রম কিংবা জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাও। সব মিলিয়ে হয়তোবা এটাই বমির দোকান।
এখন। আশেপাশে তাকালে এমন কিছু দেখা যাচ্ছে যা ধারণ করা যাচ্ছে না। বরণও করা যাচ্ছে না। নিস্তারও পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু সয়ে যেতে হচ্ছে।
ফলে ভ্রম ও বিভ্রমের ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছে না শামুকের ডিম। জোসনাখেকো মানুষের রূপকথাগুলোকে বমির মতো মনে হচ্ছে।
তাই এইসব কিছুকে এড়িয়ে বা না-এড়িয়ে, তুলে ধরে বা না-ধরে রহস্যময় বৃষ্টির কাছে যাই। যেখানে হারিয়ে গেছে দেশমাতৃকার নাকফুল।
Brishti O Nakfuler Golpo by Emran Kabir
ক্রাইম ফাইলস : কেসেস অফ সিরিয়াল কিলিং – রণিত ভৌমিক
গোয়েন্দা কাহিনীর সমধর্মী রোমাঞ্চকর উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনীকে বলে থ্রিলার। বিশ্বসাহিত্যে থ্রিলারের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। নিয়মিত পাঠকদের বিরাট অংশ থ্রিলার গল্প-উপন্যাস পড়ে থাকেন। বাংলা ভাষাতেও থ্রিলার গল্প-উপন্যাসের সংখ্যা কম নেই। কিন্তু ‘ক্রাইম ফাইলস: কেসেস অফ সিরিয়াল কিলিং’ হলো এমন এক কাল্পনিক কাহিনীর সিরিজ, যা পড়ে আমরা জানতে পারব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এক দক্ষ অফিসার, আইপিএস সুমন চৌধুরীর কথা। তাঁর কর্মজীবনে সমাধান করা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সিরিয়াল কিলিংযের কেস দিয়ে সাজানো এই বইটিতে অন্যসব গল্পের মতো প্রেম-ভালোবাসা, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে। তবে, সেই সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে থাকছে মানবিক ত্রুটি, খুন, ষড়যন্ত্র আর রহস্য। জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘটনাগুলোই বিশেষ ভাবে বারবার উঠে আসবে। যেটা থ্রিলারের মূল উপজীব্য।
বইয়ের প্রতিটি কেস বা কাহিনীতে ক্রাইম থ্রিলার সিরিজের মূল উপাদান অর্থাৎ ঘটনার রহস্যময়তা বা সাসপেন্স সবটাই বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে প্রত্যেক মুহূর্ত পাঠকের মধ্যে উৎকন্ঠা জাগিয়ে রাখা সম্ভব হয়, কি ঘটতে চলেছে এবং তার ফলে কি হবে, এটাই কাহিনীর মূল লক্ষ্য। আশা করি পাঠক এই বই পড়ে নিরাশ হবেন না।
Crime Files : Cases of Serial Killing by Ranit Bhowmik
জমিদারবাড়ির ভূত – অমিত কুমার কুণ্ডু
লেখকের অসংখ্য গল্পের মধ্য থেকে নির্বাচিত পঁচিশটি বিচিত্র স্বাদের গল্প নিয়ে এই বইটি মলাটবদ্ধ হয়েছে। বইটিতে যেমন রূপকথার গল্প আছে, তেমনি রূপকথার আদলে লেখা অনুপ্রেরণার গল্পও আছে। আছে শিক্ষামূলক গল্প, নীতিকথার গল্প, হাসির গল্প, ভূতের গল্প আর বাস্তব-অবাস্তব নানা স্বাদের, নানা বিষয়ের অদ্ভুতুড়ে গল্প। যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন, এই বইটি তাদের জন্য। সব বয়সি পাঠক-পাঠিকা এই বইটি পড়ে তৃপ্তি পাবে। এ বইটি আমাদের মনের জানালা খুলে দেবে। শিশু-কিশোরদের শৈশব রঙিন করে দেবে। নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করবে। শাণিত হবে জীবনবোধ। দৃষ্টিভঙ্গিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। শিশুরা একটি গল্প পড়ে শেষ করার পরে যখন অন্য গল্প পড়তে শুরু করবে, তখন তাদের স্বাদ বদল হবে। বইটির গল্পগুলো এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লেখা। আশা রাখি বইটি পাঠক মহলে সমাদৃত হবে। উৎসাহী পাঠকবৃন্দের মনের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে।
Jamidarbarir Bhoot by Amit Kumar Kundu
পিয়ার আলীর ঘুম আসে না – আবুল কালাম আজাদ
মানুষ আনন্দ চায়। মানুষ হাসতে চায়। সব সময় গভীর চিন্তায় ডুবে থাকা, কাজে ডুবে থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব সব সময় গুরু-গম্ভিব কিছু পাঠ করা। আনন্দের জন্য মানুষ নাটক, সিনেমা উপভোগ করে, গান শোনে। পাঠের ভেতর আনন্দ পাবার জন্য পাঠকরা রম্যসাহিত্য পড়তে চায়।
বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান রম্যলেখদের স্মরণ করতে গেলেই প্রথমে মনে আসে সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম। শৈশব থেকেই আমরা তাঁকে পড়ছি। তাঁর লেখা পড়তে গেলে মনে হয় পৃথিবীতে দুঃখ, হতাশা বলে কিছু নেই। সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে শুধু আনন্দ, হাসি। দুঃখে-বিষাদের মধ্য থেকেও তিনি রস টেনে বের করেছেন। আমরা মনে করতে পারি ‘পন্ডিত মশাই’ গল্পটার কথা। গল্পটায় কিন্তু তৎকালীন সমাজের খুবই মর্মান্তিক, অমানবিক দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু রসে টইটম্বর। আনন্দের কোনো কমতি নেই। তাঁর চাচা কাহিনী, টুনিমেম,ময়ূরকন্ঠী এবং ভ্রমণ কাহিনীগুলোতে আমরা অপার রস আস্বাদন করেছি।
এ ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সাগরময় ঘোষ, আবুল মনসুর আহমেদ, নুরুল মোমেন, কাজী দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, কালীপ্রসন্ন সিংহ, আতাউর রহমান এঁরা বাংলা ভাষার রম্য সাহিত্যের ভান্ডারকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমানেও বাংলাসাহিত্যে বিশেষ করে বাংলাদেশে অনেকেই ভাল রম্যগল্প লিখছেন। বিশ্বসাহিত্যে জেরোম কে জোরোম এবং সমারসেট মম আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছেন।
যাহোক, তারপরও বলবো বাংলা সাহিত্যে বতর্মানে রম্যসাহিত্য যতটা হবার ততটা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রম্যসাহিত্য কিছুটা অবহেলা পাচ্ছে প্রকাশকদের কাছ থেকে। রম্য লেখকগণ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। এরূপ প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা কেউ কেউ রম্যসাহিত্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। লেখার মাধ্যমে মানুষকে হাসানো, মানুষকে আনন্দ দেয়া যে কতটা কঠিন কাজ যা যিনি করেন তিনিই শুধু বোঝেন। তবে রম্যসাহিত্য বলতে আমরা যদি শুধু হাসি-আনন্দ-কৌতুক বুঝে থাকি তাহলে আমাদের বোঝার মধ্যে বড় ভুল থেকে যাবে। কৌতুকের ভেতর দিয়ে, সমাজের, রাষ্ট্রের নানাবিধ অসঙ্গতি, মানুষের চরিত্রের, আচরণের নানা ভুলক্রুটি তুলে ধরা হয়। হাস্যরসের ভেতর দিয়ে ধর্মান্ধ, প্রতিক্রিয়াশীল, নেতা, রাষ্ট্রপরিচালক অনেকের বুকের ভেতরই হুল ফুটিয়ে দেয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রম্যবিভাগ গুলোতে আমি দীর্ঘদিন ধরে রম্যগল্প লিখছি। ২০২৩ সাথে আমার প্রথম রম্যগল্পের বই ‘ঘুমই সফলতার চাবিকাঠি’ প্রকাশ হয় প্রিয় বাংলা প্রকাশনা থেকে। বইটি উৎসর্গ করেছিলাম বর্তমান সময়ের খুবই পরিচিত রম্য লেখক শফিক হাসানকে। মূলত তাঁরই অনুপ্রেরণায় আমার রম্যগল্প লেখা শুরু। আমার প্রথম রম্যগল্পের বইটি যথেষ্ট পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই আমি আরেকটি রম্যগল্পের পাণ্ডুলিপি প্রস্তত করতে সাহস করি। আমার বর্তমান পাণ্ডুলিপিতে ১৮টি রম্যগল্প আছে। গল্পগুলোর সবই দেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকার রম্য বিভাগে প্রকাশ হয়েছে। আমি আশা রাখি, আমার বর্তমান বইটিও পাঠকদের হাসাতে পারবে, আনন্দ দিতে পারবে, সেই সাথে যথাস্থানে হুল ফোটাতে পারবে। এই দুঃখভরা কর্মময় পৃথিবীতে কেউ যদি আমার লেখার কোনো একটা লাইন পড়ে ফিক করে হেসে ফেলে এর চেয়ে সার্থকতা আর কিছু নেই একজন লেখকের জন্য।
Piyar Alir Ghum Asena by Abul Kalam Azad
দি ক্লাউন – মূল : আলবের্তো মোরাভিয়া, অনুবাদ : অমল সাহা
ইতালির বিখ্যাত লেখক আলবের্তো মোরাভিয়ার মোট আটটি গল্প এ বইটিতে অনূদিত হয়েছে। গল্পগুলি ইতালির গত শতকের প্রথম দিককার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনকে তুলে এনেছে। যেখানে দরিদ্রতা, প্রতারণা, ব্যক্তি মানুষের অবমাননা ও অসহায়ত্ব হাত ধরাধরি করে চলেছে। জীবন যেখানে এক কঠিন ধূসর সময়ক্ষেপনের প্রেক্ষাপট মাত্র। মোরাভিয়া নির্মোহ ভাষায় সেসব ব্রাত্য মানুষের জীবনকেই তুলে এনেছেন গল্পগুলিতে। গল্পগুলির পাত্রপাত্রী যেন আমাদের খুব চেনা। এখনও চারদিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই মোরভিয়ার গল্পগুলির চরিত্ররা আমাদের চারপাশে দীনহীন বিবর্ণ জীবনযাপন করে যাচ্ছে। এখানেই মোরাভিয়ার প্রাসঙ্গিকতা মূর্ত হয়ে রয়েছে।
The Clown by Alberto Moravia, translated by Amal Saha
অম্লমধুর – তফিল উদ্দিন মণ্ডল
সুখানন্দের চেয়ে জীবনের বড়ো প্রাপ্তি আর কিছু থাকতে পারে না। সুখের বহিঃপ্রকাশ ঘটে হাসিতে। হাসি প্রাণশক্তি বৃদ্ধির এক প্রকার নির্ভেজাল নিয়ামক, যা সবার ভাগ্যে জোটে না। ঊষর নির্বিকার ও নিরানন্দ জীবনকে সুন্দর ও রসময় করে তোলার জন্য হাসির বিকল্প আর কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। আর এই হাসি ও আনন্দের যোগানদুয়ার খুলতে পারে রম্য লেখা। রম্য লেখকদের দাপটে সাহিত্যের একটি শাখাই হয়ে গেল রম্য বলে।
রম্যগল্পকারদের নাম করতে গেলে প্রথমেই বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) ও সৈয়দ মুজতবা আলির কথা মনে পড়লেও বাংলা সাহিত্যে আরও অনেক রম্যলেখক রয়েছেন যাঁদের সাহিত্যে রয়েছে হাসির ত‚ণে সমাজের নানা রকম অসঙ্গতি ও নিগূঢ় সত্যকে তীর্যক বাণে বিদ্ধ করার কৌশল। তফিলুদ্দিন মÐলের রম্য গল্পের বাতাবরণেও হাসির আড়ালে সমাজের অনেক অসঙ্গতি ও কুসংস্কারের বিষকাঁটা লক্ষ করা যায়। ইতোমধ্যে তাঁর ‘সেই সব মজার মানুষ’ ও ‘বাহিরে যার হাসির ছটা’ গল্পগ্রন্থ দুটি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তফিলু উদ্দিন মণ্ডলের তৃতীয় গল্পগ্রন্থে মোট ২৯টি রম্য গল্প মলাটবন্দি হয়েছে। এই বইয়ের গল্পগুলো ক্লান্তিহীনভাবে পড়ে শেষ করা যায় গল্পের বুনন ও ন্যারেশনের কারণে। কোনো কোনো গল্প সাধু ভাষায় রচিত হওয়াতে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে এবং মনে হয়েছে সাধু ভাষার জন্যই গল্পের বুনন মজবুত হয়েছে। কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেল, বাক্যগঠনে বিভিন্ন মাত্রা, ভাষার মাধুর্য ও সাবলীলতা এবং বিচিত্র শব্দ চয়নে গল্প নির্মাণে লেখকের অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও দরদ লক্ষ করা যায়। সুখপাঠ্য বইটি পাঠনন্দিত হোক এই প্রত্যাশা করি।
মোজাম্মেল হক নিয়োগী
কথাসাহিত্যিক।
AMLOMODHUR by Tafil Uddin Mondol
টুনটুনি ভূত – রফিকুজ্জামান রনি
– খাবার দিলেই ভালবাসা প্রকাশ পায় না রে বোকা। স্বাধীনতা বলে একটা বিষয় থাকে। বন্দিজীবন কে চায় বল?
কথা বলতে বলতে রাত প্রায় মধ্যপ্রহরে ঠেকলো। দুজনের কারও চোখে ঘুম নামলো না। মিতুর চোখে বারবার টুনিপাখির কথা বলার দৃশ্যটা ভেসে উঠলো। আবিরের বুকে জেগে উঠলো পাখিটি নিজের করে না পাওয়ার আক্ষেপ। রাত গড়াতে থাকে, ভাই-বোনের কথা শেষ হয় না। কথার ট্রেন চলছে তো চলছেই।
বিষয়টি নিয়ে দুজনের খুঁনসুটি চলছে। হঠাৎ শব্দ করে জানালার পাল্লা সরে গেলো। চমকে উঠলো তারা। এতরাতে কী হলো হঠাৎ? কিছু বুঝে উঠার আগেই টুনটুনি পাখিটি উড়ে এসে ঘরে ঢুকে পড়লো। মাথায় সেই আম! প্রথমে দুজনে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। গভীর রাতে এমন ঘটনায় ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক? পরমুহূর্তে আবার কেটে গেলো সে ভয়।
মিতু বললো, সেকি বন্ধু, তুমি! এখনও উপোস করে পড়ে আছো? ওটা খাওনি?
টুনটুনি বললো, এ আম তো আমার একার জিনিস নয় আপু। তুমি পেয়েছো, এটা যে তোমার। আমি জানি, আমটি পেয়ে ছোট-ভাইকে নিয়ে খাওয়ার জন্যে অনেক শখ করেছিলে তুমি। কিন্তু আমাকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিজের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছো। এবার তুমিই বলো, এটা কি আমি একা খেতে পারি?
– কিন্তু এটা তো তোমাকে খুশি হয়ে দিয়েছি। তাহলে খেতে দোষ কোথায়?
– সত্যি বলতে কী, আমি মোটেও ক্ষুধার্ত ছিলাম না। আমি তোমাকে পরীক্ষা করতে মিথ্যে অভিনয় করেছি মাত্র। বলতে পারো তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি।
– মানে?
– মানে হল, আমি আসলে টুনটুনি পাখি না। আমি একটা ভূত। টুনটুনির রূপ নিয়ে তোমাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছি। তুমি পরীক্ষায় পাস করেছো। আমটা চাওয়ার পর, যদি না দিতে, রাগের মাথায় তোমাকে হয়তো খুনই করে ফেলতাম। কিন্তু ক্ষুধার্ত জীবের প্রতি তোমার দরদ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নিজের মুখের খাবার অনাহারির মুখে তুলে দেওয়ার মতো বড় ব্যক্তি পৃথিবীতে আর কে হতে পারে?
Tuntuni Vut by Rafiquzzaman Roni
ব্যাকস্টেজ ইন দ্য সিন্ড্রেলা স্টোরি – ড. শাহাদাত হোসেন
নিঃসঙ্গতা বিশেষ করে প্রবাসী জীবনে ভারী বোঝার মতো একটি নীপিড়ক যন্ত্রণা, যা অনেককে প্রিয়জনের উষ্ণতার আকাঙ্ক্ষায় তীব্রভাবে আকুল করে তুলে। কিন্তু দূরত্ব এবং এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কঠোর বাস্তবতা তৃতীয় বিশ্বের অনেকের ক্ষেত্রেই এই আকুলতা অগ্রাহ্য হয়। গোবিন্দ প্রসাদ মাইনালি, প্রবাস-জীবনের একাকীত্ব আর জাপানের লোভনীয় জাকজমকের স্রোতে আটকা পড়ে, নেপালে ফেলে আসা প্রিয়-স্ত্রী রাধার কথা বিষ্মৃত হন। তিনি একাকীত্বের কষ্টে উষ্ণতা পেতে, ওয়াতানাবে নামের একজন জাপানি নারীকে বাহুতে টেনে নিলে রাধার প্রাপ্যতা প্রবাসী রোমাঞ্চের ঘূর্ণিতে পদদলিত হতে শুরু হয়। জাপানি সংস্কৃতিতে এটাকে নষ্টামী বলা উপায় না থাকলেও, মাইনালির ভাগ্যের মোড়কে অন্যভাবে কিছু লেখা হয়ে যায়। ওয়াতানাবে মর্মান্তিকভাবে খুন হন। মাইনালির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। সহস্রবার জিজ্ঞাসাবাদেও ওয়াতানাবে’র খুনের দায় মাইনালি অস্বীকার করেন। তাহলে প্রকৃত খুনি কে ছিলেন?
জাপানে কাছ-থেকে-দেখা ওয়াতানাবে’র এ হত্যার কাহিনিটির কথক চরিত্র, ডিএনএ-ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. রায়হানকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি দেশে ফেরার অব্যহতি-আগে খবর পান, দৃষ্টি নামের একটি যুবতী মেয়ে ধর্ষণ এবং নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতো-না করতেই চারদিকের অন্যায়-রূঢ়তা তার মস্তিষ্ককে কাফনের মতো স্তব্ধ করে দেয়। ইলা, নীলা এবং শিলা সদ্য ফিরে আসা ড. রায়হানের কাছে ছুটে যায়, ‘দৃষ্টির হত্যার পেছনের সত্যটি উন্মোচন করতে আপনাকে পাশে চাই। স্যার, আমাদেরকে আলোর পথ দেখান। তিনি সরাসরি সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরিবর্তে, ওয়াতানাবে’র হত্যাকান্ডের ক্লু অনুসন্ধানের কাহিনীটি ইলা, নীলা এবং শিলাকে তিনি শুনাতে থাকেন, বলেন, ‘আমি একজন একাডেমিশিয়ান। আমার আলোর পথ দেখানোর উপায় এটাই। ওয়াতানাবে’র কাহিনি শুনে তোমরাই সিদ্ধান্ত নিবে, দৃষ্টির ধর্ষক এবং হত্যাকারীকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব কিনা? ড. রায়হানের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই ওদের রিকশা একটি সিএনজি কর্তৃক ইচ্ছেকৃত দুর্ঘনার শিকার হয়। সিএনজি থেকে ইস্রাফিল, আবু জেহেল এবং নমরুদ খাঁ নামের তিন অদ্ভুত নামের-মানুষ বের হয়ে শাসিয়ে বলে ‘আপনারা যা করতে চাচ্ছেন তা না থামালে দৃষ্টির ভাগ্য বরণ করতে হবে। বাসায় ফিরলে রাতেই বাড়ীওয়ালা টেলিফোনে উচ্ছেদের হুমকি দেন, ‘আমার বাসা থেকে তোমরা চলে যাও! অঁজপাড়াগাঁয়ে কে খুন হলো, সেটা নিয়ে তোমরা ঢাকা শহরে উচ্ছৃঙ্খল নাচানাচি শুরু করছো, বিচার চাই! অপমানের এই ক্লেদোক্তি শুনে ইলা, নীলা এবং শিলার মধ্যে ঝাঁঝালো আগুন জ্বলে উঠে, ‘আমরা নৈতিকভাবে ভালো মানুষের সাথে বিতর্ক করতে আপত্তি করি না! কিন্তু শূকর আর হায়েনার সাথে কাদায় গড়াগড়ি দিতে খুবই অপছন্দ করি! আমরা এই বাসা ছাড়বো! একটি প্রাণবন্ত নির্দয়তার প্রতিকৃতিতে আঁকা ওয়াতানাবে’র গল্পটি, একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, ইলা, নীলা এবং শিলার মধ্যে বিপ্লব আর চিন্তার একটি শিখা প্রজ্বলিত করে দিয়েছিল। চিন্তার সেই শিখা নিয়েই, এই ‘ব্যাক স্টেজ ইন দা সিন্ড্রেলা স্টোরি’ গল্পটি।
Backstage in the Cinderella Story by D. Shahadat Hossain
নাই সন্তানের জননী – তমসা অরণ্য
তমসা অরণ্য নামের ভেতরে যেন খুব ক্রূর, বিকারগ্রস্ত, নিকষকালো অন্ধকার এক বনাঞ্চলের বাস। সেখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটা প্রাণী প্রতিনিয়ত কামড়াকামড়ি করছে আর অন্ধকার বনাঞ্চল নিজে সেই কামড়াকামড়ি উপভোগ করছে। আমাদের সমাজও এ দশার ব্যতিক্রম নয়; এখানে ব্যক্তি নানান সমস্যায় জেরবার আর সমাজ সেই টানাপোড়েন দেখে যাচ্ছে নির্বিকারে। অবশ্য লেখক এ বইয়ে তাঁর গল্পগুলোয় সমাজ ও ব্যক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে এক ধরনের চিৎকার কিংবা ধিক্কার, বদল কিংবা কোন্দল তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছেন।
জীবন, মানুষ ও সমাজকে দেখার ব্যাপারে লেখকের নিজস্ব দর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গল্পগুলোয়। দক্ষ শিল্পীর হাতের সামান্য কাজও যেমন ফেলনা হয় না, তেমনি পরিশ্রমী ও নিবেদিত লেখকের লেখা বরাবরই পাঠককে সমৃদ্ধ করে। তাই একজন কবি যখন গল্পের জাদু ছড়িয়ে দেন, আমরা পাঠকেরা সেই জাদু দেখে মুগ্ধ হই। শেষ পৃষ্ঠায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে জাদু লেগে থাকে আমাদের চোখে, আঙ্গুলে। যেহেতু তমসা অরণ্যের লেখার নিজস্ব একটা ধরণ আছে, আশা করা যায় তিনি সেখানে টাইপড না হয়ে বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন। এখন দেখার বিষয়- এ বইয়ে লেখকের চিন্তার গভীরতা, দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং প্রাসঙ্গিক মেটাফোর পাঠককে কতটা নাড়া দিতে পারে।
Nai Santaner Janani - Tomosha Aronny






















