জাহালম গাছির গন্তব্য – দিলারা মেসবাহ
একটা জাদুকরি কলম কিংবা ছোটোগল্পের জাদুর বাক্স আছে তাঁর- সেখান থেকে তিনি বের করেন একটার পর একটা গল্প। কুশলী কথাশিল্পী হিসেবে দিলারা মেসবাহ তার গল্পগুলোয় জীবনের খণ্ড খণ্ড আখ্যানের ভেতর দিয়ে সমগ্রতার যে সন্ধান কিংবা গন্তব্যের অভিপ্রায় নির্মাণ করছেন, শেষপর্যন্ত সেটাই হয়ে ওঠে মানুষের মানচিত্র- যার অপর নাম অবাক করা এক গল্পভুবন।
দিলারা মেসবাহ আমাদের কথাশিল্পের আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছেন বাতিঘরের মতোন। এখন সময় হয়েছে অনিবার্য। আশা করছি অনালোচনা অনাবিষ্কারের ঘেরাটোপ থেকে তাঁর অনুরাগী লেখক-পাঠকরা নিশ্চয়ই তাঁকে তুলে ধরবেন। তিনি হবেন সৃষ্টিগুণে মূল্যায়িত। তাঁর জন্য অপার শুভ কামনা।
Jahalam Gachir Gantobya - Dilara Mesbah
চরকেদেরখোলা – আমির হোসেন
নদীর কূলেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতার ঐশ্বর্য। আবার নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা ও ঐশ্বর্য ধ্বংসও হয়েছে নদীর বুকেই। নদীর রয়েছে এক অদ্ভুত রহস্যময়ী রূপ। নদী মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা যেমন, তেমনি ধ্বংসের রাহুগ্রাসীর মতো ভয়ংকরও। নদীভিত্তিক উপন্যাস ‘চরকেদেরখোলা’য় মেঘনা নদী-তীরবর্তী ভাঙনকবলিত জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। সেই দেশভাগের পূর্ব থেকে মেঘনার তীরবর্তী গ্রামের মানুষ এবং তার পরিবেশ-প্রতিবেশ, কৃষি ও মৎস নির্ভর জীবন-জীবিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। রাক্ষসী মেঘনার ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে যাওয়া আবার নতুন চর জেগে ওঠা এবং সেই চর দখলের লড়াইসহ অসহায় নিঃস্ব মানুষদের দেশান্তর, ভয়াবহ বন্যা-খরা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালো থাবায় বিপর্যস্ততা, কলকাতাতে ইংরেজ শোষক এবং ব্রাহ্মণ বাবুদের শাসন-শোষণ ও যৌন নির্যাতনের কুৎসিত-বিভৎসতা, আসমে দেশান্তরী হওয়া মানুষের খাদ্যাভাব ও ম্যালেরিয়াসহ বন্য হিংস্র জীব-জন্তুর আক্রমণে বেঘোরে জীবন দেওয়ার সকরুণ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে। তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া মুক্তিসংগ্রামের ভয়াবহতা, দেশীয় রাজাকারদের লুটতরাজ, নির্যাতনের কথা।
উপন্যাসটির পরতে পরতে বর্ণিত হয়েছে অসংখ্য লোকজ কাহিনী-আচার, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, পশ্চাদপদতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা চরের প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের অস্তিত্বের লড়াই, সেই সাথে শোসক ও শোষিতের নিরন্তর কাহিনী চিত্র। বর্ণিত হয়েছে প্রেম-ভালোবাসাসহ মানুষের চিরন্তন স্বপ্ন ও সম্পর্ক, স্বপ্ন ও সম্পর্ক ভঙ্গ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার নিদারুন হাহাকার এবং যাপিত জীবনে ঘটে যাওয়া শত দুঃখ-কষ্টের এলিজিও।
Charkederkhola - Amir Hossain
ফেসবুক রঙ্গ রসিকতা – গ্রন্থনা ও সম্পাদনা শফিক হাসান
ফেসবুক কি সময় নষ্ট করায়, দিয়ে যায় ক্লান্তি-হতাশা?
না; ফেসবুকের প্রাপ্তিও কম নয়। ইতিবাচক ব্যবহার করা গেলে। বিনোদনের দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাঙালি জন্ম থেকে রসিক। কথাবার্তা থেকে যাপিত জীবনের কাজ-কর্মে রসবোধের পরিচয় মেলে। ফেসবুকও হয়ে উঠছে রসাধার।
কেউ কেউ স্ট্যাটাসে এমন সব কথা লেখেন। হা হা হা কিংবা খিলখিল করে হেসে উঠতে হয়। চেপে রাখার সুযোগ নেই। বাছাইকৃত মজাদার ও রসাত্মক ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বইটি। খ্যাতিমান মানুষ থেকে সাধারণের মধ্যে যে রসবোধ প্রখর, প্রমাণ মিলবে এতে।
পাঠককে নিষ্কলুষ হাসি উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টায় মেতেছেন শফিক হাসান। উদ্যোগ সার্থক নাকি অন্যকিছু সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে বইয়ের পাতায় পাতায়।
Facebook Rongo Rosikota - Collection & edited by Shafique Hasan
মায়াবী ট্রেন – মৃন্ময় মনির
ভ্রমণ অনির্দিষ্ট। জন্ম থেকেই তার শুরু। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত একশো বছরের ভেতরেই তা ঘোরাফেরা করে! বেড়ানোর জন্য অনেক যন্ত্রযান রয়েছে কিন্তু ট্রেনের মতো এমন মায়াবী ভ্রমণ আপনি কোথাও পাবেন না! অবশ্য আপনি বসে থাকলেও আপনার পথচলা একদিন শেষ হবেই, প্রাণীর জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ এখনো খোলা নেই।
Mayabi Train - Mrinmay Monir
রাঙাপ্রভাত – পিন্টু রহমান
মানুষের ইতিহাস
মূলত স্বপ্ন আর সংঘর্ষের যুগলবন্দিতে রচিত হয় ইতিহাস।ইতিহাসের পথ ধরে প্রাগৈতিহাসিক অরণ্য থেকে আধুনিক নগরঅব্দি জীবন ও যুদ্ধ সমান্তরাল রেখায় পথ হেঁটেছে। মানুষ তথাপি বৃত্তাবদ্ধ থাকেনি; স্বপ্ন দেখেছে, স্বপ্ন বুনেছে, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে কাল থেকে কালান্তরের পথে অভিযাত্রী হয়েছে। হোঁচট, ভাঙন, মোহভঙ্গ— সবকিছু পেরিয়ে মানুষ আবার দাঁড়িয়েছে নতুন এক ভোরের প্রত্যাশায়। আর সেই প্রত্যাশার গর্ভেই জন্ম নিয়েছে অনিবার্য লড়াই। সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর কিংবা চব্বিশেরগণঅভ্যুত্থান এক-একটি রক্তাক্ত অধ্যায়, যেখানে কাঁচা রক্তরেখায় আঁকা হয়েছে জীবনের ক্যানভাস। ব্যক্তিগত বেদনা ও সামষ্টিক আর্তনাদ মিলেমিশে তৈরি করেছে সময়ের ভাষ্য। হংসমিথুনের মতো ভেসে বেড়ানো অবচেতন মন কখনো প্রেমে, কখনো প্রতিবাদে, কখনো নিঃসঙ্গতায় আশ্রয় খুঁজেছে। ঘোর অমানিশা যত গভীরই হোক মানুষ জানে অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। তাই আশা-আকাঙ্ক্ষার সম্মিলনে লেখা হয় জীবনমুখী গল্প। এখানে যুদ্ধ আছে, ক্ষত আছে, পরাজয় আছে; আবার আছে প্রতিরোধ, ভালোবাসা ও নতুন সকালের স্বপ্ন। “রাঙাপ্রভাত” তাই কেবল একটি ভোর নয়, এটি মানুষের অবিনাশী আশার নামাবলি।
পিন্টু রহমান
কথাসাহিত্যিক
Rangaprovat - Pintu Rahman
হারানো দিনের প্রেম-অপ্রেমের গল্প – সাইদ হাসান দারা
তখন আমি স্মৃতিবিধুরতার কাছে পরাজয় বরণ করে প্রথমবারের মতো সাহস করে আমার অবাস্তব প্রেমের অলীক দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে লাগলাম। ফলে সর্বপ্রথমে আমার মনে পড়ে গেল, ছেলেবেলার বুড়ি আপার কথা। অতঃপর বেঁচে থাকার স্বার্থে আমি একদিন সকলের অমতে তাকেই দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করে ফেললাম।
তারপর ধীরে ধীরে বুঝতে সক্ষম হলাম, ভালোবাসা সম্পর্কে পূর্বে-যতোটা ভেবেছিলাম, সে-আসলে তারচেয়ে আরও অনেক বেশি কিছু পেয়ে চায় এবং সে নিজেকে ছাড়া কিছুই দেয় না পক্ষান্তরে অন্যের থেকে কিছুই গ্রহণ করে না-ভালোবাসার গল্প।
মানব-মানবীর জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা প্রেম-সংক্রান্ত ঘটনাবলি বা তার আখ্যান-উপাখ্যান যে কত ভিন্ন প্রকারের এবং ভিন্নধর্মী হতে পারে। আমার বিশ্বাস-ভালোবাসার তত্ত্ব অনুসন্ধানী পাঠক এবং প্রেম-সংক্রান্ত গবেষকগণ এই ‘হারানো দিনের প্রেম-অপ্রেমের গল্প’ গ্রন্থে তার সন্ধান অবশ্যই পাবেন।
Harano Diner Prem-Apremer Golpo - Sayeed Hasan Dara
কিশোর থ্রিলারভেঞ্চার : টনিমামার অ্যাডভেঞ্চার – ইউনুস আহমেদ
আমাদের টনিমামা! হাল আমলে বিশাল এক সেলিব্রেটি। আমাদের মাঝে, মানে তার ডজনখানেক ভাগনে-ভাগনিদের মাঝে। তো সেই টনিমামা বাসায়। বেড়াতে এলে তার ফ্যানদের এক মেলা বসে যায়।
মজার সব কাণ্ড ঘটে। টনিমামা বলে কথা! টনিমামার একটা ফ্যান ক্লাব আছে। ফ্যান ক্লাবটা করার পেছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান আমার বন্ধু রাহানের। মামাকে একদিন দেখেই রাহান ঝাঁক্কাস রকমের মুগ্ধ হয়ে গেলো। যাকে বলে লা-জওয়াব। একটা কমিজে বই নিতে বাসায় এসেছিলো রাহান কমিজ্ঞে পোকা! সেই কমিজে পোকা আমাকে ডেকে বললো, রাতুল, তোর টনিমামা বেশ মজার লোক। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। রাহান এই একই কথা আরও কয়েক বন্ধুর কাছে ফাঁস করে দিলো। তো সেই টনিমামাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। বন্ধুরা, প্রায়ই আমরা আমরা অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে তোমরাও তবে চলো…
কিশোরদের উপযোগী এরকম আটটি অ্যাডভেঞ্চার গল্প নিয়ে ইউনুস আহমেদের থ্রিলারভেঞ্চার গল্প সংকলন-‘টনিমামার অ্যাডভেঞ্চার’।
Kishore Thrillerventure : Tonimamar Adventure - Younus Ahmed
টাইম মেশিন – শাপলা সপর্যিতা
প্রতিরাতে ঘুমাতে যাবার সময় মায়ের কাছে রাজকন্যা রাজপুত্র আর দেওদৈত্যর কিসসা কাহিনী শুনতো না মেয়েটি। শুনতো মায়ের ছোটবেলার প্রকৃতিঘেঁষা স্মৃতিময় সব সত্য গল্পগুলো। এসব শুনতে শুনতে ঢাকা নামক ইট কাঠ কংক্রিটের শহরে বড় হয়ে ওঠা অথচ প্রকৃতির সঙ্গলিদায় বিভোর এক বাংলাদেশী কিশোরীর পৃথিবীবিখ্যাত গবেষক হয়ে উঠার গল্পের শুরু। সে মেতে উঠে টাইম মেশিন আবিষ্কারের নেশায়। টাইম মেশিনে চড়ে যাবে মায়ের ছোটবেলায়, ভোরের হালকা আলো ফুটতে না ফুটতেই ছুটে যাবে শেফালিতলায়, পেয়ারা বাগানের অন্ধকারে বাঁদূরঝোলা দেখবে, পাহাড় জঙ্গলে খুঁজবে সবুজ পেয়ারা, ধানক্ষেতের আইলে দেখবে সাদা বকের অলস দাঁড়িয়ে থাকা। ভরা বর্ষায় পুকুর উপচে ওঠা পানিতে ভরে গেলে ঘাসের মাঠ থেকে ছোটমাছ ধরবে নিজের হাতে-এই তার স্বপ্ন। সময় বয়ে যায়। বিয়ে সংসার করা হয় না। জীবনের মাঝবেলাতে এসে বিপুল পরিশ্রম আর গভীর মায়ায় তৈরি করতে পারে টাইম মেশিন। তাতে চড়েও বসে। টাইম মেশিনে সফল ভ্রমণের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় এই বাংলাদেশী নারী। কিন্তু ২০৩৭ সাল থেকে ভ্রমণ করে ২০০৭ সালের পর আর পিছে যেতে পারে না টাইম মেশিন? কেন যেতে পারে না? ঐখানেই যে পড়ে আছে মায়ের। প্রকৃতি ঘেঁষা অতীত। যা ছুঁয়ে দেখবে বলেই টাইম মেশিনের আবিষ্কার। আসলে কি সে যেতে পেরেছিল মায়ের ছোটবেলাটাতে? পেয়েছিলো কি সেই বিপুল রহস্যময় সুন্দর প্রকৃতির সঙ্গ? যুগান্তকারী আবিষ্কারের পিছনে মানুষের প্রকৃতিলগ্ন হবার যে একাগ্র ও নিবিড় ধ্যান তারই গল্প নিয়ে ‘টাইম মেশিন’।
Time Machine - Shapla Shawparjita
গুপ্তহত্যা… অতঃপর – শাপলা সপর্যিতা
কোনো কোনো মাঝরাতে কেন খালার পোষা কুকুর বব অস্থিরভাবে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। পোশা ময়নাটাও তখন অস্থির। কিন্তু কেন? শত বছরের পুরানা বাড়িটি ফেলে ভারতে চলে যাবার সময় হিন্দু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন রাশেদের খালু। বাড়ির সামনে খোলা লন। তারপর বিশাল প্রশস্ত সিঁড়ি পার হয়ে উঠেই টানা বারান্দা। বারান্দায় চওড়া পিলারগুলো যে রাশেদ কোনোদিন দুহাত ধরে এগুলোর বেড় পেত না। বাড়ির উপরে সিংহ মূর্তিটি খালু ভেঙে ফেলে সেখানে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন। বাড়ির সদরদরজা পার হয়ে সামনে আগানোর পথে প্রতি বিকালে অনেক অনেক পায়রা আসে। খালা ওদের খাবার দেন। খুঁটে খায়। রাত হতে হতে ওরা আবার নিজেদের বাসায় চলে যায়। কিন্তু পায়রাগুলো আসলে কারা? ওরা কি পাহারা দেয় এ বাড়িতে? দুটি পায়রা কেন সদর দরজার বাইরে থেকে গুলি করে মারা হলো? খালা পায়রাগুলোকে নিতে দিলেন না। তারপরই কী কী অঘটন ঘটতে শুরু করল বাড়িটিতে? সামনে খোলা পথে একটা বড়ো লম্বা তালগাছ। তার ওপর থেকে মাঝরাতে কেউ একজন নেমে আসেন। খালার সাথে কি গোপন কথা তার? কি গোপন শলাপরামর্শ করেন খালা ওর সাথে? কে বা কারা কাজের ছেলে রহিমের ওপর চড়াও হয় রাতের বেলা! মধ্যরাতে ঘরের ভিতর মেরে ওর হাড়-মাংস একাকার করে ফেলে। হঠাৎ কেন বাড়ির সব আলো অন্ধকার হয়ে যায়! বাড়ির বড়ো ছেলে ফাইয়াদকে কেন কাজের ছেলে রহিম পিছনের পুকুরে ফেলে বুকের উপর উঠে বসে পানিতে ডুবিয়ে মারতে চায়? রহিমের গায়ে এমন বোটকা গন্ধ কীসের? রহিমের গলায় এ কার অচেনা স্বর? তবে কি কোনো অতৃপ্ত আত্মা রহিমের উপর চড়াও হয়ে বসেছে? এই বাড়ির মানুষের উপর ওদের কেন এত রাগ? ওরা কারা? কুলকিনারা কি করা যাবে এ রহস্যের!
Gupto Hotya... Otohpar - Shapla Shawparjita
গল্পগুলি পুচ্চিদের – মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান বহুমাত্রিক প্রতিভার নিরবচ্ছিন্ন কুশিলব। সাহিত্য গবেষণা ও বিশ্লেষণসহ মৌলিক সৃষ্টিকর্মে তাঁর ভূমিকা অনবদ্য। কবিতার পথে তাঁকে দেখা গেলেও গদ্য তাঁর প্রধান ক্ষেত্র। সবকিছুর পাশাপাশি ফরিদ ছোটদের গল্পও লেখেন, যা দেখে অভিভূত হতে হয়। চমৎকার গদ্যে একেবারে শিশু পাঠকের জন্য তার গল্প নির্মাণকৌশল অতুলনীয়। তার ছাপ দেখতে পাচ্ছি ১২টি গল্প নিয়ে ফরিদের ‘গল্পগুলি পুচ্চিদের’শিশুতোষ গল্পগ্রন্থে। ছোট পরসরে, ছোট-ছোট কোমল সহজ বাক্যবন্ধনে রচিত এই গ্রন্থের প্রতিটি গল্পই স্বতন্ত্র চমক।
একদম শিশুদের নিয়ে, তাদের জন্য সুখপাঠ্য ১২টি গল্প, বিচিত্র বিষয়সমৃদ্ধ ‘গল্পগুলি পুচ্চিদের’। গল্পে এসেছে একদম শৈশবের চঞ্চলতা, স্কুল ও ক্লাসরুম খুনসুটি, বন্ধুদের ছোট-ছোট দ্বন্দ্ব ও রেষারেষি, পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্ক আর ভৌতিক, জাদু বা স্বপ্নের বিষয়াবলি। ছোটদের জন্য চিরাচরিত গল্পে প্রবেশের আকর্ষণ ধরে রাখার মশলাপাতিও আছে গল্পগুলোতে।
প্রথম গল্প ‘জাদুর বাংলা বই’, ‘রাশেদ ও নীল ভূত’, ‘পার্থ রহস্য’-সহ প্রতিটি গল্পই হালকা রহস্য, একটু একটু চমক আর গল্পের উপাদানে হয়ে উঠেছে ছোটদের প্রকৃত খাঁটি সাহিত্য- যাকে আমরা বলি শিশুসাহিত্য।
প্রকৃত শিশুতোষ গদ্যের এখন আকাল চলছে আমাদের সাহিত্যে। এরকম সময় মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের শিশুতোষ এই গল্পগ্রন্থটি মেঘে ঢাকা আকাশে একটুকরো আলোক। শুধু শিশু-কিশোর নয় এই বইটি তাদেরও পড়া উচিত যারা শিশুর জন্য নিখাঁদ একটি সাহিত্য ডোমেন-এর স্বপ্ন দেখেন।
অভিনন্দন মুহম্মদ ফরিদ হাসানকে। সেই সঙ্গে প্রকাশককেও।
-ফারুক হোসেন
শিশসাহিত্যিক ও ছড়াকার
Golpoguli Puchchider - Muhammad Farid Hasan
শাড়ি ও অন্যান্য গল্প – আমিনুল ইসলাম সেলিম
জীবন হয়তো এক অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষারই নাম। হয়তো বায়োস্কোপ-দৃশ্যের মতোই রঙিন অথচ ক্ষণস্থায়ী, স্বপ্নীল অথচ আশাভঙ্গুর। তবু মরীচিকার মতো রহস্যময় জীবনের পেছনে মানুষ ছুটে বেড়ায় ক্লান্তিভোলা পথিকের মতো। হাঁটতে হাঁটতে কখনো ঠিক পথে যায়, কখনোবা পথেই পথ হারায়। এভাবে নানা বাঁক ও বক্রতা পেরিয়ে বারবার জীবনের কাছে পৌঁছাতে হয়। গোলাপের মতো দেখতে সুন্দর জীবন কখনো কখনো এতো কদাকার দেখায় যে, তখন চমকে উঠতে হয়। দেখা যায় যে, ওটা আসলে গোলাপ নয়, গোলাপের আকৃতি।
কিংবা মানুষ যেভাবে ভাবতে চায় না, যেভাবে দেখতে চায় না নিজের জীবনছবি, সেভাবেই তাকে দেখতে হয়, সে জীবনই তাকে বেছে নিতে হয়। জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত কোণে দাঁড়িয়ে অবলোকন করতে হয় নিজেরই প্রতিকৃতি। এ কি জীবনের অনিবার্যতা, নাকি পরাজয়? এ কি স্বপ্নভঙ্গ, নাকি দুঃস্বপ্নের ঘোরটোপ?
যাপিত জীবনে বহুমুখি প্রশ্নের গোলকধাঁধায় ক্লান্ত হয় কোনো কোনো মানুষের জীবন। কখনোবা ক্লান্তিহীনতাও পায় নবপ্রাণ।
এ রকম নানামুখি জীবনের গল্প নিয়ে আমিনুল ইসলাম সেলিম প্রথমবার হাজির হয়েছেন পাঠকের সামনে।
Shari O Anyanya Golpo - Aminul Islam Selim
যেতে চাও যাও – রওশন রুবী
‘যেতে চাও যাও’- ভালোবাসা, জীবনসংগ্রাম এবং মানুষের অন্তরযাত্রা নিয়ে রচিত এক শক্তিশালী উপন্যাস। এহসানুল হক একজন নীতিবান, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তার ভেতরে আছে সততা, সহমর্মিতা ও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সহজাত মন।
জীবনের পথে তিনি দেখেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের বহুমুখী রূপ। তবু তিনি নিজের নৈতিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি।
এক সময় গভীর ব্যক্তিগত ক্ষত তাকে ভেঙে দেয়, কিন্তু সে ভাঙন থেকেই এহসানুল নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। হারানোর বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করেন; জীবনজয়ের আকাঙ্ক্ষা তাকে উদ্দীপ্ত করে, আর ব্যর্থতা তাকে পথ দেখায়। তার কাছে ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়- এটি শেখার জায়গা, আত্মদর্শনের আয়না এবং জীবনকে পুনর্গঠনের আলোকশিখা।
উপন্যাসটি এগোয় সম্পর্ক, নৈতিকতা ও মানবজীবনের অন্তর্গত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। সময়ের পরিবর্তন, পারিবারিক দায়- সবকিছুর মাঝেও এহসানুল অবিচল থাকেন নিজের পথ ও নীতিতে। মানুষের জন্য কাজ করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং চরিত্রের দৃঢ়তা- এসবই হয়ে ওঠে তার জীবনের আসল ভিত্তি। যেমন মানুষ ভাঙে না- নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য আবার জন্ম নেয় নিজের কাজে। এহসানুল হকও তেমনি একজন।
‘যেতে চাও যাও’ শুধুই প্রেমের গল্প নয়; এটি এক মানুষের গড়ে ওঠার গল্প। অতীতের অভিজ্ঞতা কীভাবে বর্তমানকে বদলে দেয় এবং একজন মানুষ কীভাবে নিজের ভেতর আলো খুঁজে পায়- উপন্যাসটি সেই রূপান্তরযাত্রার মর্মস্পর্শী বর্ণনা।
Jete Chaw Jaw - Rowshon Rube























