বিচিকলা(র) বজারজাতকরণ পদ্ধতি – রোমেল রহমান
কল্পবাস্তব এক দুনিয়ার কেচ্ছাকাহিনি ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’! বিচিত্র মেটাফোর আর মুক্তির আদিম আকাক্সক্ষা হাত-ধরাধরি করে পাঠককে তার চেনা দুনিয়া থেকে মনের গহিনে জিয়িয়ে রাখা আরেক দুনিয়ার রাস্তায় নিয়ে ছেড়ে দেয়; সেখান থেকে তাকে হয়তো আবার টেনে তোলে কিংবা তোলে না! উদোম সংলাপ আর রাডারের নিচে থাকা বৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচতে মাথায় পলিথিন ব্যাগ পড়া মানুষদের সংস্কৃতি- গল্পগুলোর দাঁত নখ চোখ হয়ে ওঠে। যারা পুনরাবৃত্তিময় একঘেঁয়ে বেঁচে থাকার বাজারে খ্যামটা নেচে উবে গেছে ভিড়ের ভিত্রে, মুখের মধ্যে মুখ মিলিয়ে। রাজা শুধু জলপাই কাঠে খাকি রং করা সিংহাসনে বসে নিজেকে বাঁচাতে মানুষ শিকার করতে করতে জীর্ণ হয়েছে দিনের বিচারে।
জন্মান্ধ মনের সুষম পুষ্টির জন্য ‘বিচিকলা(র) বাজারজাতকরণ পদ্ধতি’ উপাদেয়।
Bichikalar Bazarjatkaron Poddhoti - Romel Rahman
কাজুবাদামের কৌশল : রিলকের নির্বাচিত কবিতা – রায়হান শরীফ
‘শূন্য মাঠগুলো ঘুমিয়ে আছে
শুধু জেগে থাকে একা আমার হৃদয়!’
‘কেন্দ্রের ভেতরেও কেন্দ্র থাকে,
শাঁসের ভেতরে শাঁস;
দেখো কাজুবাদামের কৌশল :
নিজের গভীরে ডুবে থাকে;
ক্রমে বাড়ে সুমিষ্টতায়!’
‘বিচ্ছিন্ন থাকা, একা থাকা যেন বৃষ্টির মতো
সমুদ্রের বুক থেকে উঠে এসে সন্ধ্যার দিকে যায়।’
Kajubadamer Koushal : Rilker Nirbachito Kobita - Raihan Sharif
অনুপ্রাণন পঞ্চদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা – বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত
সম্পাদকীয় – অনুপ্রাণন পঞ্চদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা- বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত
মানবসমাজে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রধান আটটি কারণ হলো অর্থনৈতিক লাভ, ভূখণ্ডগত লাভ, ধর্ম, জাতীয়তাবাদ, প্রতিশোধ, গৃহযুদ্ধ, বিপ্লবী যুদ্ধ ও আত্মরক্ষামূলক বা প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ। অষ্টম শতাব্দীতে ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক লাভ বৃদ্ধির লোভে বাংলার ভূখণ্ড করায়ত্ত করে। ২০০ বছরের অবৈধ ও অনৈতিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। এসব সংঘাতের পেছনে কারণ ছিল আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ। মধ্য ও আধুনিক যুগের বাংলা শিল্প-সাহিত্যে পলাশীর যুদ্ধ ও পরবর্তী প্রতিরোধের কাহিনী পাওয়া যায়। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের হাত থেকে বাংলার মুক্তির পথ ছিল কণ্টকপূর্ণ ও রক্তাক্ত। কায়েমি স্বার্থবাদীরা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলে বাংলার আকাশ ধোঁয়া আর অন্ধকারে ঢেকে দেয়। মানুষের দৃষ্টির স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়। বাংলার হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তিমূল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ফলে ভয়াবহ রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারপ্রসূত সীমানা নির্ধারণ পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হয়ে যায়। ’৪৭-এর দেশভাগের ফলে বর্তমান বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, ঔপনিবেশিক কায়দায় অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে। বাংলার মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত আসে। মুক্তবুদ্ধির চর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় অধিকারের লড়াই ছিল না। এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ভৌগোলিক কাঠামোতে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির ভিত্তি ও আত্মপরিচয় গঠনের শুদ্ধ চেতনার উন্মেষ ঘটে। যার মূল সুর ছিল সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করে মানবিকতা-সমৃদ্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশ। বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। বাংলার মানুষের মাতৃভাষার জন্য লড়াই ও আত্মদানের ন্যায্যতা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় এখন। অথচ তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের শাসক ব্যক্তিদের নির্দেশে মাতৃভাষার অধিকার চেয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়। শহীদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়। তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের শাসক গোষ্ঠী ভাষার অধিকার মেনে নিলেও নানা অজুহাতে বাঙালির সাংস্কৃতিক বিকাশ ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করে চলে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপর রাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঊনসত্তরে ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন গুলি চলে ও কয়েকজন ছাত্রনেতা শহীদ হন তখন তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। পরবর্তীকালে দেশে নির্বাচন হয়ে বাঙালি রাজনৈতিক নেতারা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু রাষ্ট্রের শাসনভার বাঙালি নেতাদের হাতে ছেড়ে দিতে গড়িমসি করলে একাত্তরের মার্চে বাংলার জনগণ ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই অসহযোগ আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে লুট, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা শুরু করে। বাঙালি মহান প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেয়। বাঙালির সামনে বাংলা ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দেশ ও জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। কিন্তু স্বাধীন দেশে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী শক্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবার সামরিক বাহিনীর একটি দলের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হন। পরবর্তী সময়ে দেশে ১৫ বছর সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের দ্বারা স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী গোষ্ঠী স্থায়ী শক্তি অর্জন করে। নব্বইয়ের তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে সামরিক আমলার শাসনের হাত থেকে দেশ মুক্তি পায় এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। কিন্তু নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে অনৈক্যের কারণে দেশে সংঘাত পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কয়েকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পায়। এক/এগারোর সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচন হয় কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একাংশের ধারাবাহিক প্রতিবাদ রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তি বিঘ্নিত হতে থাকে। ২০১৩ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তীব্র গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ ও সেই মঞ্চের বিপরীতে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিশাল সহিংস সমাবেশ গড়ে তোলে। ফলে দেশে রাজনৈতিক বিভক্তি রেখা আরও গভীর হয়। এই বিভক্তি রেখা ধরে ২০২৪-এ ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন ও সামরিক বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে সরকার পরিবর্তন হয়। যার মধ্য দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক ও পুঁজিবাদী শক্তি আরও একদফা শক্তি বৃদ্ধি করার সুযোগ গ্রহণ করে।
বাংলাদেশের মানুষ দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুগের পর যুগ ধারাবাহিক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। এসব যুদ্ধ ও সংঘাতের ঘটনায় অবিরাম রক্ত ঝরেছে। মানুষের জীবন তছনছ হয়েছে। কিন্তু বাঙালি কখনো পিছপা হয়নি। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, যুদ্ধ, সংগ্রাম ও আত্মদানের প্রকৃত সাক্ষী। ইতিহাসের সত্য বয়ান।
Quarterly Anupranan Year- 15 Issue- 2 : War and Conflict in Art, Leterature and Movies of Bangladesh.
সিঙ্গেল মাদার – সম্পাদনা : কাজী লাবণ্য
‘সিঙ্গেল মাদার’ গল্প সংকলনের একেকটি গল্প যেন একেকটি অসমাপ্ত জীবনের সম্পূর্ণ অধ্যায়। এখানে উল্লিখিত নারীদের নামের আগে সমাজ আরোপিত ‘সিঙ্গেল’ শব্দটি বসে গেলেও তাদের শক্তি, সংগ্রাম আর ভালোবাসা কোনোদিনই ‘সিঙ্গেল’ হয়ে থাকে না। এই মায়েরা ভঙ্গুর স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন ভোরের জন্ম দেন; সমাজের প্রশ্ন, তিরস্কার, অবহেলা পেরিয়ে সন্তানের জন্য হয়ে ওঠেন আশ্রয়, আকাশ, পৃথিবী। আর তাদের সন্তানেরা তাদের চোখে খুঁজে পায় সাহসের নির্মল সংজ্ঞা। সংকলনে সমকালীন গল্পকারদের কলমে উঠে এসেছে মায়েদের জীবনের নানা রং, অভাব, অপমান, লড়াই। আবার এসবের মধ্যেও চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে অদ্ভুত এক আলো। গল্পপাঠ করতে করতে তাই কখনও কখনও চোখ ভিজে উঠবে। কখনও-বা মনে হবে, এই গল্প তো আমার চেনা, জানা। ‘সিঙ্গেল মাদার’ এখানে মায়েদের জন্য বিশেষ কোনো পরিচয় বা সংকোচের নাম নয় বরং এ এক গর্বিত উচ্চারণ যা ভালোবাসার, দায়িত্বের এবং অদম্য বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। এক কথায় বলা যায়- এই বই শুধু গল্পের সাজি নয়, এটি নিঃশব্দ বিপ্লবের দলিল।
SIngle Mother - Edited by Kazi Labonno
অনুপ্রাণন পঞ্চদশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা – সাম্প্রতিকের গল্প ও গল্পকার সংখ্যা (চতুর্থ পর্ব)
সম্পাদকীয়- অনুপ্রাণন ত্রৈমাসিক, পঞ্চদশ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা : সাম্প্রতিকের গল্প ও গল্পকার সংখ্যা (চতুর্থ পর্ব)
অনুপ্রাণন নির্বাচিত সাম্প্রতিক কালের ১০০ গল্পকারকে নিয়ে চতুর্দশ/পঞ্চদশ বর্ষের বিশেষ আয়োজনের পারম্পরিক ধারাবাহিকতার চতুর্থ পর্বে এসে আরও ২৫ জন গল্পকারকে নিয়ে প্রকাশিত হলো সাম্প্রতিকের (জন্ম : ১৯৬০ থেকে ১৯৮৫) গল্প ও গল্পকার সংখ্যা, চতুর্থ পর্ব। সাম্প্রতিকের গল্প ও গল্পকার সংখ্যার ১ম, ২য় ও ৩য় পর্বের মতো এই পর্ব অর্থাৎ চতুর্থ পর্বে ২৫ জন গল্পকারের তথ্য ও সাহিত্য আলোচনা প্রকাশের মাধ্যমে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন নির্বাচিত ১০০ গল্পকারকে নিয়ে তথ্য ও আলোচনাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ প্রকাশের কাজ সম্পন্ন হলো।
সাম্প্রতিকের ১০০ নির্বাচিত গল্পকারদের রচিত গল্প নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে যে একবিংশ শতাব্দীতে এসে সাম্প্রতিকের গল্পকারদের অনেকেই বেশ কিছু নিরীক্ষাধর্মী গল্প লিখছেন। নিরীক্ষাধর্মী অথবা পরীক্ষামূলক গল্প বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমেই বলা যেতে পারে, পরীক্ষামূলক ছোটগল্প হলো একটি অনন্য সাহিত্যিক রূপ যা ঐতিহ্যবাহী গল্প বলার কাঠামো থেকে আলাদা, প্রায়শই অরৈখিক প্লট এবং অপ্রচলিত আখ্যান কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রচলিত ছোটগল্প নির্মাণ কৌশলকে ফ্রিট্যাগ পিরামিডের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ফ্রিট্যাগ পিরামিড (Freytag Pyramid) হলো নাটক বা গল্পের কাহিনীবিন্যাসের একটি কাঠামোগত মডেল, যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মান নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক গুস্তাভ ফ্রিট্যাগ (Gustav Freytag) তৈরি করেছিলেন। এটি মূলত ট্র্যাজেডি বা নাটকের কাহিনীকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করে একটি পিরামিড আকৃতিতে উপস্থাপন করে, যা ‘ড্রামাটিক আর্ট’ বা নাট্যরীতি নামেও পরিচিত। প্রচলিত ছোটগল্পসমূহের কাঠামো উপাদানগুলোর ক্রম বিন্যাস প্রক্রিয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে আমরা পাই- ১. সূচনা অর্থাৎ কাহিনীর শুরুতে চরিত্র, পরিবেশ এবং প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়; ২. উত্থান ক্রিয়া অর্থাৎ যেখানে গল্পের মূল সংঘাত বা দ্বন্দ্বের সূচনা হয় এবং একই সাথে ঔৎসুক্য ও উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; ৩. চূড়ান্ত পরিণতি অর্থাৎ এটি গল্পের সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিন্দু; ৪. পতন ক্রিয়া অর্থাৎ চূড়ান্ত পরিণতি বা ক্লাইম্যাক্সের পর দ্বন্দ্ব প্রক্রিয়া যা ক্রমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগোতে থাকে; এবং ৫. সমাধান অর্থাৎ গল্পের সমাপ্তি, যেখানে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় এবং দ্বন্দ্ব চূড়ান্তভাবে মিটে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিকের নিরীক্ষাধর্মী গল্পগুলোতে প্রচলিত উপাদানগুলোর সবগুলোর উপস্থিতি নাও থাকতে পারে বা প্রচলিত ক্রমবিন্যাস পদ্ধতি অনুসরণ নাও করে থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রচলিত রৈখিক গল্পের বদলে খণ্ডিত বা বৃত্তাকার বর্ণনারীতি ব্যবহার করা হতে পারে। বাংলা নিরীক্ষাধর্মী গল্প কেবল কাহিনী বলা নয়, বরং অভিজ্ঞতার নতুনতর প্রকাশ। এই ধারার গল্পসমূহ পাঠককে সক্রিয়ভাবে অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে নিতে বাধ্য করে এবং নানাভাবে সাহিত্যকে নতুন ভাষিক ও শৈল্পিক উচ্চতা প্রদানে সফল করে তুলেছে। উপভাষার ব্যবহার, কাব্যিক ভাষা বা ভাঙা গদ্যের প্রয়োগ; চরিত্রের অবচেতন মনের জগতকে কাব্যিকভাবে খণ্ড খণ্ড তুলে ধরা; বাস্তব ঘটনার সাথে অলৌকিক বা অদ্ভুত উপাদান মিশিয়ে গল্প বলা; বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, পরাবাস্তববাদ এবং মেটা-ফিকশন ব্যবহার করে সাম্প্রতিকের গল্পকারেরা গল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। এছাড়াও সমকালীন নিরীক্ষাধর্মী গল্পে রূপক ও অদ্ভুত সব চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতা, সমকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, দাম্পত্য ও নারীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে নতুন নিরীক্ষা পাওয়া যায়।
সাহিত্যে যুদ্ধ ও সংঘাত মানব অভিজ্ঞতার এক অবিচ্ছেদ্য প্রতিফলন। যেখানে আমরা যুদ্ধের ভয়াবহতা, বীরত্ব, মানবিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক জটিলতা, নানামুখী আবেগ ও মানুষের অস্তিত্বের সংগ্রামকে দেখতে পাই। যুদ্ধ-সাহিত্য একদিকে যেমন ধ্বংসের চিত্র আঁকে, অন্যদিকে শান্তির আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এমন একটি ঘটনা যে ঘটনার চিহ্ন বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্যিকদের কাজেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত অগণিত কবিতা, গল্প ও উপন্যাসে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার, মানবিক বিপর্যয় ও সামাজিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। একবিংশ শতাব্দীর বাংলা গল্পে যুদ্ধ ও সংঘাত সরাসরি ময়দানের চেয়ে ব্যক্তিমানস, মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত, উদ্বাস্তু জীবন, এবং নব্য-বাস্তববাদের আলোকে চিত্রিত হয়েছে। ১৯৭১-এর যুদ্ধস্মৃতি, সমকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্বায়নজনিত সংঘাত, এবং ধর্মীয় বা সামাজিক বিভেদ এই সময়ের গল্পগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পোস্টমডার্ন বিদ্রূপের বদলে মানবিক দায়বদ্ধতা এখানে মুখ্য হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশের সমকালীন গল্পে পরিবেশ সচেতনতা কেবল নিসর্গ বর্ণনা নয়, বরং বাস্তুসংস্থান ও মানুষের অস্তিত্বের সংকটের এক গভীর আখ্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সমসাময়িক লেখকদের কলমে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল, এবং নগরায়ণের কুফল স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রাম, লোনা পানির আগ্রাসন এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের শিকার মানুষের গল্প এখন ছোটগল্পের অন্যতম প্রধান উপজীব্য হয়ে উঠতে দেখা গেছে। তাদের গল্পে নদী দখল, বালু উত্তোলন ও জলাভূমি ভরাট করে আবাসন নির্মাণের মাধ্যমে যে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে, তার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা রয়েছে। শহরের বদ্ধ জীবন, ইট-পাথরের দেয়াল আর দূষিত বায়ুর বিপরীতে সবুজের আকাক্সক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ভয়াবহতা বারবার ফিরে এসেছে। মানুষের সীমাহীন লোভের কারণে প্রকৃতি কীভাবে রূঢ় হয়ে উঠছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, তা ছোটগল্পের ভাষায় মূর্ত হয়ে উঠতে দেখা গেছে। মূলত বাংলাদেশের সমকালীন গল্পকাররা তাদের লেখায় পরিবেশবাদী সাহিত্যপাঠ বা ইকোক্রিটিসিজম (Echocriticism) চর্চার মাধ্যমে পাঠকদের মনে পরিবেশ রক্ষার তাগিদ সৃষ্টি করার প্রয়াস গ্রহণ করেছেন।
Quarterly Anupranan - Year- 15 Issue- 1; Contemporary Stories & Storytellers (Part-4)
ফিরোজা রঙের দেশ – ফাতিমা জাহান
খ্রিস্টের জন্মের প্রায় হাজার বছর আগে লোকালয় গড়ে ওঠে উযবেকিস্তানে। মধ্য এশিয়ায় উযবেকিস্তান প্রথম জনপদ যেখানে তুর্ক জনগোষ্ঠী বসবাস করতে শুরু করে এবং সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা শুরু করে। এক সময় আলেক্সান্ডার দা গ্রেট এই জনপদ নিজের অধীনে করে নিয়েছিলেন।
খ্রিস্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগে চীন থেকে বণিকরা আরব ও ইউরোপে সিল্ক, মসলা, দামি পাথর, চা ইত্যাদি বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে মধ্য এশিয়ার পথ ধরে যাত্রা শুরু করেন। সেই থেকে সিল্ক রোড বা রেশম পথ মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেয়। দেড় হাজার বছরের বেশি সময় রেশম পথ ধরে বণিকরা নিয়মিত যাতায়াত করেছিলেন।
আল বুখারি, আল তিরমিজি, ইবনে সিনা, আল বিরুনি, সম্রাট বাবরের মতো বিখ্যাত ব্যক্তি উযবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে বতুতা, মার্কো পোলো, ওমর খৈয়ামের পায়ের ধুলা পড়ে এই ভূমি ধন্য হয়েছে।
মায়োলিকা শিল্প, ইকাত কাপড়, তামা ও কাঠ শিল্প বিমূর্ত থেকে মূর্ত হয়েছে শিল্পীদের হাতে।
চেঙ্গিস খান থেকে আমির তিমুর বা আরও পরের আমিরগণ শুধু যোদ্ধাই ছিলেন না, সুশাসক ও শিল্প-সাহিত্যের বোদ্ধাও ছিলেন।
উযবেকিস্তানে লেখকের ভ্রমণ সেই শিল্প-সাহিত্য ও রেশম পথের বাঁকে বাঁকে চলে গিয়েছে। এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে শুধু রেশম পথের দিশাই নেই, সাথে আছে প্রাচীন স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের গল্প।
Firoza Ronger Desh - Fatima Jahan
শখের বাগানে সাপ – মঞ্জু সরকার
দুঃশাসনে পিষ্ঠ জনজীবন ও সাম্প্রতিক অস্থির সময়ের চেহারা জীবন্ত হয়ে উঠেছে এ গ্রন্থের ছোটো ও বড়ো আটটি গল্পে। ক্ষুদে কৃষকের ‘গৃহপালিত গরুটার গতিপথ’ ও শিক্ষার্থী সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ‘কুড়ানি বুড়ি ভাদুর মা’য়ের প্রকৃতি-নির্ভর জীবন-সংগ্রাম, প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনতৃষ্ণার মাঝেও ‘দাঁত ভাঙা হাসি’র মতো দুর্ঘটনার শঙ্কা কিংবা ‘কবর’ শাসিত উন্নয়নের পটভূমিতে রচিত গল্পে যে স্বাদ-বৈচিত্র্য, তা যেন সাম্প্রতিক দেশকালের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠককে। ‘জনৈক পেশাদার প্রতিবাদী’র মধ্যেও রাষ্ট্র-ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং স্বৈরাচারী রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতে গণ-আন্দোলনের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে ‘লুণ্ঠিত সিংহাসন’, ‘শখের বাগানে সাপ’ ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নিনাদ’-এর মতো গল্প রচনা করে সত্যসন্ধ দায়বদ্ধ শিল্পীর ভূমিকা পালন করেছেন লেখক। প্রথম সাড়াজাগানো গল্পগ্রন্থ ‘অবিনাশী আয়োজন’-এর ধারাবাহিকতায় শক্তিমান এ কথাশিল্পীর চতুর্দশতম গল্পগ্রন্থটিও সাধারণ মানুষের মুক্তিসংগ্রাম ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শৈল্পিক দলিল হয়ে টিকে থাকবে।
Shokher Bagane Shap - Manju Sarkar
ভাত ও ভাতারের গল্প (দ্বিতীয় সংস্করণ) – লতিফ জোয়ার্দার
আমি আমার বুকের ভেতরে যে যন্ত্রণা লালন করি তার রং আমার বড়ো অচেনা, কোনোদিন দেখিনি তারে। অথচ কত মধুর উপলব্ধিতে তাকে অনুভব করি। আমার স্বপ্নগুলো অধরা একটা জগৎ, অধরা একটা সময়।
জীবনের বহুমাত্রিক রূপ দেখে দেখে কখনো বিষণ্ণতার ভেতর হারাই সে স্বপ্ন। যে সময়ের গল্প লিখি আমি। সেখানে অচেনা মানুষের ভিড়। অথচ আমি চোখ মেলে দেখি আমার গল্পগুলো হেঁটে বেড়ায়। সেখানে যেমন নিম্নবিত্তের মানুষ আছে। আছে শহুরে যান্ত্রিকতায় নিমজ্জিত কিছু অচেনা মানুষের গল্প। খুব বেশি সময় ধরে লেখা না হলেও আমার ‘ভাত ও ভাতারের গল্প’ গ্রন্থের গল্পগুলো কয়েক যুগের। সেখানে যেমন জীবনযন্ত্রণা আছে, আছে মানুষের জৈবিক চাহিদা এবং হৃদয়ের কারুকার্যখচিত প্রেম ও ভালোবাসা। এই গ্রন্থের ষোলোটি গল্প ষোলোটি সংসারের। গল্পগুলো কখনো ক্লান্তিকর মনে হবে না পাঠকের কাছে। পড়তে পড়তে কখনো একঘেয়েমি আসবে না।
Bhat O Bhatarer Golpo (Second Edition) - Latif Joarder
বাংলাদেশের কবি ও কবিতা (জন্ম : ১৯১১-১৯৬৫) – সম্পাদক : আবু মোহাম্মদ ইউসুফ
২০২২-এর বসন্তকালে একাদশ বর্ষ প্রথম সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন-এর সকল মুদ্রিত সংস্করণে নিয়মিতভাবে দেশের শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও নিবিড়ভাবে তুলে ধরার জন্য শিল্প-সাহিত্যের বিশেষ ধরন, বিশেষ বিভাগ, বিশেষ ধারা অথবা বিশেষ বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ফলে লেখক, পাঠক ও অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের চাওয়া থেকে একাদশ বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সংখ্যা চারটিতে নির্বাচিত কবি ও কবিতা সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংখ্যা ৪টিতে বাংলাদেশের ১০০ জন নির্বাচিত কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, প্রকাশনা, স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ও পুরস্কার, উল্লেখযোগ্য কবিতা ও তাদের রচিত কবিতারাশি নিয়ে সামষ্টিক আলোচনা প্রকাশিত হয়। সম্মানিত এই কবিদের কবিতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও আড্ডার অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের শিল্প ও সাহিত্যচর্চার বৃত্তটিকে প্রসারিত করার প্রয়াস গ্রহণ করতে কবিতাপ্রেমী পাঠকসমাজ এগিয়ে আসেন।
কালক্রমে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ এই সংখ্যাগুলোর সংরক্ষণ ও প্রাপ্যতার সমস্যার কথা ভেবে আমরা অনুপ্রাণন সম্পাদকমণ্ডলী ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণনের একাদশ বর্ষের চারটি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশের ১০০ জন নির্বাচিত কবি যাদের জন্ম ১৯১১ থেকে ১৯৬৫-এর মধ্যে, তাদের কবিতা, জীবনী, প্রকাশনা, পুরস্কার ও সম্মাননা-সংক্রান্ত তথ্যাবলির পাশাপাশি তাদের উল্লেখযোগ্য কবিতা ও কবিতাকর্ম নিয়ে সামষ্টিক আলোচনা একত্র করে একটি আকর গ্রন্থ প্রকাশ করার এই উদ্যোগ গ্রহণ করি।
আশা করি বাংলাদেশের কবি ও কবিতা-সংক্রান্ত তত্ত্ব, তথ্য ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞান আহরণে আগ্রহী বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক, ছাত্র, গবেষক ও সাধারণ কবিতাপ্রেমী পাঠকের চাহিদা মেটাতে এই বই সক্ষম হবে।
Bangladesher Kobi O Kobita (Born : 1911-1965) - Editor : Abu Mohammed Yousuf
পেখম ফিরে আসার পর বদলে গেল বিশ্ব চরাচর – সালেহা ফেরদৌস
বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে উধাও হয়ে গেল পেখম।
একবছর পরে ফিরে আসলে জানা গেল, স্থলে নয় জলের নিচের এক অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে ছিলো পেখম। কেউ বিশ্বাস করলো আবার কেউবা বিশ্বাস করলো না, তবে বিজ্ঞানীদের একটি দল ধরে নিয়ে গেলো পেখমকে। পেখমের অপেক্ষায় থাকা প্রাণিবিদ অহম ছুটে গেল ফিরে আসা প্রেমিকাকে উদ্ধার করতে। কিন্তু পুরো পৃথিবীর বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করে প্রেমিকাকে উদ্ধার করা যখন অসম্ভব মনে হলো তখন জলের নিচ থেকে উঠে এসে ওদের পাশে দাঁড়ালো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধারক ও বাহক কিছু উদার মনের মানুষ।
পেখম ও অহমকে ছাড়িয়ে যুদ্ধ লেগে গেল জলের সাথে স্থলের! সভ্যতার সাথে সভ্যতার! পুরানোর সঙ্গে নতুনের! আধুনিকতার সাথে মানবতার! কে বা কারা জয়ী হলো সেই যুদ্ধে? কীভাবে পেখম নামক এক সাধারণ মেয়ের কারণে বদলে গেল বিশ্ব মানচিত্র জানতে হলে পড়ে ফেলুন গতিময় এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিটি।
জলের পৃথিবীর অপরূপ বর্ণনার সঙ্গে পাবেন বিজ্ঞান, প্রেম ও মানবতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। স্থলের মহেঞ্জদারো হারিয়ে গেলেও চলুন পেখমের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও ডুব দিই জলের মহেঞ্জোদারোতে। ঘুরে আসি এক অজানা পৃথিবী থেকে।
Pekhom Fire Ashar Por Bodle Gelo Bishwa Charachar - Saleha Ferdous
রায়নন্দিনী – শানু মজুমদার
রইছ উদ্দিন দাঁড়িয়ে বললো, স্যার আমি জীবনানন্দ দাশের লিখা ‘সে’ কবিতাটি আবৃত্তি করার চেষ্টা করছি।
“আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে;
বলেছিলো: ‘এ নদীর জল
তোমার চোখের মত স্নান বেতফল;
সব ক্লান্তি রক্তের থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি;
এই নদী তুমি
‘এর নাম ধানসিঁড়ি বুঝি?
মাছরাঙাদের বললাম;
গভীর মেয়েটি এসে দিয়েছিলো নাম।
আজো আমি মেয়েটিকে খুঁজি।
জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে
কোথায় যে চলে গেছে মেয়ে।
সময়ের অবিরল শাদা আর কালো।
বনানীর বুক থেকে এসে
মাছ আর মন আর মাছরাঙাদের ভালোবেসে
ঢের আগে নারী এক- তবু চোখ ঝলসানো আলো
ভালোবেসে ষোলো আনা নাগরিক যদি
না হয়ে বরং হতো ধানসিঁড়ি নদী।”
Raynandini - Shanu Mazumder
বলো না কখনো চলে যাই – রুচি রোকসানা
প্রাচীন মানুষ এক সময় ছিলো প্রকৃতিপুজারী। আকাশ-পাহাড়-সাগর-নদী-জঙ্গলের অপার রহস্য, মানুষের আচরণ ও মনোবৃত্তির অপার বৈচিত্রের থই পেতো না মানুষ। রহস্যের সমাধান বা হাইপোথেসিস দাঁড় করানোর মত সবল যখনো হয়ে ওঠেনি বিজ্ঞান কিংবা দর্শন, প্রকৃতির নানা ঘটনাপুঞ্জি মানুষকে অবাক করতো খুব সহজেই। আজ একটি শিশুও যা জানে, একসময় সেরকম অনেক বিষয়ই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছেও ছিলো অজানা, বিস্ময়কর! বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সবল প্রয়োগে প্রকৃতির আমাদেরকে অবাক করবার ক্ষমতা আজ সত্যিই অনেক কম। তা বলে কি অবাক করা, ব্যাখ্যাতীত ঘটনা আর ঘটে না এ জগতে?
নীরব ইঙ্গিত, অদৃশ্য সূত্র আর অপ্রত্যাশিত মোড়-মোট ষোলোটি গল্প নিয়ে রুচি রোকসানার নতুন বই ‘বলো না কখনো চলে যাই’। এই রহস্যগল্পগুলি পাঠককে টেনে নিয়ে যায় অজানার দিকে, অতিপ্রাকৃত জগতের দরজা খুলে দেয়। পরিচিত বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ, মানসিক দ্বন্দ্ব ও বুদ্ধির লড়াই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিটি গল্প শেষ হলেও রেশ থেকে যায়-পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে, সত্যিই কি সব রহস্যের সমাধান একরকম?
প্রতিটি গল্পে বাস্তব ও অবাস্তবের মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম রেখা টানা আছে, যা একসময় ঝাপসা হয়ে যায়। কখনো অচেনা ছায়া, কখনো অজানা শক্তি, আবার কখনো মানুষের অন্তর্লোকের অন্ধকার-সব মিলিয়ে গল্পগুলো তৈরি করে এক অমোঘ কৌতূহল ও শিহরণ।
Bolo Na Kakhono Chole Jai - Ruchy Rockshana























