ছায়ার ভোঁ – চঞ্চল নাঈম
মুহূর্তের সন্দর্ভ দানকারী ব্যঞ্জনাকে চঞ্চল নাঈম এই কাব্যে একান্তে এঁকেছেন। অতিরিক্ত শব্দের ও অনুষঙ্গবিহীন চিত্রকল্পের আসক্তি নেই। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতায় পর্যবেক্ষণগুলো স্বাভাবিক, তেমনি অস্বাভাবিকও। ছায়া, গণিত, ডট, অপেক্ষা, নৈঃশব্দ্য, শূন্যতা, সংখ্যা পরিমাপ, সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে তীব্র উপলব্ধি আছে। বিমূর্তে না গিয়েও অপার বিস্ময় শিল্পদক্ষ কবির আয়ত্তে এসে গেছে। আমরা অনেক সময় ভাজ্য, ভাজক, ভাগফলকে মান্যতা দিই, ভাগশেষ ব্রাত্য থাকে। চঞ্চল নাঈম লিখছেন— ‘সব ভাগশেষ/অপ্রয়োজনীয় না।’ সত্যিই তো জীবনে কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকে বলেই, শুরু হয় নতুন কল্পনা। ‘বসে থাকা ঘড়ি’— নয়টি শব্দের কবিতা, যেখানে চিরকালীন বৈজ্ঞানিক সত্য আবর্তিত। আধুনিকতার নিয়ামক হলেও বিভিন্ন কারণে যন্ত্র রুদ্ধ হয়ে যায়। বাস্তবতার গতি কখনো রুদ্ধ হয় না। ‘ছায়ার ভোঁ’ নামকরণ থেকেই বিস্ময়। এরপর প্রতিটি কবিতায় চমক, ভিন্নভিন্ন পর্যবেক্ষণে। প্রতিটি কবিতার শিল্পসম্মত হয়ে ওঠা বিস্ময় সৃষ্টি করে। হয়ে ওঠার চারুশিল্পকে ভাষাদক্ষতার সঙ্গে নিষ্পন্ন করেছেন চঞ্চল নাঈম। কাঁথাস্টিচের সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম শৈল্পিক মেধা স্বল্পশব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘আমার ছায়া/মাটিতে পড়ে/কিন্তু/ওজন অনুভব করি না’— সহজ সত্য, কাব্যের সত্যে পরিণত। ডট চিহ্নকে নিয়ে কতো মধুর বচন রচিত হয়, সেটা ‘ডট’ কবিতার পাঠে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষণীয়। এই কাব্যের প্রতিটি কবিতা বিমূর্ততা ছাড়াই জীবনের বহু না-দেখা অবস্থাকে ইঙ্গিত করছেন কবি।
অলোক বিশ্বাস
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
Chayar Vo - Chanchal Nayeem

