Books

Books
Show:
Filter
25% Off

বৃত্তের নিশিচারণ – রেহানা বীথি

Highlights:

যে চরিত্রগুলো ভাবলেশহীন ঘুরে বেড়ায় দিনের আলোতে, নিশিথ আঁধারের নিস্তব্ধ ঘনতায় তারাই যেন মর্মের ভাষা খুঁজে পায় দ্বিধাহীনভাবে। বোধের অশরীরীরা ধাবিত হয় যে পথে, সে পথে সাথী হয় বিক্ষিপ্ত ভাবনারাও! ’অক্ষর, শব্দ আর বাক্যগুলো’ তারপর সারি বাঁধে দ্বিধাহীন জ্যামিতিক পথে, যেন নিরেট অবয়বে প্রাণের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে! ওদিকে রাতের চারণভূমিতে হাসি, কান্না আর বিষাদে ফোটা ফুলগুলো অনিবার্য ’জীবনে’ মত্ত হয়। রজনী মত্ত হয় বিক্ষিপ্ত ভাবনায়। পরম মমতায় কী যেন উদ্ধারের অলঙ্ঘনীয়তায় তার বসবাস। সজ্জায়নের পথটাও সুগম নয়। ভাবনাগুলো বার বার হোঁচট খায়; বিরতিহীন, আর অবলীলায়। তবে, রাত বলেই হয়ত দীর্ঘায়িত হয় না সেই ভাবনাগুলো। ক্লান্ত রাতের অস্থির মন তা গুছিয়ে নেয়ায় সচেষ্ট হয়। মোটাদাগে এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে গল্পগুলো। গল্পের রাতগুলো, আলো ও আঁধারের তারতম্য, অশরীরী বোধ, দ্বিধাহীন জ্যামিতিক পথ… এসবের যে নির্যাস, তার উপলব্ধি ও মূল্যায়নের ভার আপনাকেই দিলাম।

বৃত্তের নিশিচারণ - Britter Nishicharon

$ 2.82
25% Off

দিকু – সরদার ফারুক

Highlights:

সাঁওতাল ভাষায় ‘দিকু’ মানে বহিরাগত। সমাজ-সংসার-রাষ্ট্রে একজন বহিরাগত মানুষের আলেখ্য নিয়েই এই উপন্যাস। একদিকে আছে কোন এক প্রাক্তন বিপ্লবী ও কবির অধঃপতনের উপাখ্যান, অন্যদিকে তার ছিন্নবিচ্ছিন্ন স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষ্যা আর ভালোবাসার বিচিত্র জলছবি।

দিকু - Diku

$ 2.65
25% Off

চিটেধান, প্রার্থনামগ্ন মাটি

Highlights:

চিটেধান এবং প্রার্থনামগ্ন মাটি

কতিপয় অমীমাংসিত আখ্যান
অবিরাম খন্ডিত করে ভূমি

লাঙল ফলার কর্ষণে কতখানি ব্যথা, জানেমাটি
কতটা সহনীয় হলে বৃক্ষ শেকড় ছড়ায়
কতটা বুকের রক্ত নিংড়ে দিলে ধানের অন্তঃকোণে
দুধ জমা হয়- মাটি জানে ও মানে

কতিপয়অপ্রকৃতিস্থ ইচ্ছেয়
শহরের গলি ঘুপচি ধরে হাঁটে বিষাক্ত বায়ু

চাঁচের বেড়ার ঘরে, মাচার পরে, চালার তলে
টিনের ঘেরায় অজস্র মুখ হা হয়ে আছে
দৈব বাণীর মতো কখন নেমে আসবে খাদ্যের প্যাকেট

যুগের প্রাচীরে পণ্যের পেন্ডুলাম হয়ে ঝুলে আছো যারা ;
মানুষ হিসেবে গণ্য হতে হলে,
মৃত্যুর পরে ‘মানুষ’ শব্দের দখল পেতে গেলে
কংক্রিট হৃৎপিন্ড ভরে তোলো মৃত্তিকায়

চিটে ধানের খোসার ভেতরে দুধ-হওয়া প্রার্থনায় মগ্ন-
মাটির মতো দরদি আর কে আছে !
তুমুল কর্ষণের অপেক্ষায় পৃথিবীর জমিন ও সময়

চিটেধান ও প্রার্থনামগ্ন মাটি - Chitedhan, Prarthonamogno Mati

$ 2.12
25% Off

অসম্পূর্ণ বৃ্ন্দাবন – জাফর সাদেক

Highlights:

জন্ম– ক্ষমা করো, আবার ফেরার জন্য
কেন জানতে হবে ডুবসাঁতার

স্মৃতির ভারে বরফাচ্ছন্ন নির্জন আন্দিজ
বরফের জমাট সরিয়ে তবুও নিই নিশ্বাস
কেউ তো স্মৃতি নিয়ে পালকের মতো হালকা উড়াল
তুমি অরুণিমা ঠিক উড়ছো যেমন

স্মৃতি ভার– স্মৃতি পালক
শৈশবে কেনা অনেক রঙিন ঘুড়ির কাগজ
ঠিক কতোটা ভার হলে নদীতে বসেছে
বাণিজ্যের হাট

আমিই বিক্রি করছি আমার মুখোশ
অন্তরালে তোমার মুখ
এবং প্রথম চুম্বনের শিহরন

অসম্পূর্ণ বৃন্দাবন - Osompurna Brindhabon

$ 2.65
25% Off

বুদ্ধ তীরবিদ্ধ – মারুফ রায়হান

Highlights:

কী যে ভালো লাগছে

মরোমরো আর দূষণজর্জর
সমুদ্র আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে

সাগরতলে জাগছে বিপুল সাড়া
মীনভুবনে ফিরলো ফের
স্থলবাসীর মুখ দেখবার তাড়া

ও সাগর
তুমি আমার বাঁচার ভাঁড়ার
সুরগর্জন মেঘমল্লার
নির্জনতম ধ্বনিবিশ্বে পরম ঊর্মিমালা

ও তরঙ্গ শোনিত-স্রোতধারা
ফিরে পাচ্ছি প্রেমঢেউ
ফিরে পাচ্ছি হৃদতরঙ্গ
ফিরছে ছন্দোমালা

ও সাগর
তুমিই আমার জন্মাবধি
জননী ও শ্বাসঘর

কী যে ভালো লাগছে
মৃত্যুপুরীতে সুন্দরতম
নতুন মানব জাগছে।

বুদ্ধ তীরবিদ্ধ - Buddho Tirbiddho

$ 2.12
25% Off

তৃতীয় অধ্যায় – মোজাম্মেল হক নিয়োগী

Highlights:

‘তৃতীয় অধ্যায়’ উপন্যাসটি ট্রিলজির তৃতীয় খণ্ড। এই ট্রিলজির প্রথম খণ্ড ‘ফাঁদ’ ও দ্বিতীয় খণ্ড ‘পুষ্পকথা’ যেগুলো আগে প্রকাশিত হয়েছে। ‘তৃতীয় অধ্যায়’ একটি স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবে পাঠক উপভোগ করতে পারবেন। তবে পূর্বের দুই খণ্ডের সঙ্গে এই উপন্যাসের কাহিনীর সঙ্গে খুব সামান্যই যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে যাতে পাঠকগণ তিনটি খণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে পান। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কিশোরী ‘পুষ্প’ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যৌনকর্মী হতে বাধ্য হয়েছিল যে কাহিনী ‘ফাঁদের’ উপজীব্য। দ্বিতীয় খণ্ড ‘পুষ্পকথা’ নির্মিত হয়েছে তার চমৎকার একটি সংসার-জীবন দিয়ে এবং পুষ্প-দম্পতি কঠোর পরিশ্রম করে যখন একটি স্বপ্নময় ভুবন তৈরি করেছিল তখনই সামাজিক অনাচারের শিকার হয় তার স্বামী। অকালে বিধবা হয় পুষ্প। তৃতীয় খণ্ডে সে তার যমজ সন্তান ছেলে আলোক ও মেয়ে রশ্মিকে নিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় প্রমত্ত প্রতিকূল স্রোতের আপসহীন সংগ্রামী অভিযাত্রী। দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী ও দরদি জননী। তার দীপ্তিময় স্বপ্ন হলো দুই সন্তানকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে থেকে নিজের শ্রম দিয়ে আলোক ও রশ্মিকে লেখাপড়া করাতে শুরু করে। কিন্তু অভাব-অনটন যেন বাঁধভাঙা জোয়ার। আসতে থাকে নানা রকম ঘাত-প্রতিঘাত। সব ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এগিয়ে যায় হারা-না-মানা অদম্য সাহসী পুষ্প। এই বিরুদ্ধ স্রোতের কিছুটা সহযোগিতার হাত বাড়ান আলোক-রশ্মির স্কুলের শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং বাড়িওয়ালা অধ্যাপক প্রীতিশ কুমার মণ্ডল। আলোক-রশ্মিও ক্রমে উজ্জ্বল শিখার মতো জ্বলে উঠতে থাকে এবং এক সময় ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রতিকূল স্রোতের অভিযাত্রী পুষ্পর স্বপ্নের তরী কূলের সন্ধান পায়।

 

তৃতীয় অধ্যায় - Tritio Odhyay

$ 7.72

অনুপ্রাণন ১১তম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা – কবি ও কবিতা সংখ্যা, চতুর্থ পর্ব

Highlights:
সম্পাদক, আবু মোহাম্মদ ইউসুফ।

কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সংগঠন প্রয়োজন। বাংলাদেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও আচার-আচরণের প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকরী সংগঠন গড়ে তোলা অনেক শ্রম ও সময়সাপেক্ষ কাজ। বিশেষ করে দেখা যায় যে গণতান্ত্রিক ভাবে পরিচালিত একটি সংগঠনে ভাঙা গড়া লেগেই থাকে যার ফলে কাজের গতি ও পরিধি সবসময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। অনুপ্রাণন সবসময় নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনাকে এড়িয়ে চলেছে। এর অর্থ এই নয় যে উদ্ভূত সেসব নেতিবাচক বক্তব্যের জবাব আমাদের কাছে নেই কিন্তু আমরা চেয়েছি ইতিবাচক কাজের মাধ্যমেই সেসব নেতিকে নাকচ করার মানসিকতা যেন গড়ে ওঠে। তাই, অনুপ্রাণন সবসময় ইতিবাচক কাজ করে যাওয়ার পক্ষেই শক্তির যোগান দিয়েছে। আমাদের ভালো ভাবে ভেবে দেখা দরকার যে চলমান অস্থির প্রতিযোগিতার পরিবেশে কি-করে শিল্প-সাহিত্য বিশেষ করে কবিতা সাহিত্যের প্রতি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলা যায়। একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয় যে, মনে হয় যেন কবিতা পাঠের থেকে কবিতা লেখার আগ্রহই প্রজন্মের বেশী। এই হিসাবটা হয়তো শতভাগ ঠিক না কিন্তু অনুপ্রাণন প্রকাশনে অনেক তরুণ কবিদের দুর্বল কবিতার পা-ুলিপি নিয়ে প্রকাশনার জন্য ভিড় করা দেখে এরকমই মনে হতে পারে। এই বক্তব্যের প্রতি যদিও ভিন্নমত আছে তবুও আমরা মনে করি যে, সর্বক্ষেত্রে না হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কবি, লেখক ও শিল্পীর সৃজনশীল কাজ সত্যিকার অর্থে মূল্যায়িত হতে পারে যদি প্রাতিষ্ঠানিক অথবা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে হলেও তার গড়ে ওঠার পেছনে একটা নির্দিষ্ট ও সুনিবিষ্ট প্রস্তুতি ও চর্চার পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। ব্যতিক্রম থাকেই কিন্তু সেই ব্যতিক্রমকে উদাহরণ হিসেবে সাধারণের পক্ষে যুক্ত করাটা হয়তো ঠিক না।
তরুণ লেখকদের এই প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই অনুপ্রাণন সেরকমই একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যক্রম গ্রহণ করার প্রয়াস পেয়েছে যেখানে তরুণ কবি ও সাহিত্যিকেরা প্রিন্ট পত্রিকা ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন এবং অনুপ্রাণন অন্তর্জালের সাথে যুক্ত হয়ে গ্রন্থ প্রকাশনা পূর্ববর্তী কালের প্রস্ততি গ্রহণের সুযোগ নিতে পারে।

Anupranan Troimasik Year 11 Issue 4, Kabi O Kabita Songkhya- Churtho Porrbo

25% Off

স্বপ্নজাল – ভাস্কর চৌধুরী

Highlights:

উপন্যাসটি যখন আরম্ভ করি তখন মনে এই ইচ্ছে ছিল যে, মহেশখালীর ট্রলারের মালিকদের কাছ থেকে কাজের বিনিময়ে শামুক ও ঝিনুকের শুঁটকি বানিয়ে একজন ব্যবসায়ী কিভাবে কোটিপতি হতে পারে সেটি নিয়ে গল্প সাজাব। গল্প যে লেখককে তার ইচ্ছে থেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, ‘স্বপ্নজাল’ উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে আমি টের পেলাম যখন আমি ধীরে ধীরে আমার অভিজ্ঞতা, পঠন, ভ্রমণ ও কল্পনা মিশিয়ে লিখতে লিখতে যেন নিজেকেই লিখে ফেললাম। এখন পর্যন্ত যতটুকু লিখেছি, হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যাবে। তাই আরেকটি উপন্যাসের জন্যে কিছু রেখে ‘স্বপ্নজাল’ উপন্যাসে অনেক সম্পাদনা করে এটুকু আপনাদের সামনে হাজির করলাম। উপন্যাসে সময় এবং ঘটনার বিস্তার এতোটাই ঘটেছে যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে পরবর্তী অনেক ঘটনা এসে গেছে। এভাবে ভারত, থাইল্যান্ড, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়াসহ মালয়েশিয়া, সৌদি আরবের মানুষ ও রাজনীতি ও অর্থনীতিও উপন্যাসে ঢুকে গেছে।

বর্ণিত বিষয়গুলো আমার স্মৃতি, ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। আমি লেখা থামাতে পারিনি। ফলে একালে এতো বড় ঘটনাবহুল একটি উপন্যাস আপনাদের সামনে হাজির করতে হল। স্বপ্ন, প্রেম, আশ্রয় ও প্রয়োজন মানুষের জীবনে আসলে কী হতে পারে, মানুষের অসীম শক্তি কী করতে পারে কিন্তু করে না, সেটাই ভাবনার বিষয়। এই উপন্যাসের মূলকথা সেটিই।

পাঠকের বিচারের অপেক্ষায় কাঠগড়ায় দাঁড়ালাম।

বইটি প্রাণ লাগিয়ে যিনি সম্পাদনা করেছেন, শুধু কৃতজ্ঞতা দিয়ে তাঁর ঋণ শোধ হবে না। আর প্রকাশক আমাকে উপন্যাসটি প্রকাশের সাহস না দিলে আমি এটি লিখতে পারতাম না। প্রকাশক ও সম্পাদকের কাছে ঋণী রইলাম।

শুভকামনা রইল।

ভাস্কর চৌধুরী।
অমিয়ধারা
শ্যামলী, ঢাকা।

Shopnojal

$ 10.19
25% Off

সম্পর্কটা শুধুই জৈবিক – আসমা সুলতানা শাপলা

Highlights:

যে জীবন মানুষের সে জীবনও কখনো পশুর মতো ধুঁকে ধুঁকে বাঁচে যখন মানুষই মানুষের উপর জেঁকে বসে। চিন্তা শুভবুদ্ধি আর বিবেকের ধার কমে গেলে মানুষ অমানুষ হয়ে উঠে। তাছাড়া, পুরুষতন্ত্র, সামন্ততান্ত্রিক মনোভঙ্গী বোধশক্তি যখন তার আত্মশক্তির উদ্বোধনের নাগাল পায় না তখন তা মারাত্মক আকারে নেমে আসে আসেপাশের সব মানুষের উপর এমনকি স্ত্রী-সন্তানের উপর। মানুষ যখন হয়ে উঠে পরজীবী তখন তা গোপনে নিঃশেষ করে তার প্রাণ-শক্তি-সাধ-আহ্লাদ। ধ্বংস হয় স্বাভাবিক জীবনাচরণ। কখনো কখনো তার মরণও ডেকে আনে। চারপাশের মানুষের সাথে সম্পর্কগুলা যখন হয়ে উঠে পুরাপুরি জৈবিক। আসলে জৈবিক অর্থ কি! জীবন সম্পর্কিত যা কিছু তাই তো জৈবিক হবার কথা। তাই না! তবু, অকর্মণ্যতা-বিচারবুদ্ধিহীনতা-প্রজ্ঞাহীন জীবনদর্শন-জিদ-লোভ এসবই মানুষকে ঠেলে দেয় স্বার্থপরতার দিকে। দিকে-দিকে ঘরে-ঘরে দেশে-দেশে জাতিতে-জাতিতে ধর্মে-ধর্মে নেমে আসে তখন মাটি নিয়ে কাড়াকাড়ি, সম্পদের উপর আগ্রাসন। চলে সাম্রাজ্যবাদ, চলে ঠকবাজি, কেড়ে নেওয়া, কেড়ে খাওয়া, চাপিয়ে দেয়া, ভোগ করা, জ্বালিয়ে দেওয়া, পুড়িয়ে দেওয়া, হত্যা, লুঠ, যুদ্ধ, ধর্ষণ। তার সবেচেয়ে বড় আঘাতটা গিয়ে পড়ে নারীর উপর। মনস্বিতা সেই, জ্বলন্ত-সত্যের মতো মিথ্যা হয়ে জ্বলে আছে সবটা উপন্যাসে। যে নির্যাতিত স্বামীর দ্বারা। যে ঠকে যায় প্রেমিকের লোভের কাছে। একজন মুসলমান নারী বলে একজন জাতভেদ প্রথায় বিশ্বাসী সনাতন প্রেমিক পুরুষের কাছে যেথানে আত্মার পবিত্র দান অর্থহীন হয়ে পড়ে। যে পুয়ালচাপা পড়ে আছে এই সামাজিক প্রথায়। যে নির্যাতিত তার পরিণত মেধাশক্তির উদ্বোধনের কারণে। যার মন মরে পড়ে আছে কেবল একটা দেহ নিয়ে এই সংসারে। যে আয় করতে পারে, যে নিজের ভালোলাগা ভালোবাসার চেয়ে অনেক উঁচুতে ধরে রাখতে চায় পারিবারিক মূল্যবোধ, যে পায়ের নিচে পড়ে থেকেও ভাবে পায়ে পিষেফেলা মানুষটির একাকীত্ব নিঃসঙ্গতা আর অসহায়ত্বের কথা। তাতে কি শেষ রক্ষা হয়! হয় না। অন্যদিকে জীবনের প্রত্তুষে যে পুরুষ ছিল প্রেমিক সে হয়ে উঠে অবিশ্বাসী-রাজনীতিবিদ-যোদ্ধা। যে সংসারী যে পিতা যে স্বামী নীরবে মুখ বুজে সয়ে যায় জীবন জীবন ধরে বাড়ির আর সবার চাওয়া পাওয়ার খড়গ অনেকের মধ্যে থেকেই সে একা। যাপন করে বিরহী জীবন। দেশান্তরী হয়। আবার ফিরে আসে দেশে। ফিরে আসে যুদ্ধে ফিরে আসে ঘরে ফিরে আসে জলপাইগুড়ি-তরাই-নকশালবাড়ি ছেড়ে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে। ছোটভাই আর তার ছেলের পেতে রাখা মৃত্যুফাঁদের মাঝখানে ঝুলে থাকে স্ত্রী-পুত্রসহ তার জীবন। জন্মের পর যে বিশ্বাসে গড়ে উঠেছিল তার নিজের পারিবারিক আইন ফিরে আসে তারই মাঝে। অশান্ত-অস্থির, প্রত্যাশার সাথে পাওয়ার অমিল-বেমিল সব গিয়ে উপনীত হয় একটি জায়গায় যাতে সুখ যাতে শান্তি যাতে আত্মার অমলিন স্পর্শ পাওয়া যায়। তাই মনস্বিতা নামের মরে যাওয়া মেয়েটির পূণর্জন্ম হয় তমালকৃষ্ণের কন্যা-বিয়োগ ব্যথাতুর মনে। মনস্বিতা জৈবিক সম্পর্কগুলার মধ্যে পড়ে যায়। তবু মরিয়া সে, মাতৃত্বের হাহাকার তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাকে যা একই সাথে জৈবিক ও আধ্যাতিক।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের টানাহ্যাচড়া, জাতভেদে আত্মম্ভর মানুষমন, মানব মানবীর জটিল জৈবিক সম্পর্ক, নকশালবাড়ি আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অজস্র সত্যের মতো কাহিনী ও চরিত্র জড়িয়ে ভরিয়ে দুই খন্ডে গড়ে উঠেছে ‘সম্পর্কটা শুধুই জৈবিক’ উপন্যাসের বিশাল আখ্যান। যার এক একটি চরিত্র ধারণ করেছে নানা সত্য ঘটনা কিন্তু চরিত্রগুলার বেশির ভাগই লেখকের মনোবেদনায় কিবা মনোহরণে নির্মিত।

Somporkota Shudhui Joibik

$ 4.24
25% Off

নিমপাতার পাকোড়ার নিষিদ্ধ আলিঙ্গন- ইসরাত জাহান

Highlights:

সম্পর্কে জড়ানোর জন্য অভিকর্ষ বলের কোনোই দোষ নেই
আলবার্ট আইনস্টাইনক
কথাটি হয়তো এই মহান বিজ্ঞানী মজার ছলে বলেছিলেন। আসলে একজন মানুষ জন্মের পর ধীরে ধীরে তার কাছের মানুষগুলোকে চিনতে শুরু করে। তারপর সে দূরের সম্পর্কগুলোকে জানার চেষ্টা করে। কাছে দূরের এই যোজন বিয়োজনের পারস্পরিক ক্রিয়ার রসায়নে একটা সময় হয়তো কোনো সম্পর্ক মধুময় হয়ে ওঠে, কখনো বা তিক্ত। আবার এই তিক্ত সম্পর্ক সৃষ্টির নিয়ামক হয় মানুষের লোভ, শঠতা ও অহংকার।  মাঝেমাঝে কিছু সম্পর্ক সামাজিক বিধিনিষেধের গোলকধাঁধায় পড়ে আবার নিষিদ্ধও ঘোষিত হয়। সেই সম্পর্কেগুলোর হয়তো কোনো নামও হয় না। অথচ নামহীন এমন সম্পর্কের ভার সারা জীবন মনে ভেতরেই থেকে যায়।

মানুষের বৈচিত্র্যময় আন্তঃসম্পর্কের পাপপুণ্যের পরিধি বিশ্লেষণ করে লেখক ‘নিমপাতার পাকোড়া নিষিদ্ধ আলিঙ্গন’ গল্পগ্রন্থে সেইসব নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলোকেই আলিঙ্গনের চেষ্টা করেছেন। শুধু মানবিক সম্পর্কের পূর্বাপর অন্বেষণ নয়, সামাজিক অবক্ষয় আর বিচ্ছিন্নতাও এই গল্পগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

Nimpatar Pakorar Nishiddho Alingon

$ 2.43
25% Off

মননশস্যে নজরুল- পীযুষ কান্তি বড়ুয়া

Highlights:

নজরুল চির বিরহী, চির বিস্ময়। অভিমানভরে চিরতরে দূরে যাওয়া নজরুল আবির্ভাবে ধূমকেতু কিন্তু আচরণে ঝঞ্ঝা। কখনো মুয়াজ্জিন, কখনো মক্তবের শিক্ষক। কখনো লেটোর ব্যাঙাচি, কখনো ওয়াহেদ বক্সের দোকানে রুটির কারিগর। নজরুল যেন এক অতৃপ্ত পরিযায়ী প্রাণ । কখনো বুলবুলশোকে সিক্ত, কখনো ফজিলাতুননেসায় রিক্ত।
অজয় পাড়ের নজর আলী গোমতীর তীরে বাজায় বাঁশি, নার্গিসকে বঞ্চিত করে আশালতায় আনে হাসি। তবুও সে যেন বাঁধনহারা, বুক ভরা তার রিক্তের বেদন, ঝর্ণার খরধারা। রানুর কণ্ঠে ঢালে সুর; নিজে নিরন্তর নিপাত করে অসুর। সে বাজায় অগ্নিবীণা, আগুন জ্বালে আগুন বিনা। সে গায় ভাঙার গান, অর্ঘ্য তার ব্যথার দান।
মানুষ নজরুল সংবেদী, কবি নজরুল সংহারী। জাহেদা মায়ের নজরুল অবুঝ, দেশ মায়ের নজরুল চির সবুজ। প্রেমিক নজরুল দুর্মর আর আড্ডার নজরুল উদ্দাম। নজরুল যেমন যোদ্ধা, নজরুল তেমনি বোদ্ধাও বটে। রণক্ষেত্রে নজরুল হাবিলদার, কলাক্ষেত্রে সে সুন্দরের অপ্রতিম দ্বার। নজরুল কীটস্-রবীন্দ্রনাথে মজে থাকলেও মজিয়ে তুলেছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ও বাঙালিকে তাঁর ‘জয় বাংলা’ দিয়ে। নজরুল শোষিতের যীশু, যাকে মহান করে দারিদ্র্য; নজরুল চির শিশু যার সারল্য নিñিদ্র।
‘অগ্নিবীণা’র শতবর্ষে এসে নজরুল আজও আরাধ্য, আজও আস্বাদ্য। নজরুল-তপস্যায় মগ্ন থেকে নজরুলের মননশস্য হতে অমৃত-নির্যাসের আকাক্সক্ষায় নিরন্তর হোক আমাদের নজরুল চর্চা। চিরজীবী নজরুলে অনিরুদ্ধ হয়ে উঠুক সুন্দরের আরাধনা।

Mononshosye Nazrul By Pijush Kanti Barua

$ 2.82
25% Off

পাগলা কানাই ও তাঁর তত্ত্বদর্শন- সম্পাদনায় বঙ্গ রাখাল

Highlights:

কথাসামান্য…

মৃত্যু পরবর্তী জীবনরহস্য প্রতিটি মানুষকে ভাবায়। মানুষের এসব চিন্তা থেকে সৃষ্টি হয়েছে ধর্ম, দর্শন ও মরমি সঙ্গীত। মরমি কবি ও দার্শনিক লালন শাহ তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঙালির মানসজগত আধ্যাত্মিক চিন্তা-চেতনাকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছেন। তাঁর ভাবধারণায় অনুপ্রাণিত ও উজ্জিবীত করেছেন পরবর্তীকালের মরমি কবি, সাধক, বয়াতি কবিয়ালগণকে। এই মৌলিক চিন্তা-চেতনার ওপরে ভিত্তি করে লোককবিগণ তাদের রচিত সঙ্গীতের মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি নান্দনিকরূপ দান করেছেন। মানুষের জীবনকে করেছেন অর্থবহ ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ লোকসঙ্গীতের একটি মূল্যাবান সম্পদ এই আধ্যাত্মিক ও মরমি সঙ্গীত।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি মূলত লোকসংস্কৃতি নির্ভর। আবহমানকাল ধরে এই সংস্কৃতি আমাদের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লালন করে আসছে। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ক্রিয়াশীল থেকেছে একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত উদার সংস্কৃতি। দেশের খ্যাতনামা লোকসঙ্গীত শিল্পী, বয়াতি লোককবিগণ বিভিন্ন ধর্মের সারাৎসারকে একত্র করে এই সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছেন। বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক বহুমাত্রিক ও সমন্বিত সংস্কৃতির ধারার সঙ্গে এটি পরিপূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মীয় গোঁড়ামি, মৌলবাদি চিন্তা-চেতনা মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ লোকসঙ্গীতের এই প্রবহমান ধারাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারেনি।

আধুনিক লোকসঙ্গীত চর্চা ও গবেষণা শিল্পীর জীবন ইতিহাস রচনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। শিল্পীর সঙ্গে নিবিড় সংসঙ্গের মাধ্যমে লোকসঙ্গীতের বিবর্তনের ধারা-গতি- প্রকৃতি সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য লাভ করা যায়। মানব জীবনে সৃষ্টিরহস্য জীবাত্মা থেকে মুক্তি পেয়ে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে অনন্ত জীবন লাভ করার ক্ষেত্রে এসব সঙ্গীতের অবদান অনস্বীকায।

মরমি কবি পাগলা কানাই আমাদের লোকসঙ্গীতের একজন প্রাণপুরুষ। তিনি জ্ঞান-চিন্তা-চেতনার ওপর ভিত্তি করে যেসব গান রচনা করেছেন তাতে তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনা জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি সৃষ্টি করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও তিনি তাঁর গানে দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায়পূর্ণ ক্ষণস্থায়ী জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে অনন্ত অসীম স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়া দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সহজ ভাষায় রচিত গানগুলো তাঁহার সকলের নিকটবোধগম্য।
বঙ্গ রাখাল সম্পাদিত ‘খেয়ালি বাউল পাগলা কানাই ও তাঁর তত্ত্বদর্শন’ গ্রন্থে পাগলা কানাই সম্পর্কে লিখিত বেশ কয়েকটি মূল্যবান প্রবন্ধ পাঠক গবেষকদের নিকট উপস্থাপন করেছেন। এসব প্রবন্ধ পাঠ করার মাধ্যমে লোকসঙ্গীত ও সংস্কৃতি চর্চায় নিয়োজিত গবেষক সঙ্গীত শিল্পী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। লোকসঙ্গীত চর্চা ও গবেষণার জন্য বর্তমানে জীবিত শিল্পী সঙ্গীতের দর্শক শ্রোতার প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়াত শিল্পীর জীবন ইতিহাস রচনার জন্য গবেষণা পদ্ধতি ভিন্নতর। এই গ্রন্থে লেখক গবেষক পাগলা কানাই এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবন ইতিহাস যুক্ত করতে পারলে গ্রন্থটি আরো মূল্যবান হবে বলে আমি মনে করি।

শফিকুর রহমান চৌধুরী
বাংলা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক

ফোকলোর গবেষক।

 

Pagla Kanai O Tar Tattodorshon

$ 3.53
Scroll To Top
Close
Close
Close

My Cart