নাসরেদ্দিন হোজ্জা : একজন বুদ্ধিমান-বোকার গল্প – শেরজা তপন
তিনি কি একজন সুফি দার্শনিক? না কি নিছকই ভাঁড়?
তুরস্ক থেকে আজারবাইজান, ইরান থেকে চীন সব জায়গায় যার হাসির গল্পে মানুষ খুঁজে পেয়েছে গভীর প্রজ্ঞা, সেই নাসরেদ্দিন হোজ্জাকে নিয়ে এ এক বিস্ময়কর বই। বইটি পড়তে গিয়ে নতুন ধরনের পাঠ-অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েছি।
বহু শতাব্দী ধরে হোজ্জার নামের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য কিংবদন্তী ও কাহিনি। কিন্তু আসল মানুষটা কে ছিলেন, তা জানার প্রয়াস খুব কমজনই করেছেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় এমন কাজ নজরে আসেনি। হয়তো এমন কাজ সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রথম। লেখক এখানে ইতিহাস, লোকগাথা ও ধর্মদর্শনের আলোয় হোজ্জাকে পুনরাবিষ্কার করেছেন একজন চিন্তক, সমাজসচেতন ব্যঙ্গকার এবং সর্বোপরি এক অনন্য মানবপ্রেমিক হিসেবে।
বইটি পাঠককে শুধু হাসাবে না, ভাবাবে, আলোড়িত করবে। এতে আছে ইতিহাসের দলিল, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং আন্দোলনের গল্প। একজন প্রজ্ঞাবান মোল্লার গল্পে আপনি খুঁজে পাবেন নিজের সমাজ, নিজের সময়, আর হয়তো নিজেকেও। প্রসঙ্গক্রমে আমরা কেউ কেউ শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে বলে ফেলি তার দুএকটি গল্পও। এতদিন পরেও হোজ্জা তাই আজও প্রাসঙ্গিক দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীব্যাপী।
Nasreddin Hozza : Ekjon Buddhiman Bokar Golpo - Sherza Tapon
দুঃখ নদীর ধারাপাত – আদ্যনাথ ঘোষ
কাব্যস্বরের নিজস্বতা একজন কবির জন্য বড়ো বেশি প্রয়োজন। আদ্যনাথ ঘোষ কবিতায় সেই চিরায়ত কাব্যস্বরের পরিবর্তন ঘটিয়ে আলাদা ইমেজ, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অনুপ্রাস, প্রতিমা ব্যবহারে পাঠকচিত্তে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। শব্দ ও চিত্রকল্পের ক্ষেত্রে আদ্যনাথ ঘোষের কবিতার স্বতন্ত্রধারা পরিলক্ষিত হয়। কবিতার শরীরসজ্জা গদ্যাত্মক হলেও আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা আত্মাকেই ধারণ করে। তাঁর কবিতার শিল্পভাষা, কল্পনার উচ্ছ্বাস, কাব্যিক ঢং অন্যান্য কবিদের থেকে অনেকটাই আলাদা। আদ্যনাথ ঘোষ মূলত স্বতন্ত্রস্বরের রূপকাশ্রয়ী লিরিকধর্মী ও ব্যঞ্জনাধর্মী কবি। কবিতার ভেতরে ঘোর, আত্মমগ্নতা ও পরাবাস্তবতা নির্মাণে ঈর্ষণীয় কারিগর। ইমেজের ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় এ-কবিকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে উন্নীত করেছে। তাঁর কবিতার আত্মা কাব্যপাঠকচিত্তে আলাদা অনুরণন সৃষ্টি করে। উত্তরাধুনিক যুগের এ-কবির কবিতার বাঁকবদল সত্যিই অনন্য।
প্রকাশক
Dukkho Nodir Dharapat - Adyanath Ghosh
স্বপ্নপুরীর গল্পগাথা – বেণীমাধব সরকার
কথাসাহিত্য, কাব্যসাহিত্য, ছড়াসাহিত্য- কোনো ক্ষেত্রেই আমাদের বাংলা সাহিত্য দরিদ্র নয়। ঋদ্ধ ও পরিপুষ্ট। সাহিত্য-শিল্পে একটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় এবং প্রাকৃতিক চালচিত্রের প্রতিফলন ঘটে। সাহিত্যের অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় ছড়ায় এই প্রতিফলন অত্যন্ত স্বচ্ছ। আবহমান কালের ধারায় ছড়া একটি শক্তিশালী প্রাচীন সাহিত্যমাধ্যম।
এ গ্রন্থের লেখাগুলো শিশুদের উপযোগী ছড়া। তবে কেউ যদি গ্রন্থের কিছু ছড়াকে ছড়া-কবিতা অথবা কিশোর কবিতা বলতে চান বারণ করার মতো শক্ত যুক্তি দাঁড় করানো কঠিন। ছন্দ ও অলংকারসমৃদ্ধ এই কবিতাগুলোতে শিশুকিশোর মনের কোমল বৃত্তি-মাধুর্য়ের আশাআকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন ঘটেছে। এতে আছে দেশ, প্রকৃতি, ফুল, পাখি এবং বাস্তব জীবনের বিশুদ্ধ চিত্তের বৈচিত্র্যময় প্রকাশ।
আমার লেখাগুলো যত্ন সহকারে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার জন্য অনুপ্রাণন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী জনাব আবু মো. ইউসুফকে জানাই সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।
শিশু-কিশোরসহ বিদগ্ধ পাঠক যদি এই লেখাগুলো পাঠ করে আনন্দ পান তবেই লেখাগুলো সার্থক হয়েছে বলে আমি মনে করব।
Swapnopurir Golpogatha - Benimadhab Sarker
ফুল, পরি আর প্রজাপতি – শাহ নিসতার জাহান
বইটির সকল গল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতোপূর্বে প্রকাশিত। শিশু, কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাক প্রভৃতি পত্রিকায়। সবগুলি গল্পে মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর নানাবিধ সম্পর্ক, বিশেষত বন্ধুত্বের সম্পর্ক দেখাবার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য প্রাণীদের কাছাকাছি যেতে পারলে, কিংবা তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারলে, তারাও মানুষের অনেক কাছের বন্ধু হতে পারে। সেটা বোঝাবার চেষ্টাও এখানে আছে। প্রতিটি গল্পে ফুল, পরি এবং প্রজাপতি কোনো না কোনোভাবে রয়েছে। তাই বইটির এই নাম দেয়া। তবে এক্কেবারে ঐ নামে কোনো গল্প এই বইয়ে নেই। এই গল্পগুলি পড়ে কখনো মনে হতে পারে, হয়তো কোনো রূপকথার গল্প। আসলে তা নয়। এগুলি নিছক রূপকথা নয়। ছোটোরা যখন পড়বে, তাই সম্ভব হলে বড়োরা তাদের বুঝিয়ে দেবে গল্পে কী বলতে চেয়েছে এবং এখানে আসল গল্পটি কী কিংবা সমস্যা কোথায়। সেই আলোচনায়, টিকে থাকবে আমাদের আর শিশুদের কল্পনা। সবার ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর পৃথিবী স্বপ্নময় হয়ে উঠবে সকলের ভালোবাসায়।
Ful, Pori ar Projapoti - Shah Nister Jahan
রোড টু পামির : ইতিহাস ও আদিম প্রকৃতি যেখানে মিশেছে – এলিজা বিনতে এলাহী
ভ্রমণ তাঁর নেশা। বেরিয়ে পড়েন যখন-তখন। কখনও সপরিবারে, কখনও সবান্ধব, কখনও শুধু নিজের সঙ্গে। তাঁর আকর্ষণের বিষয় ইতিহাস। সম্প্রতি ভ্রমণ করে ফিরেছেন পৃথিবীর ছাদখ্যাত পামির মালভূমির এমাথা-ওমাথা।
মধ্যএশিয়ার দেশ তাজিকিস্থানের পামির মালভূমির পুরো অঞ্চলটির নাম গর্নো-বাদাখশান প্রদেশ। স্থানীয়রা বলেন পামির হাইওয়ে। যুগে যুগে বণিক, তীর্থযাত্রী, রাজবন্দি, প্রত্নসন্ধানী অভিযাত্রীদলের রেশমপথ। তাজিকিস্থানের ৪৫ ভাগ স্থান জুড়ে রয়েছে এই পাহাড়ি অঞ্চল। ১০ দিনের রোড ট্রিপে তিনি ভ্রমণ করেছেন তাজিকিস্থানের ৪টি ঐতিহাসিক শহর আর পামির মালভূমির ৪টি জেলা। তাছাড়াও এই রোড ট্রিপে কত ছোটো-ছোটো শহর, গ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল ছুঁয়ে গেছেন, খানিক থেমেছেন তার ইয়ত্তা নেই।
তাজিকিস্থানের প্রাচীন ইতিহাস, পামির মালভূমির আদিম প্রকৃতি, প্রাচীন বণিকদের রেশমপথ, মানুষ, সংস্কৃতি, খ্যাদাভাস, জীবন- সব মিলেমিশে বাংলাদেশি ভ্রমণকারী এলিজা বিনতে এলাহী রচনা করেছেন মধ্যএশিয়ার প্রাচীন রাজপথ ভ্রমণের এক আকরগ্রন্থ ‘রোড টু পামির’।
Rode To Pamir : Itihas O Adim Prokriti Jekhane Misheche - Eliza Binte Elahi
অতলের পদ্মপুরাণ – লীনা ফেরদৌস
‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে- রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন। সহজ কথা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক আর সংবেদনার ভাষা, দর্শনের একরকম উন্মোচনই তো!
লীনা ফেরদৌস কবি এবং তার এই কবিতাগুলোর ভেতর শৈশবস্মৃতি, একাকীত্ব, নৈঃসঙ্গ্য-স্বরূপ আর দেশ-ভাবনা ডুব-সাঁতারের মতোই পাঠকের কাছে ধরা দেয়।
‘নদী আসলে নরম নয়-অভিমানের স্রোতে সব ভাসায়।‘
কিংবা-
‘নারীরাই হয়তো নীল আকাশ, প্রতিটি মেঘে লুকিয়ে আছে একটি অপেক্ষমান জন্ম।’
দুটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে লীনার এর আগে, এটি তৃতীয় বই-সম্ভাবনার একরাশ পাপড়ি ছড়ানো লীনার কবিতা। বইটির পাঠক-মনোযোগ আকৃষ্ট হোক প্রভূত পরিমাণে-এই প্রত্যাশা করাই যায় অনায়াসে।
Ataler Padmapuran - Lina Ferdows
জিনকন্যা নার্গিসের প্রেম (দ্বিতীয় সংস্করণ) – হুমায়ুন কবির
সম্মানিত পাঠক, আপনি যতই উপন্যাসের মর্মমূলে প্রবেশ করবেন, ততই সবিস্ময়ে আবিস্কার করবেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য প্রেমকাহিনী। এই প্রেম নিছক মানবীয় নয়, এই প্রেম মানুষ ও জি¦নকন্যার। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ক্রস-অ্যাফেয়ার’। উপন্যাসের নায়ক নাসির এক শ্বাসরুদ্ধকর মহাজাগতিক ভ্রমণে পাঠককে নিয়ে গেছেন সুগভীর রোমাঞ্চ ও অ্যাডভেঞ্চারে। মানবজীবনের গতিপথ শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যের কালচক্রে বাঁধা হলেও এ উপন্যাসের জীবনচক্র যেন আবর্তিত হয়েছে উল্টোরথে।
এই উপন্যাসের লেখক শুধু জীবনকেই স্পর্শ করেননি, তিনি স্পর্শ করেছেন ভূগোল ও ইতিহাসকেও। তাঁর বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক নিদর্শন, জি¦নজাতির ইতিহাস, সমাজ, সংসার ও প্রেম। উপন্যাসের বাঁকে বাঁকে পাঠক আন্দোলিত হবেন মানবজীবনের হাসিকান্না, স্বপ্ন, অশ্রু, দুঃখ, অভিমান, হিংসা, ঘৃণা, প্রতীক্ষা ও বিসর্জনের দোলাচলে।
-ড. শাহেদ ইকবাল
Jinkonna Nargiser Prem - Humayun Kabir
পিওর মসগ্রীন – আব্দুল্লাহ্ আল বাকী
বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাস খুব পুরানো নয়, তবু এগিয়েছে পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে। আলাদা করে বলতে গেলে, বাংলাদেশের ছোটোগল্পের যে স্বকীয়তা তা বোধ করি সচেতন পাঠকগণ সহজেই অনুমান করতে পারেন। একুশ শতকের দুটি দশক পার হবার পরে বাংলা ছোটোগল্প এখন তার আধুনিকায়নের নতুন স্তরে পৌঁছে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এদেশর তরুণ গল্পকারেরা বিষয় নির্বাচনে গ্রাম্যজীবন ছেড়ে এখন হয়েছে নগরমুখী। আধুনিক নাগরিক জীবনের একাকিত্ব, অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রেম, হতাশা, চিন্তা চেতনা, যৌনতা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এসেছে ভিন্নতা। সেই নগর জীবনের একাকী মানুষ থেকে শুরু করে দেশের ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় গল্প হয়ে উঠে এসেছে ‘পিওর মশগ্রীন’ গল্পগ্রন্থে। এই এক মলাটে স্থান পেয়েছ মোট দশটি গল্প। দশটি গল্পের প্রতিটি গল্পকে আলাদা করা যায় তার বিষয় বৈচিত্রতায়। গল্পগুলোতে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশভাগ, করোনাকালীন সময়ে ব্রোথেলের অভ্যন্তরিন সংকট, রাজশাহী অঞ্চলের লোকসংগীত আলকাপ শিল্পীর অর্থনৈতিক দৈউলিয়াত্ব ও পর্ণগ্রাফির মতো বিষয়। গল্পের বিষয় ভিন্নতা ও তার আধুনিক উপস্থাপনের কারণে গল্পগুলো পাঠকের মনে এক দীর্ঘ চিন্তার খোরাক যোগাবে বলে মনে করি।
Pure Mossgreen - Abdullah Al Baky
বিভাবরী – সাখাওয়াত হোসেন
আহসান সাহেব অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে এক দুপুরে আক্ষরিক অর্থে ভাঙতে শুরু করেন। তার শরীর থেকে খসে খসে পড়তে থাকে অসংখ্য ইটের টুকরো। তিনি কেন ভাঙছেন? অথবা বজরা খালের বাঁশের সাঁকোর ওপর কেন সন্ধ্যাবেলায় উঠে বসে থাকে ফজল আলীর কনিষ্ঠ সন্তান? জলে কোঁচ ফেলার শব্দ শুনে কেন অজ্ঞাত দুঃখে তার কান্না পায়?
ভরা জোছনায় জায়গা-জমির একতোড়া কাগজ হাতে নিয়েও পিঁপড়া ও ফড়িঙে গল্পের কোন ভাগশেষটা মেলে না মানুষের, জানা দরকার! ডুব দেওয়া দরকার, বিভিন্ন অতল শোকের পুকুরে। কিংবা ওইসব শীতল মধ্যদুপুরের গল্প জানাও দরকার—যখন মানুষ আক্ষরিক অর্থে পুড়তে শুরু করে, নানান অনুতাপে।
কেন একটা মানুষের পূর্ণ এক কলস জলেও তৃষ্ণা মেটে না? কীসের দুঃখ বুকে পুষে একটা মফস্বলের শ-দেড়শো কুকুর এক রাতে লাফ দেয় নদীজলে? কেন কখনো কখনো মধ্যরাতে আসমানের দিকে তাকিয়ে ফেরত আসা যায় না আর? যারা যায়, তারা কোথায় যায়? কেন যায়? ‘বিভাবরী’ উত্তর দেবে তার।
‘বিভাবরী’ মাটির গল্প, গাছের গল্প, প্রাণীর গল্প, জলের গল্প, শোকের গল্প কিংবা আমাদের অন্তর্গত বিবিধ অজানা অচেনা রাতের গল্প। বিভাবরীর জগতে সবাইকে স্বাগত।
Bibhabori - Shakhawat Hossen
বন্দি রাজকুমারী ও মাইকেল মধুসূদন – মনি হায়দার
আমরা কী বেঁচে আছি?
যখন গল্পের সংসারে ঢুকে হাড় মাংস জলে সাঁতার কাটতে পারি, তখনই বুঝতে পারি গল্প আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। প্রাচীনকাল থেকে মানব বিশ্ব কিন্ত গল্পের ঘরবাড়ি। ঘরবাড়ির মানুষগুলোর যতো দুঃখ হতাশা প্রেম খুন অপ্রেম সবই গল্প ধারণ করে নিজেরাই সজীব আর সতন্ত্র কষ্ঠস্বর। গল্পকারের মননে সৃষ্টির শিল্পসূত্রপাতে প্রতিটি গল্প হয়ে ওঠে জীবন রক্তস্রোত।
বন্দি রাজকুমারী ও মাইকেল মধুসূধন গল্প বইয়ের ষোলোটি গল্পের মধ্যে যেমন আছে দুঃখের নৃত্য, তেমন আছে প্রেমের নিঁখুত-নিপুণ খুনের পদ্মফুল। ১৯৭১ সালে হায়েনা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের গাথা শত জনমের অর্জিত অহংকার। গল্পকার সেই স্পর্ধিত অহংকারের পতাকা এঁকেছেন গল্পের বুভুক্ষ জমিন জুড়ে। নদী যদিও নারীর মতো কিন্ত আগ্রাসী ভাঙনে পরিনত হয় বাংলার জনপদ হাঁঙ্গরের হাঁ’য়ে। ধ্বংসের সংবেদে সেই জীবনের গল্পও বইয়ে ঠাঁই পেয়েছে।
আধুনিক নগর জীবনে একটা নিজের বাসা প্রতিজনের পরম আশা। কিন্ত একজন বাকীবিল্লাহ প্রমাণ করে দেয়, সবাই সবকিছু পাওয়ার অধিকার রাখে না। বন্দি রাজকুমারী ও মাইকেল মধুসূধন গল্পবইয়ের গল্পগুলো বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষের ভাঙা আয়নায় প্রতিফলিত মুখ…
Bondi Rajkumari O Michael Madhusudan - Moni Haider
নিতান্তই সাধারণ মেয়ের গল্প – মণীশ রায়
‘আন্দোলন মানেই তৃষার কাছে বুকের ভেতর দাউ-দাউ করা এক উত্তেজনার নাম। নিরন্তর মিছিল, মিটিং, স্লোগানের সম্মোহন আর রক্ত গরম করা জ্বালাময়ী বক্তৃতার ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাত। বন্ধুরা, ভাইয়েরা, বিপ্লবী জনতা, সংগ্রামী সাথিরা- কত রকম সম্বোধন। সব মিলিয়ে উন্মাতাল এক পরিবেশ। গাছ-পাহাড়-বাড়িঘর ভাসানো এক পাহাড়ি ঢল যেন-বা। সমতলকে শত্রু ভেবে তছনছ করে ধেয়ে আসা এক ধোঁয়ার কুণ্ডলী। কোনোকিছু আয়ত্তে নেই, থাকে না কোনোদিন।’
‘সকালে ধ্বনির ঘুম ভাঙার পর পবিত্র মন নিয়ে ড্রয়িংরুমে যখন পা পড়বে তখন ওর চোখে পড়বে, একটা লাশ এলোপাতাড়ি শুয়ে রয়েছে ডিভানে। লোকটার পরনের লুঙি দিয়ে মুখ ঢাকা, নিম্নাঙ্গ প্রায় উন্মুক্ত। ভাবতেই শরীর রি-রি করে ওঠে ধ্বনির। এ লোকটাকেই একদিন ভালোবেসে তোলপাড় করেছিল ক্যাম্পাস জুড়ে? অথচ এখন শুধুই ছি!’
Nitantoi Sadharon Meyer Golpo - Monish Roy
আমাদের মহল্লায় বান্দর আগমনের ইতিহাস ও অন্যান্য গল্প – আহমাদ ইশতিয়াক

দেশভাগ, সম্পর্কের নানান বেড়াজাল, মাটি ও মানুষের জীবনচারণ; যা কিছু আছে সবই আপন। ভিটেমাটি, সন্তান স্বজনের বেদনার্ত আশা ভরসার চিহ্ন এঁকে যাই আপন ভাবনায়।
Amader Mahallay Bandor Agomoner Itihas O Annanya Golpo by Ahmad Istiak























