অর্ক নিখোঁজ – সিরাজউদ্দিন আহমেদ
শিশু-কিশোরদের গল্প পাঠের নির্মল আনন্দ হাস্যরস প্রদান লেখকের মূল উদ্দেশ্য। গল্পের ধারাবাহিকতায় কখনো কখনো গৌণ বিষয়ে হিসেবে এসেছে সমাজের নানা অসঙ্গতির প্রতি তীর্যক বিদ্রুপ, হাস্যরস, মানবিকতা ও শিক্ষণীয় কিছু উপাদান। যাদের উদ্দেশ্যে গল্পগুলো লেখা হয়েছে আমার বিশ্বাস গল্পের নানা কর্মকান্ডে শিশু কিশোরদের মুখে হাসি ফোটাবে, তেমনি ভালো মন্দের মতো কিছু মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাবে ‘অর্ক নিখোঁজ’ বইটি। বড়রাও পড়ে হাস্যরসের নির্মল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন না। হয়তোবা ফিরেও পাবেন কৈশোরের কোনো খন্ডিত স্মৃতি। বইয়ের গল্পগুলো ইতিপূর্বে ধানশালিকের দেশ, কিশোর বাংলা ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের শিশুকিশোর পাতায় প্রকাশিত।
Arko Nikhoj by Serajuddin Ahmed
নিশির চোখে জল – সিরাজউদ্দিন আহমেদ
দশম শ্রেণিতে পড়া ১৫ বছরের নিশি ও কলেজে পড়া ১৭ বছরের অর্ক এই দুই টিনএজ বিপরীত স্বভাবের বালক বালিকার পরস্পরকে ভালো লাগার গল্প ‘নিশির চোখে জল’। এ বয়সে দেহ-মনের যে পরিবর্তন ঘটে, চিন্তা-চেতনায় অনুভবে জেগে ওঠে স্বপ্নের ভুবন, কামনাবাসনার গোপন জগৎ তৈরি হয়। আমি চেষ্টা করেছি টিনএজ বয়সের এই আনন্দ-বেদনা নির্ভর ভুবনের ছবি আঁকতে।
নিশির মা তনিমা ও অর্কের মা মাধবী স্কুল জীবনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। অর্কের বাবা একজন চিত্রশিল্পী। কী এক অজানা কারণে একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই বিপদে মাধবী কারো সাহায্য প্রার্থী হয়নি। এত দিন একাই অর্ককে নিয়ে সংসার টেনেছেন। অর্ক খুব অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য অর্ককে নিয়ে ঢাকায় তনিমার বাসায় এসেছে মাধবী। ১৭ বছরের অর্ক আর ১৫ বছরের নিশির দেখা হয়। তারপর…
Nishir Chokhe Jol by Serajuddin Ahmed
মুখোশ – সিরাজউদ্দিন আহমেদ
‘ এ তোদের কেমন কথা সই। আমার যক্ষ রামগিরি পর্বতে নির্বাসনে, আর আমি প্রাসাদে সোনার পালঙ্কে রূপচর্চা সাজসজ্জার আনন্দে মত্ত থাকবো ?
সে সাধারণ, অতি সাধারণ এক যক্ষ। যক্ষ প্রাসাদ নির্মাণের এক কর্মকার মাত্র। তুমি রাজেন্দ্র রাজনন্দিনী। আমাদের সকলের চোখের মনি। অচিরে তোমার হৃদয় জয় করতে রাজপুত্র যুবরাজগণ স্বয়ংবর সভায় হাজির হবেন।
তোদের চোখে সে সাধারণ। আমার চোখে সে অসাধারণ। সে রাজপুত্র অধিক রাজপুত্র। যুবরাজ অধিক যুবরাজ। সে আমার প্রাণেশ্বর। কীরুপে তাঁকে বিস্মৃত হই, বল সখি ?
চাপা স্বরে সখি বলল, রাজকন্যা, কী সর্বনাশা কথা বলছো তুমি ! যদি রাজার কর্ণকুহরে এ সংবাদ পৌঁছায় তোমার কঠিন দন্ড হবে।
দন্ড আমার প্রাপ্য। আমার জন্য যক্ষ আজ নির্বাসনে। কী অপরাধ যক্ষের ? পাথর কেটে সে আমাকে নির্মাণ করতে চেয়েছে। তাঁর চোখে দেখেছি অমরত্বের স্বপ্ন। রাজা আসে রাজা যায়। সব একদিন ভেসে মুছে যায়। অমর হয়ে থাকবে যক্ষের নির্মাণ, যক্ষ যাঁকে নির্মাণ করেছে তাঁর স্বপ্ন থেকে সেই আমি। আমি কোন রাজকন্যা নই, সাধারণ এক প্রেমিকা মাত্র। আমাকে নিয়ে ভবিষ্যত রচনা হবে নশ্বর প্রেমের অবিনশ্বর কীর্তি। হাজার বছর পরও প্রেমিক-প্রেমিকার অন্তরে হবে আমাদের বসবাস ( দেবতা ও মানুষ) । ‘
Mukhosh By Sirajuddin Ahmed





