Description
বাসার তাসাউফ।
বাসার তাসাউফের লেখালিখি শুরু শৈশবে-কৈশোরেই। তখন স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে তথাকথিত ‘আউট’ বই নিয়ে দিন-রাত নিমগ্ন থাকত আর ছড়া-কবিতা লেখার চেষ্টা করত বলে বাড়ির লোকেরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত। অনেকে ভর্ৎসনা করে বলত, ‘ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে এসব নিয়ে মজে থাকলে শেষে না আবার পস্তাতে হয়।’
শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে এসেছে বহুদিন হলো। মধ্যযৌবনে এসে যখন ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, থ্রিলার, রম্য, নন ফিকশন, শিশুতোষ ও কিশোর উপযোগী- সব মিলিয়ে ১৮টির মতো বই প্রকাশ হয়ে গেছে- এখনও বাড়ির লোকেরা সেই অমোঘ কথাগুলো বলে বেড়ায়। কিন্তু কথাগুলো এখন আর তাকে বিচলিত করে না। সে বিশ্বাস করে, পৃথিবীতে সব মানুষ সফল হয় না। কেউ কেবল বেঁচে থাকে, কেউ আবার কোনোমতে টিকে থাকে। বাসার তাসাউফ কেবল বেঁচে থাকতে চায়নি, চেয়েছে কোনমতে টিকে থাকতে। টিকে থেকে দেখতে চেয়েছে এই পৃথিবীর এমন কিছু বিষয়- যা অন্য কেউ দেখেনি। রাতের নির্জনে যে টুপটাপ শিশির ঝরে পড়ে, ফসলের মাঠ থেকে ভেসে এসে শিয়ালের ডাক আর ঝিঁঝি পোকার কোরাস যে মনের গহীনের বিষাদের আবহ তৈরি করে- তা কি কেউ শুনতে পেয়েছে কখনও? কেউ কি অবগাহন করেছে নারিকেল গাছের চিরল পাতার ফাঁকে জেগে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের অবারিত আলোর বন্যায়? উপভোগ করেছে কি মেঘ জমে থমথমে আকাশ থেকে উপচেপড়া ঝুম ঝুম বৃষ্টির শব্দ? হয়তো আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মাথার ওপরে ছাদ থাকলে বৃষ্টির শব্দ হয় উপভোগ্য আর পায়ের তলায় মাটি থাকলে হাওয়াই চপ্পলের শব্দও নূপুরের নিক্কণ ধ্বনি মনে হয়। বাসার তাসাউফ আকাশকে ছাদ আর মাটিকে অকৃত্রিম নির্ভরতা মেনে এই পৃথিবীতে দিন যাপন করে চলেছে। সফল ও ব্যর্থ মানুষে ভাগ হয়ে যাওয়া সমাজ-বাস্তবতায় স্বেচ্ছায় আপন করে নিয়েছে নিসঙ্গতাকে। অথচ তার চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড় আর সে যেন এক ঝাঁক কাকের কোলাহলে একটি নিভৃত কোকিল। আপন মনে গান গেয়ে যায়। কেউ শুনলেও তার গান চলে, কেউ না শুনলেও তার গান থামে না।


























There are no reviews yet.