Description
এমরান কবির জন্মেছেন ০৫ এপ্রিল, ১৯৭৯ বগুড়ার কৃষ্ণপুরে। সার্টিফিকেটে লেখা ০৯ নভেম্বর, ১৯৮০। বাবা- হাফেজ আশরাফ আলী, মা- মিসেস সফুরা খাতুন। অধুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজে সাব এডিটর হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। এখন একটি অসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন। সম্পাদনা করেছেন ছোটকাগজ থার্ডম্যাগ, সেন্ট্রাল জেল ও পরিধি। পেয়েছেন জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০১০, পাঠকপণ্য পাঠশালা সম্মাননা ২০১২, অক্ষরবৃত্ত পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২০১৯, অপরাজিত সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩। কাব্য, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস মিলিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা নয়। শীর্ষস্থানীয় সবগুলো দৈনিক, ছোটকাগজ, সাহিত্য পত্রিকা ও অন্তর্জালে নিয়মিত লিখে থাকেন। বৃষ্টি ও নাকফুলের গল্প তাঁর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
emrankabir81@gmail.com




























‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’

There are no reviews yet.