Description
জাহানারা নুরীর জন্ম বরিশাল জেলায়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ। শিশু বয়স থেকেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে ১৯৮৬ তে দেশ ও সমাজ পূণঃনির্মানে জাতীয় কর্মসূচীতে যুক্ত। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গোটা আশির দশক তিনি ছোট গল্প ও কবিতা এবং স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পত্র-পত্রিকায়, বেতার এবং টেলিভিশনের জন্য লেখালেখি এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচী নির্মানে যুক্ত আছেন। নারী আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক।বিভিন্ন নারী নীতিমালা তৈরীর আন্দোলনগুলো বেগবান করায় তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের নান পদক্ষেপকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে তিনি বেশকিছু তথ্যচিত্র তৈরী করেছেন। পাশাপাশি পত্র-পত্রিকায় মুক্ত সাংবাদিক হিসেবেও লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কলেজ জীবন থেকে জিলাভিত্তিক পত্রিকার সাহিত্য পাতার সম্পাদনা দিয়ে তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালে প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী: ‘ বাংলা মঞ্চ নাটকে নারী-পুরুষ চিত্রায়ণ’ (১৯৯৩) ফিদেল ক্যাস্ত্রোর পনের ঘন্টার সাক্ষাৎকারের অনুবাদ, ‘ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মুখোমুখি’(১৯৯৭), সেলিনা হোসেনের সম্পাদিত গ্রন্থ হেনরিক ইবসেনের নাটক ও কবিতা গ্রন্থে গ্রথিত গবেষনামূলক প্রবন্ধ – ‘লেডি ঈঙ্গার অব অস্ট্রাট এর মাকড়শা ও পতঙ্গেরা’ এবং ‘লেডি ঈঙ্গার অব অস্ট্রাট এ ইবসেনের নারী চরিত্র’ । ছোটগল্প সংকলন ‘ব্রাত্যজনের পাঁচালী’(২০০৪), উপন্যাস ‘ঘেরের মানুষ’(২০০৮ ), ছোট গল্প সংকলন ‘দহন ও দ্রোহের গল্প’(২০০৯), অনুবাদ গ্রন্থ ‘পুঁজিবাদে নারীর শোষণ ও নিপীড়নের সামাজিক ভিত্তি’(২০১০)। একবিংশ শতকের প্রথম দশকে তার উল্লেখেযোগ্য কিছু গল্প ও নিবন্ধ ও কলাম প্রকাশিত হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিনে।
জাহানারা নুরী বর্তমানে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে ইউরোপীয় পত্র-পত্রিকায় বিশ্লেষণাত্মক কলাম লিখছেন এবং পরবর্তি গ্রন্থের কাজ করছেন।




















বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাস খুব পুরানো নয়, তবু এগিয়েছে পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে। আলাদা করে বলতে গেলে, বাংলাদেশের ছোটোগল্পের যে স্বকীয়তা তা বোধ করি সচেতন পাঠকগণ সহজেই অনুমান করতে পারেন। একুশ শতকের দুটি দশক পার হবার পরে বাংলা ছোটোগল্প এখন তার আধুনিকায়নের নতুন স্তরে পৌঁছে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এদেশর তরুণ গল্পকারেরা বিষয় নির্বাচনে গ্রাম্যজীবন ছেড়ে এখন হয়েছে নগরমুখী। আধুনিক নাগরিক জীবনের একাকিত্ব, অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রেম, হতাশা, চিন্তা চেতনা, যৌনতা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এসেছে ভিন্নতা। সেই নগর জীবনের একাকী মানুষ থেকে শুরু করে দেশের ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় গল্প হয়ে উঠে এসেছে ‘পিওর মশগ্রীন’ গল্পগ্রন্থে। এই এক মলাটে স্থান পেয়েছ মোট দশটি গল্প। দশটি গল্পের প্রতিটি গল্পকে আলাদা করা যায় তার বিষয় বৈচিত্রতায়। গল্পগুলোতে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশভাগ, করোনাকালীন সময়ে ব্রোথেলের অভ্যন্তরিন সংকট, রাজশাহী অঞ্চলের লোকসংগীত আলকাপ শিল্পীর অর্থনৈতিক দৈউলিয়াত্ব ও পর্ণগ্রাফির মতো বিষয়। গল্পের বিষয় ভিন্নতা ও তার আধুনিক উপস্থাপনের কারণে গল্পগুলো পাঠকের মনে এক দীর্ঘ চিন্তার খোরাক যোগাবে বলে মনে করি।
সুব্রত বসাক –
হঠাৎ করেই একদিন চোখে পড়েছিলো প্রায় পৃষ্ঠা খানেক কিছু লেখা। সেটি ফেসবুকে। লেখাটুকু দেখতে গিয়ে মূহুর্তেই পাঠ শেষ হয়ে গেল। সামান্য একটুখানি লেখা অথচ সেই লেখাতে বিষয় বস্তুর বিশালতা ভাবনায় ঘোর তৈরি করেছেছিলো আমার মননে। শৈল্পিক বর্ণনায় লেখাটির আবহ বিষয়বস্তু মনকে ভীষণ ভাবে দোলায়িত করেছিলো। লেখাটুকু ছিলো জাহানারা নুরী’র উপন্যাস ঘেরের জীবন-এর একটি পৃষ্ঠার সংকলন। আমি ইতিপূর্বে তাঁর লেখা পড়িনি। অনেক খোঁজ করে শেষ পর্যন্ত রকমারি থেকে বইটি সংগ্রহ করে পাঠ সমাপ্ত করেছিলাম।
পরবর্তী সময়ে তাঁর নুতন উপন্যাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। খোঁজ খবর করছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে এবারের বইমেলায় অনুপ্রাণন প্রকাশনীতে পেয়েও গেলাম তাঁর গল্পগন্থ ঝড়-জলের জীবন ও অন্যান্য গল্প।
আনন্দের সাথেই বইটি লেখাগুলোর পাঠ প্রায় করেছি। গল্পগুলো পড়ে যথারীতি আনন্দ-বেদনা-নোংরামীর প্রতি ঘৃণায় মনের মধ্যে জমাট বেঁধেছে সাহস। মনের মধ্যে জমাট বেঁধেছে – হাজার সমস্যার মধ্যে জীবনে গড়তে, জীবন বাঁচাতে, সুন্দরের মাঝে জীবনকে উপভোগ করতে চাইলে দরকার অটুট মনোবল আর সাহস।
লেখক জাহানারা নুরীর জন্য শুভেচ্ছা শুভকামনা।