রায়নন্দিনী – শানু মজুমদার
রইছ উদ্দিন দাঁড়িয়ে বললো, স্যার আমি জীবনানন্দ দাশের লিখা ‘সে’ কবিতাটি আবৃত্তি করার চেষ্টা করছি।
“আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে;
বলেছিলো: ‘এ নদীর জল
তোমার চোখের মত স্নান বেতফল;
সব ক্লান্তি রক্তের থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি;
এই নদী তুমি
‘এর নাম ধানসিঁড়ি বুঝি?
মাছরাঙাদের বললাম;
গভীর মেয়েটি এসে দিয়েছিলো নাম।
আজো আমি মেয়েটিকে খুঁজি।
জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে
কোথায় যে চলে গেছে মেয়ে।
সময়ের অবিরল শাদা আর কালো।
বনানীর বুক থেকে এসে
মাছ আর মন আর মাছরাঙাদের ভালোবেসে
ঢের আগে নারী এক- তবু চোখ ঝলসানো আলো
ভালোবেসে ষোলো আনা নাগরিক যদি
না হয়ে বরং হতো ধানসিঁড়ি নদী।”
Raynandini - Shanu Mazumder
বলো না কখনো চলে যাই – রুচি রোকসানা
প্রাচীন মানুষ এক সময় ছিলো প্রকৃতিপুজারী। আকাশ-পাহাড়-সাগর-নদী-জঙ্গলের অপার রহস্য, মানুষের আচরণ ও মনোবৃত্তির অপার বৈচিত্রের থই পেতো না মানুষ। রহস্যের সমাধান বা হাইপোথেসিস দাঁড় করানোর মত সবল যখনো হয়ে ওঠেনি বিজ্ঞান কিংবা দর্শন, প্রকৃতির নানা ঘটনাপুঞ্জি মানুষকে অবাক করতো খুব সহজেই। আজ একটি শিশুও যা জানে, একসময় সেরকম অনেক বিষয়ই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছেও ছিলো অজানা, বিস্ময়কর! বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সবল প্রয়োগে প্রকৃতির আমাদেরকে অবাক করবার ক্ষমতা আজ সত্যিই অনেক কম। তা বলে কি অবাক করা, ব্যাখ্যাতীত ঘটনা আর ঘটে না এ জগতে?
নীরব ইঙ্গিত, অদৃশ্য সূত্র আর অপ্রত্যাশিত মোড়-মোট ষোলোটি গল্প নিয়ে রুচি রোকসানার নতুন বই ‘বলো না কখনো চলে যাই’। এই রহস্যগল্পগুলি পাঠককে টেনে নিয়ে যায় অজানার দিকে, অতিপ্রাকৃত জগতের দরজা খুলে দেয়। পরিচিত বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ, মানসিক দ্বন্দ্ব ও বুদ্ধির লড়াই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিটি গল্প শেষ হলেও রেশ থেকে যায়-পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে, সত্যিই কি সব রহস্যের সমাধান একরকম?
প্রতিটি গল্পে বাস্তব ও অবাস্তবের মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম রেখা টানা আছে, যা একসময় ঝাপসা হয়ে যায়। কখনো অচেনা ছায়া, কখনো অজানা শক্তি, আবার কখনো মানুষের অন্তর্লোকের অন্ধকার-সব মিলিয়ে গল্পগুলো তৈরি করে এক অমোঘ কৌতূহল ও শিহরণ।
Bolo Na Kakhono Chole Jai - Ruchy Rockshana
জাহালম গাছির গন্তব্য – দিলারা মেসবাহ
একটা জাদুকরি কলম কিংবা ছোটোগল্পের জাদুর বাক্স আছে তাঁর- সেখান থেকে তিনি বের করেন একটার পর একটা গল্প। কুশলী কথাশিল্পী হিসেবে দিলারা মেসবাহ তার গল্পগুলোয় জীবনের খণ্ড খণ্ড আখ্যানের ভেতর দিয়ে সমগ্রতার যে সন্ধান কিংবা গন্তব্যের অভিপ্রায় নির্মাণ করছেন, শেষপর্যন্ত সেটাই হয়ে ওঠে মানুষের মানচিত্র- যার অপর নাম অবাক করা এক গল্পভুবন।
দিলারা মেসবাহ আমাদের কথাশিল্পের আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছেন বাতিঘরের মতোন। এখন সময় হয়েছে অনিবার্য। আশা করছি অনালোচনা অনাবিষ্কারের ঘেরাটোপ থেকে তাঁর অনুরাগী লেখক-পাঠকরা নিশ্চয়ই তাঁকে তুলে ধরবেন। তিনি হবেন সৃষ্টিগুণে মূল্যায়িত। তাঁর জন্য অপার শুভ কামনা।
Jahalam Gachir Gantobya - Dilara Mesbah
চরকেদেরখোলা – আমির হোসেন
নদীর কূলেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতার ঐশ্বর্য। আবার নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা ও ঐশ্বর্য ধ্বংসও হয়েছে নদীর বুকেই। নদীর রয়েছে এক অদ্ভুত রহস্যময়ী রূপ। নদী মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা যেমন, তেমনি ধ্বংসের রাহুগ্রাসীর মতো ভয়ংকরও। নদীভিত্তিক উপন্যাস ‘চরকেদেরখোলা’য় মেঘনা নদী-তীরবর্তী ভাঙনকবলিত জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। সেই দেশভাগের পূর্ব থেকে মেঘনার তীরবর্তী গ্রামের মানুষ এবং তার পরিবেশ-প্রতিবেশ, কৃষি ও মৎস নির্ভর জীবন-জীবিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। রাক্ষসী মেঘনার ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে যাওয়া আবার নতুন চর জেগে ওঠা এবং সেই চর দখলের লড়াইসহ অসহায় নিঃস্ব মানুষদের দেশান্তর, ভয়াবহ বন্যা-খরা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালো থাবায় বিপর্যস্ততা, কলকাতাতে ইংরেজ শোষক এবং ব্রাহ্মণ বাবুদের শাসন-শোষণ ও যৌন নির্যাতনের কুৎসিত-বিভৎসতা, আসমে দেশান্তরী হওয়া মানুষের খাদ্যাভাব ও ম্যালেরিয়াসহ বন্য হিংস্র জীব-জন্তুর আক্রমণে বেঘোরে জীবন দেওয়ার সকরুণ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে। তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া মুক্তিসংগ্রামের ভয়াবহতা, দেশীয় রাজাকারদের লুটতরাজ, নির্যাতনের কথা।
উপন্যাসটির পরতে পরতে বর্ণিত হয়েছে অসংখ্য লোকজ কাহিনী-আচার, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, পশ্চাদপদতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা চরের প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের অস্তিত্বের লড়াই, সেই সাথে শোসক ও শোষিতের নিরন্তর কাহিনী চিত্র। বর্ণিত হয়েছে প্রেম-ভালোবাসাসহ মানুষের চিরন্তন স্বপ্ন ও সম্পর্ক, স্বপ্ন ও সম্পর্ক ভঙ্গ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার নিদারুন হাহাকার এবং যাপিত জীবনে ঘটে যাওয়া শত দুঃখ-কষ্টের এলিজিও।
Charkederkhola - Amir Hossain
ফেসবুক রঙ্গ রসিকতা – গ্রন্থনা ও সম্পাদনা শফিক হাসান
ফেসবুক কি সময় নষ্ট করায়, দিয়ে যায় ক্লান্তি-হতাশা?
না; ফেসবুকের প্রাপ্তিও কম নয়। ইতিবাচক ব্যবহার করা গেলে। বিনোদনের দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাঙালি জন্ম থেকে রসিক। কথাবার্তা থেকে যাপিত জীবনের কাজ-কর্মে রসবোধের পরিচয় মেলে। ফেসবুকও হয়ে উঠছে রসাধার।
কেউ কেউ স্ট্যাটাসে এমন সব কথা লেখেন। হা হা হা কিংবা খিলখিল করে হেসে উঠতে হয়। চেপে রাখার সুযোগ নেই। বাছাইকৃত মজাদার ও রসাত্মক ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বইটি। খ্যাতিমান মানুষ থেকে সাধারণের মধ্যে যে রসবোধ প্রখর, প্রমাণ মিলবে এতে।
পাঠককে নিষ্কলুষ হাসি উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টায় মেতেছেন শফিক হাসান। উদ্যোগ সার্থক নাকি অন্যকিছু সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে বইয়ের পাতায় পাতায়।
Facebook Rongo Rosikota - Collection & edited by Shafique Hasan
মায়াবী ট্রেন – মৃন্ময় মনির
ভ্রমণ অনির্দিষ্ট। জন্ম থেকেই তার শুরু। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত একশো বছরের ভেতরেই তা ঘোরাফেরা করে! বেড়ানোর জন্য অনেক যন্ত্রযান রয়েছে কিন্তু ট্রেনের মতো এমন মায়াবী ভ্রমণ আপনি কোথাও পাবেন না! অবশ্য আপনি বসে থাকলেও আপনার পথচলা একদিন শেষ হবেই, প্রাণীর জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ এখনো খোলা নেই।
Mayabi Train - Mrinmay Monir
রাঙাপ্রভাত – পিন্টু রহমান
মানুষের ইতিহাস
মূলত স্বপ্ন আর সংঘর্ষের যুগলবন্দিতে রচিত হয় ইতিহাস।ইতিহাসের পথ ধরে প্রাগৈতিহাসিক অরণ্য থেকে আধুনিক নগরঅব্দি জীবন ও যুদ্ধ সমান্তরাল রেখায় পথ হেঁটেছে। মানুষ তথাপি বৃত্তাবদ্ধ থাকেনি; স্বপ্ন দেখেছে, স্বপ্ন বুনেছে, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে কাল থেকে কালান্তরের পথে অভিযাত্রী হয়েছে। হোঁচট, ভাঙন, মোহভঙ্গ— সবকিছু পেরিয়ে মানুষ আবার দাঁড়িয়েছে নতুন এক ভোরের প্রত্যাশায়। আর সেই প্রত্যাশার গর্ভেই জন্ম নিয়েছে অনিবার্য লড়াই। সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর কিংবা চব্বিশেরগণঅভ্যুত্থান এক-একটি রক্তাক্ত অধ্যায়, যেখানে কাঁচা রক্তরেখায় আঁকা হয়েছে জীবনের ক্যানভাস। ব্যক্তিগত বেদনা ও সামষ্টিক আর্তনাদ মিলেমিশে তৈরি করেছে সময়ের ভাষ্য। হংসমিথুনের মতো ভেসে বেড়ানো অবচেতন মন কখনো প্রেমে, কখনো প্রতিবাদে, কখনো নিঃসঙ্গতায় আশ্রয় খুঁজেছে। ঘোর অমানিশা যত গভীরই হোক মানুষ জানে অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। তাই আশা-আকাঙ্ক্ষার সম্মিলনে লেখা হয় জীবনমুখী গল্প। এখানে যুদ্ধ আছে, ক্ষত আছে, পরাজয় আছে; আবার আছে প্রতিরোধ, ভালোবাসা ও নতুন সকালের স্বপ্ন। “রাঙাপ্রভাত” তাই কেবল একটি ভোর নয়, এটি মানুষের অবিনাশী আশার নামাবলি।
পিন্টু রহমান
কথাসাহিত্যিক
Rangaprovat - Pintu Rahman
হারানো দিনের প্রেম-অপ্রেমের গল্প – সাইদ হাসান দারা
তখন আমি স্মৃতিবিধুরতার কাছে পরাজয় বরণ করে প্রথমবারের মতো সাহস করে আমার অবাস্তব প্রেমের অলীক দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে লাগলাম। ফলে সর্বপ্রথমে আমার মনে পড়ে গেল, ছেলেবেলার বুড়ি আপার কথা। অতঃপর বেঁচে থাকার স্বার্থে আমি একদিন সকলের অমতে তাকেই দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করে ফেললাম।
তারপর ধীরে ধীরে বুঝতে সক্ষম হলাম, ভালোবাসা সম্পর্কে পূর্বে-যতোটা ভেবেছিলাম, সে-আসলে তারচেয়ে আরও অনেক বেশি কিছু পেয়ে চায় এবং সে নিজেকে ছাড়া কিছুই দেয় না পক্ষান্তরে অন্যের থেকে কিছুই গ্রহণ করে না-ভালোবাসার গল্প।
মানব-মানবীর জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা প্রেম-সংক্রান্ত ঘটনাবলি বা তার আখ্যান-উপাখ্যান যে কত ভিন্ন প্রকারের এবং ভিন্নধর্মী হতে পারে। আমার বিশ্বাস-ভালোবাসার তত্ত্ব অনুসন্ধানী পাঠক এবং প্রেম-সংক্রান্ত গবেষকগণ এই ‘হারানো দিনের প্রেম-অপ্রেমের গল্প’ গ্রন্থে তার সন্ধান অবশ্যই পাবেন।
Harano Diner Prem-Apremer Golpo - Sayeed Hasan Dara
কিশোর থ্রিলারভেঞ্চার : টনিমামার অ্যাডভেঞ্চার – ইউনুস আহমেদ
আমাদের টনিমামা! হাল আমলে বিশাল এক সেলিব্রেটি। আমাদের মাঝে, মানে তার ডজনখানেক ভাগনে-ভাগনিদের মাঝে। তো সেই টনিমামা বাসায়। বেড়াতে এলে তার ফ্যানদের এক মেলা বসে যায়।
মজার সব কাণ্ড ঘটে। টনিমামা বলে কথা! টনিমামার একটা ফ্যান ক্লাব আছে। ফ্যান ক্লাবটা করার পেছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান আমার বন্ধু রাহানের। মামাকে একদিন দেখেই রাহান ঝাঁক্কাস রকমের মুগ্ধ হয়ে গেলো। যাকে বলে লা-জওয়াব। একটা কমিজে বই নিতে বাসায় এসেছিলো রাহান কমিজ্ঞে পোকা! সেই কমিজে পোকা আমাকে ডেকে বললো, রাতুল, তোর টনিমামা বেশ মজার লোক। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। রাহান এই একই কথা আরও কয়েক বন্ধুর কাছে ফাঁস করে দিলো। তো সেই টনিমামাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। বন্ধুরা, প্রায়ই আমরা আমরা অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে তোমরাও তবে চলো…
কিশোরদের উপযোগী এরকম আটটি অ্যাডভেঞ্চার গল্প নিয়ে ইউনুস আহমেদের থ্রিলারভেঞ্চার গল্প সংকলন-‘টনিমামার অ্যাডভেঞ্চার’।
Kishore Thrillerventure : Tonimamar Adventure - Younus Ahmed

















