চরকেদেরখোলা – আমির হোসেন
নদীর কূলেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতার ঐশ্বর্য। আবার নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা ও ঐশ্বর্য ধ্বংসও হয়েছে নদীর বুকেই। নদীর রয়েছে এক অদ্ভুত রহস্যময়ী রূপ। নদী মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা যেমন, তেমনি ধ্বংসের রাহুগ্রাসীর মতো ভয়ংকরও। নদীভিত্তিক উপন্যাস ‘চরকেদেরখোলা’য় মেঘনা নদী-তীরবর্তী ভাঙনকবলিত জনগোষ্ঠীর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। সেই দেশভাগের পূর্ব থেকে মেঘনার তীরবর্তী গ্রামের মানুষ এবং তার পরিবেশ-প্রতিবেশ, কৃষি ও মৎস নির্ভর জীবন-জীবিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। রাক্ষসী মেঘনার ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে যাওয়া আবার নতুন চর জেগে ওঠা এবং সেই চর দখলের লড়াইসহ অসহায় নিঃস্ব মানুষদের দেশান্তর, ভয়াবহ বন্যা-খরা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালো থাবায় বিপর্যস্ততা, কলকাতাতে ইংরেজ শোষক এবং ব্রাহ্মণ বাবুদের শাসন-শোষণ ও যৌন নির্যাতনের কুৎসিত-বিভৎসতা, আসমে দেশান্তরী হওয়া মানুষের খাদ্যাভাব ও ম্যালেরিয়াসহ বন্য হিংস্র জীব-জন্তুর আক্রমণে বেঘোরে জীবন দেওয়ার সকরুণ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসটিতে। তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানিদের চাপিয়ে দেওয়া মুক্তিসংগ্রামের ভয়াবহতা, দেশীয় রাজাকারদের লুটতরাজ, নির্যাতনের কথা।
উপন্যাসটির পরতে পরতে বর্ণিত হয়েছে অসংখ্য লোকজ কাহিনী-আচার, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, পশ্চাদপদতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা চরের প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের অস্তিত্বের লড়াই, সেই সাথে শোসক ও শোষিতের নিরন্তর কাহিনী চিত্র। বর্ণিত হয়েছে প্রেম-ভালোবাসাসহ মানুষের চিরন্তন স্বপ্ন ও সম্পর্ক, স্বপ্ন ও সম্পর্ক ভঙ্গ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার নিদারুন হাহাকার এবং যাপিত জীবনে ঘটে যাওয়া শত দুঃখ-কষ্টের এলিজিও।
Charkederkhola - Amir Hossain

