Description
কবি, কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক শানু মজুমদার-এর জন্ম গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শুরুতে সুনামগঞ্জ জেলার ভাটি অঞ্চলের এক স্বচ্ছল গৃহস্থ পরিবারে। দিরাই থানার শেষপ্রান্তে গোপালপুর গ্রাম দেশের একেবারে পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোর মধ্যে একটি। জীবিকার তাগিদে একসময় গ্রাম ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন।
ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস। জীবনের প্রথম কেনা গ্রন্থ ‘বিষাদ সিন্ধু’। প্রথম কেনা উপন্যাস ‘দুই নদী এক ঢেউ’। প্রথম পড়া রাজনৈতিক বই ‘দ্বন্দ বিরোধ প্রসঙ্গে মাও সে তুং’। প্রথম পড়া রাজনৈতিক ইস্তেহার কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার। প্রথম পড়া বিবর্তন-সম্পর্কিত বই ‘যে গল্পের শেষ নেই’। মানব কল্যানে মার্কসীয় মতবাদকে তিনি শ্রেষ্ঠ মতবাদ মনে করেন।
কর্মজীবন শুরু হয় প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে। তারপর গ্রামীণ ব্যাংক এ আট বছর, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস এ প্রায় ত্রিশ বছর কেটে যায়। ২০১৩-১৪ সালে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষীবাহিনীর সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধস্ত সাউথ সুদান পূনর্গঠনে অংশগ্রহণ করেন। তখন ভ্রমণ করেন আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ। বর্তমানে আর্মি অফিসার হাউজিং স্কিম, জলসিঁড়ি আবাসনে ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি নিয়মিত পড়েন এবং লিখে যাচ্ছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, রম্য, স্মৃতিকথা ও অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়াদি।
শানু মজুমদারের জীবনে সবচেয়ে ঘটনাবহুল বিষয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মৈলাম শরনার্থী শিবিরে কেটে গেছে ছয়/সাত মাসের যাপিতজীবন। অতীব পরিতাপের বিষয় হলো, তাঁর পরিবার বিগত ৫৫ বছরে মুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি।
তাঁর জীবনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শিরীন আক্তারের সেঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং তাদের দুটো সন্তানের জন্মগ্রহণ।
তিনি ব্যক্তিজীবনে সৎ, স্বাধীনচেতা এবং বিজ্ঞানমনষ্ক, পরমতসহিষ্ণু একজন আধুনিক চিন্তার অসাম্প্রদায়িক মানুষ বিশ্ব যার স্বদেশ এমন লোকের সঙ্গে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।


























There are no reviews yet.