Description
জন্ম বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায়। ছোট বেলাতেই দেখে আসছেন অকাল বন্যা-খরা আর অনাবৃষ্টিতে কিভাবে পুড়ে যায় কৃষকের স্বপ্ন। প্রকৃতির খামখেয়ালির উপর ভরসা করে চলে এই বিস্তীর্ণ হাওর বাওর এলাকার মানুষের যাপিত জীবন। এমন এক প্রতিকূল পরিবেশেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।
গ্রামের সাধারণ একটা পরিবার। বাবা ছিলেন কৃষিজীবী কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক একজন মানুষ। এমিবা কিংবা পটোপ্লাজম শব্দ দুটি বাবার মুখ থেকেই প্রথম শুনেছিলেন। ছোটবেলায় দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘যে গল্পের শেষ নেই’ গ্রন্থটি বাবার কাছ থেকে নিয়ে এক বসায় পড়ে শেষ করেছিলেন। কার্ল মার্ক্স-মহামতি লেনিন-মাও সেতুং নামগুলোও বাবার মুখ থেকেই শুনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এইসব মহান মানুষদের চিন্তাচেতনা তার ওপর বিস্তর প্রভাব ফেলে।
বাঙালি জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য এক পর্যায়ে পরিবারশুদ্ধ ভারতের মৈলাম শরনার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এটি তার জীবনের এক দুঃখজনক অধ্যায়।
কর্মজীবনে নানা ঘাটের পানি তিনি পান করেছেন। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস হয়ে এখন জলসিঁড়ি আবাসন (আর্মি অফিসার হাউজিং স্কীম) প্রকল্পে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।
ইতোপূর্বে জাতিসংঘ শান্তিমিশনের সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সাউথ সুদান পুনর্গঠনের কাজে চৌদ্দ মাস সেখানে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২ (বারো)।




































‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’
There are no reviews yet.