Description
ভূমিকা :
আশাপূর্ণা দেবীর কবিতাকে জন্মঋণ ভেবে কবি প্রজ্ঞা মৌসুমী নিজেকে তাদেরই উত্তরসূরী ভেবে সেইসব নারীর সহজতা, ব্যক্তিত্বকে ধারণ করে চাইছেন নারীত্বকে প্রকাশ করতে। আর তাই কবির কবিতায় উঠে এসেছে সাংসারিক নারী থেকে বীরাঙ্গনা। তবে ভাবনাকে একমুখী করে সব কবিতা লিখেননি। কোথাও সংসারের গভীরে নিজেকে রুখে দেখেছেন চারপাশ, কোথাও ছুটে গিয়েছেন জীবনের ঘটনাচক্রে কিংবা চিরাচরিত সামাজিক রেখায়। বিষাদ, বিষণœতা, সুখ, প্রত্যাশা, অপেক্ষা, অপেক্ষা, অসহায়ত্ব, দ্রোহ কিংবা প্রেমÑ জীবনের এইসব আটপৌরে অনুভূতিগুলোকে কবি তার এই প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে প্রকাশ করেছেন।













পিয়াইনে রাত্রি নেমে এলে মারিয়া আসে, কিন্তু মেনজপ কেন মারিয়াকে ছুঁতে পারে না? শুধু যাত্রাশিল্পী হওয়ায় ফিরোজা সুন্দরীর সাথে সুখুর মিলন হয় না। তবু ফিরোজা রঙেই কেন সুখু আটকে থাকে? কেন হঠাৎ মেলা বন্ধ হয়ে যায়? অনেক চেষ্টার পর যখন পারুলী বহুদিন আগে লুকিয়ে রাখা আতপ চাল খুঁজে পায়। আলুর দম মাংসের মতো খেতে যেন হয় ভেবে দারুচিনি চেয়ে আনে। পুতুল চেটেপুটে খেতে খেতে আরও ঝোল চায়, তখন পারুলীর সব উল্টে কেন আসতে চায়! একটা টোনা মাছের ভাজি কেন ঝিল্লিকে বস্তি থেকে বঙ্গোপসাগরের বালুকায় টেনে নিয়ে যায়! হরহরের বউয়ের বাচ্চা কেন ধূপের গন্ধে কাঁদে! এক টুকরা মাছ কেন বিধবার লুকিয়ে খেতে হবে! উঠান জুড়ে পুতুলের মতো ছোট্ট মেয়েটির পরনে হিরামনের মতোই বেনারশী। অথচ সেই শাড়িটি পরিমলের বোনা নয়! আষাঢ়ের পয়লা বৃষ্টিতে আনন্দীর অমন কান্না পায় কেন? পয়ত্রিশ বছর পর মহব্বত ফাতিমাকে কি বলতে চায়? শিউলিফোটা রাতে শ্রী দাস লেনে ভুবন চিনু কী নিয়ে এত কথা বলে? জীবনানন্দ চলে যাওয়ার আগেই কেন দুখী ছাই নিয়ে গলিতে আসে না! গাজায় রক্তমাখা শিশুরা ঈদে কী করল, কী করল না- তা নিয়ে রাইসু কেন কাঁদে? চারদিকে এত খিদে, এত কান্না- তার মধ্যেও ঈশ্বরের ভাতঘুম কেন ভাঙে না! এমন সব অমীমাংসিত জিজ্ঞাসা নিয়ে গল্পকার জয়শ্রী সরকার লিখেছেন ‘ঈশ^রকে বল দুখী ডাকছে’।
There are no reviews yet.