Description






$ 3.53 $ 4.71


| Weight | 0.295 kg |
|---|---|
| Published Year |
শিশুদের জন্য সহজ সরল ভাষায় লেখা বিভিন্ন দেশ ও জাতির ১০ টি রূপকথা উপকথা শ্রেণির গল্প রয়েছে বইটিতে। ‘তিন হাজার সোনার মোহর’ গল্পে পারস্য দেশের এক গরীব জেলের বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে পারস্যের শাহ খসরু তিন হাজার সোনার মোহর জেলেকে পুরস্কৃত করেন।
‘ মায়ের হাসি’ আফ্রিকার এবং ‘সারসের পা কেন লম্বা’ উত্তর আমেরিকার উপকথা। ‘স্কীর গল্প’ ফিনল্যান্ডের উপকথা। ‘এক যে ছিল ডাইনী’ গল্পে দুষ্টু শীত বুড়িকে পরাজিত করে প্রকৃতিতে বসন্ত আগমনের গল্প। ‘হাতি কি বোকা’ এক চালাক খরগোসের কাছে এক দুষ্টু হাতির পরাজয়ের গল্প। ‘সমুদ্রের পানি লোনা কেন’ হিংসা ও লোভীর পরিণতি যে ভালো হয় না, এ তারই গল্প। কাজ না করে সারাদিন মজা করে বেড়ালে তার ভবিষ্যৎ যে ভালো হয় না ‘কুটুসের গান’ পড়ে তোমরা তা বুঝতে পারবে। আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একটি বাসের আত্মত্যাগের গল্প ‘একটি বাস ও শিপুর গল্প’। প্রতিটি গল্পে শিক্ষনীয় বার্তা আছে, যা শিশুদের মানবিক গুণ বিকশিত হতে সহায়তা করবে।
Teen Hajar Sonar Mohor by Ansar Uddin Ahmed
তন্ময় ও সুস্ময় নামের দুই জমজ ভাইয়ের কার্যকলাপ নিয়েই “আলোকিত মানুষ ” গল্পটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এই দুভাই পড়ালেখায় বেশ মনোযোগী কিন্তু তাদের শিক্ষক পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। এক ঈদে তিনি তার শিক্ষার্থী দের প্রত্যেককে এমন এক একটা ভালো কাজ করতে বলেন, যে কাজের উজ্জ্বলতার রেশে তাদের চারপাশ আলোকিত হবে এবং তারা আলোকিত মানুষ হিসাবে পরিগণিত হবে।
সেই স্যারের আদেশমতো তারা আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে সমাজের অবহেলিত সমবয়সি রোজকার ময়লা নিতে আসা ছেলে রাজা আর টোকাই বাদশাকে ঈদের দিন তাদের বাসায় দাওয়াত দেয়। দুই ভাই তাদের প্রিয় লোভনীয় স্পেশাল খাবারের একটা মেন্যু তৈরি করে যেগুলো এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলো কখনো টাটকা খায়নি। দোকানের শোকেসের কাচের বাইরে থেকে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এই দুই জমজ ভাই তাদেরকে সেই খাবার চেখে দেখাবার প্রয়াস নেয়। এই মেন্যু ও খাবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে তৈরী করতে খুশিমনে এগিয়ে আসেন তাদের মা। সুস্ময় আগত সমবয়সি প্রত্যেক শিশুকে নতুন জামা, বই, খাতা, স্কুলব্যাগ আর তন্ময় তাদের অতি প্রয়োজনীয় জুতা ও স্যান্ডেল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তাদের এসব পরিকল্পনা শুনে ও দেখে তাদের প্রিয় দাদু নাতিদের কাছে এই শুভকাজে নিজে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ চান। তিনি রাজার মাকে তন্ময় ও সুস্ময়ের মায়ের সেলাই শেখার স্কুলে কাজ শেখানোর সুযোগ দেওয়র প্রস্তাব রাখেন। তিনি মনে করেন, রাজার মা ভালোভাবে কাজ শেখার পরে তাকে নতুন সেলাই মেশিন কিনে দিলে সে স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আর তরকারির ফেরিওয়ালা বাদশার বাবাকে তরকারির ফেরি করার সুবিধার্থে ভ্যানগাড়ি কিনে দিতে চান। এতে কষ্ট করে তাকে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না।
তন্ময় ও সুস্ময়ের পরিবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যদি এগিয়ে আসে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফুটবে। পরিশেষে লেখিকার এই গল্পে বর্ণিত মানুষ গড়ার কারিগর সেই শিক্ষাককে স্যেলুট যিনি তার শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোকিত মানুষ হবার অনুপ্রেরণা বেশ সফলভাবে জাগিয়ে তুলেছেন এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সফল হয়েছেন। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। সেই শিশুদেরকে আলোকিত মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন পরিবারের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা। এই গল্পে সেটাই লেখিকা অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আলোকিত মানুষ - Alokito Manush
তো গল্পটা কী? দাদু শাকিলকে বলেছিলেন- একটা মস্ত বড়ো ভূত প্রতি মঙ্গলবার রাত ঠিক বারোটায় এসে এই দুটো খেজুর গাছের মাথার ওপর দুদিকে দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর লম্বা হাত বাড়িয়ে সবাইকে ডাকে বন্ধু হওয়ার জন্য। কার বুকে এত সাহস যে, ভূতের বন্ধু হবে? কেউ ওর ধারে কাছেও যায় না। তখন ভূতটার খুব রাগ হয়। সে তখন হাত দুটোকে লম্বা বানিয়ে ফেলে আর যাকে সামনে পায় তাকেই ধরার চেষ্টা করে। দাদু আবার এসব ভূতে-টুতে ভয় পান না। তিনি লম্বা একটা তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন ওই হাত দুটোকে কেটে ফেলার জন্যে। যেই না দাদু হাত দুটোকে কাটতে যান, অমনি ভূতটা ভয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এভাবেই চলছিল। কিন্তু দাদুটা বছর খানেক আগে হঠাৎ করে মারা গেলেন। তারপর থেকে আবারো সেই ভূত সেই মঙ্গলবার রাত বারোটায় একইভাবে দুই গাছের ওপর দুই পা রেখে দাঁড়ায় আর ডাকে। কেউ দেখতে পায়, কেউ পায় না। কিন্তু ওই রাতে সবারই গা ছমছম করে ভয়ে। মাঠের দিকে কারো ঘরের জানালাই তখন খোলা থাকে না। এই হলো গল্পটা। অনু যতই শুনছিল ততই ভয়ে ঘামছিল। পরীক্ষায় এত যে ভালো রেজাল্ট করেছে সে- ভুলেই গেল সেটা। বাড়ি ফিরেও কিছুতেই ভয়টাকে তাড়াতে পারে না। ভয়ের কথাটা কাউকে বলতেও পারছে না সে। সবাই ওকে ভীতু বলবে- সেই লজ্জায়।
Khejur Gache Vuter Pa - Raahman Wahid, খেজুর গাছে ভূতের পা - রাহাম ওয়াহিদ
বইটির সকল গল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতোপূর্বে প্রকাশিত। শিশু, কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাক প্রভৃতি পত্রিকায়। সবগুলি গল্পে মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর নানাবিধ সম্পর্ক, বিশেষত বন্ধুত্বের সম্পর্ক দেখাবার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য প্রাণীদের কাছাকাছি যেতে পারলে, কিংবা তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারলে, তারাও মানুষের অনেক কাছের বন্ধু হতে পারে। সেটা বোঝাবার চেষ্টাও এখানে আছে। প্রতিটি গল্পে ফুল, পরি এবং প্রজাপতি কোনো না কোনোভাবে রয়েছে। তাই বইটির এই নাম দেয়া। তবে এক্কেবারে ঐ নামে কোনো গল্প এই বইয়ে নেই। এই গল্পগুলি পড়ে কখনো মনে হতে পারে, হয়তো কোনো রূপকথার গল্প। আসলে তা নয়। এগুলি নিছক রূপকথা নয়। ছোটোরা যখন পড়বে, তাই সম্ভব হলে বড়োরা তাদের বুঝিয়ে দেবে গল্পে কী বলতে চেয়েছে এবং এখানে আসল গল্পটি কী কিংবা সমস্যা কোথায়। সেই আলোচনায়, টিকে থাকবে আমাদের আর শিশুদের কল্পনা। সবার ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর পৃথিবী স্বপ্নময় হয়ে উঠবে সকলের ভালোবাসায়।
Ful, Pori ar Projapoti - Shah Nister Jahan
এই বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মূলত: আমার শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণায়। অনেক দিন ধরে ওরা আমাকে ভূতের গল্প লেখার জন্য উৎসাহ দেয়। দশটা গল্পের মধ্যে চার পাঁচটার মতো গল্প পত্রিকা ও শিশু সাহিত্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। এখানে প্রতিটি গল্পে শিশু কিশোরদের ঠাকুরমার কাছে ভূতের গল্প শোনা, ভূতকে নিয়ে কল্পনা করা, একাকিত্বে ভূতকে সঙ্গী মনে করা, ভূতের লেখাপড়ায় আগ্রহ, পরীর সাথে ভূতের বন্ধুত্ব, বাসাবাড়িতে ভূতের আতঙ্ক, বল আনতে গিয়ে ভূতের কবলে পড়া, করোনা কালীন সময়ে শ্মশানে লাশদের আহাজারি, শাকচুন্নী ও মেছো ভূতের গল্প, ভূত মামার সাহায্যে ফল খাওয়া সহ আরো নানান চমকে দেয়ার মতো কাহিনী সহজভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আশা করি এই গল্পগুলো পাঠকদের মনে রেখাপাত করবে। ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও এই গল্পগুলো পড়ে উপভোগ করবে।
Vuter Kabole Ora Tinjon by Jonaki Dutta
একটা বিড়াল ছানা
কিভাবে সবার মন জয় করে একটা পরিবারের সদস্য হিসাবে নিজেকে মানিয়ে নেয় তাই প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গল্পে।
ক্লাস সিক্স পড়ুয়া নীলার বাবা বাদামী রংয়ের ঠোঙায় করে কদম ফুলের মত একমুঠ পরিমান বিড়ালছানা নিয়ে এলেন। সেই সুন্দর বিড়ালছানার মজার মজার সব কান্ডকারখানা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। বিড়ালের নামকরণ বিশ্লেষণ, মেহমান মুদ্রাদোষ বশতঃ পা নাড়লেই পাক্কা শিকারীর মত বিড়ালছানার সেই পা জাপটে ধরা, বিড়ালের উলের বল নিয়ে খেলা, ক্যালকুলেটর টিপে ভিতরের সংখ্যাগুলোর নড়াচড়া অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখা ইত্যাদি খুটিনাটি কিছুই বাদ পড়ে নি লেখিকার চোখ থেকে। একজন শিশুর চোখেই তিনি পুরো বিষয়টা দেখেছেন।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সুদীর্ঘ কাল চাকরি করার সুবাদে মজার মজার অভিজ্ঞতা তিনি প্রায়ই শেয়ার করেন। লেখিকা বাচ্চাদের চাইল্ড সাইকোলজি বেশ ভালো ভাবেই বুঝেন। গল্প লিখতে গেলে একজন শিশুর চোখেই বিষয়টা দেখার চেষ্টা করেন।
বিড়াল ছানা স্ন্যাফার
তখন আমি ক্লাস সেভেনে। একটি ছেলের সাথে আমার গাঢ় বন্ধুত্ব। টিফিনের টাকায় খাবার কিনে দুজনেই খাই। সেও আমাকে খাওয়ায়। একদিন সে প্রস্তাব করল, ‘আমাদের বাড়ি চলো।’ আমি সানন্দে রাজি হলাম। প্রথমত, নতুন নতুন বাড়ি যাওয়া আমার শখ। দ্বিতীয়ত, খাওয়ার লোভ। বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছি না খাইয়ে ছাড়বে না। সে আমাকে তাদের বসার ঘরে এনে বসালো। আমি সপ্রতিভ হয়ে বসলাম। সে ভেতরে চলে গেল। নিশ্চিত খানিক বাদেই প্লেট ভর্তি খাবার এনে আমার সামনে হাজির হবে। কিন্তু অল্প পরেই বন্ধু খালি হাতে ফিরে এলো। বিষণ্ন মুখে বলল, ‘মা বাড়িতে নেই। তোমাকে কিছু খাওয়াতে পারলাম না।’ এই বলেই সে আবার গেল ভেতরে। ফিরে এলো একটি বই হাতে। বইটি আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা নিয়ে যাও।’ যেন আমাকে খাওয়াতে না পারার দুঃখ ভোলানোর চেষ্টা করছে সে। গল্পের বই হাতে আমিও বিষণ্ন মনে বাড়ি ফিরি। সেদিনই প্রথম গল্প পড়া শুরু। পড়তে পড়তে আমি অভিভূত আর অবাক। গল্প এতো মজার হয়! বন্ধুর বাড়িতে খেতে না পারার দুঃখ ভুলে গেলাম। ঠিক করলাম একদিন আমিও বড় হয়ে গল্প লিখব। আজ আমি হাতে পায়ে বড় হয়েছি, কিন্তু শিশু-কিশোরদের বই পড়া আজও ছেড়ে উঠতে পারিনি। ভবিষ্যতেও পারব না। এই বইটিতে আমার লেখা ভূতের গল্পগুলো তোমাদের ভালো লাগুক। এই প্রত্যাশা।
– লেখক
Borsha Eley Vutta Ase - Jewel Ashraf
তিরিশ বছর ধরে মিনুকে দেখছি। ও আদ্যপান্ত কবি। মার্কসবাদী বলা যাবে? সমাজবাদী তো বটেই! গল্পে ওর ক্যারিশমা সত্বেও ওকে আমি কবিই বলি। হ্যা, কবিতা নিয়েই ওর বেড়ে ওঠা, যে কোন আদর্শবাদীতা খারিজ করে, হাইপাররিয়ালিস্ট দার্শনিকতার আবহে, একাগ্র ঔদ্ধত্যে। এই কবিতাগুলো সামগ্রিকভাবে মিনু মৃত্তিকের ‘ষষ্ট’ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। পূর্বের কাব্যগ্রন্থগুলোর সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য খুঁজতে গেলে বড় আকারের উল্লম্ফন অনুভূত হবে না। তবে রূপের বৈচিত্রে ও গন্ধে আলাদা এক ভাললাগা পাঠকের ইন্দ্রিয়ে নিশ্চিত সঞ্চারিত হবে, একথা বলা যায়। মিনু ক্রমাগত নিজেকে আবিস্কার করে চলেছেন, নাস্তিতে অথবা অধিবিদ্যক প্রেতাত্মার বিকর্ষণে! নিজেকে নিয়ে সর্বগ্রাসী ঠাট্টা আর নিজেকে ভেঙে চলেছেন তীব্র সংরক্ষণহীনতায়, অস্বীকারও করছেন নিজেকে। এভাবে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত আধুনিকতার প্রভাববলয়ের বাইরে ওর নিজস্ব আগুনপথ, যে বিষম আর উদ্ভট মাল্টিকালচারাল পথে নেমে আমরা হতবাক হয়ে যাচ্ছি, হোঁচট খাচ্ছি, বিরক্ত হচ্ছি। আলটিমেটলি মিনু এটাই চান হয় তো–এই অরাজকতায় উশকানি দেওয়া, ‘সত্যে’র প্রতি চোরা অবিশ্বাস তৈরি করা! অমরত্ব মিনুর কাছে তাচ্ছিল্যের ব্যাপার। কিন্তু যে ভাষা-ভায়োলেশান মিনু আমাদের কবিতায় চারিয়ে দিয়েছেন সেটাকে পাঠক সম্ভবত ইগ্নোর করতে পারবেন না।
শিশির আজম, কবি
০৫-০৭-২০২২ খ্রীঃ
প্যারাডাইস এক্সপ্রেস - Paradise Express
টোটো আর টৈ টৈ - Toto Ar Toi Toi
এখানে স্বাভাবিক কিছু নেই, আছে পাওয়া-না পাওয়ার হাহাকার, টানাপোড়েন। জায়গাটার নাম দৌলতদিয়া। এখানকার একটি মেয়ে তারা। অন্য সবার মতোই টিকে থাকতে গিয়ে ওর জীবনেও আছে কিছু দুর্বিনীত সংগ্রাম। এর মাঝে ছেলের জন্ম দেয় মেয়েটি, শুরু হয় নতুন টানাপোড়েন। এত সংগ্রাম-লড়াইয়ের মাঝেও ছেলের মানুষ হওয়ার স্বপ্নে মেয়েটি মরিয়া হয়ে ওঠে। জীবনে যা অবশিষ্ট ছিল সেটুকুও বিসর্জন দিতে একবিন্দু পিছপা হয় না। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে কারও পায়ে পড়তেই দ্বিধা করেনি।
ছেলেটিও মেধাবী। মায়ের বুকের লালিত স্বপ্ন এবং সমাজের দশজনের সহায়তায় ছেলেটি বিদেশে গিয়ে লেখাপড়ার শেষ ধাপ পিএইচডি-ও খুব সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে। দেশে ফিরে এসে ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। মায়ের দোয়া ও নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ছেলেটি হয়ে ওঠে সমাজের মূর্তিমান গর্ব। তবে ছেলেটির ভেতরে ছিল আত্মসম্মানবোধের ভীষণ ঘাটতি। অধিকারের সঙ্গে প্রাপ্তিকে গুলিয়ে ফেলতে ওর সময় লাগে না। একে ওকে ডিঙিয়ে সবকিছু কেড়ে নিতে ছেলেটি ভিড়ে যায় আত্মসম্মানহীন এক শিক্ষক চক্রের সঙ্গে। প্রাপ্তির আনন্দে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা ছেলেটির পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না শিক্ষার সুউচ্চ সম্মান।
গল্পের শেষে বলা যাচ্ছে না দৌলতদিয়ার মেয়েটি নিজের জীবনে সফল নাকি ব্যর্থ। স্বাভাবিক জীবনে গিয়ে ওর ছেলেটি মানুষের মতো মানুষ হবে এই ছিল একমাত্র চাওয়া। সফলতা আর চাওয়া-পাওয়ার হিসাবটা এড়িয়ে যেতে পারলে নির্দ্বিধায় বলা যায় মেয়েটি ছিল একজন মা, একজন পার্থিব নারীর একমাত্র অপার্থিব পরিচয়।
Maa by Bilekasaa
একটা কুঁড়েঘরের সামনে অবশেষে এসে থামে তনু। মানে ওকে থামানো হয়। চোখ মেলে দেখে-ওই কুঁড়েঘরের দরজায় বসে আছে অদ্ভুত এক মানুষ। তিনটে মাথা তার। তিনটি মাথাই দেখতে একই রকমের। মুখ ভর্তি সাদা দাঁড়ি। ভীষণ ভয় করে তনুর এমন অদ্ভুত মানুষ দেখে। তখন তিনটি মাথা একই সঙ্গে তনুকে লক্ষ্য করে বলে ওঠে,
‘ভয় পেয়ো না। আমিও তোমাদের মতোই মানুষ। তবে একটু আলাদা। আমি জানি তুমি তনু। তুমি গান জানো। নাচতে জানো ভালো। তুমি ভালো মেয়ে। তোমাকে আমিই এনেছি। আমার নিঃশ্বাসের বাতাসই তোমাকে টেনে এনেছে। ভয় নেই। তোমার কোন ক্ষতি করবো না’।
লোকটার কথা শুনে ভয়টা একটু কমে তনুর। বলে,
‘কিন্তু কেন? আমাকে তোমার কী দরকার? আমি বাড়ি যাবো। আমাকে যেতে দাও। সন্ধ্যা নেমে আসছে। বাবা, মা আমার জন্য ভাবছে।’ তিন মাথার লোকটি হেসে বলে,
‘তুমি তো এখন যেতে পারবে না মা। আমার কাজ আগে শেষ হোক। তার পরেই তোমার ছুটি।’ তনু জানতে চায়,
‘কী কাজ তোমার? না করলে কী করবে?’ তিন মাথা লোক গম্ভীর হয়ে বলে,
‘কাজটা খুব সহজ। চেষ্টা করলেই পারবে। এক জাদুকর অনেক দিন আগে আমাকে এখানে রেখে গেছে। তার কথা শুনিনি বলেই আমার এই অবস্থা।
Tin Mathar Sei Manushta by Raahman Wahid
– খাবার দিলেই ভালবাসা প্রকাশ পায় না রে বোকা। স্বাধীনতা বলে একটা বিষয় থাকে। বন্দিজীবন কে চায় বল?
কথা বলতে বলতে রাত প্রায় মধ্যপ্রহরে ঠেকলো। দুজনের কারও চোখে ঘুম নামলো না। মিতুর চোখে বারবার টুনিপাখির কথা বলার দৃশ্যটা ভেসে উঠলো। আবিরের বুকে জেগে উঠলো পাখিটি নিজের করে না পাওয়ার আক্ষেপ। রাত গড়াতে থাকে, ভাই-বোনের কথা শেষ হয় না। কথার ট্রেন চলছে তো চলছেই।
বিষয়টি নিয়ে দুজনের খুঁনসুটি চলছে। হঠাৎ শব্দ করে জানালার পাল্লা সরে গেলো। চমকে উঠলো তারা। এতরাতে কী হলো হঠাৎ? কিছু বুঝে উঠার আগেই টুনটুনি পাখিটি উড়ে এসে ঘরে ঢুকে পড়লো। মাথায় সেই আম! প্রথমে দুজনে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। গভীর রাতে এমন ঘটনায় ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক? পরমুহূর্তে আবার কেটে গেলো সে ভয়।
মিতু বললো, সেকি বন্ধু, তুমি! এখনও উপোস করে পড়ে আছো? ওটা খাওনি?
টুনটুনি বললো, এ আম তো আমার একার জিনিস নয় আপু। তুমি পেয়েছো, এটা যে তোমার। আমি জানি, আমটি পেয়ে ছোট-ভাইকে নিয়ে খাওয়ার জন্যে অনেক শখ করেছিলে তুমি। কিন্তু আমাকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিজের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছো। এবার তুমিই বলো, এটা কি আমি একা খেতে পারি?
– কিন্তু এটা তো তোমাকে খুশি হয়ে দিয়েছি। তাহলে খেতে দোষ কোথায়?
– সত্যি বলতে কী, আমি মোটেও ক্ষুধার্ত ছিলাম না। আমি তোমাকে পরীক্ষা করতে মিথ্যে অভিনয় করেছি মাত্র। বলতে পারো তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি।
– মানে?
– মানে হল, আমি আসলে টুনটুনি পাখি না। আমি একটা ভূত। টুনটুনির রূপ নিয়ে তোমাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছি। তুমি পরীক্ষায় পাস করেছো। আমটা চাওয়ার পর, যদি না দিতে, রাগের মাথায় তোমাকে হয়তো খুনই করে ফেলতাম। কিন্তু ক্ষুধার্ত জীবের প্রতি তোমার দরদ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নিজের মুখের খাবার অনাহারির মুখে তুলে দেওয়ার মতো বড় ব্যক্তি পৃথিবীতে আর কে হতে পারে?
Tuntuni Vut by Rafiquzzaman Roni
কবিতা এক নান্দনিক শিল্প। কবিতা ইশারা ভাষায় ব্যক্তির চিন্তা ও মননকে ঋদ্ধ করে তোলে। কোন কবিতার নিবিড় পাঠেও সম্পূর্ণ মর্মোদ্ধার যেমন সম্ভব নয়, তেমনি পাঠ প্রতিক্রিয়াহীন কবিতাও জগতে বিরল। কবিতা বুদ্ধিমান ব্যক্তির ভাবনার জগতকে যেমন প্রসারিত করে তেমনি কবিতা মননশীল ব্যক্তির জন্যে অমূল্য বিনোদনেরও উৎস হয়ে দাঁড়ায়। কবিতা পাঠককে কল্পনা ও বাস্তবতার জগতে ভ্রমণ করিয়ে আনে স্বল্প সময়ের যাত্রায়। কবিতার মধ্য দিয়ে কবি যেমন পাঠকের কাছে উন্মোচিত হন, তেমনি সময়ও অনাবৃত হয়ে ওঠে কবিতার নিবিড় পাঠ ও পরাপাঠে। কবিকে পাঠ করে, কবিতাকে পাঠ করে তার অর্জিত প্রতিক্রিয়ার নির্যাসটুকু ভবিষ্যতের জন্যে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়। কেননা ভবিষ্যতে এই পাঠ প্রতিক্রিয়াই অনাগত পাঠকের কাছে কবি ও কবিতাকে কালজয়ী করে তোলে
Path Sheshe Kabi by Pijush Kanti Barua
নগদ আলীর নগদ চিন্তায় প্রতিদিন সকালে দুটো রুটি যোগাড় হলেই ও মহা খুশি। তারপরই আন্দোলনে নেমে পড়ে। রমনা পার্কের সামনের রাস্তায় তার আন্দোলন চলে। একটি গাছের ডাল ভেঙে মাথার উপর নাচাতে নাচাতে রাস্তার এইপাশে একবার, ওপাশে একবার। পাকা ফুটবল খেলোয়াড়দের মতো মাঝেমধ্যে চলন্ত গাড়িকে কাটিয়ে পারাপার। মাঝে মধ্যে দুএকটা গাড়ি ব্রেক কষলে দৌড়ে সামনে গিয়ে বলবে ‘দেয়, দশটা টাকা দেয়, ভাত খামু।’ কচিৎ কেউ কেউ দেয়। কেউ হয়তো ক্ষেপে উঠে, ‘এ বেটা মরতে চাস, তো ট্রেন লাইনের নিচে যা।’ কিন্তু ও তো বুঝে, ও তো মরার জন্য এগুলো করে না, এটা ওর আন্দোলন। ও এর নাম দিয়েছে ‘ ন্যাংটা ক্ষুধা আন্দোলন।’ এভাবেই চলে ওর প্রতিবাদ। সাঁই সাঁই করে ওকে কাটিয়ে বেরিয়ে যায় চকচকে প্রাইভেট কার। মাঝেমধ্যে কেউ হয়তো ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গালি দেয় ‘ওই হারামজাদা, ফাইজলামির আর জায়গা পাস না। ইতরামি করিস, নামবো যখন পিটিয়ে হাড্ডি ভেঙে দেবো। গায়ের চামড়া খুলে নেবো।’ নগদ আলী আপন মনে হাসে। ওর নাকি পিটিয়ে হাড্ডি ভাঙবে। চামড়া খুলে নেবে। ওর শরীরের মাংস কোথায়! লোকটা আস্ত বোকা! এইটুকু বুঝে না যে, ও তো আমাকে মেরে ঠকবে। আমার তো কাঠামোর উপর শুধু একটা প্রলেপ দেওয়া।
Nogod Alider Andolon - Elias Faruqui
প্রেম বিনে ভাব নাই ভাব বিনে রস
ত্রিভুবনে যাহা দেখি প্রেম হূনতে বশ
যার হুদে জন্মিলেক প্রেমের অঙ্কুর
মুক্তি পাইল সে প্রেমের ঠাকুর ।
‘ পদ্মাবতী ’
আলাওল ( ১৫৯৭ – ১৬৭৩ )
বসন্তের শেষ বিকেল
মায়ের চোখের জল শুধু দুঃখের নয়, তা ভালোবাসার, ত্যাগের আর সীমাহীন আশ্রয়ের প্রতীক। ‘তোমার চোখের জলে আমার জন্ম, মা’ গ্রন্থটি মাতৃত্বকে কেন্দ্র করে লেখা গভীর আবেগময় রচনা। এখানে উঠে এসেছে সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা, অশ্রুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তি আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের জন্য মায়ের অগাধ আত্মত্যাগ।
এই উপন্যাসটি আমার মাকে কেন্দ্র করে লেখা একটি হৃদয়স্পর্শী গ্রন্থ। মায়ের অশ্রু, হাসি, ত্যাগ আর ভালোবাসা সবই আমাকে গড়ে তুলেছে আজকের আমি হিসেবে। এই বইয়ে আমি ফিরে গেছি মায়ের সাথে কাটানো স্মৃতি, সংগ্রাম আর অনন্ত মমতার গল্পে।
এই বই শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে স্পর্শ করবে, মনে করিয়ে দেবে আমাদের জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের পেছনে আছে মায়ের অশ্রু, প্রার্থনা ও অমলিন ভালোবাসা।
এই বই শুধু আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি প্রতিটি মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় এক বিনম্র উপসর্গ।
Tomar Cokher Jole Amar Jonmo, Ma - Saraban Tahura Moumita
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.
















There are no reviews yet.