Description
নিবেদন
আবহমান বাংলার লোকসঙ্গীতের প্রধান একটি ধারা লালন গীতি। লালন শতাব্দীব্যাপী শত শত গান বেঁধেছেন বিভিন্ন প্রকারে- যা গ্রামীণ জীবনের হাজারো উদাসী বাউলের কণ্ঠ থেকে উৎসারিত মোহনীয় অনুপম সুর সুষমা- দীর্ঘদিন ভেসে আসা এই সুর ব্যঞ্জনা দিয়ে জয় করতো সঙ্গীতমনস্ক লক্ষ মানুষের অন্তর- সেই সাথে লালন গীতির সুর ও বাণী সহজ সরল মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনত- এই উদাসী বাউলেরই একজন বাউল শিরোমণি লালন শাহ- যিনি গোটা উনিশ শতক বাঙালি হৃদয়কে মরমি গানের দ্বারা অনুপ্রাণিত করতে পেরেছিলেন।
সঙ্গীত সংস্কৃতি সাহিত্যের কতনা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে একজন নিরক্ষর বাস্তুহারা স্বজনহীন নানা বির্তক ও রহস্যময় মানুষ লালন ফকির আমাদের কাছে বিস্ময়- অন্তরে গভীর জ্ঞান ও মানব সত্তার অমূল্য সম্পদকে ঘিরে তাঁর ছিল সাধনা। সকল গোত্র সমাজ গোষ্ঠী মনের মানুষকে পাবার পরম আকুতি থেকেই লালনের গানের পরিণতি লাভ করেছে স্রষ্টার প্রেমে।
বাউলরা নিরীশ্বরবাদী নয়। তাদের যিনি সাঁই তিনি আলেক মানুষ। অন্তরেই তাকে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথের স্বকীয় উপলব্দিও তাই। এখানেই বাউলদের সঙ্গে তাঁর মিল। রবীন্দ্রনাথের মন মনন মানসে লালন দর্শন অভূতপূর্ব ছায়া পড়ে। বাউল গানের ভাব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথই ‘অশিক্ষিত অকৃত্রিম হৃদয়ের সরল গান’ প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথের পথ ধরে বহু মণীষী লালন চর্চায় মনোনিবেশ করেন। লালনীয় প্রভাবে রবীন্দ্র সাহিত্য আর এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
লালন ছিলেন আধ্যাত্মবাদী ও তত্ত্বান্বেষী। তিনি অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যে তত্ত্বজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর সাধন ভজনে নানা সুর গুঢ়তত্ত্ব রূপকের সাহায্যে গানে গানে প্রকাশ করেন। তাঁর গান তাঁর বাণী ও উক্তির মধ্যে হিন্দু- মুসলিম সংস্কৃতির মিলন সাধনের ক্ষেত্র রচনা সম্ভব হয়েছিল। লালনের আধ্যাত্মিক গানের সুখ্যাতি ও সাধনার জ্যোতি সমাদৃত হয়ে ক্ষুদ্র গন্ডি ছাড়িয়ে দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। লালন সাধনায় ও তত্ত্বজ্ঞানে বাউল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। বহু ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে- কিছু জট ও রহস্য উন্মোচনের মধ্যে দিয়ে লালন স্বমহিমায় ভাস্বর। লালনের ব্যক্তি জীবনের নানাদিক সম্পর্কে ধারণা পেতে এ গ্রন্থ পাঠকদের সহায়ক হলে আমার শ্রম সার্থক হবে।
বইমেলা ২০১৮
শিলাইদহ, কুষ্টিয়া
এস এম আফজাল হোসেন




















মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের চিত্রকলার জগৎ পড়তে গিয়ে প্রথমেই এ কথা মনে হলো যে, লেখক কঠিন বিষয়কে পাঠকের হৃদয়গ্রাহী করার দুরূহ কাজটি সাবলীলভাবে করেছেন। তত্ত্ব, তথ্য, তারিখের জটিল সমীকরণগুলি জীবনের গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে মনোগ্রাহী করে তুলেছেন। লেখক তার গ্রন্থে আমাদের প্রবেশ করাচ্ছেন শিল্প মতবাদ দিয়ে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে চিত্রকলা বিষয়ে শিক্ষিত তথা আনাড়ি, সবার মনে চিত্রকলার বিবর্তনের সম্যক ধারণা তৈরি হবে। এছাড়া শিল্পীদের জীবন ও মনের সংকুল যাত্রাপথ লেখক চমৎকার তুলে ধরেছেন তার বিভিন্ন প্রবন্ধে। লেখাগুলো গল্পের মতন তরতরিয়ে পড়া যায়।


আহসান সাহেব অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে এক দুপুরে আক্ষরিক অর্থে ভাঙতে শুরু করেন। তার শরীর থেকে খসে খসে পড়তে থাকে অসংখ্য ইটের টুকরো। তিনি কেন ভাঙছেন? অথবা বজরা খালের বাঁশের সাঁকোর ওপর কেন সন্ধ্যাবেলায় উঠে বসে থাকে ফজল আলীর কনিষ্ঠ সন্তান? জলে কোঁচ ফেলার শব্দ শুনে কেন অজ্ঞাত দুঃখে তার কান্না পায়?



There are no reviews yet.