Description
সাখাওয়াত হোসেন। উনিশশো সাতানব্বই সালে জন্ম। তার জন্ম, বেড়ে উঠা এবং পড়াশোনা চট্টগ্রামে। দুই হাজার সতেরো সাল থেকে লেখালিখি করছেন। এখনো অবধি দুইটা বই প্রকাশিত হয়েছে।
উপন্যাস : মৃগয়া
গল্পগ্রন্থ ; সুবর্ণ-রাধিকা।






$ 2.87 $ 3.82
আহসান সাহেব অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে এক দুপুরে আক্ষরিক অর্থে ভাঙতে শুরু করেন। তার শরীর থেকে খসে খসে পড়তে থাকে অসংখ্য ইটের টুকরো। তিনি কেন ভাঙছেন? অথবা বজরা খালের বাঁশের সাঁকোর ওপর কেন সন্ধ্যাবেলায় উঠে বসে থাকে ফজল আলীর কনিষ্ঠ সন্তান? জলে কোঁচ ফেলার শব্দ শুনে কেন অজ্ঞাত দুঃখে তার কান্না পায়?
ভরা জোছনায় জায়গা-জমির একতোড়া কাগজ হাতে নিয়েও পিঁপড়া ও ফড়িঙে গল্পের কোন ভাগশেষটা মেলে না মানুষের, জানা দরকার! ডুব দেওয়া দরকার, বিভিন্ন অতল শোকের পুকুরে। কিংবা ওইসব শীতল মধ্যদুপুরের গল্প জানাও দরকার—যখন মানুষ আক্ষরিক অর্থে পুড়তে শুরু করে, নানান অনুতাপে।
কেন একটা মানুষের পূর্ণ এক কলস জলেও তৃষ্ণা মেটে না? কীসের দুঃখ বুকে পুষে একটা মফস্বলের শ-দেড়শো কুকুর এক রাতে লাফ দেয় নদীজলে? কেন কখনো কখনো মধ্যরাতে আসমানের দিকে তাকিয়ে ফেরত আসা যায় না আর? যারা যায়, তারা কোথায় যায়? কেন যায়? ‘বিভাবরী’ উত্তর দেবে তার।
‘বিভাবরী’ মাটির গল্প, গাছের গল্প, প্রাণীর গল্প, জলের গল্প, শোকের গল্প কিংবা আমাদের অন্তর্গত বিবিধ অজানা অচেনা রাতের গল্প। বিভাবরীর জগতে সবাইকে স্বাগত।
সাখাওয়াত হোসেন। উনিশশো সাতানব্বই সালে জন্ম। তার জন্ম, বেড়ে উঠা এবং পড়াশোনা চট্টগ্রামে। দুই হাজার সতেরো সাল থেকে লেখালিখি করছেন। এখনো অবধি দুইটা বই প্রকাশিত হয়েছে।
উপন্যাস : মৃগয়া
গল্পগ্রন্থ ; সুবর্ণ-রাধিকা।
| Weight | 0.268 kg |
|---|---|
| Published Year | |
| অনুপ্রাণন তরুণ লেখক পাণ্ডুলিপি পুরস্কার বিজয়ী | 2025 |
জন্ম ১৯৮৭, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত। প্রকৃতি আর মানুষ এই দুই নিয়েই তার পথচলা। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রয়েছে
প্রেম হলো প্রেমের মতো
লেখকের কথা
প্রতিটি মানুষের জীবনেই রয়েছে অজস্র গল্প। গল্প ছাড়া মানুষের জীবন হতেই পারে না! আর সেইসব গল্প বাস্তবতার- আদৌ কল্পনার নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের নানা রকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। গল্পগুলো সেই সম্পর্কজাত। যা জীবদ্দশায় ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। যারা লিখতে পারেন তারা চেষ্টা করেন সেইসব জীবনস্মৃতির গল্পগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরতে লেখনীর মাধ্যমে। আর যারা লেখায় অভ্যস্ত নন, তারা নিভৃতে মনের ভেতরে সেসব লালন করেন এবং সময়-সুযোগ পেলে অন্যকে বলেন। অনেক লেখক আছেন যারা বিভিন্ন সময় নানা চরিত্রের মানুষের কাছ থেকে তাদের জীবনে অর্জিত অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার গল্প, দুঃখ-বেদনার গল্প, হাসি-খুশির ঘটনা, বিয়োগান্তক কাহিনী ইত্যাদি শুনে উপন্যাস বা গল্পে রূপ দেন।
সাধারণ মানুষ বলি আর বিশিষ্টজন বলি; লেখক বলি আর শিল্পী বলি- তাদের জীবনের গল্পগুলো সাধারণ গল্প নয় বলেই গণমাধ্যমে বা পাঠ্যপুস্তকে সেগুলো প্রকাশিত হয়ে থাকে। শিক্ষামূলক গল্পের যেমন শেষ নেই তেমনি প্রেম-ভালোবাসা, ব্যর্থতা, আশা-নিরাশা, বিচ্ছেদ, লড়াইমুখর গল্পেরও সীমা-পরিসীমা নেই। সেসব জীবনস্মৃতির গল্প পড়ে আমরা বিচিত্র চরিত্র, চিন্তা ও মন মানসিকতার মানুষকে চিনতে, জানতে পারি। এর মধ্যে অনেক গল্পই আছে সাহিত্যরসে টইটুম্বুর- রোমান্টিক, ভাবনার উদ্রেককারী এবং শিক্ষামূলক।
গল্প সাধারণত দুধরনের বলা যায়, এক হচ্ছে, বানানো গল্প বা কল্পলোকের গল্প। দুই হচ্ছে, জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার বাস্তব গল্প। বানানো গল্পগুলোর চেয়ে জীবনস্মৃতির গল্পগুলো বেশি নাড়া দেয় মানুষ তথা পাঠককে। কারণ সেইসব গল্প অনেক মানুষের জীবনের গল্প। বানানো গল্প যেভাবে সুন্দর ভাষা ও অলঙ্কারে আদর্শ চিত্রকলার মতো করে প্রকাশ করা হয়, জীবনস্মৃতির বাস্তব গল্পগুলো সেই রঙে আঁকা সম্ভব হয় না। এতে করে গল্পের প্রাণ হারিয়ে যায়, সংবেদনশীলতা শীতল হয়ে পড়ে। হারিয়ে যায় আকর্ষণও। বানানো গল্প মনে থাকে না, যদি না তাতে বাস্তবতার নোনাজলের ধারা প্রবাহবান থাকে।
মানুষ হিসেবে আমিও ব্যতিক্রম নই। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আমার এই ষাট ছুঁইছুঁই বয়সে বহু ঘটনার সঙ্গে বেড়ে উঠেছি, অর্জিত হয়েছে বিস্তর অভিজ্ঞতা। কত চরিত্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটেছে তার হিসেব নেই। সেইসব ঘটনা অমূল্য স্মৃতি এবং অকাট্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক এতই অম্ল-মধুর যে, পড়ন্ত বেলায় এসে যতই ভাবি ততই নিজেকে ফিরে ফিরে দেখার সাধ জাগে, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে যুগপৎ আনন্দিত এবং বিষণ হই। জীবনস্মৃতির সেইসব অজানা গল্পগুলোই পড়ে অনেকে নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। যুগ যুগ ধরে এটাই সাহিত্যে চলে আসছে। এভাবে কালজয়ী, রসোত্তীর্ণ গল্পও আমরা অনেক পেয়েছি। ভবিষ্যতেও পাব।
জীবনস্মৃতির এই গল্পগুলো ‘সম্পর্ক’ শিরোনামে একটি গল্পসংকলনে পত্রস্থ করে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’ ঢাকা প্রকাশ করে আমাকে চিরঋণী করেছেন। আশা করি গল্পগুলো পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেবে।
‘অনুপ্রাণন’কে জানাই অন্তঃস্থল থেকে অজস্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
প্রবীর বিকাশ সরকার, টোকিও.জাপান, ৭, অক্টোবর, ২০১৭
জীবনস্মৃতির গল্প সম্পর্ক
জুলিয়ান সিদ্দিকী। জন্মÑ ১৯৬৮, পাকশী, পাবনা। বর্তমান আবাসস্থলÑ সৌদি আরব, পেশাÑ চাকুরী। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখেন। প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থÑ উত্তাপ কিংবা উষ্ণতা, কম্পেন্ডার, ছায়াম্লান দিন, ভালবাসার যাতনা যত প্রভৃতি। বাংলা লাইভ ডট কম সেরা গল্প পুরস্কার পেয়েছেন।
বিশ্বাসের দহন ও অন্যান্য গল্প
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
রাজীব নূর খান। জন্ম ১৯৮৫ সালে ঢাকায়। বর্তমানে ফটোসাংবাদিক। আড্ডা দেয়া ভীষণ পছন্দ। কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যে লেখার চেষ্ঠা করেন। মানুষের গভীর গোপন অনুভূতিগুলো ছবি ও লেখালেখির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলোর চেষ্টা করেন। এলামেলো জীবনে অভ্যস্ত হলেও আগোছালো কাজ সহ্য করতে পারেনা একেবারেই।ওর ভীতর রয়েছে আশ্চর্য এক সুন্দর শৈল্পিক সত্ত্বা; যাপিত জীবনের খুব তুচ্ছ বিষয়কেও নিজের রুচিবোধ আর সৃজণী ক্ষমতা দিয়ে পরম উপভোগ্য আর সুখপাঠ্য করে তোলেন।
টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা
অপু শহীদ। ১ লা ফাল্গুন ১৯৭১ সাল। গর্ভের অন্ধকার থেকে পৃথিবীর অন্ধকারে বসবাসের শুরু। পুরোনো ঢাকার নারিন্দার- বেগমগঞ্জ লেনের গাড়ি না ঢোকা সরু গলির শেষ মাথার একতলা ঘরে জন্ম। চুন-সুরকির খসে পড়া দেয়াল ধরে ধরে বেড়ে ওঠা। স্কুলজীবন নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। পরবর্তিতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বন্ধুর অনুরোধে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন।
জীবন ধারণের জন্য দাসত্ব না মানায় কেবলই এক থেকে আরেক অনিশ্চিত জীবনে প্রবেশ। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার সাথে আজন্ম বিরোধ। এখনও স্বপ্ন দেখেন কপর্দকশূন্য ভবঘুরে হওয়ার।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাহাদুরশাহ পার্কের ছাউনিতে বসে লেখালেখির শুরু। এই সময় থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্ক। অভিনয়-নির্দেশনা-নাট্য রচনায় সক্রিয় অস্তিত্ব। আক্ষরিক অর্থেই খাদ্যাভ্যাসে সর্বভূক। পঠন-পাঠনেও সর্বভূক। পাঠের মধ্য দিয়েই একা একা নির্জন গভীর পথের সন্ধান করেন। জীবনের গভীরে ডুব দিয়ে তুলে আনেন স্মৃতির কোলাজ। লেখার সময় ঘোরের মধ্যে থাকেন। অথবা ঘোরের মধ্যেই লেখেন। প্রায়শই লেখা হারিয়ে ফেলেন।
ধর্ম-অধর্ম প্রথা-বিদ্রোহ কিংবা ভবঘুরেশাস্ত্র কোনও কিছুর জন্যই আর অস্থিরতা নেই। নিগূঢ় ধ্যানমগ্ন হয়ে সময়কে প্রিজমে ফেলে বহুবর্ণ কাচের ভেতর দিয়ে দেখেন। সেখান থেকেই খুঁজে নেন গল্প-কবিতা-নাটক। কোনও তত্ত্বে-তথ্যে বাস্তবিকই কোনও আস্থা নেই আর। নেই ঈশ্বর থেকে ঈশ্বরী কোনও কিছুতেই বিশ্বাস। নেই অবিশ্বাসও। একে ঠিক সংশয়বাদ বলে কিনা তা নিয়েও আছে সংশয়।
নগর জীবনের সাজানো মূল্যবোধ দাঁতাল যন্ত্রণা ক্লান্তি-বিকার ধরা পড়ে তাঁর লেখায়।
সার্বজনীন নিরবতা চুক্তি
মোঃ জিয়াউল হক; জন্ম : ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী গ্রামে। পিতা- মোঃ নাছির উদ্দীন, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম। পড়াশোনা : এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : দীর্ঘ এক যুগ ‘গ্রাফিক ডিজাইনার’ ও ‘পেইন্টার’ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার পর, বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।লেখালেখির হাতে খড়ি হয় ১৯৯৫ সালে। লেখালেখির শুরুটা মফস্বল এলাকার নাট্যপ্রেমী ছেলেদের জন্য মঞ্চ নাটকের কাহিনি রচনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা ও ছড়া লেখার চেষ্টা, বহুদিন। সেই চেষ্টা থেকেই ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘দৈনিক ঘাঘট’ পত্রিকায় ‘আঁড় চোখে দেখা’ শিরোনামে বিদ্রুপাত্মক ছড়া নিয়মিত লেখালেখি। এই সময় সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের সাথে নিয়ে ‘অগ্নিরথ’ নামক একটি অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশনা কাজেও যুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে রুটিরুজির জীবনযুদ্ধ শুরু হলে কবিতা-ছড়া বিলিন হয়ে যায় জীবন থেকে।
অন্তর্দাহ
ভাস্কর চৌধুরী মূলত গল্প ও উপন্যাস লেখক। কবি হিসেবেও তার সমান খ্যাতি। লেখার মূল বিষয়বস্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও মানুষ। জন্ম- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী শহরে। কর্মজীবনে চলে আসেন ঢাকায়। আশির দশক থেকে তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। মাঝে দশ বছর দীর্ঘবিরতির পর আবার লেখালেখিতে ফিসে আসেন। রক্তপাতের ব্যাকরণ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এ পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ, গল্পÑ কৃষ্ণপুরাণ, গন্তব্যহীন যাত্রা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গল্পের বনসাই
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে লেখকের নাম হাসান মাহবুব। তিনি নাড়–গোপাল দত্ত অথবা ইসমাইল আহমেদ নন। তিনি রবীন্দ্রনাথ বা আগাথা ক্রিস্টি নন। তিনি দূর আকাশের নীল নক্ষত্র, ধোঁয়া ওঠা কফির মগ, বাজারে মেয়েটির অপরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস, ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল বাঁশি অথবা লোম কাটার মওসুমের ভেড়ার দীর্ঘশ্বাসও নন। তিনি লেখেন। তবে ‘তিনি’ই লেখেন কি-না এই নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ লেখার মতো পরিশ্রমের কাজে বছরের পর বছর এত শ্রম দিয়েছেন, দুটো বইও বের করেছেন (প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং আনন্দভ্রম) তার সাথে এসব ঠিক যায় না। এত সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি হাসান মাহবুব হবার চেষ্টা করছেন এবং তারই ফলশ্রুতিতে আরো একটি বই প্রকাশ করে ফেললেন। তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী!
নরকের রাজপুত্র
ইয়াকুব খান শিশির যতটা না অণুগল্পকার তারচেয়েও বেশি একজন অণুগল্পসমঝদার; বিজ্ঞ আলোচক। অণুগল্পকে অণুগল্প হিসেবে বুঝতে পারার মধ্যেও এক ধরণের মেধার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় অণুগল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা বোধ। এই জ্ঞান বা অণুগল্পবোধটির অভাব থাকলে অণুগল্পের মূল মূরতি দেখা পাওয়া সম্ভব হয় না। ইয়াকুব খান শিশির এমনি একজন পাঠক যার ভেতরে অণুগল্পবোধটি সবসময় জাগ্রত থেকেছে। অণুগল্পের ভেতর-বাহিরের জ্ঞান অর্জন করেছেন। সেই জ্ঞান দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে অণুগল্পের প্রচার প্রসার এবং বাংলা সাহিত্যের একটি নবতর শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্পের সফলতা কামনা করছি।
-বিলাল হোসেন
রাজহাঁস ও অন্যান্য অণুগল্প
মাহতাব হোসেনের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি। দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব এডিটর হিসেবে কর্মরত। শৈশবে ছড়া লিখে সাহিত্যের পথে পা বাড়ান। তনিমার সুইসাইড নোট তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
তনিমার সুইসাইড নোট
আমি কী আর জন্মেছিলাম মানুষ হিশেবে?
জন্মেছিল আবু তাহের, এই লোকটা কে?
মুখ চিনি না তবু মুখের আদল ধরে হাঁটি
শরীর খুলে বাইরে এসে ছায়ায় পরিপাটি।
আমি হয়তো ছায়ার মানুষ, শরীর আরেকজন
তার শরীরেই আড়াল হয়ে বাঁচার আয়োজন।
কার সে জীবন আমার কাঁধে, আমি-ই যে হায় কার
একই সাথে খাচ্ছি-দাচ্ছি ঘুমোচ্ছি আবার।
আমার যে, সে কোথায় থাকে? কোথায় বাড়িঘর?
তার সাথে কী বদলেছে এই আমার টিনের ঘর?
গোধূলির জাদুকর
নুরুল ইসলাম বাবুল কবিতা লেখেন। লেখেন শিশু-কিশোর সাহিত্য। দেশের শিশুসাহিত্য অঙ্গনে রয়েছে তাঁর বিশেষ পরিচিতি। ছড়া, কিশোর কবিতা, গল্প ছাড়াও কিশোর উপন্যাস রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তাঁর ছয়টি কিশোর উপন্যাস নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। নানারকম পরিদের কাহিনী নিয়ে তার সুখপাঠ্য একটি উপন্যাস ‘জলপরি, স্থলপরি ও আকাশপরির গল্প’। স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটির অবসরে শিশুরা করে থাকে মজার মজার কাণ্ডকারখানা। সেসব ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘স্কুল ছুটির দিনে’ উপন্যাসটি। ‘বোবা গুপ্তচর’ উপন্যাসে দেখা যায়- হঠাৎ গ্রামে আগমন হওয়া একজন বোবা লোককে ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল, তারপর ঘটনা এগিয়ে যায় দারুণ এ্যাডভাঞ্চারের দিকে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা উপন্যাস ‘একটি সোনালি ভোরের অপেক্ষায়’ পাঠে জানা যায় রক্তাক্ত একাত্তরের কিছু প্রামাণ্য চিত্র। ভূত নিয়ে বিচিত্র উপন্যাস ‘রাতে রাতে ভূত আসে’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে উপন্যাস ‘রাসেলের বাবা’ পাঠে কিশোররা সমৃদ্ধ হবে। সর্বোপরি বলা যায়, এই গ্রন্থে সংকলিত নুরুল ইসলাম বাবুলের ছয়টি উপন্যাস অনবদ্য সৃষ্টি, যা পাঠে শুধু শিশু-কিশোর নয়; বড়োও পাবে সাহিত্য পাঠের দারূণ আনন্দ।
Chayti Kishor Uponyas by Nurul Islam Babul
জন্ম– ক্ষমা করো, আবার ফেরার জন্য
কেন জানতে হবে ডুবসাঁতার
স্মৃতির ভারে বরফাচ্ছন্ন নির্জন আন্দিজ
বরফের জমাট সরিয়ে তবুও নিই নিশ্বাস
কেউ তো স্মৃতি নিয়ে পালকের মতো হালকা উড়াল
তুমি অরুণিমা ঠিক উড়ছো যেমন
স্মৃতি ভার– স্মৃতি পালক
শৈশবে কেনা অনেক রঙিন ঘুড়ির কাগজ
ঠিক কতোটা ভার হলে নদীতে বসেছে
বাণিজ্যের হাট
আমিই বিক্রি করছি আমার মুখোশ
অন্তরালে তোমার মুখ
এবং প্রথম চুম্বনের শিহরন
অসম্পূর্ণ বৃন্দাবন - Osompurna Brindhabon
সুখানন্দের চেয়ে জীবনের বড়ো প্রাপ্তি আর কিছু থাকতে পারে না। সুখের বহিঃপ্রকাশ ঘটে হাসিতে। হাসি প্রাণশক্তি বৃদ্ধির এক প্রকার নির্ভেজাল নিয়ামক, যা সবার ভাগ্যে জোটে না। ঊষর নির্বিকার ও নিরানন্দ জীবনকে সুন্দর ও রসময় করে তোলার জন্য হাসির বিকল্প আর কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। আর এই হাসি ও আনন্দের যোগানদুয়ার খুলতে পারে রম্য লেখা। রম্য লেখকদের দাপটে সাহিত্যের একটি শাখাই হয়ে গেল রম্য বলে।
রম্যগল্পকারদের নাম করতে গেলে প্রথমেই বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) ও সৈয়দ মুজতবা আলির কথা মনে পড়লেও বাংলা সাহিত্যে আরও অনেক রম্যলেখক রয়েছেন যাঁদের সাহিত্যে রয়েছে হাসির ত‚ণে সমাজের নানা রকম অসঙ্গতি ও নিগূঢ় সত্যকে তীর্যক বাণে বিদ্ধ করার কৌশল। তফিলুদ্দিন মÐলের রম্য গল্পের বাতাবরণেও হাসির আড়ালে সমাজের অনেক অসঙ্গতি ও কুসংস্কারের বিষকাঁটা লক্ষ করা যায়। ইতোমধ্যে তাঁর ‘সেই সব মজার মানুষ’ ও ‘বাহিরে যার হাসির ছটা’ গল্পগ্রন্থ দুটি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তফিলু উদ্দিন মণ্ডলের তৃতীয় গল্পগ্রন্থে মোট ২৯টি রম্য গল্প মলাটবন্দি হয়েছে। এই বইয়ের গল্পগুলো ক্লান্তিহীনভাবে পড়ে শেষ করা যায় গল্পের বুনন ও ন্যারেশনের কারণে। কোনো কোনো গল্প সাধু ভাষায় রচিত হওয়াতে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে এবং মনে হয়েছে সাধু ভাষার জন্যই গল্পের বুনন মজবুত হয়েছে। কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেল, বাক্যগঠনে বিভিন্ন মাত্রা, ভাষার মাধুর্য ও সাবলীলতা এবং বিচিত্র শব্দ চয়নে গল্প নির্মাণে লেখকের অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও দরদ লক্ষ করা যায়। সুখপাঠ্য বইটি পাঠনন্দিত হোক এই প্রত্যাশা করি।
মোজাম্মেল হক নিয়োগী
কথাসাহিত্যিক।
AMLOMODHUR by Tafil Uddin Mondol
বৃত্তের বাইরে কিছুই হলো না,
অতীত বিচ্ছুরিত রশ্মি
বিগত পাণ্ডুলিপির উন্মোচনে
বর্ণমালা পুড়ে আগুন আয়োজনে
বিষাদ লেগে থাকে চোখে।
দূরের কিছু মেঘ ঝলকে উঠে
বলে, রোদ আছে অদূরে
অনেক শূন্যতা আকাশ হয়ে
ছড়িয়ে পড়ে বুকের পাঁজরে।
বৃত্তের বাইরে হাত বাড়াই
বিষাদ লেগে থাকে নখে।
Ekti Mrittu Ebong by Dalia Chowdhury
ভ্রমণ অনির্দিষ্ট। জন্ম থেকেই তার শুরু। মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত একশো বছরের ভেতরেই তা ঘোরাফেরা করে! বেড়ানোর জন্য অনেক যন্ত্রযান রয়েছে কিন্তু ট্রেনের মতো এমন মায়াবী ভ্রমণ আপনি কোথাও পাবেন না! অবশ্য আপনি বসে থাকলেও আপনার পথচলা একদিন শেষ হবেই, প্রাণীর জন্য দ্বিতীয় কোনো পথ এখনো খোলা নেই।
Mayabi Train - Mrinmay Monir
আমার পূর্বপুরুষরা এই গ্রামেরই বাসিন্দা। সে সম্পর্কে যথেষ্ঠ ধারণা পেয়েছি আগে। কিন্তু আমার মতো একজন আগুন্তুককে কি চিনতে পারবে তারা? অতীতে কল্পনার ঝুলিতে যে ছবি এঁকে রেখেছিলাম, মুহূর্তের মধ্যেই তা যেন আষাঢ়ে গল্পে পরিণত হয়ে গেলো। কিন্তু বাবাকে তো কখনো মিথ্যে বলতে শুনিনি।
অজানা-অচেনা আগুন্তুকের দিকে উৎসুক মানুষের নজর পড়ছে। টের পাচ্ছি। তবুও দ্বিধাহীন খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছি গ্রামটিকে। কোথায় সেই ছনের ঘর। কোথায় সেই দোচালা টিনের বাড়ি। কোথায় সেই বনবাদাড়ে ঘেরা বসতঘর। এ যে রীতিমতো অট্টালিকার অরণ্য, ইটপাথরের জঙ্গল। যে কল্প-ছবি বুকে নিয়ে এখানে পা ফেলেছি, সেটা যে দেখছি এই গ্রামের সম্পূর্ণ বিপরীতরূপ। তাহলে কি ভুল পথে পা বাড়িয়েছি আমি? নাকি আধুনিকতা এবং উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে সবকিছু? প্রতিনিয়ত পৃথিবী বদলায়, গ্রাম বদলাবে না কেন? সবকিছু দেখার পর অজ্ঞাত এক কবির কবিতার দুটি লাইন মনে পড়ে গেলো- ‘ক্রমশ বড় হয় শহর, ছোট হয় গ্রাম/ পাথরের কাছে হেরে যায় মানুষ।’
স্মৃতির ছায়াশিস - Smritir Chayashish
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.


















There are no reviews yet.