Description
মারুফ রায়হানের জন্ম ২৩ নভেম্বর ১৯৬২। পৈতৃক নিবাস খুলনায়। স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও অনার্স পড়েন ইংরেজি সাহিত্যে। আশির দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রাবস্থায় প্রবলভাবে নাট্যান্দোলন, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে অভিনয় করেছেন মঞ্চনাটক, টিভিনাটক ও পথনাটকে। ১৯৮২ সালে সামরিক শাসনবিরোধী ভূমিকা রাখায় গ্রেফতার হন।
প্রধানত কবিতাই লেখেন। প্রকাশিত হয়েছে কুড়িটি কবিতাগ্রন্থ এবং নির্বাচিত কবিতার একটি সংগ্রহ।
গুণীজনদের জীবন নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু বই। সাক্ষাৎকারমূলক গ্রন্থ আছে দুটি। প্রবন্ধের বই চারটি। দুটি উপন্যাস (রানী ও কেরানি, আর জে রাজহংসী) বেরিয়েছে, আরেকটি (সোহাগপুর) প্রকাশের অপেক্ষায়।
পেশা সাংবাদিকতা। কাজ করেছেন প্রথম আলোসহ বেশ ক’টি জাতীয় দৈনিকে। বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠে কর্মরত। দেশের প্রথম অনলাইন সাহিত্য ম্যাগাজিন বাংলামাটি-র প্রতিষ্ঠাতা। সম্পাদনা করেছেন ‘মাটি’- নব্বুই দশকের সাড়াজাগানো সাহিত্য মাসিক। বিগত দুই দশক ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একুশের সংকলন সম্পাদনা করছেন যেটিতে থাকে চলতি বছরে প্রকাশিত ৫০ নির্বাচিত বই নিয়ে ক্রোড়পত্র। রেডিও-টিভিতে সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপনা করেছেন বিশ্বসাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘নিসর্গ ও নক্ষত্র’।
২০১২ সালে পেয়েছেন লন্ডনের ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক’।
marufraihan71@gmail.com




















দিনের বৃষ্টির চেয়ে রাতের বৃষ্টি অনেক বেশি আবেদন নিয়ে মানুষের কাছে ধরা দেয়। ঝড়ের রাতে মেঘের ডাক মানুষের মনে অজানা এক রহস্যের আভাস দেয়। শিক্ষা সফরে রাঙামাটি গিয়ে এমনই এক ঝড়ের রাতে অতিপ্রাকৃত সব গল্পের আসর জমে ওঠে। গল্পের মধ্যমণি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষাটোর্ধ্ব বয়সের একজন অধ্যাপক। মেঝেতে থাকা অর্ধগলিত মোমের আলোর সাথে বৃদ্ধ এই শিক্ষকের তীক্ষ্ণ চোখ আর ভারী গলা পরিবেশকে আরো গম্ভীর করে তোলে। গ্রাম বাংলার প্রচলিত নানান ভৌতিক গল্পের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা তিনি ছাত্রদের মাঝে উপস্থাপন করেন। এক সময় যখন মনে হতে থাকে অতিপ্রাকৃত বলে কিছু হয় না, সকল কিছুই বিজ্ঞান। ঠিক তখন এই অধ্যাপকের কণ্ঠ হতে ভেসে আসে ভিন্ন সুর। এবার তিনি বলতে আরম্ভ করেন তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র আর অদ্ভূত সব গল্প । অবারিত এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল ঘটনা ব্যাখার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। শেষ বেলায় এসেও কোথায় যেন একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়…







কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।
There are no reviews yet.