Additional information
| Weight | 0.215 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.41 $ 1.88
ভূমিকা
লেখালেখি আমার কোনো পেশা নয়, এমন কি নেশাও নয়। তাহলে লিখি কেন? আসলে এখনও পর্যন্ত আমি একজন জীবিত মানুষ। এই সমাজ-সংসারের আরও দশ জন মানুষের একজন। তাদের মতো আমারও ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে। সুখ-দুঃখ আছে। হাসি-কান্না আছে। তাদের মতো আমারও কিছু বলার আছে। তাই কিছু বলতে চাই আমি। যেহেতু আমার অদৃষ্ট আমাকে নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, আমি একজন গল্প লিখিয়েই হবো, তাই আমার বলতে চাওয়া কথাগুলো হবে কিছুটা গল্পের মতো। কিন্তু এই গল্প কাকে বলবো? নিশ্চয়ই আমার চার পাশের আর দশ জনকেই বলতে হবে কথাগুলো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমি কোনো নেতা নই, কোনো বক্তা নই। শব্দ যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে গেলে আমার কথা কেউ শুনবে না। কারণ, আমি নিতান্তই নিরীহদের একজন। তাই কাগজ-কলমই আমার সম্বল। সুতরাং কোনো শব্দযন্ত্র ছাড়াই বলতে হবে নীরবে। কিন্তু তবু আমাকে বলতে হবে, যা আমি বলতে চাই। বলতে না পরলে হয়তো দম বন্ধ হয়ে আমি মারা যাবো। হয়তো কান দিয়ে শুনতে পাবেন না কথাগুলো, তবে চোখের আলোয় পড়তে পারবেন কাগজে মুদ্রিত কালো অক্ষরে।
জিয়াউল হক
গাইবান্ধা।
| Weight | 0.215 kg |
|---|---|
| Published Year |
ভূমিকা
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাসটি ভাঙন কবলিত গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসটিতে গ্রামের কৃষক জীবন, সবুজে ঢাকা গ্রাম নদী ভাঙনের ফলে কিভাবে তার সক্রিয়তা হারায়, সেই সাথে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক একটি বাজারের বর্ণনা ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্তনাদ।
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাস নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এখানে গ্রাম্য বধূর সবিস্তার কাহিনী সরলার চরিত্রের মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে। তাছাড়া করিম শেখ ও অন্তুর কাহিনীও এখানে প্রযুক্ত হতে দেখা যায়। বেজগাঁও গ্রামে রাজা রাজবল্লভের বাড়ি, দিঘলী বাজার, কদম পাগলের মাজার ঘিরে মেলা এখানে বর্ণিত হয়েছে।
‘ভাঙনের ডাক’ উপন্যাসে সত্যিকার অর্থেই ভাঙনের একটা সচিত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আবেগ, কৌতূহল, স্বপ্ন আকস্মিকতা উৎকণ্ঠা বজায় রয়েছে। যা পাঠক সাধারণের মনকে একটা সন্মোহ সীমানায় ধরে রাখতে সক্ষম। তাছাড়া এই উপন্যাসে সমাজ মানসের কিছু বিশ্বস্ত চিত্রগাথা পরিস্ফুট উঠার সুযোগ পায়। যা শুধু এদেশীয় সংস্কৃতির আদলে গড়ে ওঠেছে। যেমন ভেলা ভাসানি, বৈশাখী মেলা, কদম পাগলের বার্ষিক মেলা, বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য মেঘরানী উৎসব। সেই সাথে ফুটে উঠেছে একটি কৃষক পরিবারের অভাব-অনটন ও প্রকৃতির বৈরিতা। পদ্মার ভাঙন আর ঝড়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষের আর্তনাদ, যা পাঠ করে অনাস্বাদিত জগতের উপমিত আস্বাদন করা সম্ভব।
ভাঙনের ডাক
শৌখিন ফটোগ্রাফার শুভ্র। তার পৃথিবী মমতাহীন শূন্যতায় ভরা। একে একে কাছের মানুষদের প্রস্থান তার জীবনকে ক্যামেরার ক্লিকের সাথে বন্দি করে ফেলে। এক সময় তার নিঃসঙ্গ জীবনে আসে দুঃখ ভাগ করে নেওয়ায় আগ্রহী মানুষেরা। হয়তো তারা একই মানুষ। ভিন্ন তাদের নাম। তারা সেতু-ঋতু-রূপা অথবা স্বাতী। যারা শুভ্রর মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা-যৌন বিশ্বাস-উড়ন্ত নেশা ও বিপন্ন ক্ষতের সাথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় জড়িয়ে যায়। অথবা তারা কেউ না। শুধু শুভ্র। শুধু নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। নিজস্বতায় নিমগ্ন। যে ক্রমশ ঢুকে যায় অচেনা এক জগতে! নিষিদ্ধ ভাষা ও চিঠির ভাঁজে…
গুহা
একাত্তরের কথকতা
জন্ম ১মে ১৯৬৮, বরিশালের পিরোজপুর জেলার বোথলা গ্রামে। শৈশব থেকে লেখালেখি শুরু। ছোটদের জন্যও লিখেছেন। গল্প, উপন্যাস, সম্পাদনা মিলিয়ে প্রকাশিত বই পঞ্চাশটি। টিভি নাটকও লিখেছেন তিনি।
বুশরার একরাত
মফস্বলের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বীথিকা রায় তথা বীথির জন্ম। যে শৈশবেই একাধিক উন্নত রাষ্ট্র ভ্রমণ এবং ধ্র”পদী গ্রন্থাদি পাঠ করে বাঙালি হিসেবে নিজের অবস্থান বুঝতে পারে। একইসঙ্গে স্বনামধন্য বাঙালিদের গৌরবময় কর্মকাণ্ডের ইতিহাসও পাঠ করে—কিন্তু তাঁদের প্রতি বর্তমান বাঙালি জাতির বিস্মরণ আর চারিত্রিক অধঃপতন দেখে বিচলিতবোধ করে। উন্নত বিশ্বে বাঙালির বৈষম্যের শিকার হওয়াও তাকে আঘাত করে। ফলে তার ভেতরে দেশোদ্ধারের জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে।
বীথিকা জাতিগঠনের পেছনে যে সংস্কারমুক্ত আধুনিক শিক্ষাই প্রধান নিয়ামক সেটা ভালো করেই বুঝতে পারে। আরও অনুধাবন করে, বহির্বিশ্বের জ্ঞানে ঋদ্ধ, অভিজ্ঞ, দেশাত্ববোধসম্পন্ন মেধাবী শিক্ষকরাই কেবল জাতি গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে—রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সেনাপ্রধান নয়।
ভবিষ্যতের সেই রকম একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিকৃতি ও সম্ভাবনা বীথি দেখতে পেয়েছিল কিশোর শংকরের মধ্যে। কিন্তু সামাজিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে ছেলেটি ছিল খুবই বিভ্রান্ত এবং দুর্বল তথাপি, একরোখা—ঋজু বীথি হাল না ছেড়ে শংকরকে তার স্বপ্নের আরাধ্য আদর্শ শিক্ষকে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়। এর জন্য তাকে বিনিয়োগ করতে হয় যৌবনের মূল্যবান দীর্ঘ সতেরটি বসন্ত। কিন্তু হারানোর বেদনায় বীথি ব্যথিত নয়, বরং সে সফল, তৃপ্ত এই কারণে যে, দেশ ও জাতি একজন মহান শিক্ষককে পেয়েছে, যে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও স্বদেশপ্রত্যাগত। তারই ইতিবৃত্ত এই উপন্যাস।
প্রবীর বিকাশ সরকার
অপরাহ্ণে বৃষ্টি
দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী রমণীদের বসবাস এখানে। ওই সুন্দরীদের রূপের সাথে পাল্লা দেয় যৌবন আর যৌবনের সাথে পাল্লা দেয় রূপ কিন্তু সেটা এক রক্ত নহর বহা একনগরী… স্ত্রীর জন্য ৭ পুরের (গ্রামের) জল ও মাটি সংগ্রহ করে পুব্যা এক যুবক। তবে শর্ত ছিল পথিমধ্যে কারো সাথে কথা-টথা বলতে পারবে না সে। যুবকটি কেন বলছে, হায় নারী! হায় স্ত্রী আমার! তুমি আমার অর্ধেক নও, তুমি আমার পুরো পৃথিবী… এরকম অসংখ্য মজাদার কথামালায় রচিত এই দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা উপন্যাসটি। শরীফ শামিলের লেখনী শক্তি ও কল্পনা শক্তি প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর প্রথম উপন্যাস দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা এর ব্যাপারে লিখেছিলাম, ওটি বাংলা উপন্যাসে এক নতুন সংযোজন। আর এ ‘দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা’ উপন্যাসটি বাংলা উপন্যাসে আরেক (সম্পূর্ণ) নতুন সংযোজন।
আবু এম ইউসুফ
প্রকাশক
দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা
জহিরুল হক বাপি। জন্ম ১৯৭৯ সালে নোয়াখালির এক মফস্বলী ঝড়ো সন্ধ্যায়।
চলচ্চিত্র শিক্ষায় স্নাতক। ব্লগার ও গণজাগরণ কর্মী।
লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য বই:
ঈস্রাফীলের শিঙ্গা বাজছে (উপন্যাস)
শোকগাথা’৭১ (উপন্যাস)
আমি আমাকে খেয়ে বেঁচে আছি (কবিতা)
মাটির বাকসো লড়োচড়ো
লেখকের কথা:
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী “রু” আমার প্রথম প্রকাশিত বই হলেও আমার লেখা প্রথম উপন্যাস ছিল এই “প্রজেক্ট পাই”, যেটা আমি লিখেছিলাম দুই হাজার পনেরো সালে, অর্থাৎ আজ থেকেও আরো প্রায় চার বছর আগে। কিন্তু নানা কারণে এই উপন্যাসটা আর প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। তবে কোথাও প্রকাশ না করলেও উপন্যাসটার কথা আমার মাথায় সবসময়ই ছিল। এ-কারণে প্রায়ই “প্রজেক্ট পাই”-এর ফাইলটা বের করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চোখ বুলাতাম। এ-রকম করতে করতেই একদিন হঠাৎ মাথায় চলে এলো “রু”-এর প্লট। লেখা শুরুও করে দিলাম আমার দ্বিতীয় উপন্যাস “রু”। মাঝখানে অনিবার্য কারণবশত নেয়া একটা লম্বা বিরতিসহ প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগলো “রু” লিখে শেষ করতে। লেখা শেষ হবার বেশ কয়েক মাস পর আমার লেখা দ্বিতীয় উপন্যাসটি অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হলো আমার প্রথম বই হিসেবে। বইটি অনুপ্রাণনের সে বছরের বেস্টসেলারও হলো। “রু”-এর পর এবার আমার মাথায় এলো আমার প্রথম সন্তান, অর্থাৎ আমার লেখা প্রথম উপন্যাস “প্রজেক্ট পাই”-এর কথা, যে কিনা গত চার বছর ধরে ঘরবন্দী হয়ে আছে। ভাবলাম, এবারে যে তাকেও মুক্তি দিতে হয়!
অবশেষে “প্রজেক্ট পাই”ও মুক্তি পেলো। প্রজেক্ট পাই সম্পর্কে আমি আমার পাঠকদের আগে থেকে তেমন কিছুই বলব না। শুধু এটুকুই বলব, “রু” যেমন আমার এবং আমাদের গল্প ছিল, “প্রজেক্ট পাই”ও ঠিক তেমনি আমার এবং আমাদের গল্প। এখান থেকে আমাকে এবং আমাদেরকে খুঁজে নেয়া এবং আমাদের মাঝখানে নিজেদেরকেও খুঁজে নেয়ার দায়িত্ব আমি আমার পাঠকদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।
Ñতানভীর আহমেদ সৃজন
আগস্ট ২০১৯
প্রজেক্ট পাই
পিনু মামা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছিলেন। দেখছিলেন বললে মনে হয় ভুল হবে- বৃষ্টির গান শুনছিলেন। কারণ সাঁঝের ঘোলা আলোয় বাহিরটা তেমন দেখা যাচ্ছিল না। আর কী যেন ভাবছিলেন। হয়ত তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কোন গল্পটা আমাদের শোনাবেন তাই ভাবছিলেন। আমরা অধীর হয়ে বসে আছি। পিনু মামা কখন গলা ঝেড়ে কথা বলা শুরু করবেন তার জন্য। আমরা মানে- আমি আর আমার বন্ধুরা। পিনু মামা কানাডায় থাকেন এখন। এর আগে তিনি ছিলেন আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে। তারও আগে ছিলেন আমাজানের গহীন বনে…। গোটা বিশ্ব মামার আবাস ভূমি। কী বিচিত্র অভিজ্ঞতাই না আছে তাঁর ঝুলিতে! মামার গল্প আমি আমার বন্ধুদের কাছে প্রায়ই করতাম। তাই সবার মাঝে মামা ভীষণ জনপ্রিয়। মামা দেশে এসেছেন এবং এখন আমাদের বাসায়- এই কথা শুনে আজ বন্ধুরা আমাদের বাসায় ভিড় করেছে, মামার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে গল্প শুনবে বলে। স্কুলে চলছে গ্রীষ্মের ছুটি তাই পড়াশোনার চাপটাও এখন কম।
পিনু মামার অ্যাডভেঞ্চার
লেখক পরিচিতিঃ
নিজেকে ঘটা করে পরিচয় করিয়ে কি লাভ । আমার এই উপন্যাস পছন্দ হলে এতেই আমার স্বার্থকতা। সবাই ভালবাসুক এই গল্পটা।সবাই ধারণ করুক এই বইটা।
এই পর্যন্ত বইয়ের সংখ্যা ৯টি
১) আমার মা(ভোরের শিশির প্রকাশন
২) বার্লিনে বন্ধুত্ব(ভোরের শিশির প্রকাশন)
৩) ভুতের স্বর্নতাবিজ( বেহুলা বাংলা প্রকাশন)
৪) অল্প কথার গল্প (দ্যুপ্রকাশন)
৫) লাভার্স পয়েন্ট (বেহুলা বাংলা)
৬)তিন প্রজন্মের কাব্য (ছায়ানীড়)
৭) দার্জিলিং কনফেশন (ছোট গল্প) অনুপ্রাণন
৮) উইনিং সেলস এন্ড মার্কেটিং (বেহুলা বাংলা)
৯) পূর্বজদের গুহায় বুদ্ধের দর্শন।(অনুপ্রাণন)
পূর্বজদের গুহায় বুদ্ধের দর্শন
বুদ্ধদেব বলেছেন- জীবন দুঃখময়। কথাটা সর্বাংশে সত্য কিনা সংশয় রয়েছে মনে। তবে এটা সত্যি যে, বারে বারে দুঃখ আসে জীবনে। আসে বলতে মানুষ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে তার কামনা-বাসনার দ্বারা দুঃখকে ডেকে আনে। যদিও দুঃখকে কেউ চায় না। কিন্তু না চাইতেই মহাসমারোহে হানা দেয় জীবনে। কারণ, আলো-আঁধারের মত সুখ-দুঃখও হাত ধরাধরি করে চলে। তাই কোনমতেই দুঃখকে বাদ দিয়ে শুধু সুখ লাভ সম্ভব হয় না। কিন্তু মানুষ চায় সুখের বন্দরে নোঙ্গর গেড়ে জীবনটা কাটাতে। সেখানে পৌঁছতে গেলে দুঃখের পথ অতিক্রম করেই যেতে হয়। জীবনে দুঃখকে জয় করার মধ্যেই আছে পৌরুষ, আছে বীর্যবত্তা। তাই তাকে শক্তিধারণ করতে হয় দুঃখ জয় করার। “দুঃখ জয়ের গান” পাঠকের অন্তরে সেই প্রেরণা জোগাবে যাতে সে কর্ম-সাধনার মধ্য দিয়ে জীবনটাকে সঙ্গীতমুখর করে তুলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
পরিশেষে, বইটির পান্ডুলিপি পাঠ করে মূল্যবান মতামত দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের প্রভাষক নির্জন মজুমদার, কবি দেবী চিত্রলেখা মন্ডল, সাহিত্যিক অমল হালদার, কবি ড. অশোক মিস্ত্রী। তাদের সকলকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। সুস্মিতা ও শ্রেষ্ঠা আমার দুই মেয়ে নিরন্তর স্বপ্ন দেখে চলে কবে বাবার লেখা নতুন বই প্রকাশিত হবে। ওদের প্রেরণা আমার সব সময়ের পাথেয়। প্রথম উপন্যাস প্রকাশ-লগ্নে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। মুদ্রণজনিত ভুল-ত্রুটি পরিহারের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তারপরও অজ্ঞাতসারে কিছু প্রমাদ থেকেই যেতে পারে। সেজন্যে পাঠকের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।
সন্তোষ কুমার শীল
শ্রীরামকাঠী, পিরোজপুর।
দুঃখ জয়ের গান
একাত্তরের কথকতা
লেখক পরিচিতি :
ফকির ইলিয়াস। মূলত: কবি। এছাড়া অবাধ যাতায়াত আছে প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমালোনায়। সাংবাদিক হিসাবেও ব্যাপক পরিচিতি আছে। প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-লালন ও চর্চায় তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এযাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা তেরটি। বিভিন্ন দেশের সাহিত্য পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখা ছাপা হচ্ছে। ‘ঠিকানা শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পুরস্কার’ ‘ফোবানা সাহিত্য পুরস্কার’সহ আরও অনেক পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন দেশে ও বিদেশে। বর্তমানে স্বপরিবারে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
গৃহীত গ্রাফগদ্য
-দাসী প্রথা আদিকাল থেকেই চলে আসছে। সব দেশে সব জাতিতেই দাস-দাসীর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। হিন্দু সামাজিক আইনে ১৫ প্রকার দাস-দাসীর উল্লেখ আছে। মুসলিম সমাজে দাসীপুত্র, যুদ্ধবন্দী, পেটের দায়ে বিকিয়ে দেয়া শিশু, নারী-পুরুষ দাস অর্থাৎ ক্রীতদাস হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাবে আরবীয় সমাজে দাসকে মুক্তি দেয়ার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তবুও দাসবৃত্তি পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায়নি। যুদ্ধে পরাজিত শত্রুদের দাস হিসেবে বিদেশে বিক্রি করে দেয়ার নিয়ম ছিল। ইসলামের আদর্শে দাস-দাসীকে পারিবারিক সদস্যদের মতো সম্মান দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।
ভারতীয় সমাজে দাস ব্যবসা প্রচলন ছিল। খোজা দাসদের মধ্যে কেউ কেউ দিল্লির সুলতান ও বাংলার সুলতানের সিংহাসন অধিকার করেছিলেন। বাংলার সুলতান আলী মর্দান ও সুবেদার মুর্শিদ কুলী খাঁ ক্রীতদাস জীবন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী রাজত্ব বিস্তারকারী উসমানীয় সম্রাট প্রথম সুলাইমান এবং তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হুররেম সুলতানের ক্রীতদাসী হয়েও পরে তাঁর প্রধান স্ত্রী বা সুলতানা হিসেবে সম্মানিত হন।
উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আফ্রিকার কৃষ্ণকায় মানুষগুলো দাস বৃত্তিতে নিয়োজিত ছিল। কাফ্রি মা-বাবা তাদের আর্থিক প্রয়োজনে শিশু-কিশোর বয়েসীদের বিক্রি করতো। মাদ্রাজ ও কলকাতার দাসবাজার থেকে সম্পদশালী লোকেরা তাদের ইচ্ছেমতো দাস ক্রয় করতেন। সুলতানি, মুঘল ও ইংরেজ শাসনামলে বিভিন্ন দাসবাজারে কাফ্রি দাস সহজে পাওয়া যেতো। কাফ্রিদের একই অংশকে খোজা তৈরি করা হতো। মুঘল সরকারের অনুমতি নিয়ে পর্তুগিজসহ বিভিন্ন জাতির লোকেরা ব্যবসায়ে সুবিধা পায়। পর্তুগিজ ও মগ দস্যুরা বাঙালি নর-নারীদের পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করেছে।
বাসাবাড়ির ভেতরে ঘর-গৃহস্থালি কাজের তদারকির জন্য দক্ষ একজন কাজের মানুষ বা গৃহভৃত্যের প্রয়োজন হয়। সব কাজের জন্য নিযুক্ত কাজের ঝি’রা কখনো সমাজের মানুষের চোখে হেয়প্রতিপন্ন হয়। গৃহকর্তা বা কর্ত্রীরা এদের অবজ্ঞার ছলে চাকর-চাকরানী বা গধরফ ঝবৎাধহঃ বলে থাকে। চাকর-বাকরদের খাবার দাবার কষ্ট, দৈহিক নির্যাতন ও অমানুষিক খাটুনি খাটতে হয়। অসুস্থ হলে ছুটি নেই। কোনো সময় ভালো না লাগলে বিদায় করে দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। টাকা দিয়ে কেনা ক্রীতদাসের মতোই ব্যবহার করছে মনিবরা। আবার অধিকাংশ মনিব গৃহভৃত্যদের আচরণে সন্তুষ্ট নয়। মনিব কর্তৃক গৃহভৃত্য নির্যাতনের খবর প্রায়ই ঘটে। পাশাপাশি মনিব নির্যাতনের খবরও চোখে পড়ে। বহির্মুখী মানুষগুলোর অবশ্য কাজের মানুষের প্রয়োজন হয়। এই জন্য যে তারা বাড়ি ফিরে খাবারটুকু নিশ্চিন্তে খেতে সক্ষম হয়। এসব ক্ষেত্রে কাজের মানুষ ছাড়া উপায় নেই। গৃহভৃত্য শ্রেণিকে যেভাবেই দেখা হোক না কেন একটা মানবীয় দৃষ্টিকোণ এদের বেলায় প্রযোজ্য। মনিব-ভৃত্যের সম্পর্ক অভিন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়।
রবীন্দ্রনাথ ভৃত্যশাসিত তোষাখানার মধ্যে রুদ্ধ হয়ে ছোটবেলায় চাকর-বাকরদের কাছে হেলাফেলার মানুষ বলে খুব বেশিদিন সেবা-যতœ পাননি। তিনি যে সমাজে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে সমাজে সাধারণের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন একরূপ অসম্ভব ও অসাধ্য ছিল। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ করেছেন ভৃত্যদের মধ্যে কেউ কেউ পেট খোরাকী, কেউ কেউ মাইনেভোগী। মাইনেভোগীদের মধ্যে যৎসামান্য মাইনের চাকর-বাকররা কী রূপ দিনাতিপাত করেছে—তাদের সংসারের কথা—তাদের জীবনের আবেগ-অনুভূতির খুঁটিনাটি বিষয় রবীন্দ্রনাথ জানতে সক্ষম হয়েছেন। এ গ্রন্থে চাকর-বাকরদের সাথে সংলাপপটু রবীন্দ্রনাথ কতটুকু অসাধারণ ছিলেন সে সম্পর্কে পাঠকবর্গ ধারণা লাভে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করি।
বিনয়াবনত
এস.এম. আফজাল হোসেন
শিলাইদহ, কুষ্টিয়া
রবীন্দ্রনাথের চাকর-বাকর
আকাশের বুকে মানুষের পা হাঁটে না, চোখ হাঁটে। দিগন্তের দিকে যেই চোখ পড়ে মন ছুটে যায় নিমিষে। এই যে চোখের সাথে মনের অন্তর্নিহিত যোগসূত্র সেখানেই কবিতার বসবাস। কবিতা মানুষকে আকাশে হাঁটায়, দিগন্তে ঘুরায় আর সৌন্দর্যের আতিশয্যে বসবাস করায়। বর্তমানে বিজ্ঞানের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, এই যে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল- এসবের সুন্দর ও নান্দনিক প্রতিফলন মেলে কবিতায়। সমালোচক কবি Arnold কবিতাকে বলছেন, ‘Criticism of life.’ সিডনি তাঁর ‘An Apology for Poetry’-তে কবিতাকে দেখছেন ‘A divine gift’ হিসেবে। আমরা বাঙালি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষার জন্য আমাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। আমাদের দেশ বাংলাদেশ। দেশের জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণ গেছে। ভাষার জন্য, দেশের জন্য যে মানুষটি আমাদের পথ হাঁটিয়েছেন তিনি হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
কিছু বিপথগামী সেনাবাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধুর প্রাণহরণ কবি মাহবুব জন-কে গভীরভাবে আলোড়িত করে। সৃষ্টিশীল মানসপটে নতুন প্রজন্মের কবি মাহবুব জন দেশ, মাটি তথা মাতৃভূমি, সমাজ, গোষ্ঠী, চারপাশের দৃশ্যাবলী- তীক্ষè অনুভূতির এক উজ্জ্বল আলোকছটা তাঁর এ ‘ধুন্ধুমার’ কাব্যগ্রন্থটি। যেমনটি Arnold তাঁর`The Study of Poetry’ -তে বলেছেন, ‘Greatness of matter is inseparable from the greatness of manner’- পাঠক অনায়াসেই মাহবুব জন-এর ‘ধুন্ধুমার’ কাব্যগ্রন্থের সুন্দর বিষয়বস্তু এবং কাব্যিক বিন্যাসে মুগ্ধ হবেন।
ধুন্ধুমার
কামাল মুহম্মদ সত্যসন্ধানী কবি। ‘বধিরের পাঠশালা’ কবির ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তার কবিতায় চিত্রকল্প কল্পনা ও প্রতীকে মূর্ত হয়ে জীবন ও জগতের ইমেজ তৈরি করে। তার বাস্তবতা আর্তের ধ্বনি হয়ে চিৎকার করে এবং শেষতক শিল্পের রূপ-দুয়ার খুলে দর্শনে গিয়ে থামে। তখন কবিতায় দার্শনিকতা যেমন ফুটে ওঠে তেমনই কবিতা হয়ে ওঠে শিল্পমণ্ডিত। কবি আগে সমষ্টিকে ধারণ করেন নিজের ভেতরে। তারপর সামষ্টিক ধারণার অভিব্যক্তিকে শিল্পরূপ দেন কবিতায়। যেমন- ‘ডানার বাইরে যেতে পারে না পাখি’ অথবা ‘আমিকে ভাঙতে ভাঙতে গড়ি/জন্মাই আমি, নাম ধরে ডাকি হেই কামাল? কোথায়?’-এ এক দার্শনিক জিজ্ঞাসা। নিজেকে চেনার-জানার এবং জগৎকে বোঝার। এভাবেই বুনন হয় কবির কবিতা-দর্শন। যে দর্শন মানবিকতা, কল্যাণ, নৈতিকতা ও সৌন্দর্যকে নিয়ে হাঁটে। তিনি যখন বলেন, ‘দাঁড়কাক হই, ডালে বসে ডাকি দুপুরে-ভাত দে, রুটি দে/মদ দে…’ সত্যি সত্যিই আমরা তখন এমন এক জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াই যেখানে আর্তমানবতার হাহাকার ছাড়া কিছুই ভাবা যায় না। এমতাবস্থায় কবিতাকে তিনি যে সত্যের মুখোমুখি নিয়ে যান তাতে একুশ শতকের পোশাক পরা সভ্যতার মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। গ্রন্থের প্রতিটি কবিতায় তার এই বোধ বিস্ময়ের উদ্রেক করে। তখন পরিশুদ্ধ এক বাস্তবতা কল্পনা করা ছাড়া পাঠকের আর উপায় থাকে না। গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয় হোক।
কবি সরকার আজিজ
Bodhirer Pathshala - Kamal Muhommod
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.







There are no reviews yet.