Additional information
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.54 $ 2.06
পলিয়ার-এর কবিতায় দার্শনিকতা, নান্দনিকতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাছাড়া উপমাশ্রয়ী চিত্রকল্প অভিনব ও অসাধারণ। যেসব পাঠক কবিতায় আবেগের তারল্য এড়িয়ে চলতে চান, দর্শন খুঁজতে চান-বোধে ভাবনায় জীবনের সারাংশের শিল্পরূপ খুঁজতে চান, তারা তার কবিতায় কল্পনা ও প্রজ্ঞার যোগসূত্রে মেজর কবিতা খুঁজে পাবেন।
-খালেদ রাহী
পলিয়ারের কাব্যভাষা একেবারে নিজস্ব। স্বতন্ত্র সুর তৈরিতে সে সার্থক। একই সাথে তার কবিতা পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
-শঙ্খচূড় ইমাম
পলিয়ার সবল ও দৃঢ়প্রত্যয়ী, তার দীর্ঘস্থায়ী বয়ান মাটি ও প্রেমিকাসংলগ্ন। কবি যেন তার ইংলিশ প্যান্টের পকেটে করে সেই কত আগে নিয়ে এসেছেন মাঠ ও উঠোন গড়ানো সোনালি কিছু ধান, সুযোগ পেলে তিনি এই ধান পাঠককে বের করে দেখান, এই ধান তার কবিসত্ত্বার স্মারক যেন, কবিতা তার কাছে কৃষিজ। কবি তার জন্মগ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন কিছু নিজস্ব শব্দও, যা পরিমিতভাবে নৃত্যরত ও সুমিষ্ট আবরণযুক্ত গাঢ় চিত্রকল্পময়।
-মোসাব্বির আহে আলী
পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা মানে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া। নিজস্ব উপলব্ধির এক গভীর উপস্থাপন। নিজেকে ক্রমাগত অনুবাদ করে যাওয়া।
-মাহফুজ পাঠক
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
লেখক পরিচিতি :
সুলতানা শাহরিয়া পিউ। জন্ম: ২রা অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সঙ্গীতচর্চা তার শখ। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পর্ষদ এর সদস্য, বর্তমানে দীপ্ত টেলিভিশনের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘মেঘের সাথে কথা’। অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ: ‘নিমগ্ন জলধারা’। স্ক্রিপ্ট সঙ্কলন: ‘আমরা করব জয়’। গীতিকবিতার অনুবাদ: ‘অচিন’। গল্প সংকলন: ‘মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প’।
আমার দিনগুলো রইলো অসম্পূর্ণ
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
দেবাশীষ ধর। জন্ম: ৫ই জানুয়ারি, ১৯৮৯। চট্টগ্রাম। কবিতার ছোটকাগজ ‘বাঙাল’ এর সম্পাদক। কবির এটি প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
ফসিলের কারুকাজ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
লেখক পরিচিতি :
শারমিন রাহমান। জন্ম: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩। দ্ইু সন্তানের জননী। বাংলাদেশের স্বনামধন্য স্কুলগুলোতে দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকতা শেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম আর্ট সেন্টার ‘ধ্যান’ এর পরিচালক। বিশেষ আগ্রহ আছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে। এটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
অপ্রাকৃত কবচ
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
সাঈদা মিমি। জন্ম: ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮। বরিশালে। শৈশবের পুরোটাই এবং অর্ধেক কৈশোর কেটেছে পদ্মাপাড়ে, মানিকগঞ্জের ঘোনাপাড়া গ্রামে। লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে। প্রথম প্রকাশিত হয় ইত্তেফাকে। ফ্রীল্যান্স সাংবাদিকতা, স্কুল মাস্টারিং, বায়িং হাউজের এডমিন, হাউজিং কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ইত্যাদি বিচিত্র কর্মজীবন মেষে অতঃপর গৃহিণী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সব নিয়ে গেছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস’ ‘ফারাও কুমারী’ ও ই-বুক ‘কীর্তনখোলা’।
একজন মৃতের ডাইরি
সিদ্দিক প্রামানিক। জন্ম: ২১শে আগস্ট ১৯৭৯, কুস্টিয়ার কুমারখালী থানার চরভবানীপুরগ্রামে। বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং বাম প্রগতিশীল সংগঠনের সক্রিয় সংগঠক ও সংস্কৃতকর্মী। প্রথম বই ‘হাঙরের সমুদ্রে মননশীল মাছ’।
উন্মাদের কনসার্ট
লেখক পরিচিতি :
তানভীর আহমেদ হৃদয়। জন্ম: ৩ডিসেম্বর, ১৯৮৫ইং। মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছড়া। এছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা ও গল্প। লেখকের লেখা প্রতিনিয়ত দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।
অচেনা রৌদ্রের রঙ
আলী রেজা। জন্ম: ১৯৫৭। মুক্তিযুদ্ধে আলোড়িত কবি, সত্তর দশকে মূলত ছোটকাগজে লেখালেখি শুরু করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
আলী রেজা
মুখবন্ধ
সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ হলো শ্লোক-ছড়া-পদ্য-কবিতা। আমাদের দেশে গদ্যের চেয়ে পদ্য চর্চা বেশি হয় বলে অনুমিত হয়। গদ্য হলো সাহিত্যের আধুনিক রূপ, যার মধ্যে উপন্যাস অন্যতম।
কবিতা ও অণুগল্প লেখার মাধ্যমে লেখালেখির জগতে আমার হাতেখড়ি। উপন্যাসে হাত দিয়েছি এই প্রথম। অনেক ভেবে-চিন্তে এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে লিখেছি এই উপন্যাসটি। বাংলা গদ্য এখন অনেকটা হালকা চালে চলমান। প্রচলিত এই ধারার বাইরে এসে একটু গভীরে উঁকি দেওয়া, গহীন-রসে সিক্ত হওয়া- একটু ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি এই বইটিতে। অনেক যত্ন নিয়ে লিখেছি বইটি। জীবনঘনিষ্ট এক গল্পের পথে পথে শব্দের দ্যোতনা, ভাষার ব্যঞ্জনা এবং ভাবের গভীরতা একসাথে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছি। সফল হয়েছি, নাকি ব্যর্থ- সেটা পাঠক বলবেন। তবে আশা করি, রস-আস্বাদনে বোদ্ধাপাঠক বঞ্চিত হবেন না।
বইটির নামকরণে যে ‘সারঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়েছি মিথিলার উপভাষা ব্রজবুলি থেকে। কবি বিদ্যাপতি তাঁর কবিতায় এই একটি শব্দকে আটটি অর্থে প্রয়োগ করেছেন। সেগুলো হলো- ময়ূর, মেঘ, কোকিল, হরিণ, পদ্মফুল, ভ্রমর, কামদেব ও সাপ। রূপক অর্থে উক্ত শব্দগুলোকে ব্যবহার করেছি এই উপন্যাসে। বিদ্যাপতির কাছে আমি ঋণী।
অসংখ্য হিতাকাক্সক্ষীর কাছে ঋণী আমি। কেননা, তাঁদের উৎসাহেই আমার এই প্রয়াস। এইক্ষেত্রে অন্তত দুইজন ব্যক্তির নাম বলতেই হয়- ডাঃ শামীমা সোবহান সেতু ও শামীমা সুলতানা। তাঁদের প্রতি রইল আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।
‘সারঙ্গ পুরাণ’ কোনো পৌরাণিক আখ্যান নয়। নয় কোনো ধর্মীয় কিতাব। এটা আধুনিক দৃষ্টিতে লেখা চলমান সময়ের গল্প, এক ভিন্নধর্মী উপন্যাস। আমার দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল এটি। পাঠক তৃপ্ত হলেই আমি ধন্য।
মো. বাকীদুল ইসলাম।
সারঙ্গ পুরাণ
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (১৯৬৩-২০১৫)। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একাডেমিক পড়াশুনা করেন চট্টগ্রামে। লেখালেখি ছিল তার কাছে অফুরন্ত সর্ব আনন্দ ব্যাকুল এক জীবনপ্রবাহের নাম। কথাসাহিত্যের ছোটকাগজ ‘কথা’র সম্পাদক ছিলেন। তার অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্বপ্নবাজি, পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী, গল্পের গল্প ইত্যাদি।
হৃদমাজার
বাজে অন্তহীন দ্রিমি
ভেসে বেড়াই…
বুকের ভেতরে দ্রিমি দ্রিমি বেজে ওঠে
নিজের বুকে কান লাগিয়ে শুনি সেই শব্দ
কেমন ঘোর, নেশা লাগে!
একটা অসহ্য ভালোবাসার ঘ্রাণ পাই
মানুষ যার জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরে মরছে
সেই ভালোবাসা…আহা
তার বর্ণিল শব্দ- ঘ্রাণে ঘূর্ণি খেয়ে খেয়ে
মহাকাশ সমান আনন্দে ঘুর-পাক খাই
যাই, অনন্ত অভিযাত্রায়
কবিতার রূপ ধরে প্রেম নামছে পৃথিবীতে
কসমিক খেলা মেতে উঠেছে
সৌরবিভা বসেছে তাকে কেন্দ্র করে
দেখো, কীভাবে বিষণ্ন-প্রচণ্ডতা জেগে ওঠে !
উজ্জ্বল হাসি হয়ে ছায়াপথে ঘুরে বেড়াই
বেজে যায় অন্তহীন দ্রিমি…
বাজে অন্তহীন দ্রিমি
আকাশের বুকে মানুষের পা হাঁটে না, চোখ হাঁটে। দিগন্তের দিকে যেই চোখ পড়ে মন ছুটে যায় নিমিষে। এই যে চোখের সাথে মনের অন্তর্নিহিত যোগসূত্র সেখানেই কবিতার বসবাস। কবিতা মানুষকে আকাশে হাঁটায়, দিগন্তে ঘুরায় আর সৌন্দর্যের আতিশয্যে বসবাস করায়। বর্তমানে বিজ্ঞানের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, এই যে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল- এসবের সুন্দর ও নান্দনিক প্রতিফলন মেলে কবিতায়। সমালোচক কবি Arnold কবিতাকে বলছেন, ‘Criticism of life.’ সিডনি তাঁর ‘An Apology for Poetry’-তে কবিতাকে দেখছেন ‘A divine gift’ হিসেবে। আমরা বাঙালি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষার জন্য আমাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। আমাদের দেশ বাংলাদেশ। দেশের জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণ গেছে। ভাষার জন্য, দেশের জন্য যে মানুষটি আমাদের পথ হাঁটিয়েছেন তিনি হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
কিছু বিপথগামী সেনাবাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধুর প্রাণহরণ কবি মাহবুব জন-কে গভীরভাবে আলোড়িত করে। সৃষ্টিশীল মানসপটে নতুন প্রজন্মের কবি মাহবুব জন দেশ, মাটি তথা মাতৃভূমি, সমাজ, গোষ্ঠী, চারপাশের দৃশ্যাবলী- তীক্ষè অনুভূতির এক উজ্জ্বল আলোকছটা তাঁর এ ‘ধুন্ধুমার’ কাব্যগ্রন্থটি। যেমনটি Arnold তাঁর`The Study of Poetry’ -তে বলেছেন, ‘Greatness of matter is inseparable from the greatness of manner’- পাঠক অনায়াসেই মাহবুব জন-এর ‘ধুন্ধুমার’ কাব্যগ্রন্থের সুন্দর বিষয়বস্তু এবং কাব্যিক বিন্যাসে মুগ্ধ হবেন।
ধুন্ধুমার
কবি কবির মুকুল প্রদীপ, এক তরুণ কবির নাম
কবির মুকুল প্রদীপে’র প্রথম কাব্য প্রকাশকালে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, তাঁকে পাঠকবৃন্দের কাছে আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ্য কতকটা অতিরিক্ত প্রয়াস, কারণ কবি কবির মুকুল প্রদীপ তার নিজগুণে ও ধ্যানে ইতোমধ্যে পাঠক সমাজে নিজেকে গ্রহণীয় করে তুলতে পেরেছেন এবং নতুন এক রুচিধারা প্রবতর্নের চেষ্টায় যুক্ত রয়েছেন। আমি ফ্লাপে যে মন্তব্য লিখছি তা একজন অগ্রজের মুগ্ধতারই অভিব্যক্তি এবং সংশামুখরতা। তার কবিতা সমাজলগ্ন এবং সুস্থ সমাজচেতনা গড়ায় প্রত্যয়ী। আর তাই তিনি অনায়াশে বলেন ‘স্বৈরাচারী চেয়ার নিয়ে আবারও কয়েকযুগ নিশ্চিন্ত হয়।’ এই নিশ্চিন্ত হওয়ার পেছনের কারিগর হচ্ছে অশ্লীল রাজনীতি, যা জনগণকে ক্রমাগত চেতনাহীন নির্জীব প্রাণীকুলে পরিণত করে রেখেছে। আর তারা দেখে সমুদ্রের জলে পা দিয়ে হেঁটে যাওয়া, সমুদ্রে মিলিয়ে যাওয়া, দেখে সামান্য বিষয় নিয়ে মানুষগুলোর ‘অমানুষ’ আচরণে ডুবে যাওয়া এবং এসব ঘটে বাস্তবজীবনের অঙ্কগুলো সঠিক চেতনায় জারিত করে উপলব্ধি হীনতার কারণে।
কবির মুকুল প্রদীপ প্রথাকে ভাঙতে চান নতুন সমৃদ্ধি আনার জন্য, এবং পুরানো প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্মাণচেষ্ট কবিতার নতুন শরীর। কিন্তু প্রথাকে তিনি উপলব্ধি না করে ছুঁড়ে দিতে চান না। তার ক্রিয়া নতুন প্রথা নির্মাণের মধ্যদিয়ে কবিতাকে নতুন সময়ের উপযোগী করা। যাতে পরিবর্তিত সময়ের অভ্যেস রুচি ও চেতনা কাঠামোর নবরূপায়ন সম্ভব হয়। কবির মুকুল প্রদীপ বলেন ‘মৃত্যু-মুহূর্ত পর্যন্ত যে ঘুণে খাওয়া চৌকিটিতে বাবা শুয়ে থাকতেন/আজ ভাঙতে গিয়ে—-পায়া-তক্তার মতো দেখি/ আমিও ঝুরঝুর করে খুলেÑ বর্জের স্তুপে পরিণত হয়ে যাচ্ছি’ মুকুল এ ভাবেই পুরানোকে ভাঙতে গিয়ে তার প্রতি যে মোহ তাকে উসকে দিয়ে নিজ কর্তব্যকে নির্ধারণ করেন ভাঙার প্রত্যয়ে। তিনি নানাভাবে কবিতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবার একটা মানসিকতা নিজের মধ্যে গড়ে তুলছেন যা আমরা গত কতকটা সময় ধরে দেখছি। তিনি লিখছেন ভাষার নতুন অর্থযোজনার প্রয়াস নিয়ে।
যেমন তিনি বলেন ‘কোথা থেকে এক বিমূর্ত করুণ সুর ভেসে আসেÑ মনে হয়/ইটের নিচে চাপা পড়ে গোঙ্াচ্ছে বাদামি ঘাস/সর্বভূক কংক্রিট-ড্রাগন আর ধর্মের শৃগাল গিলে খাচ্ছে বনবাঁদাড়, খাল-বিল-মেধা’ তখন তো স্পষ্টই হয় কবি তার বিষয়কে কীভাবে নির্বাচিত করেন, কেন নির্বাচন করেন, কেন তিনি তাঁর আঁকুতিকে নিছক কল্পনা বিলাসে ভাসিয়ে না দিয়ে গড়ে নিচ্ছেন চেতনার শব্দবলীর মেলবন্ধন; আর শিল্পীর সামাজিক দায়িত্বকে কীভাবে কাঁধে নিয়ে হাঁটতে সক্রিয় হয়েছেন বর্তমানের কবিতায়।
মুকুলের এটা প্রস্তুতি পর্ব, তার উত্থান পর্বে আমরা আরো সংহত শক্তপোক্ত কবিতা পাবো, পাবো নতুন ভাষা নির্মাণের পঙক্তিমালা, যা দৃশ্যমান অর্থ থেকে নানা অর্থকে দ্যোতিত করবে, কাব্যসুন্দরকে প্রজ্ঞাপূর্ণ করবে। আমি খুবই আশাবাদী এই তরুণ কবির কাব্যক্ষমতার বর্তমান প্রকাশে। তার জয় হোক।
-মতিন বৈরাগী
অলীক জোছনা
‘দুর্ভাগ্য আমাদের এক করেছে ’- হ্যাঁ, ভাগ্য বিড়ম্বিত দুজন মানব-মানবীর জীবনের গল্প। তবে এটি নিছক কোনো কল্পকাহিনি নয়। লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্জাত এই কাহিনি পাঠককে কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয়। এক সময়ে লেখক বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে তিনি আন্তরিকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অচিরেই সেই ভুল ভাঙে। বামদলগুলোর মধ্যে তত্ত্বগত দ্বন্দ্ব ছিল, রণকৌশল, রণনীতি নির্ধারণ নিয়েছিল তুমুল বিতর্ক, তাছাড়া ছিল নেতৃত্বের কোন্দল। সাধারণ কর্মীদের মাঝে কোনো দ্বিধা ছিল না, তারা জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, অনেকে তা দিয়েছেও। কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নেতারা কর্মীদের উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অনেকেই বিপুল বিত্তের অধিকারীও হয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে তখন টালমাটাল অবস্থা। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া মাত্র সত্তুর বছরের মধ্যেই আদর্শ থেকে সরে এসেছে এবং টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক শিবির তখন উল্টো পথে হাঁটছে।
তবে লেখক রাজনীতির এই কাসুন্দি ঘাটতে চাননি। এই গ্রন্থভুক্ত একটি চরিত্র যার নাম ‘সাবরিনা’, দলীয় কার্যসূত্রেই মেয়েটির সাথে লেখকের পরিচয় হয়। সাবরিনা তার জীবনের অনেক কথাই শুনিয়েছিল তাকে। সাবরিনা পতিতা পল্লীর মেয়ে আর সে জন্মেও ছিল একজন পতিতার গর্ভে। তবে তাদের বংশানুক্রমিক এক ধরনের আভিজাত্য ছিল। সাবরিনা একজন বিপ্লবীর প্রেমে পড়েছিল এবং সে তার বংশধারার নিয়মের বাইরে গিয়ে পুত্র সন্তান গ্রহণ করেছিল। তাদের বংশে কেবল কন্যা সন্তান গ্রহণের রেওয়াজ ছিল। পুত্র সন্তানদের জন্মের পর পরই হত্যা করা হতো। সাবরিনা তার সন্তানটিকে পতিতা পল্লীর পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করতে মিশনারীতে দিয়েছিল। কিন্তু তার সেই সন্তান শেষ পর্যন্ত একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় আর এর জন্য দায়ী ছিল একজন তথাকথিত ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা। তারই হাত ধরে ছেলেটি রাজনীতিতে আসে এবং নেতার পক্ষে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে বাধ্য হয়। পরে খুনের দায়ে ছেলেটির মৃত্যুদন্ড হয়েছিল। লেখক এই কাহিনির মধ্য দিয়ে মানবজীবনের এক গভীর ট্রাজেডিকে তুলে ধরেছেন। আর জগত জীবন সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠকের সামনে।
Krishnapokkho by Abdul Mannan Sarker
প্রবন্ধ এমন এক সাহিত্যকর্ম, যার রস পাঠকমনে তীরের মতো অথবা বুলেটের মতো বিদ্ধ হয়। হেঁয়ালিহীন এই সাহিত্যকর্ম পাঠককে চালিত করে জ্ঞানের পথে। ক্রমশ পেছনের দিকে হাঁটতে থাকা বর্তমান বাংলাদেশে প্রবন্ধ-সাহিত্য খানিকটা শক্তিহীন। লেখকরা অজ্ঞাত কারণে সাহিত্যের এই শাখার প্রতি উদাসীন। ফলে এর পাঠকও কমেছে আগের তুলনায়। মানবিক পৃথিবী নির্মাণে মূর্খতার অন্ধকার তাড়াতে যাঁরা শিল্পের প্রদীপ জ¦ালিয়েছেন, যাঁরা নিজ নিজ কর্মে হয়ে উঠেছেন প্রদীপতুল্য, তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, হকিং, মেরি শেলী, নাইপল, বব ডিলান, ইশিগুরো প্রমুখ নিঃসন্দেহে অগ্রগামী। তাঁদের শিল্পকর্মের গভীরে ডুব দিয়ে অবগাহন করেছেন প্রাবন্ধিক উদয় শংকর দুর্জয়। দক্ষ ডুবুরির মতো তুলে এনেছেন তাঁদের বহুমাত্রিক চিন্তার নির্যাস। টুকরো টুকরো সব নির্যাসকে একত্র করে তিনি যে মালা গেঁথেছেন, তার নাম দিয়েছেন প্রবন্ধ সংগ্রহ। এসব প্রবন্ধে কঠিন বিষয়ের মর্মভেদ করতে তাঁর সরল বয়ান পাঠককে আকৃষ্ট করে, আন্দোলিত করে; জন্ম দেয় এক নতুন চিন্তার। প্রবন্ধ-সাহিত্যের এই দুর্দিনের দুর্জয়ের প্রবন্ধ সংগ্রহ হয়ে উঠবে সুখপাঠ্য, ফিরিয়ে আনতে পারে এই সাহিত্যের সুদিন।
স্বকৃত নোমান
২০.১১.২০২০
প্রবন্ধ সংগ্রহ
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.












There are no reviews yet.