Description
মানুষ ভুল করে
অগোচরে নাড়ে পাপ
উন্মেষ রাখে তার
উপলব্ধির ছাপ।
মাসুলে মানুষ করে
সে ভুলের অনুতাপ;
অমানুষ অজুহাতে
ঢাকে গ্লানির উত্তাপ।
$ 0.56 $ 0.94
কিছু একটা বলাটাই যখন বাধ্যবাধকতাÑবাহুল্য এবং আপেক্ষিক বাতুলতা বাদ রাইখা মাহবুব লীলেন থাইকা ধার কইরা বলতে হয়Ñ ‘আনফিট মিসফিট হইয়া হামাগুড়ি দিয়া হাঁটি, আর রাত্তিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ টাইনা চিক্কুর দিয়া কইÑ যাহ শালা বাঁইচা গেলাম আরও একটা দিন।’
এইটা বড়োবেশি জৈবিক বাঁচা
মানবিক বাঁচনের স্বপ্নও দেখি না বহুদিন
বড়ো তরাসে আছি
বড়ো বেশি চাইপা আছি, নিজের গলা নিজে।
মানুষ ভুল করে
অগোচরে নাড়ে পাপ
উন্মেষ রাখে তার
উপলব্ধির ছাপ।
মাসুলে মানুষ করে
সে ভুলের অনুতাপ;
অমানুষ অজুহাতে
ঢাকে গ্লানির উত্তাপ।
| Weight | 0.67 kg |
|---|---|
| Published Year |
সিদ্দিক প্রামানিক। জন্ম: ২১শে আগস্ট ১৯৭৯, কুস্টিয়ার কুমারখালী থানার চরভবানীপুরগ্রামে। বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং বাম প্রগতিশীল সংগঠনের সক্রিয় সংগঠক ও সংস্কৃতকর্মী। প্রথম বই ‘হাঙরের সমুদ্রে মননশীল মাছ’।
উন্মাদের কনসার্ট
প্রাক-কথন
একটি সফল নাটক উচ্চারণ করে সময়ের সত্য, মানুষের অন্তর্গতে শায়িত থাকা সম্পর্কের সুস্পষ্ট স্বর।
নিজের শরীরে ধারণ করে জীবনের বহুমাত্রিক রং, যাপনের বর্ণমালা।
নাটক ‘ঈশান রাজকুমার’ এমনতর বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।
ইতিহাস-নির্ভর রচনার ক্ষেত্রে লেখকের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। ঐতিহাসিক ঘটনা গুলির জন্য তাঁকে প্রাচীন পুঁথি, নথি এবং মানুষের মুখে মুখে ফেরা কথা ও কাহিনি থেকে নিজের লেখার উপাদান সংগ্রহ করতে হয়।
এবং এক্ষেত্রে লেখক হয়ে ওঠেন ভ্রামণিক। সময়ের সম্মুখে নয়, তিনি যাত্রা করেন অতীত সময়েরদিকে। পৌঁছাতে হয় পার-হয়ে-আসা-সময়ের হলুদ বৃত্তান্তগুলির কাছে। যে-লেখক তাঁর পুরোনো জন্মকালের মুহূর্তগুলিকে যত নিবিড় করে ছুঁতে পারেন, তিনিই তত সফলভাবে ঐতিহাসিক সত্যকে অধিগত করতে পারেন। সত্যের সেই বৃত্তান্তকে হাজির করতে পারেন তাঁর পাঠকের কাছে।
ইকবাল রাশেদীন শক্তিশালী কবি। কবির মননজাতবোধ এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি দিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন দু’শো পঞ্চাশ বছর আগের পৃথিবীকে। নিজের পরিশ্রমী গবেষণা দিয়ে তুলে এনেছেন ইতিহাসের বুকে ধুসর হয়ে যাওয়া ঘটনাক্রমকে। কবি থেকে নাট্যকার হয়ে ওঠা খুব সহজ কাজ নয়, সেই অসহজ কাজটিই ইকবাল করে দেখিয়েছেন তাঁর ‘ঈশান রাজপুত্র’নাটকে।
আমার মনে হয়েছে, নাটকের জাহাজটি একটি দেশ এবং ঈশান রাজকুমার সেই দেশের যোগ্য নেতৃত্ব। এবং সেইসাথে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঈশান আসলে ডানামেলা এক পাখি। যার দেশ নেই, সীমান্তনেই। আছে কেবল পৃথিবীময় একজগত বাড়ি। সেই বাড়ির বাসিন্দা হয়ে অন্তরমহল আর অন্দরমহলের কথাই সে উচ্চারণ করেছে আত্ম মগ্নস্বরে।
ইকবাল রাশেদীন কবি বলেই হয়তো এই আত্মমগ্নস্বরের নির্মাণে তিনি অনায়াস। এবং নাট্যকার হিসাবে তাঁর কৃতিত্ব এখানেই যে, এই আত্মমগ্ন স্বর শুধু তাঁর ‘আত্মমগ্নস্বর’ হয়েই থাকেনি, পাঠক/দর্শক ও খুঁজে পাবেন তার নিজের মতো করে নিজের ‘আত্মমগ্নস্বর’।
রেহান কৌশিক
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
ঈশান রাজকুমার
অয়ন্ত ইমরুল। জন্ম: ১২ই এপ্রিল ১৯৮৭ইং, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার আজিমনগর গ্রামে। পদ্মা নদীর ভয়াল গ্রাসে শৈশবেই ঠিকানার পরিবর্তন ঘটে বর্তমানে সাভার আশুলিয়ায় বসবাসরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ছায়াসমুদ্র
ঝুমকি
কত পথ পার হলাম ঝুমকি;
তবু মানুষ চেনা হলো না!
বারো প্যাচের নারী, চোখে জড়িচুমকির খেল্ দেখালো
অমলেশ সেই দেখে দেখে শেষে উন্মাদের খাতায় নাম লেখালো
পত্রিকার শেষ পাতায় ওকে নিয়ে কতো ফিচার হলো
তবুও অমলেশকে কেউ ভালোবাসলো না।
ঝুমকি পৃথীবির সবচে’ হিংস্র প্রাণী মানুষের
গায়ে বিপদের গন্ধ লেগে আছে;
ফাঁক পেলেই নষ্টামি করতে লেগে যায়
কেউ কেউ বলে সত্যিকারের ভালোবাসা নেই
বড় র্দূভাগা ওরা!
সত্যিকারের ভালোবাসাই দেখেনি চোখে; পাবে কোত্থেকে
প্রেমালিঙ্গম
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
রাজন্য রুহানি। পরিবারের দেওয়া সনদসাক্ষ্য নাম মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। জন্ম: ২রা নভেম্ভর ১৯৮০, জামালপুর জেলা শহরের হাটচন্দ্রায়। কলেজে পা দেবার সাথে সাথেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মফস্বল সাংবাদিকতার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বারবার কবিতার কছেই ফেরা। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং। ১৯৯৮ থেকে কবিতার ভাঁজপত্র শব্দদূত সম্পাদনার সাথে যুক্ত। ঐ বছরই অন্যান্য লেখক সহযোগে আলোচনাগ্রন্থ- ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; আতিয়ার রহমানের ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি লেখকের প্রকাশিত এককবই।
গল্প সমাপ্তির গান
গ্রামের পাশে যে বিশাল বাদাম ক্ষেত আর ক্ষেতের পাশে যে ছোট নদী, সে নদীতে মাঝারি সব ঢেউ ওপার থেকে এপাড়ে আসে খড়কুটো মুখে নিয়ে। আর কত কিছু ভেসে আসে আর চলেও যায়—সারা দিনভর ছোটনেরা সেইসব দেখে পাড়ে বসে বসে।
ছোটনেরা মানে হলো—হাবিবুল, রতন, মোবারক, শেফালি বকুল এরা। কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা। তারা প্রতিদিন নদীতে আসে আর কাঁচা বাদাম খেতে খেতে লক্ষ করে নদীটাকে। নদীর ভেতরে কত কিছু। কাদাখোঁচা একটি দুটি। বালিয়া হাঁসের সাদা পাখনা উড়তে থাকে। আর ওপারের মেঘ যখন উড়তে উড়তে এপারে আসে তখন জলিল কাকার সময় হয় জোয়ালের গাই দুটাকে গোসল দেয়ার। গাই দুটার গোসল দেখতে দেখতে আর বাদাম খেতে খেতে দলের মধ্যে মোবারক নামে যে আছে, সে একটা প্রস্তাব দিল। প্রস্তাব দেয়ার আগে বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে কয়েকটা জানাশোনা তথ্যও দিল। যেমন—এই নদীতে কিছুই ডোবে না।

বাকিরা মাথা নাড়ে—হুম।
গরু ডোবে না, খড় ডোবে না। নাও-লঞ্চ কিছুই ডোবে না। ভেলা ডোবে না।
সবাই মাথা নাড়ে। কাঁচা বাদাম খায়।
—চল আজকে একটা খেলা খেলি। মিনুরে ডুবাই দেই। দেখি ডোবে কি না?
ছোটনরা একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। প্রস্তাবে জোর সমর্থন দেয় নুরু। প্রস্তাব সমর্থন নিয়ে নুরু কারো দিকে তাকায় না। নদীর পেটে জলের প্রবাহ দেখতে দেখতে তারা স্কুলঘর দেখে। দূরের আকাশছোঁয়া মিনার মসজিদ দেখে।
—মিনুও ডুবত না। এই নদীতে কিছুই ডোবে না–বলে সাহস দেয় নুরু। ততক্ষণে মিনুকে নিয়ে এসেছে মোবারক।
মিনু জল দেখে ভয় পায়। বলে—মিঁউ!
বিশাল নদী। বিশাল চর। মিনু ভয় পায়। ডাকাডাকি শুরু করে দেয়—মিঁউ মিঁউ।
মিনুকে কোলে নেয় হাবিবুল। হাবিবুল থেকে নেয় রতন। রতন থেকে নেয় শেফালি। শেফালি থেকে নেয় রাজন। রাজন থেকে নেয়া নুরু। নুরু থেকে কেউ নেয় না। কারণ নুরু কাউকে দেয় না। সে মিনুকে ছুড়ে দেয় নদীতে।
সবাই হাসে। মিনু সাঁতার কাটে। ঠিকমতো পারে না। নদীতে ঢেউ। তলিয়ে যায়। ছোট্ট মাথা। ডোবে ভাসে। সবাই হাসে–খুশিতে হাততালি দেয়।
দুই ঢেউয়ের চাপে পড়ে মিনু ডাকে—মিঁউ মিঁউ।
প্রাণপণ চেষ্টা করে মিনু কচি পা দিয়ে পাড়ে আসতে পারে না। দূরে সরে যায়। আবার আসে। পাড়ের কাছে আসেও। কিন্তু নুরুরা ঢিল ছোড়ে। হি হি করে হাসে। হাত তালি দেয়।
মিঁউ মিঁউ করতে করতে নদীর ভেতরে চলে যায় মিনু। ঢেউয়ের ভাঁজের ভেতরে চলে যায়। ডুবে যায়। পাড়ে বসে রাজন শিস দেয়।
…………
রাতের বেলায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পুরো ব্যাপারটা আবার দেখে ছোটন। মিনু ডুবে যাচ্ছে। ভেসে উঠছে। চিৎকার করে ওঠে ছোটন। ঘামে নেয়ে ওঠে সে। কিন্তু তার ঘুম ভাঙে না। ঘুমের মধ্যেই ছোটন বোঝে ঘুম না ভাঙলে সে নদী থেকে আর মিনুকে উঠাতে পারবে না।
সকালবেলা তাড়াতাড়ি মিনু যে কাজটি করে তা হলো ছোটনের বাবা-মাকে নিয়ে নদীর পাড় চলে এলো। তারা দেখল—নদীর ভেতরে একটা লাল জামা ভাসছে ছোটনের।
২৪১৯
কালিয়াখোল গ্রামের ছোটরা
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
আলী রেজা। জন্ম: ১৯৫৭। মুক্তিযুদ্ধে আলোড়িত কবি, সত্তর দশকে মূলত ছোটকাগজে লেখালেখি শুরু করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
আলী রেজা
ভূমিকা-
আমার ৪টি কবিতার বই বিভিন্ন সময়ে কলকাতা এবং আগরতলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠক বইগুলো হাতে পাননি বলেই সেখান থেকে ১০০টি কবিতা বাছাই করে এই প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রাণন প্রকাশনের প্রাণপুরুষ শ্রদ্ধাভাজন আবু এম ইউসুফ ভাইয়ের সহৃদয় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ।
অনুজপ্রতিম তুহিন ভূঁইয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
রূপনগর আবাসিক এলাকা
মিরপুর, ঢাকা।
সরদার ফারুকের ১০০ কবিতা
‘আপাদমস্তক তোমাকে অনুধাবন করি/নবান্নের ধানের গোলা থেকে বেরিয়ে আসা/ভাপের মতন সে অনুভব/এ আমার অনুভ‚তিকাল’, এই অনুধাবনই নূরুন্নাহার মুন্নির বড় শক্তি। মুন্নি তার কবিতায় সবশুদ্ধ একটি ছবি আঁকতে আগ্রহী, যা কখনো কখনো আসল নাও হতে পারে। কিন্তু দৃশ্যমান সেই ছবিÑ তা যেই তার কবিতা পড়ুক, অনুভব করবেন। তার কবিতায় আরও নজরে আসে শব্দের ব্যবহার। কি নিখুঁতভাবে দেশি-বিদেশি, পরিচিত-অপরিচিত, ব্যবহৃত-অব্যবহৃত শব্দকে সেঁটে দেওয়া যায়, কেমন আশ্চর্যভাবে গেঁথে দেওয়া যায়-তা তিনি দেখান প্রায় প্রতিটি রচনায়।
সমসাময়িকদের সঙ্গে তার তফাৎ বোঝার জন্য অন্য আরেকটি দিকে আলো ফেলা যায়, মুন্নি খুব সাধারণ ঘটনাকেও কবিতার বিষয় করে তোলেন। তার কবিতায় আবেগ আছে, কল্পনা আছে, আছে আলোছায়ার খেলা। কিন্তু প্রকৃত ভাবটিকে প্রকাশের ক্ষেত্রে তা লক্ষ্যচুত হয় না। পাঠককে অল্পবিস্তর সূত্র ধরিয়ে দিয়ে মুন্নি বোকা বানাতে চান না বলেই তার লেখার ভেতরে বেঁচে থাকার তুমুল উত্তেজনা অনুভূত হয়। তার কবিতা ছিন্নভিন্ন, বিপর্যস্ততার ভেতর থেকে প্রাণের সন্ধান করে, সুন্দরের সন্ধান করে, দরদভর্তি কণ্ঠে মানুষের আর্তিকে তুলে ধরে। ‘কেউ থাকে অন্ধকারে’ দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের ভেতর দিয়ে নির্মম, নিষ্ঠুর সময়ের দিকে নুরুন্নাহার মুন্নির যে যাত্রা, তা কেবল অন্তর্র্দৃষ্টিসম্পন্নের পক্ষেই সম্ভব।
মামুন রশীদ
কবি, সাংবাদিক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৪
Kew Thake Andhokare - Nurunnahar Munni
রহস্য, রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার- এই প্রত্যেকটি শব্দই সব বয়সি পাঠক-পাঠিকাদের ভীষণ টানে। বাংলায় গোয়েন্দা গল্প কম নেই কিন্তু ‘সমুদার গোয়েন্দাগিরি’ হলো এমন এক কাল্পনিক কাহিনি, যেখানে আমরা দেখতে পাব কীভাবে উত্তর কলকাতার একজন সাধারণ ব্যক্তি শুধু তাঁর সাহস ও বুদ্ধির জোরে, ক্রমশ এক তুখোড় গোয়েন্দা হয়ে ওঠে। সমুদার আরেকটা নাম আছে- সমরেশ দত্ত। কিন্তু তাঁর সহযোগী অর্থাৎ এই কাহিনির মূল বক্তা, বঙ্কুর দেওয়া ‘সমুদা’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত।
সমরেশ থেকে তাঁর গোয়েন্দা সমরেশ হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ পথ, বক্তা তাঁর বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সমুদা ও বঙ্কুকে ছাড়াও এই রহস্য কাহিনিতে এমন বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে, যাদের বিষয় জানতে গেলে অবশ্যই পড়ে ফেলতে হবে ‘সমুদার গোয়েন্দাগিরি’। এই কাহিনির প্রত্যেকটি গল্প পাঠক-পাঠিকাদের যেমন দেবে আনন্দ, ঠিক একইভাবে দেবে নিজেদের এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ। মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং নতুন করে পাঠক-পাঠিকাদের মনে সাড়া জাগানোই হলো এই কাহিনির মূল উদ্দেশ্য।
Somder Goyedagiri - Ranit Bhowmik
আমাদের মিনু - Amader Minu
অনুভবের রক্তাপ্লুত প্রতিটি নির্ণীত ফোটাই কবিতা। কবিতা রহস্যের অনুসন্ধানে নিয়োজিত থেকে অন্ধকারে আলোর কণায় সোনার প্রতিমা গড়ে। অথৈ জলের তোড়ে জ্বলে যে কৌণিক বিন্দু, কবিতা সেই বিন্দুর জ্যা।
কবিতার এইসব নিগুঢ় নিপুণ রহস্যে মহাবিশ্বের পথিক মিলি রায়। মিলি রায় কবিতার মগ্ন শরীরে আঁকেন জলডুবুরীর কুহক, বাজান প্রেমের খোল করতাল। জমে জমে কবিতার অশ্বত্থ ছায়া শরীর হয়ে ওঠে হাজার বছরের দুগ্ধ সংস্কৃতির ক্ষীর।
মিলি রায় কবিতার শরীরে অযথা বা অকারণ কাঠিন্য আরোপ করেন না। প্রতিদিনের পান সুপারী বাটার মতো সরল নিক্তিতে কবিতা বয়ন করেন কবিতার উষ্ণ চাদরে।
মিলি রায়ের কবিতার প্রেম আসে অনিবার্য তিথি ও করতলের পরম কামনার একান্ত ঐশ্বর্যে।
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেম কবিতার শেষ দুটি লাইন, প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের পথ ধরে জানা গেছে
আলোকবর্ষ আগে প্রাণ ছিলো ভালোবাসার।
প্রেম যেমন সংহারী উল্টোপথে প্রেম কামনায় মাখা মধুর অমাবস্যাও। মিলি রায়ের কবিতা পাঠে প্রেম যমুনার জলে ঘুঙুরের ছলে ডুব সাঁতার খেলে।
তোমার প্রেমিকারা আমার একান্ত শহরে কাব্যনামের কবিতায় তিনি শব্দ আর হৃদ চেতনার অনুবাদে অনন্য এক সুন্দর সাজিয়েছেন, শূন্য উঠোনে।
মিলি রায় তোমার প্রেমিকারা আমার একান্ত শহরে কাব্যে প্রেমের পাশে প্রকৃতি, সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের আশা ও হতাশার মানচিত্র এঁকেছেন নিজস্ব চৈতন্যর রসায়নে।
মিলি রায়ের কবিতার ঘর গেরস্থালীর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের মধ্যে।
মনি হায়দার
কথাসাহিত্যিক
বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
তোমার প্রেমিকারা একান্ত শহরে
কবিতা এক নান্দনিক শিল্প। কবিতা ইশারা ভাষায় ব্যক্তির চিন্তা ও মননকে ঋদ্ধ করে তোলে। কোন কবিতার নিবিড় পাঠেও সম্পূর্ণ মর্মোদ্ধার যেমন সম্ভব নয়, তেমনি পাঠ প্রতিক্রিয়াহীন কবিতাও জগতে বিরল। কবিতা বুদ্ধিমান ব্যক্তির ভাবনার জগতকে যেমন প্রসারিত করে তেমনি কবিতা মননশীল ব্যক্তির জন্যে অমূল্য বিনোদনেরও উৎস হয়ে দাঁড়ায়। কবিতা পাঠককে কল্পনা ও বাস্তবতার জগতে ভ্রমণ করিয়ে আনে স্বল্প সময়ের যাত্রায়। কবিতার মধ্য দিয়ে কবি যেমন পাঠকের কাছে উন্মোচিত হন, তেমনি সময়ও অনাবৃত হয়ে ওঠে কবিতার নিবিড় পাঠ ও পরাপাঠে। কবিকে পাঠ করে, কবিতাকে পাঠ করে তার অর্জিত প্রতিক্রিয়ার নির্যাসটুকু ভবিষ্যতের জন্যে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায়। কেননা ভবিষ্যতে এই পাঠ প্রতিক্রিয়াই অনাগত পাঠকের কাছে কবি ও কবিতাকে কালজয়ী করে তোলে
Path Sheshe Kabi by Pijush Kanti Barua
শবনম এতক্ষণ বেশ মজা নিয়েই এসব উপভোগ করছিল কিন্তু এখন যেই শুনতে পেল ওর বর দাঁড়িয়ে আছে বাহিরে ওর জন্য, এখন ওকে যেতে হবে তার কাছে। তখনই ভেতরে কেমন এক চাপা উত্তেজনা কাজ করতে শুরু হল এই স্বামী নামক মানুষটাকে দেখার জন্য। এখনও দেখেনি মানুষটা কেমন, জানেও না তার আচার-আচরণ সম্পর্কে। অথচ বাবা মা কীভাবে হাত পা বেঁধে উঠিয়ে দিল পালকিতে। বাড়ি থেকে বের করে দিল সারা জীবনের জন্য। ওই বাড়ি থেকে এই পর্যন্ত যতজন মেয়ে ওই পালকিতে চড়ে বের হয়েছে তারা আর কেউ কোনো দিন ফেরেনি আপনালয়ে। যে যায় সে মনে হয় সব বাঁধন ছিন্ন করেই যায়। কিন্তু শবনম তো কারো সাথে কোন বাঁধনই ছিন্ন করে আসেনি, তবে কী ও আর কখনও ফিরতে পারবে ওর নিজের আপনালয়ে?
এসব আবোলতাবোলই ভাবছিল আর তখনই একজন এসে ওর হাত ধরে টেনে ঘর থেকে বের করে নিল।
শবনম একবার মুখ ফোটে বলতে চেয়েছিল “আস্তে টানেন আমি তো শাড়িতে পা বাজাইয়া পইড়া যামু।”
কিন্তু না, কেন জানি কিছুই বলতে পারল না। তার আগেই দুলাল এসে পাশে দাঁড়াল
“ভাবি সাব আর কষ্ট করতে হইব না, অহন আমি পারমু। আহো শবনম, আহো। তুমি আমার পিছন পিছন আহো। বলেই কুপিটা এগিয়ে ধরে পথ দেখাতে লাগল।শবনম কী বলবে তা বুঝতে পারল না, শুধু চুপচাপ দুলালের পেছন পেছন হেঁটে এগিয়ে গেল নিজের ঘরে……..
এরপর কী ঘটেছিল শবনমের জীবনে? দুলাল কী ওর পুরো জীবনটাতেই আলো জ্বেলে পথ দেখাতে পেরেছিল এই কিশোরী মেয়েটিকে ? না কি……..
Shabnam by Shayla Sultana Lucky
১৯৪৭ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করার মধ্য দিয়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সত্য যে ব্রিটিশরাজ ভারতকে হিন্দু সংখ্যা-প্রধান ও মুসলমান সংখ্যা-প্রধান হিসেবে দুটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যায়। এ-সময় বাংলার কিছু নেতা বাংলাকেও ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে সচেষ্ট হয়। ১৯০৫ সালে যে সব দল ও নেতা ব্রিটিশ কর্তৃক বাংলা বিভাগের বিরোধিতা করেন, তারাই ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলা বিভাগে সচেষ্ট হয়। কেননা তাঁদের বিশ্লেষণ ছিল এমন যে, বাংলা প্রদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাধিক্যের জন্য মুসলমানরাই বাংলাকে শাসন করবে। যে-কারণে তাদের নেতৃবৃন্দ বাংলার একাংশ, মূলত পশ্চিমবঙ্গকে হিন্দু ধর্ম-প্রধান ভারতের অঙ্গীভূত করতে চায়। ১৯৪৬ সাল থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা।
১৯৪৬ সালে কলকাতায় হয় মহাদাঙ্গা, যা ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট কিলিং’ নামে অভিহিত হয়েছে। কলকাতা দাঙ্গাই বাংলাভাগের মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই মনে করতে থাকে ভাংলা ভাগেই রয়েছে সমাধান।
ব্রিটিশরাজও রাজি হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ ভারতে এবং পূর্ব-বাংলা হয় পাকিস্তানের প্রদেশ। উভয় বাংলা থেকেই মানুষের দেশান্তর চলতে থাকে; যা ’৪৬ সালে শুরু হয়ে ষাটের দশক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একটি প্রদেশ যখন ভাগ হয় এবং দুই অংশ দুই দেশের অংশ হয়ে যায়, মানুষ তখন উভয় প্রদেশের মানুষ এক অংশ ত্যাগ করে অপর অংশে গমণ করে; তখন তাদের পরিচয় হয় ‘শরণার্থী’। এক দেশের মানুষ অন্য দেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস জন্য আবাসন, কর্মসংস্থান, লেখাপড়া, মোট কথা জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেমে আসে চূড়ান্ত অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা।
বাংলা ভাগ নিয়ে ‘৪৬ এর ১৫ই আগস্ট থেকে ’৪৭ এর পুরো আগস্ট জুড়ে ঘটতে থাকে একটার পর একটা ঘটনা। হিন্দু-মুসলমান প্রায় সমান হওয়ার কারণে সেখানে গণভোট হলো। গণভোটে সিলেটবাসী পাকিস্তানে যোগদানের ইচ্ছা পোষণ করলেও মুসলিমপ্রধান করিমগঞ্জ মহকুমায় ১৪ই আগস্ট থেকে পাকিস্তানী পতাকা উড়লেও ৭দিন পরে মহকুমাটি কেন, কিভাবে ভারতের অন্তভর্ভূক্ত হলো? মুসলিমপ্রধান মুর্শিদাবাদ ও মালদা কেন, কিভাবে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হলো?
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আবুল ফয়েজ, যার বাড়ি বহরমপুর তথা মুর্শিদাবাদ। ১৯৪৬ সালের আগস্টে সে পড়াশোনা করত কলকাতা মেডিকেলের প্রথম বর্ষে। তরুন ফয়েজ দাঙ্গার সম্ভাবনা আঁচ করতে পারেনি। দাঙ্গা হতে যাচ্ছে সে বুঝতে পারে ১৫ই আগস্ট যখন কলকাতা শহরে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সে কোনোক্রমে আশ্রয় নেয় মুসলিম ছাত্রাবাস- বেকার হোস্টেলে। দাঙ্গা থামলে বহরমপুরে গিয়ে জানতে পারে জলঙ্গিতে তাদের আদি পৈত্রিক নিবাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার বাবার জমি দখল হয়ে গিয়েছে। বহরমপুরেও তার জীবনাশংকা দেখা দিলে রাজশাহীতে চাচার বাসায় চলে আসে। তিন মাস পরে কলকাতায় ফিরে জানতে পারে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে তাকে ক্লাস করার সুযোগ দেয়া হবে না। বহরমপুরেও বসবাস কঠিন হয়ে উঠলে রাজশাহীতে গিয়ে দুই বছর মেয়াদী গ্রাজুয়েশানে ভর্তি হয়। লেখাপড়া শেষে চাকরি নেয় কুষ্টিয়াতে। দুই বোনকে পর্যায়ক্রমে এদেশ নিয়ে আসে। তার মা আসতে চাইলেও সরকারি চাকুরে বাবা আসতে চায় না; উপরন্তু তার বাবা হারানো জমি উদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই মধ্যে পদ্মার পানিপ্রবাহের মতো জীবনপ্রবাহও বইতে থাকে- ঘটতে একের পর এক ঘটনা। বাংলা বিভাগের সাথে সাথে ফয়েজের পরিবারও দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে। ইতিহাসের প্রেক্ষিতে উপন্যাস লেখার কষ্টকর দিক হচ্ছে উপন্যাসের চরিত্রসমূহকে ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্তকরণ। ‘সীমান্তের দুই পারে’ সেই কাজটিই সম্পন্ন হয়েছে দক্ষতার সাথে। রাজনৈতিক ঘটনাক্রম ফয়েজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে কিভাবে পর্যুদস্ত করে তুলল তার নির্মম অথচ নির্মোহ বয়ান লেখক উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। পরিশেষে ফয়েজের পরিবার মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হয়।
Sheemanter Dui Paree by Md. Rezaul Karim
তোর সাথে কথার তসবিহ আর জপবো না
তাই কুফুরি-কালাম দিয়ে তাবিজ করে
বড় হুজুরের পানিপড়া এনে,
উতার পানি ছিটিয়ে দিয়ে
তোর দেহমনের বাইরাগ, চৌকাঠ, উষারা
সব বেঁধে দেব।
তুই কোথাও যেতে পারবি না আমাকে ছেড়ে
অন্য কাউকে প্রেমিকের মতো আসতেও
দেব না তোর চৌহদ্দিতে।
তুই হবি আমার সর্বনাশের ফুলতোলা রুমাল
আমিও হব তোর দু:খনাশী কৃষ্ণচূড়ার ডাল!
Ami Tar Upekkhar Vasha
‘ এ তোদের কেমন কথা সই। আমার যক্ষ রামগিরি পর্বতে নির্বাসনে, আর আমি প্রাসাদে সোনার পালঙ্কে রূপচর্চা সাজসজ্জার আনন্দে মত্ত থাকবো ?
সে সাধারণ, অতি সাধারণ এক যক্ষ। যক্ষ প্রাসাদ নির্মাণের এক কর্মকার মাত্র। তুমি রাজেন্দ্র রাজনন্দিনী। আমাদের সকলের চোখের মনি। অচিরে তোমার হৃদয় জয় করতে রাজপুত্র যুবরাজগণ স্বয়ংবর সভায় হাজির হবেন।
তোদের চোখে সে সাধারণ। আমার চোখে সে অসাধারণ। সে রাজপুত্র অধিক রাজপুত্র। যুবরাজ অধিক যুবরাজ। সে আমার প্রাণেশ্বর। কীরুপে তাঁকে বিস্মৃত হই, বল সখি ?
চাপা স্বরে সখি বলল, রাজকন্যা, কী সর্বনাশা কথা বলছো তুমি ! যদি রাজার কর্ণকুহরে এ সংবাদ পৌঁছায় তোমার কঠিন দন্ড হবে।
দন্ড আমার প্রাপ্য। আমার জন্য যক্ষ আজ নির্বাসনে। কী অপরাধ যক্ষের ? পাথর কেটে সে আমাকে নির্মাণ করতে চেয়েছে। তাঁর চোখে দেখেছি অমরত্বের স্বপ্ন। রাজা আসে রাজা যায়। সব একদিন ভেসে মুছে যায়। অমর হয়ে থাকবে যক্ষের নির্মাণ, যক্ষ যাঁকে নির্মাণ করেছে তাঁর স্বপ্ন থেকে সেই আমি। আমি কোন রাজকন্যা নই, সাধারণ এক প্রেমিকা মাত্র। আমাকে নিয়ে ভবিষ্যত রচনা হবে নশ্বর প্রেমের অবিনশ্বর কীর্তি। হাজার বছর পরও প্রেমিক-প্রেমিকার অন্তরে হবে আমাদের বসবাস ( দেবতা ও মানুষ) । ‘
Mukhosh By Sirajuddin Ahmed
শফিক হাসানের দেখা বাংলার মুখ আদতে কেমন!
‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’
তারপরের কথা—‘একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু’।
মনে এই খেদ যেন না থাকে, শফিক হাসান বেরিয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের নানা জায়গা প্রাণভরে দেখতে। তার বর্ণনা রম্য, সহাস্য আনন্দময় ও প্রাঞ্জল। নানা সব জায়গার ভেতরে—লালনের স্মৃতিভরা স্থান, কেওক্রাডং চূড়া, মুজিবনগর, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের নানা জায়গা, সমুদ্র ও পর্বত, রেলযাত্রায় তূর্ণা নিশিথায় নিশিযাপন এবং জলজোছনায় ভেসে যাওয়া হাতিরঝিল—এমনি মায়াময়, সুরভিময় নানা স্থানে। আমরা যখন ফট করে বাইরে ঘুরতে যাই কখনো কি ভাবি দেশের কতটুকু দেখেছি।
না, শফিক হাসান তেমন কোনো খেদ করবেন না যেদিন বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়বেন। ‘দেখি বাংলার মুখ’ এমনই একটি গ্রন্থ। সবকিছু দেখার আগে নিজেদের দেখো। অপূর্ব। সুন্দর ঝরঝরে গদ্যে দেখার সেইসব বর্ণনা আমাদের দেশটাকে নতুন করে চেনাবে। আমি এই গ্রন্থের বহুল প্রচার কামনা করি।
সালেহা চৌধুরী
ঢাকা
মার্চ, ২০২৪
Dekhi Banglar Mukh by Shafique Hasan
রবিউল ইসলাম। হাস্যরসের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রসিক আর আড্ডাপ্রিয়। হাস্যরসিক বন্ধুপ্রিয় এ মানুষটির জন্ম ১৯৭৭ সালেÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাধীন গোমস্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শিবরামপুর গ্রামে। লেখাপড়া করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। বিভিন্ন গবেষণা পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর অনেক প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে। ইতোপূর্বে লেখকের ‘কই মাছটি এখনো নড়ছে’ (২০১৯) এবং ‘বিরুদ্ধ বাতাসে বালক’ (২০২০) শিরোনামে দুটি রম্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যাপিত জীবনের বাস্তবতা থেকে উৎসারিত তাঁর রম্যগল্পগুলো। গল্পগুলোতে ভারত সীমান্তের কোল ঘেঁষে বিরাজমান শিবরামপুর গ্রামের প্রকৃতি ও মানুষের সহজাত ঘটনা বর্ণিত হলেও এটি মূলত আবহমান গ্রামবাংলার রসময় চিত্র ।
রবিউল ইসলাম ২৬তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি ২০০৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজে প্রভাষক বাংলা পদে যোগদানের মাধ্যমে চাকুরিজীবন শুরু করেন। ইতোপূর্বে তিনি সহকারী অধ্যাপক, বাংলা পদে চাকুরি করেছেনÑ রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী, বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, বদলগাছী, নওগাঁ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে। বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পি-এইচ.ডি গবেষণারত।
বাংলা সাহিত্যের বিচিত্র বিষয়ের তিনি একজন অনুসন্ধিৎসু পাঠক। লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছেন ছাত্রজীবন থেকেই।
‘চেরাগ আলীর ফুটবল কাল’ লেখকের প্রথম শিশুতোষ গ্রন্থ। এ গ্রন্থে তিনটি গল্প রয়েছে। গল্পগুলো শিশুদের উপযোগী করে লেখা হলেও যে কোনো বয়সের পাঠক এর গল্পরস থেকে বঞ্চিত হবেন না। গল্পগুলোতে লেখকের শৈশবকালীন স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা শিশুমনের উপযোগী করে ব্যক্ত করা হয়েছে। কাহিনি বর্ণনায় হালকা রসের আশ্রয় নেয়া হয়েছে Ñ যা শিশুমনে অফুরান আনন্দ জোগাবে।
এ গ্রন্থে লেখকের শৈশব কৈশোরের দুরন্ত ও ঘটনাবহুল দিনগুলোর ছবি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
চেরাগ আলীর ফুটবল কাল
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.
























There are no reviews yet.