Additional information
| Weight | 0.207 kg |
|---|---|
| Published Year |



$ 1.24 $ 1.65
শৈশব থেকেই খুব প্রাণচঞ্চল ও প্রাণবন্ত একজন উদার-উদাসী মানুষ; সদা হাস্যোজ্জ্বল এক প্রিয় মুখ। ভাববাদী দর্শনে বিশ্বাসী এই মানুষটির ভিতরে বাস করে এক শিশুহৃদয়। কবি মুহাম্মদ মঈনুল হাসান সরল আত্মমগ্নতার এক বিমুগ্ধ প্রতিচ্ছবি। ঐন্দ্রজালিক শব্দবিন্যাসে জীবন-উপলব্ধির আনন্দ-বেদনা, কোমল অনুভূতি আর ঘন কুয়াশার ছবি এঁকেছেন তাঁর সরল ব্যঞ্জনার কবিতায়। প্রেম ভালোবাসা প্রকৃতি দেশাত্মবোধ ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্য অনুধাবনে নস্টালজিক ভাবাবেগে তাড়িত।
স্বভাবজাত কবি তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় প্রেম ভালোবাসা প্রকৃতি সংসারের বন্দনাগীত গেয়েছেন। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি; যেখানে মেঘালয়ের পাদদেশ ছুঁয়ে ছুটে চলে ঝরনাপ্রবাহে সোমেশ্বরীর জল নিরবধি। এই মানবজীবন পূর্ণতা-অপূর্ণতার এক বহমান নদী। একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতা, দুঃখ-কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশাকে বন্দি করেছেন তাঁর বুকের নীল পাঁজরে; যা বারবার দোল খেতে থাকে মনের গভীর প্রকোষ্ঠে। কবিতা শ্বাসমূল ছুঁয়ে বেরিয়ে আসা এক তপ্ত বুদবুদ; এই বুদবুদের সম্মিলিত শক্তিই আজকের ‘দ্বীপ জ্বলে কুয়াশায়’। শব্দযানে চড়ে অলীক ভেলায় ভেসে বেড়ানোর ভালোলাগা থেকেই অনুপ্রাণন প্রকাশনের হাত ধরে প্রকাশিত হচ্ছে এই কবিতাগ্রন্থ।
কবিতায় প্রকাশিত হয় আমাদের চিত্তলোকের লুকায়িত চিন্তা-ভাবনা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও ভাবের কথামালা, অন্তর্লোকে উজ্জ¦ল হতে থাকে শব্দের কল্পচিত্র; মনের গহীনে অঙ্কিত হতে থাকে প্রিয় বর্ণমালার মানচিত্র। কবিতায়-কবিতায় আলাদা সুর, ঢেউ ও ঝঙ্কার তুলে। সারা পৃথিবীতে কবিতার তীর্থস্থান আমাদের এই সোনার বাংলা। এরই ধারাবাহিকতায় কবি মুহাম্মদ মঈনুল হাসান ধীরে-ধীরে হয়ে উঠবেন বাংলা কবিতার উত্তরাধিকার। কবি’র জন্য রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন, শুভকামনা ও ভালোবাসা।
কবি মাহবুব মিত্র
১৬ অক্টোবর ২০১৯, মিরপুর, ঢাকা।
| Weight | 0.207 kg |
|---|---|
| Published Year |
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
আলী রেজা। জন্ম: ১৯৫৭। মুক্তিযুদ্ধে আলোড়িত কবি, সত্তর দশকে মূলত ছোটকাগজে লেখালেখি শুরু করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
আলী রেজা
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
আবু জাঈদ। জন্ম: ২২শে জুলাই ১৯৮৩, ঢাকা। পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে একসময় কবি বাউণ্ডুলে জীবনের এলোমেলো আলপথে নেমে যান বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তাই বলে কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। এক সন্তানের জনক। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
মানচিত্রের ফাঁসি চাই
লেখক পরিচিতি :
শারমিন রাহমান। জন্ম: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩। দ্ইু সন্তানের জননী। বাংলাদেশের স্বনামধন্য স্কুলগুলোতে দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকতা শেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম আর্ট সেন্টার ‘ধ্যান’ এর পরিচালক। বিশেষ আগ্রহ আছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে। এটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
অপ্রাকৃত কবচ
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
রাজন্য রুহানি। পরিবারের দেওয়া সনদসাক্ষ্য নাম মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। জন্ম: ২রা নভেম্ভর ১৯৮০, জামালপুর জেলা শহরের হাটচন্দ্রায়। কলেজে পা দেবার সাথে সাথেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মফস্বল সাংবাদিকতার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বারবার কবিতার কছেই ফেরা। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং। ১৯৯৮ থেকে কবিতার ভাঁজপত্র শব্দদূত সম্পাদনার সাথে যুক্ত। ঐ বছরই অন্যান্য লেখক সহযোগে আলোচনাগ্রন্থ- ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; আতিয়ার রহমানের ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি লেখকের প্রকাশিত এককবই।
গল্প সমাপ্তির গান
কিছু একটা বলাটাই যখন বাধ্যবাধকতাÑবাহুল্য এবং আপেক্ষিক বাতুলতা বাদ রাইখা মাহবুব লীলেন থাইকা ধার কইরা বলতে হয়Ñ ‘আনফিট মিসফিট হইয়া হামাগুড়ি দিয়া হাঁটি, আর রাত্তিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ টাইনা চিক্কুর দিয়া কইÑ যাহ শালা বাঁইচা গেলাম আরও একটা দিন।’
এইটা বড়োবেশি জৈবিক বাঁচা
মানবিক বাঁচনের স্বপ্নও দেখি না বহুদিন
বড়ো তরাসে আছি
বড়ো বেশি চাইপা আছি, নিজের গলা নিজে।
দ্বান্দ্বিক দ্বন্দ্ব বিষয়ক আজাইরা প্রলাপ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
লেখক পরিচিতি :
হান্নান হামিদ, লেখক নাম কালের লিখন। জন্ম: আগস্ট, ১৯৮৪। জামালপুর। ‘বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস’ লেখকের প্রথম বই।
বিশ্বাস শুধুই নিঃশ্বাস
লেখক পরিচিতি :
হামীম ফারুক। পুরো নাম: গোলাম ফারুক হামীম। জন্ম: ২৪শে অক্টোবর, ১৯৬৩, ঢাকা। প্রথম তারুণ্যে কাজ করেছেন ইংরেজি পত্রিকা নিউ নেশন-এ। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে এখন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। মূলস্রোতের সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে একটানা লিখেছেন ১৯৮৭ পর্যন্ত। মাঝখানে বিরতি দিয়ে পুনরায় আগমন প্রথম কবিতার বই ‘রোদ ও ক্রোধ, মাঝখানে সাঁকো’ দিয়ে। একটি ই-বুক আছে, ‘নক্ষত্রের চিরকূট’। এটি লেখকের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
প্রকৃতি পুরাণ
সম্পাদকীয়
শিল্প-চেতনার ঐক্য
দেশে-বিদেশে সাধারণভাবে এটাই ধরে নেয়া হয় যে কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীরা সাধারণ মানুষদের তুলনায় সমাজ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন, সক্রিয় এবং অগ্রসর ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এই গোষ্ঠীর সকলেই সমমনা এবং তারা একক কোন সংগঠনে মিলিত অবস্থায় রয়েছেন। এর কারণসমুহ সময়ের সাথে সম্পর্কিত সমাজের আর্থ-সামাজিক ও রাজনীতির বাস্তব ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যেতে পারে।
ভাষা, শব্দ, কণ্ঠ, বাদ্যযন্ত্র, রঙ, তুলি অথবা যে কোন উপকরণ ব্যবহার করে সুর ও সুন্দরের চর্চা, অভিব্যক্তি ও নির্মান যা মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে, হৃদয়ে আবেগ-অনুভূতি আন্দোলিত করে, মন মুগ্ধ করে অথবা মেধা ও মননে গভীর ছাপ ফেলে যায়- কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীরা সেই কাজেই নিজের প্রতিভা বিকাশের সাধনায় নিয়োজিত থেকে সমাজে সুর ও সুন্দরের সৃষ্টি করে যেতে থাকেন। সুতরাং তাঁদের স্বাভাবিক অবস্থান কুৎসিত, অন্যায়, অন্যায্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে এবং এটাই একান্তভাবে প্রত্যাশিত। সেখানে বিভেদের কী কোন অবকাশ থাকে? সত্য ও সুন্দরের আরাধনা করতে চাইলে একজন শিল্পীকে বুদ্ধিবৃত্তির পরিচর্যায় নিমগ্ন হতে হবে এবং অনস্বীকার্যভাবে কুসংস্কার, ভীরুতা, জরাজীর্ণতা ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। কিন্তু, বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাই? শুদ্ধ শিল্পসিদ্ধি এবং বাস্তবজীবন বীক্ষণ বোধ ব্যক্তি ও ক্ষেত্র বিশেষে যেন সম্পর্কবিহীন দুটো সেতুবিহীন রাজ্যের মতো বিভক্ত রয়ে যায়। কিন্তু, এটা কেন?
আমাদের নন্দনবোধের সাগরে প্রকৃতি যেমন একটা বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে, ঠিক তেমনই জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ চেতনা কী বাস্তব পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়? এই দুটি বিষয়কে কল্পনা বা বাস্তবে কী কোন প্রভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যায়? অসীমের অন্বেষণ ও স্বপ্নচারিতা একজন শিল্পীর থাকতে পারে। সৌন্দর্যের সন্ধানে অসীম ও অনন্তের দিকে যাত্রা করাও দোষের নয়। পরম সত্যের সৃষ্টির রহস্যকে ঘিরে অনুসন্ধান অনুসন্ধিৎসা আলো-অন্ধকারের উজ্জীবনে না হয় ক্লান্তিতে হয়ত হাবুডুবু খাবে। কখনো কখনো অন্ধকারের স্তব্ধতা নৈঃশব্দের দ্যোতকরূপে চেতনায় সংগুপ্ত থাকবে কিন্তু চিন্তায় সংকীর্ণতা, স্বার্থবাদী ও ক্ষমতাশালী উপনিবাশবাদী শক্তি পরিচালিত ভেদ ভাবনা অথবা মৌলবাদ কখনো মানবমুক্তির স্বপ্নের উজ্জ্বল আলোকে স্পর্শ করতে সাহায্য করতে পারবে না।
কালোত্তীর্ণ শিল্প কী জীবন বিচ্ছিন্ন ছিল? মানুষের দেহ ও তার অবয়বকে, তার যাপিত জীবনের সংগ্রাম অথবা উৎসবের বাইরে মানুষকে ছুঁড়ে দিয়ে মৌলবাদী কোন বিশ্বাসে শৃঙ্খলিত করার কোন অপচেষ্টায় সেসব শিল্প কর্ম কী লিপ্ত ছিল? এমন কোন অভিযোগ অথবা এমন কোন বিশেষণে সেসব শিল্প কর্মকে কী বিশেষায়িত করা সম্ভব? মানবসভ্যতার ইতিহাসে কালোত্তীর্ণ শিল্পের আধারে আত্মার মুক্তি কখনোই অধিক যথার্থ প্রশ্ন ছিল না- যতনা ছিল প্রেম, মানবতা ও মানব মুক্তির বিষয়াবলী। আর এ-কারণেই বুঝে নেয়া দরকার যে ক্ষমতার বর্বরতা ও নৃশংসতার সঙ্গী-সমর্থক হয়ে কখনোই প্রেম, মানবতা ও সুন্দরের পূজা সার্থক সিদ্ধি লাভ করতে পারে না। কেননা যখন ঘৃণা অথবা প্রেম থেকে শিল্পকে যে কোন একটাকে বেঁছে নেয়ার প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় তখন মানবতাই শিল্পের ধর্ম হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। কেননা- প্রেমই সুন্দর এবং প্রেমই মানবতার বৈশিষ্ট।
যদিও প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সংবেদনশীলতা বিরাজমান কিন্তু এর মাত্রা ও স্বাতন্ত্র্য সবার অস্তিত্বে সমভাবে লালিত হয় না। যারা একটু অধিক মাত্রায় সংবেদনশীল তাদের ইন্দ্রিয় সদা জাগ্রত থাকে, তাঁরা প্রকৃতি থেকে সৃষ্টির চিরন্তনতার নির্যাস পায়, অসীমের অস্তিত্ব এবং সৃষ্টিতত্ত্বের মহিমা হৃদয়াঙ্গম করতে পারে। শিল্পী সমাজের সদস্যগণ জীবন প্রবাহের সব উপকরণের মধ্যে সত্য, সুন্দর, সততা ও সরলতাকে অবিচ্ছেদ্যতার সাথে তাঁর অস্তিত্ব দিয়ে আকাঙ্খা করেন। মানুষ ও মানবজাতির কল্যাণ চিন্তায় হন সবচেয়ে অগ্রগামী এবং এ-কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈষয়িক জীবনে বঞ্চিত রয়ে যান। বৈষয়িকভাবে তাঁর বঞ্চিত হওয়া অবাঞ্ছিত নয়, কারণ লেখক ভোগবাদের উপাসক নন, তিনি উপাসক প্রেম ও সত্যের- যে প্রেম, যে সহমর্মিতা, যে ভালোবাসা, মানবজাতির চিন্তা-চেতনা ও জীবন যাপনের সেই সত্য ও সুন্দরতা- যে সত্য থেকে, যে সৌন্দর্য থেকে জীবন সত্য- সদা প্রসারিত ও স্পন্দিত।
জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি যাই থাকুক না কেন, ন্যূনতম ক্ষুধা ও তৃষ্ণার দাবি মিটিয়ে শিল্পী তাঁর মনে কল্পনার একটি সুন্দর জগৎ সৃষ্টি করেন, যে জগতে অপ্রাপ্তির ইতিহাসও প্রমূর্ত হয়ে ওঠে। কল্পনাকে সত্য বলে উপলব্ধি করে লেখক বিশ্বের স্বর্ণযুগ কল্পনা করেন। যদিও স্বপ্ন ও বাস্তবের মধ্যে অন্তহীন শূন্যতা থাকে তবুও শিল্পী যেমন নিজে স্বপ্ন দেখেন তেমনই অন্যকেও স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন। এসব সুন্দর স্বপ্ন দেখতে দেখতে একসময় অন্যদের মনোজগৎও স্বাপ্নিক ও সুন্দর হয়ে ওঠে। অনেকের ধারণা- শিল্পী শুধু কল্পনারাজ্যে বিরাজ করেন কিন্তু হৃদয়রাজ্যেও যে তাঁর অপ্রতিহত অবস্থান সে বিষয়টি ভেবে দেখেন না। একজন শিল্পী যুক্তিকে স্বীকার করেন, গ্রহণ করেন, ব্যবহার করেন হৃদয় দিয়ে এবং সেভাবেই সৌন্দর্য ও সত্যের অভিন্নতাকে প্রত্যক্ষ করেন। শিল্পী তাঁর চারপাশের সমাজ সংস্কৃতি পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতা সঞ্জাত অন্তরের নির্যাসটুকু শিল্পিতরূপে ছেনী-হাতুরী, রং-তুলি অথবা কলমের ডগা থেকে শূন্যতার সময়পটে চিহ্নিত করেন। নৃশংসতা, বর্বরতা, দমন-নিপীড়নের সাথে যেমন সত্য ও সুন্দরের ঐক্য হতে পারে না তেমনই একজন শিল্পী সমকালীন সমাজের শক্তির বিভাজনে অবশ্যই নির্যাতিতের পক্ষেই তার অবিচ্ছেদ্য অবস্থান নিশ্চিত করেন। এটাই শিল্পী সমাজের ঐক্যের মূল সূত্র। অনুপ্রাণন, শিল্প-চেতনার ঐক্যের এই মূল সূত্রের দিকেই সবাইকে ধাবিত করার প্রচেষ্টা করে যেতে চায়।
সপ্তম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা
স¤প্রতি অহ নওরোজের কবিতার এক অনন্য নির্মিতি গড়ে উঠেছে, যা বিষয়কেও করেছে প্রবলভাবে প্রভাবিত; পুনরাবিষ্কারের মধ্য দিয়েই তাই এই কবি ও কবিতার মর্মে আমাদের পৌঁছাতে হবে।
ছন্দ সচেতন এই কবি আধুনিক কবিতার সমস্ত শৈলী নিজের মতো ব্যবহার করেছেন, ফলে কাঠামোগত দিক থেকে তিনি ক্ল্যাসিকও।
অহ নিজেকে ক্রমাগত খুঁড়ে চলেছেন, যদিও সেই লক্ষ্যমুখ আমাদের অজ্ঞাত, কিন্তু টের পাই কোথাও নিভৃতে গড়ে উঠেছে মাতৃভ‚মি ও পরবাসের মেটাফরজনিত দ্বৈরথ। তিনি জানেন কবির ফেরা বলে কিছু নেই, বৃত্তাকার পৃথিবীর পৃষ্ঠই তার দিশা ও বিদিশার পান্থশালা। ফলে তার চৈতন্য সৌন্দর্য ও শূন্যতায় ভরপুর।
কিন্তু এই কবিতা ঠিক কবিতা নয়, কবিতারও অধিক কিছু; যা অনতি তরুণদের কাছে হবে অননুকরণীয় আর পুরোনো আধেয়র জন্য হবে গ্রহণে অক্ষম।
-জাহিদ সোহাগ, কবি
Komburekhpadabali (Verses of Helix) by Aho Nouroz
মায়ের চোখের জল শুধু দুঃখের নয়, তা ভালোবাসার, ত্যাগের আর সীমাহীন আশ্রয়ের প্রতীক। ‘তোমার চোখের জলে আমার জন্ম, মা’ গ্রন্থটি মাতৃত্বকে কেন্দ্র করে লেখা গভীর আবেগময় রচনা। এখানে উঠে এসেছে সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা, অশ্রুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তি আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের জন্য মায়ের অগাধ আত্মত্যাগ।
এই উপন্যাসটি আমার মাকে কেন্দ্র করে লেখা একটি হৃদয়স্পর্শী গ্রন্থ। মায়ের অশ্রু, হাসি, ত্যাগ আর ভালোবাসা সবই আমাকে গড়ে তুলেছে আজকের আমি হিসেবে। এই বইয়ে আমি ফিরে গেছি মায়ের সাথে কাটানো স্মৃতি, সংগ্রাম আর অনন্ত মমতার গল্পে।
এই বই শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে স্পর্শ করবে, মনে করিয়ে দেবে আমাদের জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের পেছনে আছে মায়ের অশ্রু, প্রার্থনা ও অমলিন ভালোবাসা।
এই বই শুধু আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি প্রতিটি মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় এক বিনম্র উপসর্গ।
Tomar Cokher Jole Amar Jonmo, Ma - Saraban Tahura Moumita
পূর্বপুরুষ কেউ একজন পাগল ছিল। নিলয় সবসময় সেই পাগলামিটা তার নিজের মধ্যে অনুভব করে। মাঝেমধ্যে অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখে, অদ্ভুত অদ্ভুত চিন্তা মাথায় চেপে বসে; অদ্ভুত কিছু কান্ড করেও বসে। একদিন রাতের বেলা কবরস্থানে গিয়ে একা বসে থাকে! কোরবানির ঈদে চারিদিকে যখন খুশির জোয়ার, তার কাছে সেই ঈদ হয়ে ওঠে বিষাদময়! শতবছর আগে মরে যাওয়া তার বড় দাদার ( দাদার দাদা) সাথে দেখা হয়! স্ত্রী তার সকল পাগলামি মেনে নিলেও সহকর্মীর সাথে সখ্যতা কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। অভিমানে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়, সহকর্মীর সাথে প্রেমের ভাঙন ধরে। অফিসের অনিয়ম আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চাকরিচ্যুত হতে হয়। তার নিজেকে একজন ব্যর্থ মানুষ মনে হয়! এই অবস্থায় তার কাছে এই শহর, শহরের মানুষ, অলি গলি রাজপথ সবকিছু খুব নোংরা মনে হয়। এই নষ্ট নরক ছেড়ে সে চলে যায় তার ছেলেবেলার সেই গ্রামে। কিন্তু ছেলেবেলার সেই গ্রামটি আগের মতো আর খুঁজে পায় না। পরিবর্তিত গ্রামটিকেও একসময় তার কাছে নষ্ট মনে হয়। গ্রাম ছেড়ে সে অজানার পথে বেরিয়ে পড়ে। এক বাউলের সাথে দেখা হলে সে বাউল হতে চায়। কিছুদিন পর বাউল জীবন ছেড়ে সে পথে পথে ঘুরতে থাকে। এক মুক্তিযোদ্ধার বৃদ্ধ বয়সের করুণ অবস্থা দেখে তার কষ্ট হয়। এক বিকেলে নীড়ে ফেরা পাখি দেখে সে তার পৈত্রিক ভিটায় গ্রামে ফিরে আসে। স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে শুরু করে। এ-সময়ও তার দাদার দাদা তাকে দেখা দেন। বড় দাদার সাথে কথা বলার জন্য সে ব্যাকুল হয়ে যায়। স্বাভাবিক জীবন যাপন সে কিভাবে করবে? পুর্বপুরুষের সেই পাগলামি যে তার অস্তিত্বে মিশে আছে!
পাগলের জবানবন্দি - Pagoler Jobanbondi
এই বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মূলত: আমার শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণায়। অনেক দিন ধরে ওরা আমাকে ভূতের গল্প লেখার জন্য উৎসাহ দেয়। দশটা গল্পের মধ্যে চার পাঁচটার মতো গল্প পত্রিকা ও শিশু সাহিত্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। এখানে প্রতিটি গল্পে শিশু কিশোরদের ঠাকুরমার কাছে ভূতের গল্প শোনা, ভূতকে নিয়ে কল্পনা করা, একাকিত্বে ভূতকে সঙ্গী মনে করা, ভূতের লেখাপড়ায় আগ্রহ, পরীর সাথে ভূতের বন্ধুত্ব, বাসাবাড়িতে ভূতের আতঙ্ক, বল আনতে গিয়ে ভূতের কবলে পড়া, করোনা কালীন সময়ে শ্মশানে লাশদের আহাজারি, শাকচুন্নী ও মেছো ভূতের গল্প, ভূত মামার সাহায্যে ফল খাওয়া সহ আরো নানান চমকে দেয়ার মতো কাহিনী সহজভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আশা করি এই গল্পগুলো পাঠকদের মনে রেখাপাত করবে। ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও এই গল্পগুলো পড়ে উপভোগ করবে।
Vuter Kabole Ora Tinjon by Jonaki Dutta
শৈশব থেকেই খুব প্রাণচঞ্চল ও প্রাণবন্ত একজন উদার-উদাসী মানুষ; সদা হাস্যোজ্জ্বল এক প্রিয় মুখ। ভাববাদী দর্শনে বিশ্বাসী এই মানুষটির ভিতরে বাস করে এক শিশুহৃদয়। কবি মুহাম্মদ মঈনুল হাসান সরল আত্মমগ্নতার এক বিমুগ্ধ প্রতিচ্ছবি। ঐন্দ্রজালিক শব্দবিন্যাসে জীবন-উপলব্ধির আনন্দ-বেদনা, কোমল অনুভূতি আর ঘন কুয়াশার ছবি এঁকেছেন তাঁর সরল ব্যঞ্জনার কবিতায়। প্রেম ভালোবাসা প্রকৃতি দেশাত্মবোধ ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্য অনুধাবনে নস্টালজিক ভাবাবেগে তাড়িত।
স্বভাবজাত কবি তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় প্রেম ভালোবাসা প্রকৃতি সংসারের বন্দনাগীত গেয়েছেন। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি; যেখানে মেঘালয়ের পাদদেশ ছুঁয়ে ছুটে চলে ঝরনাপ্রবাহে সোমেশ্বরীর জল নিরবধি। এই মানবজীবন পূর্ণতা-অপূর্ণতার এক বহমান নদী। একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতা, দুঃখ-কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশাকে বন্দি করেছেন তাঁর বুকের নীল পাঁজরে; যা বারবার দোল খেতে থাকে মনের গভীর প্রকোষ্ঠে। কবিতা শ্বাসমূল ছুঁয়ে বেরিয়ে আসা এক তপ্ত বুদবুদ; এই বুদবুদের সম্মিলিত শক্তিই আজকের ‘দ্বীপ জ্বলে কুয়াশায়’। শব্দযানে চড়ে অলীক ভেলায় ভেসে বেড়ানোর ভালোলাগা থেকেই অনুপ্রাণন প্রকাশনের হাত ধরে প্রকাশিত হচ্ছে এই কবিতাগ্রন্থ।
কবিতায় প্রকাশিত হয় আমাদের চিত্তলোকের লুকায়িত চিন্তা-ভাবনা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও ভাবের কথামালা, অন্তর্লোকে উজ্জ¦ল হতে থাকে শব্দের কল্পচিত্র; মনের গহীনে অঙ্কিত হতে থাকে প্রিয় বর্ণমালার মানচিত্র। কবিতায়-কবিতায় আলাদা সুর, ঢেউ ও ঝঙ্কার তুলে। সারা পৃথিবীতে কবিতার তীর্থস্থান আমাদের এই সোনার বাংলা। এরই ধারাবাহিকতায় কবি মুহাম্মদ মঈনুল হাসান ধীরে-ধীরে হয়ে উঠবেন বাংলা কবিতার উত্তরাধিকার। কবি’র জন্য রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন, শুভকামনা ও ভালোবাসা।
কবি মাহবুব মিত্র
১৬ অক্টোবর ২০১৯, মিরপুর, ঢাকা।
দ্বীপ জ্বলে কুয়াশায়
ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন ১১ম বর্ষ ২য় সংখ্যা
সুরতালির মা চমকে উঠল টর্চের আলোয়। এই টর্চ মারা তার পরিচিত। বহুদিন এটা নিয়ে পবনার সাথে কথা হয়েছে। এভাবে টর্চ মারা ঠিক নয়। তখন পবনার বয়স ছিল ত্রিশ-বত্রিশ। এখন পঞ্চাশোর্ধ। এই লোকটি আজ তার কাছে নয়, তার মেয়ের কাছে এসেছে। অদ্ভুত দুনিয়া! সুরতালির মা কুঁকড়ে ওঠে। কিন্তু কিছু বলার নেই। কেননা আজ তার গায়ে কোনো শক্তি নেই। শয্যাশায়ী। কতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, জানা নেই। চোখ দুটোকে শক্ত করে ঢেকে ফেলে সুরতালির মা।
Pocha Kostorir Mrigonavi Ghran by S.M. Shamsul Alam
আমরা কী বেঁচে আছি?
যখন গল্পের সংসারে ঢুকে হাড় মাংস জলে সাঁতার কাটতে পারি, তখনই বুঝতে পারি গল্প আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। প্রাচীনকাল থেকে মানব বিশ্ব কিন্ত গল্পের ঘরবাড়ি। ঘরবাড়ির মানুষগুলোর যতো দুঃখ হতাশা প্রেম খুন অপ্রেম সবই গল্প ধারণ করে নিজেরাই সজীব আর সতন্ত্র কষ্ঠস্বর। গল্পকারের মননে সৃষ্টির শিল্পসূত্রপাতে প্রতিটি গল্প হয়ে ওঠে জীবন রক্তস্রোত।
বন্দি রাজকুমারী ও মাইকেল মধুসূধন গল্প বইয়ের ষোলোটি গল্পের মধ্যে যেমন আছে দুঃখের নৃত্য, তেমন আছে প্রেমের নিঁখুত-নিপুণ খুনের পদ্মফুল। ১৯৭১ সালে হায়েনা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের গাথা শত জনমের অর্জিত অহংকার। গল্পকার সেই স্পর্ধিত অহংকারের পতাকা এঁকেছেন গল্পের বুভুক্ষ জমিন জুড়ে। নদী যদিও নারীর মতো কিন্ত আগ্রাসী ভাঙনে পরিনত হয় বাংলার জনপদ হাঁঙ্গরের হাঁ’য়ে। ধ্বংসের সংবেদে সেই জীবনের গল্পও বইয়ে ঠাঁই পেয়েছে।
আধুনিক নগর জীবনে একটা নিজের বাসা প্রতিজনের পরম আশা। কিন্ত একজন বাকীবিল্লাহ প্রমাণ করে দেয়, সবাই সবকিছু পাওয়ার অধিকার রাখে না। বন্দি রাজকুমারী ও মাইকেল মধুসূধন গল্পবইয়ের গল্পগুলো বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষের ভাঙা আয়নায় প্রতিফলিত মুখ…
Bondi Rajkumari O Michael Madhusudan - Moni Haider
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
‘মুজিবের ছড়া মুক্তির ছড়া’ গ্রন্থটি আবেদীন জনী’র রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত ছড়া-কবিতাগুলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। এক কথায়, এটি বঙ্গবন্ধুর অনবদ্য কীর্তিগাথা। আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, ও বাংলাদেশের কথা লিখতে লিখতে লেখক ছড়া-কবিতাগুলোতে বার বার প্রবলভাবে বঙ্গবন্ধুর কথাই উচ্চারণ করেছেন। কোমলমতি সন্তানেরা গ্রন্থটি পাঠ করে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
ছোটোদের উপযোগী সাহিত্য রচনা করতে হয় প্রাঞ্জল ভাষায়। নরম মনের স্বপ্নসাঁকো শাব্দিক ঝড়-ঝাপটায় যেন নড়ে না ওঠে। ওদের মনস্তাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে। বিকাশমান সৃষ্টিশীল চেতনার পথগুলো যেন রুদ্ধ না হয়। মগজের কোষে যেন বিরুদ্ধ বাতাস আঘাত করতে না পারে। তবে হ্যাঁ, যে সমাজে শিশু-কিশোররা বেড়ে উঠছে, সেই সমাজের কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে, স্বপ্নখেকো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ফিরিয়ে আনতে ওদের মানসজগতে মৃদু শাব্দিক টোকা দেওয়া বা জাগরণের মৃদু স্পন্দন তোলা যায়। তবে সেটাও করতে হবে অত্যন্ত সচেতনভাবে। নিখাদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কাঁচা মস্তিষ্কের কতটুকু ধারণক্ষমতা এবং হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে, নাচতে নাচতে কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে- সেসব বিষয়ে সুচারু মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সচেতনভাবে ‘মুজিবের ছড়া মুক্তির ছড়া’ গ্রন্থের ছড়া-কবিতাগুলো রচনা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি লেখার মধ্যে ছোটোদের মনোবিকাশের জন্য কোনো না কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপাদান রয়েছে, যা নির্মল আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুকে নিয়ে যাবে আলোর জগতে। লেখাগুলো পাঠ করতে বড়োদেরও ভালো লাগবে।
Mujiber Chora Muktir Chora by Abedin Jony
শবনম এতক্ষণ বেশ মজা নিয়েই এসব উপভোগ করছিল কিন্তু এখন যেই শুনতে পেল ওর বর দাঁড়িয়ে আছে বাহিরে ওর জন্য, এখন ওকে যেতে হবে তার কাছে। তখনই ভেতরে কেমন এক চাপা উত্তেজনা কাজ করতে শুরু হল এই স্বামী নামক মানুষটাকে দেখার জন্য। এখনও দেখেনি মানুষটা কেমন, জানেও না তার আচার-আচরণ সম্পর্কে। অথচ বাবা মা কীভাবে হাত পা বেঁধে উঠিয়ে দিল পালকিতে। বাড়ি থেকে বের করে দিল সারা জীবনের জন্য। ওই বাড়ি থেকে এই পর্যন্ত যতজন মেয়ে ওই পালকিতে চড়ে বের হয়েছে তারা আর কেউ কোনো দিন ফেরেনি আপনালয়ে। যে যায় সে মনে হয় সব বাঁধন ছিন্ন করেই যায়। কিন্তু শবনম তো কারো সাথে কোন বাঁধনই ছিন্ন করে আসেনি, তবে কী ও আর কখনও ফিরতে পারবে ওর নিজের আপনালয়ে?
এসব আবোলতাবোলই ভাবছিল আর তখনই একজন এসে ওর হাত ধরে টেনে ঘর থেকে বের করে নিল।
শবনম একবার মুখ ফোটে বলতে চেয়েছিল “আস্তে টানেন আমি তো শাড়িতে পা বাজাইয়া পইড়া যামু।”
কিন্তু না, কেন জানি কিছুই বলতে পারল না। তার আগেই দুলাল এসে পাশে দাঁড়াল
“ভাবি সাব আর কষ্ট করতে হইব না, অহন আমি পারমু। আহো শবনম, আহো। তুমি আমার পিছন পিছন আহো। বলেই কুপিটা এগিয়ে ধরে পথ দেখাতে লাগল।শবনম কী বলবে তা বুঝতে পারল না, শুধু চুপচাপ দুলালের পেছন পেছন হেঁটে এগিয়ে গেল নিজের ঘরে……..
এরপর কী ঘটেছিল শবনমের জীবনে? দুলাল কী ওর পুরো জীবনটাতেই আলো জ্বেলে পথ দেখাতে পেরেছিল এই কিশোরী মেয়েটিকে ? না কি……..
Shabnam by Shayla Sultana Lucky
মোট ছোটগল্প তেরোটি। প্রথম পাঁচটি সারমেয়দের নিয়ে রূপক-গল্প। বিগত করোনাকালের নির্মমতার শিকার এরাও। হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ, বাজারগুলো ক্রেতাহীন, রাস্তাঘাট আর গলিগুলো জনশূন্য। রাস্তার নেড়ি কুকুরগুলো খাবার পাবে কোথায় ? ওরা মানুষ-ঘেঁষা সংবেদনশীল এক প্রাণী, মানুষ ওদের কাছে প্রভু তুল্য, মানুষই ভালোবাসা-করুণায় ওদের বাঁচিয়ে রাখে আবার ওদের জীবনে যতো পীড়ন-দমন সব মানুষের কারণেই ঘটে ; লেখক তাই ওদের চোখ দিয়ে এ সমাজের মানুষগুলোর ভাব-ভালোবাসা, ত্রুটি-বিচ্যুতি ও নিষ্ঠুরতার খণ্ড খণ্ড চিত্র আঁকতে চেয়েছেন গল্পগুলোয়। করোনাকালের ছায়া, একলা ফুলি, একলা হিল্লি, গভীর অন্ধকারের ঘুম, মানুষ বোঝা দায়, মেঘের মতো কোমল সে-কথাই জানান দেয়। অন্যদিকে করোনা কথা, করোনা বিভ্রম, আজকাল খুনিকে চেনা যায় না, বন্ধঘরের লড়াই গল্পগুলো কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিপন্ন সময়কে ঘিরে আবর্তিত; এসময়ের মানসিক টানাপোড়েন, নানাবিধ আর্থ-সামাজিক দৈন্য ও দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস ও সন্দেহ বারবার ঘুরেফিরে গল্পগুলোর পরতে পরতে ছায়া ফেলেছে। যে বিপন্নতাবোধ থেকে মানুষের অন্তরে অসহায়তার সূত্রপাত, লেখক যেনো গল্পগুলোয় নানাভাবে-নানারঙে আখ্যানের ভেতর দিয়ে জীবনের সেই গভীর সত্যকে ধরতে চেয়েছেন । দেশান্তরী আমলকী, অন্তিম, জীবন একফোঁটা মধু মানুষের সেইসব বোধ ও উপলব্ধিকে তুলে ধরে। গল্পগুলোর বিষয়, নির্মাণ-শৈলী ও মেজাজের ভিন্নতাও লক্ষণীয় ।
করোনাকালের ছায়া - Koronakaler Chaiya
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.






























There are no reviews yet.