Description
প্রতিবাদ করা কি কবি-লেখক-শিল্পীর ধর্ম নয়? প্রবহমান স্রোতে গা ভাসিয়ে যাপিত জীবনে নেই কোনো মনুষ্যত্বের বোধ! তাই বলে শিল্পী স্বধর্মচ্যুত নন। তারও ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থাকে সুন্দর জীবনের জন্যে, মানুষের জন্যে এবং এই হাহাকার অস্তিত্বের জন্যে। এই স্বপ্ন বিঘিœত হলেই জাগে ক্ষোভ ও প্রতিবাদÑ তাই শব্দে শব্দে কবি বলতেই পারেন, ‘দারুণ ঘা খেয়ে আমারও মুখে বোল ফুটে ঘাঘু বিদ্যুতের!’ যার মূলে আছে কবির শান্তি ও সুন্দরের জন্য আকুতি। যেকোনো সৎ ও বিবেকবান কবি চান সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত, সুসভ্য সমাজ ও মানুষ। তাই এই গ্রন্থে মানুষ হয়ে উঠেছে কবিতার মুখ্য বিষয়।















কবিতা যেন পর্যবেক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সময়ের লুপ―স্থানকালের আপেক্ষিকতায় অনুভূতির যাদুবলে মোহিত একাকিত্বের তীব্র আনন্দ ভোগ অথবা সাদাকালো বেদনা বৃক্ষ। কবিতা আমার কাছে আমার জীবনবোধের মর্মরধ্বনি। জীবনকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের উত্থান-পতন, সভ্যতা, ধার্মিক-অধার্মিক, নাস্তিক-আস্তিকের কাণ্ডখানা, পুঁজিবাদ, ধর্ম, সমাজতন্ত্র, দেশপ্রেম, নারী… সবকিছুই। কবিতায় কবির চিন্তার জগৎ উঠে আসে, ছক কষে কল্পনা ও গণিতে। জীবনের জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত চিন্তায় স্থানান্তর করে যা পার্থিব-অপার্থিব জগৎ ভাবিয়ে তোলে। জলের শব্দে কবিতা রপ্ত হয় মিশে যায় রঙহীন, শব্দে শব্দে নীল হয়ে ওঠে আকাশ। কবিতা মানবধর্মের অথবা মানুষের রঙহীন রঙিন―ভায়োলিন শব্দ। মানব জাতির অধিকাংশ লিখতে পারে না এটা যেমন সত্য, অধিকাংশ আবার শিল্পকে ধারণ করতে পারে না। নিজের অনুভূতি বা মতের বিরুদ্ধে গেলেই উগ্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। মূর্খদেরকে জ্ঞানী করে তোলা অথবা জ্ঞান প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কবিতা শুধু সহনশীল মানুষ ও মানবতার জন্য―যা আপনার জ্ঞানকে ক্রিয়াশীল করতে পারে আবার নাও পারে। হ্যাপি রিডিং―চিয়ার্স।


There are no reviews yet.