Additional information
| Weight | 0.67 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 0.53 $ 0.71
| Weight | 0.67 kg |
|---|---|
| Published Year |
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
সরদার ফারুক। জন্ম ১৯৬২ সালের ৯ নভম্বের, কপোতাক্ষ নদের তীরে খালিশপুরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের কাশীপুর। পেশায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বরিশালে ঘাট শ্রমিকদের ?আন্দোলন, ডেমরায় শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম ও বাজিতপুরের জেলেদের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নব্বইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি সরকারী চাকরি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনও করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ১৯৮০ সালে বরিশালের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক লোকবাণী’ পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে শামসুর রাহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক দেশ, সংবাদসহ দেশ-বিদেশের নানা পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নোনা শহর
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
ভূমিকা-
আমার ৪টি কবিতার বই বিভিন্ন সময়ে কলকাতা এবং আগরতলা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠক বইগুলো হাতে পাননি বলেই সেখান থেকে ১০০টি কবিতা বাছাই করে এই প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রাণন প্রকাশনের প্রাণপুরুষ শ্রদ্ধাভাজন আবু এম ইউসুফ ভাইয়ের সহৃদয় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ।
অনুজপ্রতিম তুহিন ভূঁইয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
রূপনগর আবাসিক এলাকা
মিরপুর, ঢাকা।
সরদার ফারুকের ১০০ কবিতা
ভূমিকা
‘সীমান্তিনী’ আমার লেখা দীর্ঘ কবিতার মধ্যে অন্যতম। বারোটি কবিতা নিয়ে এই বইটি। কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে প্রেমের পাশাপাশি পাহাড়ি সৌন্দর্য, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো, হাজং প্রভৃতি আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও তাদের জীবনধারা। পাহাড়ি নারীর সৌন্দর্য, বালুকণা, সমুদ্র, আঁকাবাঁকা-উঁচুনিচু পথের দৃশ্যও এই বইতে চিত্রিত হয়েছে। প্রতিটি কবিতার পাতা রাঙানো হয়েছে ভালোবাসার রঙে।
কিসিঞ্জার ভূঁইয়া
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সীমান্তিনী
কিরণ আকরামুল হক এর “অহেতুক মানুষ” বইয়ের কবিতাগুলি আমাকে পড়তে হয়েছে নানকারণে। প্রথম বই প্রকাশের পর দু’বছর বিরতি দিয়ে কবি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। কবিতার ভেতরের শিল্পকে বুঝতে চেষ্টা করেছেন। রূপক, উপমার সেলাই শিখেছেন। সাথে প্রগতিশীলতার চর্চা থাকায়, ‘অহেতুক মানুষ’ গ্রন্থের প্রায় প্রতিটি কবিতাই কবিতা হয়ে উঠেছে। সমকালীন চিন্তা, বিষয় ভাবনা, আর পরিমিত নির্বাচিত শব্দ-প্রয়োগে অহেতুক মানুষ গ্রন্থের কবিতাগুলিকে কবি কিরণ আকরামুল হক এর ভাবনার পরিণত বুনন বলা যায়। গ্রন্থখানার দারুণ পাঠকপ্রিয়তা আশা করছি।
-ফিরোজ আহমেদ
অহেতুক মানুষ
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
ফারহানা খানম। জন্ম: ১৯শে এপ্রিল ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপে। ‘ভুগোল ও পরিবেশ’ বিষয়ে স্নাততোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে ব্যাংকে চাকুরি শুরু করলেও বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। নয় ভাই-বোনের মাঝে সবার ছোট বলেই আদরও পেয়েছেন বেশি। প্রথম প্রকাশিত বই, ‘ইছামতি’ (কলকাতা থেকে প্রকাশিত)।
তৃষ্ণার্ত বালুতট
লেখক পরিচিতি :
সুলতানা শাহরিয়া পিউ। জন্ম: ২রা অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সঙ্গীতচর্চা তার শখ। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পর্ষদ এর সদস্য, বর্তমানে দীপ্ত টেলিভিশনের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘মেঘের সাথে কথা’। অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ: ‘নিমগ্ন জলধারা’। স্ক্রিপ্ট সঙ্কলন: ‘আমরা করব জয়’। গীতিকবিতার অনুবাদ: ‘অচিন’। গল্প সংকলন: ‘মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প’।
আমার দিনগুলো রইলো অসম্পূর্ণ
সেদিন এক গরুচোরের সাথে সাক্ষাত হয়ে গেল সবার, চোরটি নিজে থেকেই বলল—আমার নাম মজিদ। আমি একটা গরুচোর।
দলে নিয়োগ চলছিল। ইন্টার ডিস্ট্রিক বাস ডাকাতদলের সভাপতি জুম্মন খাঁ, অজ্ঞানপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, নিখিলবাংলা পকেটমার মহাসঙ্ঘের সেক্রেটারি বসা। এরাই দলের নিয়োগদাতা।
কিন্তু মজিদকে দেখে মোটেও গরুচোরের মতো লাগছিল না। গরুচোর হবে গরুচোরের মতো কিন্তু এরে সে রকম লাগছে না। এরে মকবুলের মতো লাগে।
মকবুল কে? মকবুল হলো মুরগি চোর। একসময় এই দলের হয়ে কাজ করত। এখন দল ভেঙে আলাদা দল করেছে। টেক্কা দিতে চায়।
অজ্ঞান স্পেশালিস্ট একাব্বর আলি সরু চোখে মজিদের দিকে তাকাল। তার ইচ্ছে করছে চোখেমুখে মলম ঘষে দিতে। একরাশ সন্দেহ নিয়ে বলল—তা মজিদ মিয়া, কয়টা গরু তুমি চুরি করছ?
মজিদ মাথা চুলকায়। ঘাড় চুলকায়। একটু লজ্জাও পায়। বলল—খুব বেশি না ওস্তাদ, আমি তো রেনডম গরু চুরি করি না। যখন কোরবানি আসে, গরুর হাটে ঘোরাঘুরি করে চান্সে চুরি করি। বছরে ওই একটাই সিজন আমার।
—তাই বল! একাব্বর হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সন্দেহ আমার ঠিকই ছিল—ভাবতে ভাবতে সবার দিকে তাকিয়ে একটু ফুলে ওঠে, গর্বে। আসলে এই ব্যাটাকে মুরগি চোরের মতো লাগছিল। বিশ্বাসঘাতক মকবুলের চেহারার লগে মিল আছে। মকবুলও ছিল বিরাট মুরগি চোর।
—তা এইখানে কি মনে করে?
মজিদ বলল—ওস্তাদ, আমারে দলে নেন। চুরিধারী দল থেকে না করলে পোষায় না। একলা একলা ভালো লাগে না। মামারা ধরলে ছাড়ানোর কেউ থাকে না কোর্টে চালান খাইয়া যাই।
মজিদের কথায় সিদ্ধান্তের জন্যে সেক্রেটারি তাকায় সহ-সভাপতির দিকে, সহ-সভাপতি তাকায় সভাপতির দিকে। সভাপতি কারো দিকে না তাকিয়ে নিজের ডানহাতের চার আঙুলে পরা আংটির দিকে তাকিয়ে রইল। দুর্লভ পাথর বসানো সব আংটি। কোনোটি হীরা। ইয়াকুত আর লাল জমরুদ পাথরের আংটি দুটি নাকি খুবই বিখ্যাত। সাদা চুনি নাকি পৃথিবীর কোথাও নেই। একটিই। তাও জুম্মনের হাতে, ভাবা যায়! এই আংটিগুলির বৈশিষ্ট্য হলো ডান হাতে পরতে হয়। কিন্তু জুম্মনের হাতে মোট আঙুল চারটি। একবার ডাকাতি করতে গিয়ে গৃহস্থের দায়ের কোপে একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল। ফলে চার আঙুলেই আংটি পরতে হয়।
কাটা আঙুলের দিকে তাকিয়ে জুম্মন ডাকাত হতাশায় মাথা নাড়ে—মজিদ, গরুচোর মুরগি চোরের বিষয় না, আমরা এমন এক হাত সাফাইয়ের খোঁজ করছি, যে মুরগি নয়—মুরগির পিত্তথলি হাত চালিয়ে বাইরে আনতে পারবে, কিন্তু মুরগি টের পাবে না। পারবে?
ওস্তাদের কথায় খুব হতাশ হয়ে গেল গরুচোর মজিদ। চোখেমুখে পানি চলে এলো প্রায়। এত সুক্ষ্ম কাজ পারবে না সে। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল—খুব ইচ্ছা ছিল আপনাদের সাথে কাজ করার। হলো না। বিদায় দেন ওস্তাদ।
বলে সবার সাথে হাত মিলিয়ে মজিদ চলে গেলে জুম্মন খাঁ নিজের আঙুলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল—আমার আংটি, আমার আংটি!
…………
মকবুলের ডেরায় যখন মজিদ চারটি আংটি ছড়িয়ে দিল তখন খুব হাসাহাসি হলো, জুম্মন ওস্তাদের থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়ে গেছে কল্পনা করে। হাত সাফাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেল মজিদ।
মকবুল কথা দিলে কথা রাখে।
গরুচোর
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
একটা কুঁড়েঘরের সামনে অবশেষে এসে থামে তনু। মানে ওকে থামানো হয়। চোখ মেলে দেখে-ওই কুঁড়েঘরের দরজায় বসে আছে অদ্ভুত এক মানুষ। তিনটে মাথা তার। তিনটি মাথাই দেখতে একই রকমের। মুখ ভর্তি সাদা দাঁড়ি। ভীষণ ভয় করে তনুর এমন অদ্ভুত মানুষ দেখে। তখন তিনটি মাথা একই সঙ্গে তনুকে লক্ষ্য করে বলে ওঠে,
‘ভয় পেয়ো না। আমিও তোমাদের মতোই মানুষ। তবে একটু আলাদা। আমি জানি তুমি তনু। তুমি গান জানো। নাচতে জানো ভালো। তুমি ভালো মেয়ে। তোমাকে আমিই এনেছি। আমার নিঃশ্বাসের বাতাসই তোমাকে টেনে এনেছে। ভয় নেই। তোমার কোন ক্ষতি করবো না’।
লোকটার কথা শুনে ভয়টা একটু কমে তনুর। বলে,
‘কিন্তু কেন? আমাকে তোমার কী দরকার? আমি বাড়ি যাবো। আমাকে যেতে দাও। সন্ধ্যা নেমে আসছে। বাবা, মা আমার জন্য ভাবছে।’ তিন মাথার লোকটি হেসে বলে,
‘তুমি তো এখন যেতে পারবে না মা। আমার কাজ আগে শেষ হোক। তার পরেই তোমার ছুটি।’ তনু জানতে চায়,
‘কী কাজ তোমার? না করলে কী করবে?’ তিন মাথা লোক গম্ভীর হয়ে বলে,
‘কাজটা খুব সহজ। চেষ্টা করলেই পারবে। এক জাদুকর অনেক দিন আগে আমাকে এখানে রেখে গেছে। তার কথা শুনিনি বলেই আমার এই অবস্থা।
Tin Mathar Sei Manushta by Raahman Wahid
গল্পের কি শেষ আছে? যতদিন প্রাণ থাকবে, ততদিন গল্পেরও জন্ম হবে। এটা নিরন্তর ঘটে চলা চিরন্তন প্রক্রিয়া। বইয়ের প্রতিটি গল্পেই অবিরত চলেছে যাপিত জীবনের অলিগলির অনুসন্ধান। গভীর অন্ধকারের ভেতরেও যেমন আলোর স্ফুলিঙ্গ থাকে, তেমনই সেই আলোরও খোলস থাকে। গল্পের ভেতরে পাঠক আপাত দেখতে পাবেন খোলসের আবরণ। সেই আড়াল সরিয়ে নিলেই মিলবে আলো, বেঁচে থাকার স্বাদ। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনের টুকিটাকি অনুষঙ্গই এই বইয়ের বিষয়বস্তু। প্রিয় পাঠক, বইটির কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখুন তো, আপনার জীবনের কিংবা চেনাজানা যাপনের কারো সঙ্গে কিছু মিলে যায় কি না?
আলোর খোলস - Alor Kholosh
‘যেতে চাও যাও’- ভালোবাসা, জীবনসংগ্রাম এবং মানুষের অন্তরযাত্রা নিয়ে রচিত এক শক্তিশালী উপন্যাস। এহসানুল হক একজন নীতিবান, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তার ভেতরে আছে সততা, সহমর্মিতা ও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সহজাত মন।
জীবনের পথে তিনি দেখেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের বহুমুখী রূপ। তবু তিনি নিজের নৈতিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি।
এক সময় গভীর ব্যক্তিগত ক্ষত তাকে ভেঙে দেয়, কিন্তু সে ভাঙন থেকেই এহসানুল নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। হারানোর বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করেন; জীবনজয়ের আকাঙ্ক্ষা তাকে উদ্দীপ্ত করে, আর ব্যর্থতা তাকে পথ দেখায়। তার কাছে ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়- এটি শেখার জায়গা, আত্মদর্শনের আয়না এবং জীবনকে পুনর্গঠনের আলোকশিখা।
উপন্যাসটি এগোয় সম্পর্ক, নৈতিকতা ও মানবজীবনের অন্তর্গত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। সময়ের পরিবর্তন, পারিবারিক দায়- সবকিছুর মাঝেও এহসানুল অবিচল থাকেন নিজের পথ ও নীতিতে। মানুষের জন্য কাজ করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং চরিত্রের দৃঢ়তা- এসবই হয়ে ওঠে তার জীবনের আসল ভিত্তি। যেমন মানুষ ভাঙে না- নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য আবার জন্ম নেয় নিজের কাজে। এহসানুল হকও তেমনি একজন।
‘যেতে চাও যাও’ শুধুই প্রেমের গল্প নয়; এটি এক মানুষের গড়ে ওঠার গল্প। অতীতের অভিজ্ঞতা কীভাবে বর্তমানকে বদলে দেয় এবং একজন মানুষ কীভাবে নিজের ভেতর আলো খুঁজে পায়- উপন্যাসটি সেই রূপান্তরযাত্রার মর্মস্পর্শী বর্ণনা।
Jete Chaw Jaw - Rowshon Rube
মনের পদাবলী : ভুমিকা
বোধকরি, সেই বোধ না হওয়ার বয়স থেকে অন্ত মিলে ছন্দ মিলিয়ে, কবিতার ঢঙে কথা বলা আমাদের বাড়ির সবার অবসরের আনন্দের নিত্য আখ্যান ছিলো। বাড়ির সবাই শুধু নয়, মাঝে মধ্যে বন্ধু-স্বজন , অতিথি -প্রতিবেশীও সেই দলভুক্ত ছিলেন। তখনকার আনন্দের উৎস ছিল সহজ আর নির্মল। সেই সহজিয়া সুরের অনুরণন বরাবরই আমার অন্তরের বেলাভূমিতে প্রোথিত ছিল। পরবর্তীতে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, কারণে -অকারণে অনিয়মিত ভাবে। কখনো তা লিপিবদ্ধ করতে পেরেছি, কখনো বা
মনের মধ্যেই তার অপমৃত্যু ঘটেছে।
আমাদের ভাবনার আকাশে আসলে ইচ্ছে ঘুড়ির মতন , টুকরো টুকরো মেঘের কথন সর্বদাই উড়া-উড়ি করে। কখনো তা প্রগাঢ়, কখনো কম্পিত, কখনো বা অস্পষ্ট – ম্রিয়মাণ। আধো আলো , আধো ছায়ায় সেই বিমূর্ত চিত্রকে মনের খাতায় পাখির পালক দিয়ে যতবারই লিখে রাখার চেষ্টা করেছি ,ব্যর্থ হয়েছি । রাতভর স্বপ্নের সাথে লুকোচুরি খেলা, সকালবেলায় বেমালুম কর্পূরের মতো মন থেকে সব উধাও। জোর পাঞ্জায় চেপে ধরেও কোনও শব্দ উদ্ধার করতে পারিনি। ‘মন শুধু বলে অসম্ভব’ – কিছুই মাথায় আসছে না।
আমার মা তাই বলতেন, বিছানায় বালিশের তলায় খাতা- কলম রেখে দিতে। অন্ধকারে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং যা লিখবে, সকালে তা দেখেই মনে পড়বে রাতের হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের হদিশ। নিয়ম করে লিখতে হবে আর মনকে সেই নিয়মের বশবর্তী করতে হবে, তাতেই কেল্লা ফতে !’
আমাদের মনতো শুধুই বিচিত্র নয়, অ্যামিবার মতন পরিবর্তনশীল। তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে পরওয়ানা জারী করে, গ্রেফতার করতে না পারলে দাগী আসামী হয়েও পালিয়ে যাবে, ঐ দিগন্ত রেখা ধরে পৃথিবীর অন্য গোলার্ধে; হয়তো বুনো হাঁস , তিমি মাছ কিম্বা কাঠ পিঁপড়ের রূপ ধরে , কে বলতে পারে ।
আমার জীবনের নদীতে তরণী বাইতে গিয়ে , নানা ঘটনা – দুর্ঘটনায় ঢেউয়ের উথাল পাথাল আমাকে আহত করেছে বারবার। কঠিন কঠোর জলপ্রপাতের ধাক্কায় ছিটকে পড়লেও , দিক ভ্রষ্ট হইনি কখনো। আমার মা ডঃ হালিমা খাতুন, সুদক্ষ কম্পাসের মতন নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সবসময় আমাকে আড়াল করে রেখেছেন তাঁর মাতৃস্নেহের আঁচলের অন্তরালে। আজকের এই ‘আমি’ তো তাঁর অকৃপণ হাতের তৌরী, এক পূর্ণ মানব -সন্তান। আমার সফলতা পুরোটাই তাঁর, আর ব্যর্থতা যা কিছু তা একান্ত আমার অপারগতার মাশুল ।
২০১০ সাল থেকে আমি কানাডা প্রবাসী হবার পর, আমার ভাবনার আকাশ প্রায়ই মেঘাচ্ছন্ন থাকতো , কিন্তু সেই মেঘমালার ছবি আঁকা সম্ভব হয়নি। কখনো কদাচিৎ , কিছু শব্দ বা বাক্য এদিক ওদিক থেকে চিৎ -পটাং হয়ে পড়েছিলো খাতার পাতায়। এখন সে সব খুঁজে পেতে জড়ো করার চেষ্টা করছি। হারিয়ে গেছে কিছু খাতার পাতা থেকে , কিছু মনের পাতা থেকে। মনের সিন্দুকে আজ নাড়া পড়েছে । মর্চে পড়া চাবি দিয়ে ক্লান্ত- ভারী দরজাটা খুলতে পারলাম, তাই রক্ষে। এখন হাতড়ে ফিরছি অপ্রকাশিত অনুভবের লিপিকা , যা নানা সময়ে উত্তাল আগ্নেয়গিরির মত হৃদয়ের তটরেখায় গভীর লাভার উদ্গীরন ঘটিয়েছে ; এখন তা অবস্য যাদুমন্ত্র বলে ঘুমন্তপুরীর নিদ্রিত রাজকন্যা।
২০১৮ সালের তেসরা জুলাই আমার মায়ের অন্তরলোকে অনন্তযাত্রার পর, যেন তাঁর অনুপস্থিতি কোন এক মায়ামন্ত্র বলে, তীব্রভাবে তাঁর উপস্থিতি পুনঃনিশ্চিত করতে লাগলো। সারা জীবন ধরে তাঁর সকল উপদেশ বানী যা কখনোই আমার মনঃপুত ছিলনা ,তা যেন এখন স্বর্গীয় অমিয় বাণীর মত আমায় আপ্লূত করলো। আমি বশীভুত হলাম। রচিত হোল আমার মনের পদাবলী।
“মিল নেই মানে নেই, নেই তাল -ছন্দ,
হিজিবিজি কথা যেন, মুড়ো ছাড়া স্কন্ধ !”
মনের এই সব অর্থহীন হিজিবিজি প্রকাশের মধ্যে, কোথাও তো স্বযতনে লুকিয়ে থাকে আমাদের একান্ত দুর্বলতম পক্ষপাতিত্যে ভরা আত্ম-প্রেম, যা হয়ত সবসময় বলা যায় না । বেসুরো সেই সুর- মূর্ছনা টের পেয়ে, অনুপ্রেরনা দাত্রী রূপে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, যে এই বই প্রকাসের জন্য আমায় আক্ষরিক অর্থে ছড়ি ঘুরিয়ে, প্রতি দিন প্রতি ক্ষন, সব কাজ করিয়ে নিয়ে কৃতিত্ত্যের অধিকারী, সে আমার মনের খুব কাছের, সুন্দর হৃদয় সম্পন্ন গুনবতী এক মানুষ, শাহরিয়া পিউ! কৃতজ্ঞতার সাথে উচ্চারণ করতে চাই, অনুপ্রাণন প্রকাশন এর কর্ণধার আবু এম ইউসুফ্ এর নাম, যার সম্মতি আর সহযোগিতা ছাড়া, আমার মনের পদাবলী অপ্রকাশিত থেকে যেতো।
এ সঙ্কলনের কথামালা সত্যিকার অর্থে কতখানি সাহিত্য রসে সিক্ত কিম্বা প্রথাগত নিয়মে, আদৌ এগুলো পদ্য বা পদাবলী কিনা, জানিনা। তবে মন্দলাগাটুকু আমার জন্য সঞ্চিত রেখে, যদি কোন পাঠকের মন ভালোলাগায় এতোটুকু আন্দলিতো হয়, আমি ধন্য হবো।
আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমার শিরোধার্য। সেইসাথে প্রার্থনা করি আপনাদের আশীর্বাদ ।
সবার মঙ্গল কামনায়, এক কল্যানময় আগামীর প্রত্যাশায় !
অফুরান ধন্যবাদ ,
প্রজ্ঞা লাবণী
মনের পদাবলী - Monar Podaboli
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.









There are no reviews yet.