Additional information
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.41 $ 1.88
শহরের প্রতিটি দরজা জানালার মতোই নিঃসঙ্গ, শহরের মানুষগুলো। এ নিঃসঙ্গ মানুষগুলোই হাসির লিফলেট নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তার সংসার, তার সমাজ, তার রাষ্ট্রে। আর মন জুড়ে জমতে থাকে কিছু উত্তরহীন প্রশ্ন, কিছু আক্ষেপ, কিছু ক্ষোভ। এমন কিছু উত্তরহীন প্রশ্ন, কিছু আক্ষেপ আর কিছু ক্ষোভের সংকলনই ‘যে শব্দ ঠিকানা জানে না’।
কবিতার নামকরণে ও কবিতা নির্বাচনে আমার বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। এ ক্ষেত্রে যাঁর অকৃপণ সহযোগিতায় ‘কাব্য’ ‘গ্রন্থে’ পরিণত হয়েছে, তিনি আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। অনেক ব্যস্ততার মাঝে কবিতাগুলো নির্বাচন করে, কিছু কবিতার অংশ বিয়োজন, কিছু কবিতার নতুন নামকরণ করে গ্রন্থরূপে প্রকাশযোগ্য করে দেয়ার জন্য স্যারের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। এখানেই শেষ নয়, কাব্যগ্রন্থটি যে ‘স্বনাম’ ধারণ করেছে, এর একচ্ছত্র কৃতিত্ব স্যারেরই।
কবিতার বানানে কিছুটা স্বেচ্ছাচারিতা থাকে, যা পূর্ববর্তী কবিদের ক্ষেত্রেও দেখেছি। তবে আধুনিক বানানরীতির শুদ্ধতাকে তো এড়ানো যায় না! কবিতার শুদ্ধ বানানের ক্ষেত্রে যাঁর একটি রাতের বেশিরভাগ সময় নির্ঘুম কেটেছে, তিনি আমার আরেক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ইমন সালাউদ্দিন স্যার। আমি তাঁর কাছেও সমানভাবে কৃতজ্ঞ।
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
রনক জামান। জন্ম:১৬ই ডেসেম্বর ১৯৯১, মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায়। লেখালেখির হাতেখড়ি ছোটবেলাতেই কবিতার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই তার প্রতি ভালোবাসা। এটাই কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে, যৌথ কবিতাগুচ্ছ ‘মায়ানগরীর বৃষ্টিকথন’, কবিতার ই-বুক ‘শরীর ছোঁয়া আঙুলগুলো’ এবং অনুবাদ উপন্যাস ‘ললিতা’।
ঘামগুলো সব শিশিরফোঁটা
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
রাজন্য রুহানি। পরিবারের দেওয়া সনদসাক্ষ্য নাম মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। জন্ম: ২রা নভেম্ভর ১৯৮০, জামালপুর জেলা শহরের হাটচন্দ্রায়। কলেজে পা দেবার সাথে সাথেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মফস্বল সাংবাদিকতার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বারবার কবিতার কছেই ফেরা। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং। ১৯৯৮ থেকে কবিতার ভাঁজপত্র শব্দদূত সম্পাদনার সাথে যুক্ত। ঐ বছরই অন্যান্য লেখক সহযোগে আলোচনাগ্রন্থ- ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ; আতিয়ার রহমানের ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি লেখকের প্রকাশিত এককবই।
গল্প সমাপ্তির গান
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
সূচিপত্র
নীরা ৯
একজন সুখী মানুষ ১৫
ইনসমনিয়াক ১৮
একটি নিরীহ কবিতার খাতা ২১
নৈশভোজের টেবিলে একজন নারী, .
দুইজন পুরুষ এবং একটি ঝলসানো হরিণ ২৯
চশমা ৩৫
হঠাৎ তোমার সাথে ৩৮
বার্তাবাহক ৪৭
গিটারিস্ট ৫১
ছায়া ৫৫
হাতিরঝিলের বেঞ্চে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া .
এক বৃদ্ধের গল্প ৫৯
দেশটা যে কারণে এমন হয়ে গেল ৬৩
হাতঘড়ি ৬৭
যাত্রা বিভ্রাট ৬৯
বিরিয়ানি ৭৪
দাবদাহ ও জোছনা ৭৭
দাবদাহ ও জোছনা
দীলতাজ রহমানের উপন্যাস ‘ মৌরিন’এর সারকথা।
মা-বাবার একটিমাত্র ছেলে বিদেশে লেখাপড়া করতে যায়। বছর দুয়েক সে সেখানে থাকতেই শোনে তার মা মারা গেছেন। পরে মায়ের দিকের আত্মীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে তার বাবা আবার বিয়ে করেছেন। সে খুব রুষ্ট হয়ে যায় এই ঘটনায়। সে প্রতিজ্ঞা করে সে আর দেশে আসবে না।
কিন্তু কিছুদিন পর আবার শোনে তার বাবাও মারা গেছেন। তারপর সে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়ে। তার জন্য লাশ দাফন করা হয়নি। সে এলে দাফন হবে।
সে আসার পরপরই তার মায়ের দিকের আত্মীয়-স্বজনেরা তাকে পরামর্শ দিতে থাকে, তার বাবার বিয়ে করা সে যুবতী স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার। লাশ দাফন করে এসে মায়ের দিকের সবাই যখন উঠেপড়ে লাগে, একরোখা তরুণটির হঠাৎই ঔচিত্যবোধ জেগে ওঠে। সে বোঝে এ বাড়িতে ওই নারীর অধিকার আছে। সে তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী’র ব্যক্তিত্বে তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে এবং একসময় সে জানতে পারে, সে নিজেই ওই বাবার ঔরসজাত সন্তান ছিল না। সে যাদেরকে মা-বাবা হিসাবে জানত, তারা নিঃসন্তান থাকায় এক কুমারী মাতার সদ্য জন্মানো শিশুটিকে কেউ তাদের কোলে তুলে দেয়।
হঠাৎ শোনা এই এই বার্তা তাকে আমূল নাড়িয়ে দেয়। সে ঘোরগ্রস্ত হয়ে পড়ে এরই ভেতর সে দিশা পায়, বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতি আবিষ্টতাকে সে প্রেম ও পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে কোনো বাঁধা ভেতর থেকে টের পায় না।
Mourin By Diltaz Rahman
আমি একজন প্রেমিক পুরুষ। আমি ভালোবাসি প্রেমিকা নারীকে। আমি চাই নর-নারীগণ প্রেম, কাম আর চুম্বনে নিমজ্জিত থাকুক। কিন্তু তীব্র প্রেম মানেই তীব্র যন্ত্রণা। যা শুরু হয়, তার শেষও হতে হয়। সহমরণ ছাড়া যন্ত্রণামুক্তির কোনো উপায় নেই। আর তাই এই গল্পগুলি যেমন ভালোবাসার, তেমন যন্ত্রণারও।
Melody Tomar Nam by Hasan Mahbub
দুরবিন উল্টো হয়ে পড়ে আছে
গ্যালিলিও অন্ধ; সেই কবেই নিভে গেছে আলেকজান্দ্রিয়া; নালন্দার দীর্ঘশ্বাস গোপনে হজম করে বেড়ে উঠেছে ইতিহাসের অন্ধকার; বহু শতাব্দী নিভৃতে কেঁদেছে মহেঞ্জোদারো।
আমার বুকের ভেতরে নিয়ত পুড়ছেন জিওর্দানো ব্রুনো; লাঞ্ছিত হচ্ছেন হাইপেশিয়া; বেঘোরে গর্দানের ভয়ে অপমানিত আলোক-বর্তিকার মতো মাথা নত করে ঘরে ফিরছেন ইমানুয়েল কান্ট;
দ্রাবিঢ়-রমণীর অসহায়ত্বের উঠোনে সগর্বে গজিয়ে ওঠা যে ধর্ষকামী সভ্যতা, তার সাথে আঁতাত করে এই যে বৈঠা বাওয়ার তোড়; একে কি জীবন বলে !
দুরবিন উল্টো হয়ে পড়ে আছে;- এই
স্বপ্নের বাগানে কোনো কুসুমের দ্যাখা নেই
ব্যক্তিজীবনে, এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক ঘুর্ণায়নে একের পর এক বিবিধ অন্ধকারের আগমন ঘটে চলেছে। সকল অন্ধকার সবার চোখে পড়ে না। সবাই একই ঘটনা বা দৃশ্যকে অন্ধকার বলে মনেও করেন না। কিন্তু যে-চোখ, তা দেখে, তার কাছে এগুলো অসহ্য বেদনার। অমেয় অন্ধকারের পরিত্রাণহীন বেদনা তাকে কুরে কুরে খায়। সেইসব পরিত্রাণহীন অন্ধকার রাজ্যের কিছু কিছু দৃশ্যকে কবিতায়ন করবার চেষ্টা এই পুস্তকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর এক-একটি কবিতা যেন আলোক-প্রত্যাশী প্রাণের পারিজাতে প্রষ্ফূটিত অন্ধকার রাজ্যের নিশানা…।
এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি পড়ে নব্বইয়ের কবি শামীম নওরোজ লিখেছেন- ‘কবি বলছেন ‘অন্ধকার সিরিজ’, আমি এই কাব্যগ্রন্থের সকল কবিতা পড়ে বলতে চাচ্ছি ‘আলো সিরিজ’। আমার মনে হচ্ছে এই কাব্যের সকল শব্দে, পংক্তিতে ছড়িয়ে আছে আলো’–
ANDHAKAR SIRIJ by Kumar Deep
শহরের প্রতিটি দরজা জানালার মতোই নিঃসঙ্গ, শহরের মানুষগুলো। এ নিঃসঙ্গ মানুষগুলোই হাসির লিফলেট নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তার সংসার, তার সমাজ, তার রাষ্ট্রে। আর মন জুড়ে জমতে থাকে কিছু উত্তরহীন প্রশ্ন, কিছু আক্ষেপ, কিছু ক্ষোভ। এমন কিছু উত্তরহীন প্রশ্ন, কিছু আক্ষেপ আর কিছু ক্ষোভের সংকলনই ‘যে শব্দ ঠিকানা জানে না’।
কবিতার নামকরণে ও কবিতা নির্বাচনে আমার বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। এ ক্ষেত্রে যাঁর অকৃপণ সহযোগিতায় ‘কাব্য’ ‘গ্রন্থে’ পরিণত হয়েছে, তিনি আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। অনেক ব্যস্ততার মাঝে কবিতাগুলো নির্বাচন করে, কিছু কবিতার অংশ বিয়োজন, কিছু কবিতার নতুন নামকরণ করে গ্রন্থরূপে প্রকাশযোগ্য করে দেয়ার জন্য স্যারের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। এখানেই শেষ নয়, কাব্যগ্রন্থটি যে ‘স্বনাম’ ধারণ করেছে, এর একচ্ছত্র কৃতিত্ব স্যারেরই।
কবিতার বানানে কিছুটা স্বেচ্ছাচারিতা থাকে, যা পূর্ববর্তী কবিদের ক্ষেত্রেও দেখেছি। তবে আধুনিক বানানরীতির শুদ্ধতাকে তো এড়ানো যায় না! কবিতার শুদ্ধ বানানের ক্ষেত্রে যাঁর একটি রাতের বেশিরভাগ সময় নির্ঘুম কেটেছে, তিনি আমার আরেক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ইমন সালাউদ্দিন স্যার। আমি তাঁর কাছেও সমানভাবে কৃতজ্ঞ।
যে শব্দ ঠিকানা জানে না
এ উপন্যাসের কাহিনি মূলত একজন নারীর শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যকালে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা নিয়ে লেখা। খুব বেশি কল্পনাশ্রিত নয়, নেই মেদবহুল বর্ণনাও। সাধারণ ঘটনাকে ঘনঘটা করে, অবিশ্বাস করে সাজিয়ে পাঠককে ধোকা দেওয়া হয়নি। বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত এক নারীর নিঃসঙ্গতা ও অসহায়ত্বের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে গদ্যের ভাষায়। ইতোমধ্যে কবি-সাহিত্যিকেরা এ বিষয়ে অনেক গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান লিখেছেন। নচিকেতার গানের পর বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে আর কোনও গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস মানুষকে তেমন আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ উপন্যাসের কাহিনি একটু ভিন্নরকম। কেউ কখনও যা বলেনি বাসার তাসাউফ তা-ই বলেন। এ উপন্যাসেও ব্যতিক্রম হয়নি। বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিত এক নারীর প্রতিদিনের জীবনযাপনের গল্প যে-ভাবে উপস্থাপন করেছেন তা পড়ে যে কেউ চমকে উঠবে, কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলবে আর কারও কারও চোখের পাতা ভিজে উঠবে জলে। বিশ্বাস না হয় বইটি পাঠ শেষে আমার কথার সত্যতা যাচাই করে নিন। আপনার চোখের জল বাঁধভাঙা স্রোত হয়ে ছুটবে যখন পড়বেন ‘…জীবনভর এত এত যন্ত্রণা সহ্য করে বড় করেছি যে ছেলেমেয়েকে জীবনের শেষবেলায় এসে তারাই বৃদ্ধাশ্রমের রাস্তা চেনায়- এ দুঃখ কার কাছে কইব আর কী করে সইব…?’
আমরা জানি, একজন নারীর শৈশব-কৈশোর কাটে মায়ের আশ্রয়ে, যৌবন কাটে স্বামীর আশ্রয়ে আর বার্ধক্যে এসে আশ্রয় খোঁজে সন্তানের কাছে। কিন্তু সন্তান যখন আশ্রয় না দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয় তখন তার মতো অভাগী আর কেউ থাকে না। এ উপন্যাসে প্রধান চরিত্র রায়জন নেছা জীবনের শেষপ্রান্তে এসে মা-বাবা, স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র ছেলের কাছেও আশ্রয় না পেয়ে চরম অসহায় কণ্ঠে বলে, ‘এখন আমি কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো?’
Kar Kache Jabo by Basar Tasauf
ছোটগল্প নিয়ে বিশ্বসাহিত্যে ভিন্ন-ভিন্ন মতভেদ রয়েছে, তারপরও সাহিত্যে ছোটগল্প টিকে আছে, কারণ ছোটগল্প যে জীবনের দর্পণ। জীবন থেকে মহৎ বাঁকগুলোকে তুলে ধরাকেই সাহিত্য বলে, আজ সাহিত্যের দিগন্ত বহুদূর অবধি বিস্তৃত, চোখে দেখা না গেলেও বলতেই হয় জীবনই সাহিত্য অথবা সাহিত্যই জীবন, সেই সাহিত্যের একটা প্রধান শাখা গল্প। গল্পসাহিত্যকে সমৃদ্ধ এবং ঋদ্ধ করেছেন বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে আজ অবধি গাল্পিকগণ, তাদের প্রদর্শিত মসৃণ সেতু পেরিয়ে কালে-কালোন্তরে অনেক নক্ষত্র প্রতিভাবান এসেছেন, কারো অবদানই ছোট মনে করার কারণ নেই, বাংলা গল্প সাহিত্যকে ভরিয়ে তুলেছেন রূপ-লাবণ্যে, কাজী নজরুল ইসলামকেও গাল্পিক হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু কবি প্রতিভার অন্তরালে ঢাকা পড়ে গেছে, তারপরও তাঁর গল্পে নতুনত্বের সাধ বিদ্যামান, ছোটগল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ নেই, বর্তমান গ্রন্থে আমার যে গল্পগুলো স্থান পেয়েছে তার নির্যাস পাঠক আশ্বাদন করবে, বৃহত্তর জগতের ভেতরে নিজেকে কল্পনা করবে, জীবনের নানান অনুসঙ্গ নানান চড়াই-উৎরাই যেমন আছে, তেমনি আছে তার সাফল্য, চলমান জীবনের অভিপ্রায়টুকু নিয়ে রঙের প্রলেপে সজ্জিত করে তোলা হয়েছে গল্পভূবন।
বাতাসে বনতুলসীর গন্ধ
লেখক পরিচিতি :
আশরাফ জুয়েল। জন্ম: ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৭, চাপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ। বাবার চাকরির সুত্রে শৈশব কেটেছে যাযাবরের মতো। জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ, বগুড়া থেকে এমবিবিএস পাশের পর ঢাকাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পোস্ট গ্রজুয়েশন করে বর্তমানে চিকিৎসা পেশায় কর্মরত। ‘মস্তিষ্ক নাকি হৃদয়’। মূলত এই প্রশ্নের উত্তর খুজতেই লেখালেখিতে পুনর্জন্ম।
যুদ্ধ ছাড়া শুদ্ধতা অসম্ভব
লেখক পরিচিতি :
দেবাশীষ মজুমদার। জন্ম চাঁদপুরে, তার বয়স যখন সাত, সরকারি চাকরিজীবী বাবা’র বদলি হয় চট্টগ্রামে, এ শহরেই বেড়ে ওঠা। ভারতে কিছুদিন পড়াশোনা ছাড়া পুরো জীবনটাই এখনো পর্যন্ত কাটিযেছেন এই বন্দর নগরীতে। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অন্যদিন’।
অস্তিরতার নাম দেশলাই কাঠি
কবিতার স্বরের পরিবর্তন যেকোনো কবির ক্ষেত্রেই আলাদা মূল্যায়নের দাবি রাখে। একুশ শতকে দাঁড়িয়ে উত্তরাধুনিক যুগে কবি আদ্যনাথ ঘোষের কবিতায় আলাদা স্বরের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে কবিতার ক্ষেত্রে এ কবি ইতোমধ্যে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। কবিতায় তিনি পরাবাস্তবতা, ঘোর, আলো-আঁধারীর খেলায় পাঠক-সমাজকে ভাববিহ্বলতায় এক সত্যানুসন্ধানের অন্তরে ধাবিত করেন। তাঁর কবিতায় ইমেজ, রূপবৈচিত্র্য, সতন্ত্রতা, ভাব, প্রকৃতি, অলংকার, উপমা সবকিছুই আলাদা। তিনি কবিতাকে সাজিয়েছেন রূপের ডালায়। আমি মনে করি আদ্যনাথ ঘোষ কবিতার নিসর্গ, কবিতার স্বরূপ, নান্দনিকতা বুঝেশুনেই কবিতার সঙ্গে ঘর-গৃহস্থালি সাজিয়েছেন। তাঁর কবিতার রূপময়তায় পাঠক সমাজ হয়ে উঠুক চিরসবুজ।
প্রকাশক
Sutorong Dirghosash - A collection of poem by Adyonath Ghosh
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.

















There are no reviews yet.