Description
ভূমিকা :
মানুষ মানে চোখের ভেতর ভাসবে হৃদয়
মানুষ মানে সবটুকু সুখ ভালোবেসে।
তরুণ কবি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থে এই শ্লোগান দিয়েই যাত্রা শুরু করেছেন। তার সাফল্য অনেক জ্যেষ্ঠ কবির ঈর্ষার কারণ হতে পারে।
$ 1.06 $ 1.76
লেখক পরিচিতি :
সাদাত হোসাইন। জন্ম: ২১মে. ১৯৮৪।
তরুণ লেখক, আলোকচিত্রী ও নির্মাতা। যার কবিতার বইটি প্রকাশের আগে উপন্যাস ও ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। লেখকের কবিতা ভাবনাটা খুব সোজা, কবিতা হচ্ছে এমন এক শিল্প যার মাঝে যখন ইচ্ছে তখন টুপ করে ডুব দেয়া যায়। লেখকের নির্মাণ ÔবোধÕ স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্বাক চলচ্চিত্রটি দেশে বিদেশে যথেস্ট সমাদৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে Ôকালচারাল এচিভমেন্টÕ ক্যাটাগরিতে জিতে নিয়েছেন Ôজুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালÕ-এর Ôটেন আইটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস অফ বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডÕ।
ভূমিকা :
মানুষ মানে চোখের ভেতর ভাসবে হৃদয়
মানুষ মানে সবটুকু সুখ ভালোবেসে।
তরুণ কবি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থে এই শ্লোগান দিয়েই যাত্রা শুরু করেছেন। তার সাফল্য অনেক জ্যেষ্ঠ কবির ঈর্ষার কারণ হতে পারে।
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
কিছু একটা বলাটাই যখন বাধ্যবাধকতাÑবাহুল্য এবং আপেক্ষিক বাতুলতা বাদ রাইখা মাহবুব লীলেন থাইকা ধার কইরা বলতে হয়Ñ ‘আনফিট মিসফিট হইয়া হামাগুড়ি দিয়া হাঁটি, আর রাত্তিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ টাইনা চিক্কুর দিয়া কইÑ যাহ শালা বাঁইচা গেলাম আরও একটা দিন।’
এইটা বড়োবেশি জৈবিক বাঁচা
মানবিক বাঁচনের স্বপ্নও দেখি না বহুদিন
বড়ো তরাসে আছি
বড়ো বেশি চাইপা আছি, নিজের গলা নিজে।
দ্বান্দ্বিক দ্বন্দ্ব বিষয়ক আজাইরা প্রলাপ
নাহিয়ান ফাহিম। জন্ম: ২৩শে মার্চ, ১৯৮৪। ময়মনসিংহ জেলা। ঢাকাতে বেড়ে ওঠা। মূলতঃ পাঠক, ফলতঃ লেখক। সাহিত্য পত্রিকা ‘জলমাঝি’র সম্পাদক। মার্কেংটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর। পেশাগত জীবনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভিনদুপুরের নোটবই’।
মধ্যবিত্ত কবিতা
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
সঞ্চয় সুমন। ঢাকাবাসী এক কবি। যে শুধু কল্পনার রঙে আঁকে শব্দ খেলার মাঠ। এই গ্রন্থটি কবির প্রথম কাব্যফসল।
গুপ্ত সমরে মুক্তির ঠিকানা
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
লেখক পরিচিতি :
হামীম ফারুক। পুরো নাম: গোলাম ফারুক হামীম। জন্ম: ২৪শে অক্টোবর, ১৯৬৩, ঢাকা। প্রথম তারুণ্যে কাজ করেছেন ইংরেজি পত্রিকা নিউ নেশন-এ। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে এখন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। মূলস্রোতের সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে একটানা লিখেছেন ১৯৮৭ পর্যন্ত। মাঝখানে বিরতি দিয়ে পুনরায় আগমন প্রথম কবিতার বই ‘রোদ ও ক্রোধ, মাঝখানে সাঁকো’ দিয়ে। একটি ই-বুক আছে, ‘নক্ষত্রের চিরকূট’। এটি লেখকের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
প্রকৃতি পুরাণ
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
সাঈদা মিমি। জন্ম: ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮। বরিশালে। শৈশবের পুরোটাই এবং অর্ধেক কৈশোর কেটেছে পদ্মাপাড়ে, মানিকগঞ্জের ঘোনাপাড়া গ্রামে। লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনে। প্রথম প্রকাশিত হয় ইত্তেফাকে। ফ্রীল্যান্স সাংবাদিকতা, স্কুল মাস্টারিং, বায়িং হাউজের এডমিন, হাউজিং কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ইত্যাদি বিচিত্র কর্মজীবন মেষে অতঃপর গৃহিণী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সব নিয়ে গেছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস’ ‘ফারাও কুমারী’ ও ই-বুক ‘কীর্তনখোলা’।
একজন মৃতের ডাইরি
ডালিয়া চৌধুরী। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘অনুভবে সুখ’ ‘মেঘময় নিকুঞ্জে রধুন‘ ও ‘জলজ কামনা’।
নীল গোধূলি
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
বঙ্গ রাখাল
জন্ম : ১২ জুন, ঝিনাইদহ।
শিক্ষা : ঝিনাইদহের বসন্তপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রী কলেজ (ঝিনাইদহ) থেকে এইচ.এস.সি। সাভার গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্নাতক (সম্মান) এবং একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা স্কুল অফ ইকনোমিকস থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইকোনমিকস ডিগ্রী। গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র থেকে গণহত্যার উপর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী অর্জন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সদস্য।
কর্মজীবন : লক্ষীপুর, ভবানীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের বাংলার প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তিনি সমাজসেবামূলক একটা বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত।
প্রকাশিত গ্রন্থ :
১. সংস্কৃতির দিকে ফেরা (প্রবন্ধ, ২০১৫)
২. লোক মানুষের গান ও আত্ম অন্বেষণ (গবেষণা, ২০১৬)
৩. মানবতাবাদী লালন জীবন অন্বেষণ (প্রবন্ধ, ২০১৭)
৪. হাওয়াই ডাঙ্গার ট্রেন (কবিতা, ২০১৮)
৫. মনীষা বীক্ষণ ও অন্যান্য (প্রবন্ধ, ২০১৮)
৬. অগ্রন্থিত রফিক আজাদ (সম্পাদনা, ২০১৯)
৭. পাগলা কানাই ও তাঁর তত্ত্ব দর্শন (সম্পাদনা, ২০১৯)
৮. লণ্ঠনের গ্রাম (কবিতা-২০১৯)
৯. ছোটবোয়ালিয়া-জয়ন্তীনগর-বসন্তপুর গণহত্যা (অভিসন্দর্ভ)
সম্পাদিত ছোট কাগজ : নিহারণ, বঙ্গস্বর, শঙ্খধ্বনি, শব্দকুঠি ।
ই-মেইল : bangorakhal.bd@gmail.com
কবিতার করতলে
তোর সাথে কথার তসবিহ আর জপবো না
তাই কুফুরি-কালাম দিয়ে তাবিজ করে
বড় হুজুরের পানিপড়া এনে,
উতার পানি ছিটিয়ে দিয়ে
তোর দেহমনের বাইরাগ, চৌকাঠ, উষারা
সব বেঁধে দেব।
তুই কোথাও যেতে পারবি না আমাকে ছেড়ে
অন্য কাউকে প্রেমিকের মতো আসতেও
দেব না তোর চৌহদ্দিতে।
তুই হবি আমার সর্বনাশের ফুলতোলা রুমাল
আমিও হব তোর দু:খনাশী কৃষ্ণচূড়ার ডাল!
Ami Tar Upekkhar Vasha
প্রবন্ধ এমন এক সাহিত্যকর্ম, যার রস পাঠকমনে তীরের মতো অথবা বুলেটের মতো বিদ্ধ হয়। হেঁয়ালিহীন এই সাহিত্যকর্ম পাঠককে চালিত করে জ্ঞানের পথে। ক্রমশ পেছনের দিকে হাঁটতে থাকা বর্তমান বাংলাদেশে প্রবন্ধ-সাহিত্য খানিকটা শক্তিহীন। লেখকরা অজ্ঞাত কারণে সাহিত্যের এই শাখার প্রতি উদাসীন। ফলে এর পাঠকও কমেছে আগের তুলনায়। মানবিক পৃথিবী নির্মাণে মূর্খতার অন্ধকার তাড়াতে যাঁরা শিল্পের প্রদীপ জ¦ালিয়েছেন, যাঁরা নিজ নিজ কর্মে হয়ে উঠেছেন প্রদীপতুল্য, তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, হকিং, মেরি শেলী, নাইপল, বব ডিলান, ইশিগুরো প্রমুখ নিঃসন্দেহে অগ্রগামী। তাঁদের শিল্পকর্মের গভীরে ডুব দিয়ে অবগাহন করেছেন প্রাবন্ধিক উদয় শংকর দুর্জয়। দক্ষ ডুবুরির মতো তুলে এনেছেন তাঁদের বহুমাত্রিক চিন্তার নির্যাস। টুকরো টুকরো সব নির্যাসকে একত্র করে তিনি যে মালা গেঁথেছেন, তার নাম দিয়েছেন প্রবন্ধ সংগ্রহ। এসব প্রবন্ধে কঠিন বিষয়ের মর্মভেদ করতে তাঁর সরল বয়ান পাঠককে আকৃষ্ট করে, আন্দোলিত করে; জন্ম দেয় এক নতুন চিন্তার। প্রবন্ধ-সাহিত্যের এই দুর্দিনের দুর্জয়ের প্রবন্ধ সংগ্রহ হয়ে উঠবে সুখপাঠ্য, ফিরিয়ে আনতে পারে এই সাহিত্যের সুদিন।
স্বকৃত নোমান
২০.১১.২০২০
প্রবন্ধ সংগ্রহ
কেউ একজন বলেছিল কাফকা হলো এক ধরনের গুবরেপোকা
আচ্ছা
আমরা তো গুবরেপোকাদের সঙ্গেই থাকি আর ওদের বমির ওপর
নৌকা বানাই
তাহলে এইসব গুবরেপোকার ভেতর কেউ কেউ তো রয়েছে
যারা কাফকা
যারা আমাদের চিন্তা দুঃখ আর আসবাবপত্রের ভেতর
ঢুকে পড়েছে
কোনো প্রতিশ্রুতি বা সংকেত ছাড়াই
এখন ভাবা দরকার এই কাফকাদের নিয়ে আমরা কী করবো
এদের তো আবার ডানা নেই
তাই শুঁড় দিয়ে হেঁটে এরা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়
মানুষ টের পায় না
Agun By Shishir Azam
-দাসী প্রথা আদিকাল থেকেই চলে আসছে। সব দেশে সব জাতিতেই দাস-দাসীর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। হিন্দু সামাজিক আইনে ১৫ প্রকার দাস-দাসীর উল্লেখ আছে। মুসলিম সমাজে দাসীপুত্র, যুদ্ধবন্দী, পেটের দায়ে বিকিয়ে দেয়া শিশু, নারী-পুরুষ দাস অর্থাৎ ক্রীতদাস হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাবে আরবীয় সমাজে দাসকে মুক্তি দেয়ার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তবুও দাসবৃত্তি পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায়নি। যুদ্ধে পরাজিত শত্রুদের দাস হিসেবে বিদেশে বিক্রি করে দেয়ার নিয়ম ছিল। ইসলামের আদর্শে দাস-দাসীকে পারিবারিক সদস্যদের মতো সম্মান দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।
ভারতীয় সমাজে দাস ব্যবসা প্রচলন ছিল। খোজা দাসদের মধ্যে কেউ কেউ দিল্লির সুলতান ও বাংলার সুলতানের সিংহাসন অধিকার করেছিলেন। বাংলার সুলতান আলী মর্দান ও সুবেদার মুর্শিদ কুলী খাঁ ক্রীতদাস জীবন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী রাজত্ব বিস্তারকারী উসমানীয় সম্রাট প্রথম সুলাইমান এবং তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হুররেম সুলতানের ক্রীতদাসী হয়েও পরে তাঁর প্রধান স্ত্রী বা সুলতানা হিসেবে সম্মানিত হন।
উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আফ্রিকার কৃষ্ণকায় মানুষগুলো দাস বৃত্তিতে নিয়োজিত ছিল। কাফ্রি মা-বাবা তাদের আর্থিক প্রয়োজনে শিশু-কিশোর বয়েসীদের বিক্রি করতো। মাদ্রাজ ও কলকাতার দাসবাজার থেকে সম্পদশালী লোকেরা তাদের ইচ্ছেমতো দাস ক্রয় করতেন। সুলতানি, মুঘল ও ইংরেজ শাসনামলে বিভিন্ন দাসবাজারে কাফ্রি দাস সহজে পাওয়া যেতো। কাফ্রিদের একই অংশকে খোজা তৈরি করা হতো। মুঘল সরকারের অনুমতি নিয়ে পর্তুগিজসহ বিভিন্ন জাতির লোকেরা ব্যবসায়ে সুবিধা পায়। পর্তুগিজ ও মগ দস্যুরা বাঙালি নর-নারীদের পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করেছে।
বাসাবাড়ির ভেতরে ঘর-গৃহস্থালি কাজের তদারকির জন্য দক্ষ একজন কাজের মানুষ বা গৃহভৃত্যের প্রয়োজন হয়। সব কাজের জন্য নিযুক্ত কাজের ঝি’রা কখনো সমাজের মানুষের চোখে হেয়প্রতিপন্ন হয়। গৃহকর্তা বা কর্ত্রীরা এদের অবজ্ঞার ছলে চাকর-চাকরানী বা গধরফ ঝবৎাধহঃ বলে থাকে। চাকর-বাকরদের খাবার দাবার কষ্ট, দৈহিক নির্যাতন ও অমানুষিক খাটুনি খাটতে হয়। অসুস্থ হলে ছুটি নেই। কোনো সময় ভালো না লাগলে বিদায় করে দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। টাকা দিয়ে কেনা ক্রীতদাসের মতোই ব্যবহার করছে মনিবরা। আবার অধিকাংশ মনিব গৃহভৃত্যদের আচরণে সন্তুষ্ট নয়। মনিব কর্তৃক গৃহভৃত্য নির্যাতনের খবর প্রায়ই ঘটে। পাশাপাশি মনিব নির্যাতনের খবরও চোখে পড়ে। বহির্মুখী মানুষগুলোর অবশ্য কাজের মানুষের প্রয়োজন হয়। এই জন্য যে তারা বাড়ি ফিরে খাবারটুকু নিশ্চিন্তে খেতে সক্ষম হয়। এসব ক্ষেত্রে কাজের মানুষ ছাড়া উপায় নেই। গৃহভৃত্য শ্রেণিকে যেভাবেই দেখা হোক না কেন একটা মানবীয় দৃষ্টিকোণ এদের বেলায় প্রযোজ্য। মনিব-ভৃত্যের সম্পর্ক অভিন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়।
রবীন্দ্রনাথ ভৃত্যশাসিত তোষাখানার মধ্যে রুদ্ধ হয়ে ছোটবেলায় চাকর-বাকরদের কাছে হেলাফেলার মানুষ বলে খুব বেশিদিন সেবা-যতœ পাননি। তিনি যে সমাজে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে সমাজে সাধারণের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন একরূপ অসম্ভব ও অসাধ্য ছিল। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ করেছেন ভৃত্যদের মধ্যে কেউ কেউ পেট খোরাকী, কেউ কেউ মাইনেভোগী। মাইনেভোগীদের মধ্যে যৎসামান্য মাইনের চাকর-বাকররা কী রূপ দিনাতিপাত করেছে—তাদের সংসারের কথা—তাদের জীবনের আবেগ-অনুভূতির খুঁটিনাটি বিষয় রবীন্দ্রনাথ জানতে সক্ষম হয়েছেন। এ গ্রন্থে চাকর-বাকরদের সাথে সংলাপপটু রবীন্দ্রনাথ কতটুকু অসাধারণ ছিলেন সে সম্পর্কে পাঠকবর্গ ধারণা লাভে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করি।
বিনয়াবনত
এস.এম. আফজাল হোসেন
শিলাইদহ, কুষ্টিয়া
রবীন্দ্রনাথের চাকর-বাকর
সত্তর দশকের কবি সৈয়দ আবদুস সাদিক। এক প্রত্যাশিত সন্ধিক্ষণে বাংলা কবিতার মঞ্চে হাজির হয়েছেন গ্রহণ পূর্ণিমার ছায়াচারী হিসেবে। তাঁর কবিতার শরীর শব্দ সম্পদে ভরপুর। উপমা, শিল্প-সৌন্দর্যবোধ ও মিথ মিলে কাব্যমাঠ যেমন উর্বর, গড়ন-কৌশলেও ভাষা হয়ে ওঠেছে তেমনি অনন্যমাত্রার। তাঁর কবিতায় মন-ময়ূখজুড়ে সমাজ ও স্বদেশ প্রেমের ক্যানভাস আবার বিষয়বস্তুর নিরীখটা জুড়ে যেনো প্রেমই প্রধান। প্রেমই প্রকৃতি এই আকুতি, এই উচ্চারণ সর্বোপরি রসমগ্নতাও গভীরভাবে বিম্বিত। কোথাও বিশুদ্ধ নৈয়ায়িক দুর্বোদ্ধতা থাকলেও, পাঠস্বাদে তা প্রতীকী কাব্যানুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তিনি এ কাব্য’র এ মাঠে রোপন করেছেন বিভিন্ন স্বাদের ফ্রয়েডীয়, পরাবাস্তব কবিতা সহ সনেট, রুবাই এবং গজল। তবে, নিশ্চয় পাঠক কবির এই কারিশমায় দ্রবীভূত হলেও দ্রোহ আর প্রেমের নানান সমাসবদ্ধ শব্দের উতরোলে, বিরহের ব্যঞ্জনধ্বনিতে, এইসব কবিতার বাহারি রূপ, রস, গন্ধ কবিতাঞ্চলকে করে তুলেছে মন্ময় ও তন্ময়। “তুমি শ্রমণ, আমি ভিক্ষু’ গ্রন্থের ভিন্ন স্বাদ, বিভিন্ন বোধ ও বিচিত্রতা তাকে দিয়েছে বিশিষ্টতা। পাঠ করা গেলে সহজেই সে আবহাওয়া অনুধাবন করা যায়। গ্রন্থটির ‘অনাথ অন্ধকার’ কবিতায় কবি শব্দ, স্বর ও ধ্বনিকে ভিন্ন মাত্রার সুরে প্রকাশ করেছেন এভাবে :
‘এতোকাল কুহকের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে
জেনে গেলাম গন্ধ-বর্ণময় সময়ের ভেতর
অনাথ অন্ধকার খেলা করে;’…
লিটন আব্বাস
তুমি শ্রমণ আমি ভিক্ষু
বাজে অন্তহীন দ্রিমি
ভেসে বেড়াই…
বুকের ভেতরে দ্রিমি দ্রিমি বেজে ওঠে
নিজের বুকে কান লাগিয়ে শুনি সেই শব্দ
কেমন ঘোর, নেশা লাগে!
একটা অসহ্য ভালোবাসার ঘ্রাণ পাই
মানুষ যার জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরে মরছে
সেই ভালোবাসা…আহা
তার বর্ণিল শব্দ- ঘ্রাণে ঘূর্ণি খেয়ে খেয়ে
মহাকাশ সমান আনন্দে ঘুর-পাক খাই
যাই, অনন্ত অভিযাত্রায়
কবিতার রূপ ধরে প্রেম নামছে পৃথিবীতে
কসমিক খেলা মেতে উঠেছে
সৌরবিভা বসেছে তাকে কেন্দ্র করে
দেখো, কীভাবে বিষণ্ন-প্রচণ্ডতা জেগে ওঠে !
উজ্জ্বল হাসি হয়ে ছায়াপথে ঘুরে বেড়াই
বেজে যায় অন্তহীন দ্রিমি…
বাজে অন্তহীন দ্রিমি
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.










There are no reviews yet.