Additional information
| Weight | 0.285 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.73 $ 2.88
লেখকের কথা
প্রতিটি মানুষের জীবনেই রয়েছে অজস্র গল্প। গল্প ছাড়া মানুষের জীবন হতেই পারে না! আর সেইসব গল্প বাস্তবতার- আদৌ কল্পনার নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের নানা রকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। গল্পগুলো সেই সম্পর্কজাত। যা জীবদ্দশায় ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। যারা লিখতে পারেন তারা চেষ্টা করেন সেইসব জীবনস্মৃতির গল্পগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরতে লেখনীর মাধ্যমে। আর যারা লেখায় অভ্যস্ত নন, তারা নিভৃতে মনের ভেতরে সেসব লালন করেন এবং সময়-সুযোগ পেলে অন্যকে বলেন। অনেক লেখক আছেন যারা বিভিন্ন সময় নানা চরিত্রের মানুষের কাছ থেকে তাদের জীবনে অর্জিত অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার গল্প, দুঃখ-বেদনার গল্প, হাসি-খুশির ঘটনা, বিয়োগান্তক কাহিনী ইত্যাদি শুনে উপন্যাস বা গল্পে রূপ দেন।
সাধারণ মানুষ বলি আর বিশিষ্টজন বলি; লেখক বলি আর শিল্পী বলি- তাদের জীবনের গল্পগুলো সাধারণ গল্প নয় বলেই গণমাধ্যমে বা পাঠ্যপুস্তকে সেগুলো প্রকাশিত হয়ে থাকে। শিক্ষামূলক গল্পের যেমন শেষ নেই তেমনি প্রেম-ভালোবাসা, ব্যর্থতা, আশা-নিরাশা, বিচ্ছেদ, লড়াইমুখর গল্পেরও সীমা-পরিসীমা নেই। সেসব জীবনস্মৃতির গল্প পড়ে আমরা বিচিত্র চরিত্র, চিন্তা ও মন মানসিকতার মানুষকে চিনতে, জানতে পারি। এর মধ্যে অনেক গল্পই আছে সাহিত্যরসে টইটুম্বুর- রোমান্টিক, ভাবনার উদ্রেককারী এবং শিক্ষামূলক।
গল্প সাধারণত দুধরনের বলা যায়, এক হচ্ছে, বানানো গল্প বা কল্পলোকের গল্প। দুই হচ্ছে, জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার বাস্তব গল্প। বানানো গল্পগুলোর চেয়ে জীবনস্মৃতির গল্পগুলো বেশি নাড়া দেয় মানুষ তথা পাঠককে। কারণ সেইসব গল্প অনেক মানুষের জীবনের গল্প। বানানো গল্প যেভাবে সুন্দর ভাষা ও অলঙ্কারে আদর্শ চিত্রকলার মতো করে প্রকাশ করা হয়, জীবনস্মৃতির বাস্তব গল্পগুলো সেই রঙে আঁকা সম্ভব হয় না। এতে করে গল্পের প্রাণ হারিয়ে যায়, সংবেদনশীলতা শীতল হয়ে পড়ে। হারিয়ে যায় আকর্ষণও। বানানো গল্প মনে থাকে না, যদি না তাতে বাস্তবতার নোনাজলের ধারা প্রবাহবান থাকে।
মানুষ হিসেবে আমিও ব্যতিক্রম নই। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আমার এই ষাট ছুঁইছুঁই বয়সে বহু ঘটনার সঙ্গে বেড়ে উঠেছি, অর্জিত হয়েছে বিস্তর অভিজ্ঞতা। কত চরিত্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটেছে তার হিসেব নেই। সেইসব ঘটনা অমূল্য স্মৃতি এবং অকাট্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক এতই অম্ল-মধুর যে, পড়ন্ত বেলায় এসে যতই ভাবি ততই নিজেকে ফিরে ফিরে দেখার সাধ জাগে, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে যুগপৎ আনন্দিত এবং বিষণ হই। জীবনস্মৃতির সেইসব অজানা গল্পগুলোই পড়ে অনেকে নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। যুগ যুগ ধরে এটাই সাহিত্যে চলে আসছে। এভাবে কালজয়ী, রসোত্তীর্ণ গল্পও আমরা অনেক পেয়েছি। ভবিষ্যতেও পাব।
জীবনস্মৃতির এই গল্পগুলো ‘সম্পর্ক’ শিরোনামে একটি গল্পসংকলনে পত্রস্থ করে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’ ঢাকা প্রকাশ করে আমাকে চিরঋণী করেছেন। আশা করি গল্পগুলো পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেবে।
‘অনুপ্রাণন’কে জানাই অন্তঃস্থল থেকে অজস্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
প্রবীর বিকাশ সরকার, টোকিও.জাপান, ৭, অক্টোবর, ২০১৭
| Weight | 0.285 kg |
|---|---|
| Published Year |
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
মুখর জীবনগদ্য
আমি কী আর জন্মেছিলাম মানুষ হিশেবে?
জন্মেছিল আবু তাহের, এই লোকটা কে?
মুখ চিনি না তবু মুখের আদল ধরে হাঁটি
শরীর খুলে বাইরে এসে ছায়ায় পরিপাটি।
আমি হয়তো ছায়ার মানুষ, শরীর আরেকজন
তার শরীরেই আড়াল হয়ে বাঁচার আয়োজন।
কার সে জীবন আমার কাঁধে, আমি-ই যে হায় কার
একই সাথে খাচ্ছি-দাচ্ছি ঘুমোচ্ছি আবার।
আমার যে, সে কোথায় থাকে? কোথায় বাড়িঘর?
তার সাথে কী বদলেছে এই আমার টিনের ঘর?
গোধূলির জাদুকর
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে লেখকের নাম হাসান মাহবুব। তিনি নাড়–গোপাল দত্ত অথবা ইসমাইল আহমেদ নন। তিনি রবীন্দ্রনাথ বা আগাথা ক্রিস্টি নন। তিনি দূর আকাশের নীল নক্ষত্র, ধোঁয়া ওঠা কফির মগ, বাজারে মেয়েটির অপরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস, ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল বাঁশি অথবা লোম কাটার মওসুমের ভেড়ার দীর্ঘশ্বাসও নন। তিনি লেখেন। তবে ‘তিনি’ই লেখেন কি-না এই নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ লেখার মতো পরিশ্রমের কাজে বছরের পর বছর এত শ্রম দিয়েছেন, দুটো বইও বের করেছেন (প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং আনন্দভ্রম) তার সাথে এসব ঠিক যায় না। এত সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি হাসান মাহবুব হবার চেষ্টা করছেন এবং তারই ফলশ্রুতিতে আরো একটি বই প্রকাশ করে ফেললেন। তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী!
নরকের রাজপুত্র
সুলতানা শাহরিয়া পিউ, জন্ম ২ অক্টোবর। লেখালেখি, আবৃত্তি ও সংগীত চর্চা করেন। অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। শিক্ষকতা করেন। তার প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- মেঘের সাথে কথা (কাব্যগ্রন্থ), ইংরেজী কাব্যগ্রন্থ ‘ট্রান্সকুইল সেরেনেইড এর অনুবাদ ‘নিমগ্র জলধারা’। বাংলা গীতিকবিতার অনুবাদ ‘অচিন’ দঁহশহড়হি’.
এ্যালবাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলপ্রাপ্ত ংড়হম ড়ভভবৎরহমং থেকে আবৃত্তি ‘ভয়েজ টু দ্যা ইটারনাল হোম’ পঞ্চকবির গানের সমবেত কণ্ঠে ‘পঞ্চপ্রভা’।
মেঘের দেশে ফিরে যাবার গল্প
শাশ্বত নিপ্পন। জন্ম: মেহেরপুর, মে ১৮, ১৯৭০। পেশা: শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা। এবং সংস্কৃতিকর্মী ও নাট্যকর্মী। তার আরো দুটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছেÑ অনতিক্রম (২০১৩), পুনরুত্থান (২০১৪)।
অশনির ছন্দ
জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ই এপ্রিল। টাঙ্গাইলের মীরের বেতুকা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। করটিয়ার সা’দত কলেজ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সহকারী সম্পাদক ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও দৈনিক সংবাদ Ñএ। ১৯৭৮-৮০ সালে ছিলেন গণচীনের রেডিও পেইচিং এর ভাষা বিশেষজ্ঞ। ১৯৯৪-২০০৪ সালে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা, শিশুতোষসহ গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এর বেশি।
গল্প সংগ্রহ
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
মঞ্জু সরকার, বাংলাদেশের অন্যতম কথা সাহিত্যিক। জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩, রংপুর। ছোটগল্প উপন্যাস ও শিশু-কিশোর গ্রন্থ মিলিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ অর্ধশতাধিক। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেÑ মৃত্যুবাণ, উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা, যৌথ একাকিত্ব, তমস, নগ্ন আগন্তুক, ছোট্ট এক বীরপুরুষ ইত্যাদি। বাংলা একাডেমি, ফিলিপস, ব্যাংক সাহিত্যসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
রূপান্তরের গল্পগাথা
মোঃ জিয়াউল হক; জন্ম : ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী গ্রামে। পিতা- মোঃ নাছির উদ্দীন, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম। পড়াশোনা : এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : দীর্ঘ এক যুগ ‘গ্রাফিক ডিজাইনার’ ও ‘পেইন্টার’ হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার পর, বর্তমান পেশা শিক্ষকতা।লেখালেখির হাতে খড়ি হয় ১৯৯৫ সালে। লেখালেখির শুরুটা মফস্বল এলাকার নাট্যপ্রেমী ছেলেদের জন্য মঞ্চ নাটকের কাহিনি রচনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা ও ছড়া লেখার চেষ্টা, বহুদিন। সেই চেষ্টা থেকেই ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘দৈনিক ঘাঘট’ পত্রিকায় ‘আঁড় চোখে দেখা’ শিরোনামে বিদ্রুপাত্মক ছড়া নিয়মিত লেখালেখি। এই সময় সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের সাথে নিয়ে ‘অগ্নিরথ’ নামক একটি অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশনা কাজেও যুক্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে রুটিরুজির জীবনযুদ্ধ শুরু হলে কবিতা-ছড়া বিলিন হয়ে যায় জীবন থেকে।
অন্তর্দাহ
বিলাল হোসেন
জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯৭৪।
জন্মস্থান- মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার রাজারচর কাজিকান্দি গ্রামে।
প্রকাশিত বই-
১. কাব্যগ্রন্থ- বিরুপা’র শূঁড়িবাড়ি(২০১৪)
২. অণুগল্প সংকলন- পঞ্চাশ(২০১৫)
৩. মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প(২০১৬)
৪. কাব্যগ্রন্থ- একজ্বলাপঙক্তি(২০১৬)
স¤পাদিত বইসমূহ-
সেরা ১০০ অণুগল্প(২০১৫) (প্রিন্ট ভার্সন)
ই-বুক স¤পাদনা-
অণুগল্প সংগ্রহ-১,২,৩,৪; গোয়েন্দা অণুগল্প সমগ্র, ভূত অণুগল্প সমগ্র, রূপকথা অণুগল্প সমগ্র, নীতি অণুগল্প সমগ্র, চিয়ার্স চিয়ার্স চিয়ার্স, দুনিয়ার মাতাল এক হও, মাতালে মাতালে চেনে, মধুগন্ধেভরা, যুগলবন্দী (সুবর্না রায়), অণুগল্পের বিষয় বৈচিত্র্যের সন্ধানে, তাহাদের গল্প, অণুগল্পের অস্তিত্ব আছে, অণুগল্পের শিরদাঁড়া, অণুগল্পের রোজনামচা।
বাংলা ভাষার সেরা অণুগল্প
সাঈদা মিমি। জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮। বরিশালে। পেশাগত দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। শ্রাবন প্রকাশনী থেকে ২০০৮ এ প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই ‘সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস।’ দীর্ঘ বিরতির পর আগুনমুখা থেকে ‘ফারাও কুমারী’ Ñ২০১৪ সালে। বাংলার ই-বুক থেকে ই-বই ‘কীর্তনখোলা।’ -২০১৫ সালে। ২০১৬ তে অনুপ্রাণন থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘একজন মৃতের ডায়েরী’ এবং কালজয়ী প্রকাশ থেকে ‘শুশুনিয়া পাহাড়’।
ঔরঙ্গজেবের নীল ঘোড়া
কবিতা ধারণ করে পৃথিবীর গুঢ়তম রহস্য। সে রহস্য এমনই যে আজ পর্যন্ত কোন কবি কবিতার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে উঠতে পারেননি। মাসুদ আলম বাবুল একাধারে একজন কবি ও কথাশিল্পী। কবিতার রহস্যময়তাকে তিনি ধারণ করেছেন আপাদমস্তক।
“অতৃপ্তির অন্ধকারে একা” মাসুদ আলম বাবুল এর নবম কাব্যগ্রন্থ। বইটি কবিতাকেই যেমন রহস্যময় করে তুলেছে, তেমনি রহস্যকে তুলে এনে স্থাপন করেছে কবিতার শরীরে।
“কেউ কেউ শূন্যতাকে আকাশ আর সামিয়ানা ভাবে/ অন্ধ গলির লাইটপোষ্টে দেখে নেয় আলেয়ার মুখ।” —বস্ত্রহীন সভ্যতায় উদগ্র ভালোবাসাগুলো অশ্লীল।
মাসুদ আলম বাবুল এর কবিতায় ভিন্নতর একটি ব্যঞ্জনা আছে, আছে গভীর উপলব্ধির সরল প্রকাশ। তার কবিতার মধ্যে ডুব দেয়া যায়, তুলে আনা যায় মুক্তো ভরা ঝিনুক সমগ্র। গভীর উপলব্ধিগুলো উঠে আসে নতুন কথার একেকটা বাক্য হয়ে।
“যা মনে হয় তা কখনোই মনে হয়নি/ কখনো যা মনে হয়নি তাই মনে হয় বারবার।” –অদৃশ্য জ্বলন।
কবির এই একাকী অন্ধকার তার একান্তই নিজস্ব অতৃপ্তির অন্ধকার। আর তাই বেরিয়ে আসার ব্যাকুলতাও অদ্ভুত আবেদনময়।
“রাত ফুরোলেই চকচকে রোদে ভরা লনে/ চলো, দু’হাতে আলো আর ভালোবাসা ধরি।” –তুমি জেগে ওঠো।
জেগে ওঠার তৃপ্তি পেতেই বোধ হয় মাসুদ আলম বাবুলের একাকী অতৃপ্তির অন্ধকারে তাঁর সঙ্গি হবার চেষ্টা করাই যায়।
লুতফুল বারি পান্না
কবি ও প্রাবন্ধিক।
অতৃপ্তির অন্ধকারে একা
স্বপঞ্জয় চৌধুরী মূলতঃ কবি, তিনি যখন গদ্য লেখেন কাব্যিক উপস্থাপনাগুণে ভাষা হয়ে ওঠে সতত সঞ্চরণশীল নদীর মতোই উপভোগ্য ও গতিময়। প্রতিভাবান এ তরুণ লেখকের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত অসংখ্য লেখা থেকে সাহিত্য সন্দর্শন, কবিতা ও শিল্পকলার নন্দন, নীতিশাস্ত্র, দর্শন, চলচ্চিত্রসহ বহুবিচিত্র বিষয় সুনির্বাচিত আটাশটি নিবন্ধ সমন্বয়ে তার প্রথম প্রবন্ধ সঙ্কলন ” নিগুঢ় শিল্পের কথাচিত্র “-এ প্রাগুক্ত ভাষিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক মূল্যবান তথ্যের সন্নিবেশ এবং যুক্তিনির্ভর সূক্ষ্মদর্শী পর্যালোচনা অত্যন্ত চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সুলিখিত গ্রন্থটি লেখক, গবেষকসহ সবশ্রেণির সাহিত্যমোদি পাঠকের প্রয়োজন মিটিয়ে তাদের অনুসন্ধিৎসু মনে নতুন চিন্তার খোরাক জোগাবে ।
মাহফুজ আল-হোসেন
কবি ও প্রাবন্ধিক
নিগুঢ় শিল্পের কথাচিত্র
নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতা আমার ভালো লাগে, এমনকি তার সাহিত্যিক তৎপরতাও আমার পছন্দের। কারণ কবি হওয়ার জন্য একজন মানুষের যতটা নিমজ্জন, পরিশুদ্ধতা দরকার- তার মধ্যে সেটা আছে। সামাজিক মাধ্যমেও আমি তাকে অনুসরণ করি, তার কবিতা পড়ি এবং সাহিত্যিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড লক্ষ করি। এবার তার ‘ভ্রূণফুল’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পড়তে গিয়ে এ ধারণা আরও প্রগাঢ় হলো। সত্যি সত্যি এই বইয়ের কবিতাগুলো আমায় মুগ্ধ করল। সচারচর অনেকে কবিতা লেখার ক্ষেত্রে পরিবেশ স্থানিকতা ভাষা এবং লৈঙ্গিক উপস্থিতি সঠিকমাত্রায় উপলব্ধি করতে পারে না; এতে কবিতায় কৃত্রিমতা ভর করে। কিন্তু মুন্নির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি, তার কবিতার বিষয়, ভাষাশৈলী বেশ জীবন্ত এবং ভাবের উদ্রেককারী। একটি গার্হস্থ্য জীবন, সমকালীন রাজনৈতিক জীবন, মানবচরিত্রের কপটতা- তিনি শব্দ, উপমা, উৎপ্রেক্ষার দ্বারা তুলে ধরেন; তাই বলে তিনি ভুলে যান না প্রাণ-প্রকৃতি, প্রেম-রিরংসা, মানবচৈতন্যের রূপবৈচিত্র্য। মুন্নির কবিতার মধ্যে, বাক্যবন্ধের মধ্যে, শিরোনাম ও ভাষাশৈলীর মধ্যে এক সপ্রাণতা রয়েছে- যা কাব্যপাঠককে সহজে উজ্জীবিত করতে পারে, ভাবের ঘরে নিয়ে যেতে পারে। যেমন তার দুএকটি কবিতার কথা উল্লেখ করা যায়- আঙুলের মদ গিলে কামনার খইফুল, গ্রাফিতি জীবন, রক্ত ফোটে গাছে গাছে, মুখোশ পরা দিন, আমার খেয়ালে ছেঁড়া মানচিত্র, কাটা মাদুলীর নিহত স্বর, ঠোঁট ও উদ্ভ্রান্ত বিকেল, জংলি ফুল, বউ হবো, চেনা মুখ অপরিচিত ছায়া। আমার বিশ্বাস কাব্যপাঠক নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতার নান্দনিক উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হবেন না।
-মজিদ মাহমুদ
কবি ও প্রাবন্ধিক
Vrunful - Nurunnahar Munni
লেখকের কথা-
ছোটোবেলা থেকেই আমি চারপাশের মানুষের সকাল থেকে সন্ধ্যার জীবন যাপন দেখতে ভালোবাসি। কাছে থেকেও দেখি, দূর থেকেও দেখি। আমি শুধু দেখি, আর ভালো-মন্দ সব দৃশ্য মস্তিষ্কের কোষে জমা রাখি।
আমার জন্ম নারায়ণগঞ্জ শহরে, ছোটো থেকে তরুণী হয়ে ওঠাও নারায়ণগঞ্জ শহরে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের যে এলাকায় বড়ো হয়েছি, সেখানে হিন্দু মুসলমান বন্ধুর মতো, আত্মীয়ের মতো থেকেছি। হিন্দু মুসলমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো না, রেষারেষি ছিলো না, প্রতিযোগিতা ছিলো না। সকলের রান্নাঘরের হাঁড়ি পাতিল সকলের চেনা। ফলে সকলের জীবন যাপন প্রণালীটা খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছি।
এরপর আমার বিয়ে হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়িয়ে স্বামীর সাথে ঢাকা, সাভার, কিশোরগঞ্জ, সিলেট চিটাগাং সুনামগঞ্জ রাজশাহী পাবনা, বগুড়া যেখানেই গিয়েছি, সবখানেই আমি শুধু মানুষ দেখেছি, মানুষের নানা রঙের জীবন দেখেছি।
এরপর বাংলাদেশ ছাড়িয়ে নেপাল, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত বেড়িয়েছি, অস্ট্রেলিয়া তিন বছর থেকেছি, সবশেষে আমেরিকা এসে স্থিতু হয়েছি।
জীবনের এই দীর্ঘ সফরে কত রকম মানুষ দেখেছি, মানুষের জীবনের গল্প শুনেছি, কত রকমের গল্প স্মৃতি ভাণ্ডারে জমা হয়েছে। গল্পগুলো চোখের সামনে সাজালে দেখতে পাই, সকলের জীবনের গল্পগুলো প্রায় একইরকম।
সকলেই প্রতি সকালে ঘুম থেকে ওঠে, সারাদিন কিছু আনন্দ কিছু সুখ, কিছু আড্ডা, হাড়ভাঙা পরিশ্রম, রান্নাঘর হাট বাজার অফিস হাসপাতাল কোর্ট কাচারি, ভ্রমণ, ঝগড়া হিংসে বিদ্বেষ রেষারেষি, ভালোবাসা, প্রেম, বিরহ কান্না শেষে ক্লান্ত দেহ মন নিয়ে রাতে নিদ্রা যায়।
জীবন যদি হয় সাধারণ গণিতের সহজপাঠ, যোগ বিয়োগে মাঝে মাঝে হিসেবে ভুল হয়, কখনওবা সমীকরণ মিলে যায়।
আর জীবনটা যদি হয় রঙ্গমঞ্চ অথবা যাত্রা মঞ্চ, আমরা প্রত্যেকে সেই মঞ্চে একেকজন দক্ষ অথবা কম দক্ষ অভিনেতা অভিনেত্রী, অথবা মুখে রঙ মাখা সঙ।
এই সকল দক্ষ-অদক্ষ অভিনেতা অভিনেত্রী, রঙ মাখা সঙদের জীবনের গল্প দিয়ে সাজিয়েছি আমার বই ‘সঙ-সারের গল্প’ প্রথম পর্ব।
সঙ-সারের গল্প বিশেষ কোনো একজনের গল্প নয়। সঙ-সারের প্রতিটি গল্পই হয় আমার গল্প, নয়তো আপনার গল্প, অথবা পাঁচ মিশেলি জীবনের পাঁচ মিশেলী গল্প।
Song-Sarer Golpo - Rita Roy Mithu
‘রূপা এখন একা’ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক আহমদ রাজু অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গ্রাম ও শহুরে যাপিত জীবনের এক বৃহৎ চিত্র ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন; যেখানে জীবন জীবনের কাছে বন্দি- সময় সময়ের কাছে। তিনি এমনভাবে উপন্যাসের চরিত্র- কাহিনী এবং দৃশ্যপট চিত্রায়ন করেছেন, যেন সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ একের পর এক পাঠকের সামনে ছায়াছবির মতো ভেসে ওঠে।
উপন্যাসের নায়ক রায়হান জীবনের কঠিনতাকে মেনে নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হলেও নিয়তি তাকে সঙ্গ দেয় নদী ও বৃক্ষের মতো। বাল্যবন্ধু রাজেশের সাথে তার হঠাৎ দেখা- বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মায়ের সামনে উপস্থাপন করা- তাকে আপন করে আশ্রয় দেওয়া কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
রূপার সাথে রায়হানের নাটকীয় দেখা জীবনের বাস্তব অনুসঙ্গ। যে রূপা কখনও হাসতে জানে না তার মুখে হাসি ফোটে কিসের বিশ্বাসে? রায়হান চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটে শেষ পর্যন্ত একটা সংবাদপত্রে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করলেও অঢেল সম্পদের মালিক হয় কোন আলাদিনের চেরাগে? এত অর্থ-আভিজাত্য থেকেও কেন মাহমুদের সাথে রূপার বিয়ে হলো? রায়হান কি পেরেছিল সবকিছু এত সহজে মেনে নিতে?
শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল তা জানতে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে হবে ‘রূপা এখন একা’ উপন্যাসের গভীরে।
Rupa Ekhon Eka by Ahmed Raju
গদ্যের খটখটে শিলাময় আস্তর বিদীর্ণ করে তারই গর্ভ থেকে উঠে আসে কবিতার কম্প্র সবুজ। জীবনের বিস্তৃত দৃশ্যমান ভ‚গোলে গদ্যের সংক্রাম যত প্রবল, তত তীব্র দ্রোহে জেগে ওঠে কবিতার প্রাণ-প্রতিবাদ। অনিকেত সুর-এর কবিতা ব্যক্তির একান্ত অনুভবজগতের দলছুট খেয়ালি বিমূর্ত লীলাচার নয়, আমাদের সামষ্টিক ও সাধারণ বস্তু-অভিজ্ঞতার সে স্বতঃস্ফ‚র্ত সরল প্রতিভ‚। বাংলা কবিতার ছিন্নপথে উন্মার্গচারিতার খেচর হতে তিনি নারাজ। প্রতীচ্য পন্থার আত্মরহিত অনুকরণে ‘আধুনিক’ গড্ডলিকা স্রোতের যাত্রীও তিনি নন। এই গ্রন্থে ধৃত তাঁর কাব্যপ্রচেষ্টা স্থানিক কৌম সমাজের চর্চিত জীবন, তার আলো ও আঁধি এবং ব্যক্তির আত্মনিমগ্ন ধ্যানজগতকে বাংলা কাব্যধারার নিজস্ব সহজ গীতল ধর্মে একটি একক অবিভাজ্য ভারসম দেহসমগ্রে জুৎসই মিলিয়ে দিয়েছে।
Ghurisokha, Tore Sathe - A Collectin of Poems - Aniket Sur
বইয়ের ফ্ল্যাপ
রাশান ভদকা বা কোরিয়ান সজু নয়
গেলাসের পর গেলাস শূন্যতা পান করে
মাতাল হয়ে পড়ে আছি তোমার স্মৃতির সামনে।
যেমন দেবদাস পার্বতীর দরোজায় পড়ে ছিল!
অনেকেই বলে কিংবা তুমিও বলোÑ কেবল শূন্যতা নয়
এর সাথে কিছু জলের মতন করে হাহাকার মেশাও,
তাতে জমবে ভালো, মাথাটা আরো বেশি ফাঁকা লাগবে।
গেলাস ভরতি ওয়াইনের ওপর যেমন বরফকুচি ভাসে
দেখবে তুমিও ভাসছো প্রেমিকার বুকের ওপর
কিংবা তার রাশি রাশি চুম্বনের নহরে!
আহা, ব্যাকরণ মেনে কি আর নেশা চলে?
এক পেগ, দুই পেগ করে শূন্যতা খাবো?
তোমার নামে যখন শূন্যতার বোতল উজার করে দিচ্ছি
তখন তুমি হয়ে যাচ্ছো ধ্রুপদী সঙ্গীত,
জীবনানন্দের সমকালীন আধুনিক কবিতা!
তুমি নেই, তোমার বন্ধন পড়ে আছে
দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী রমণীদের বসবাস এখানে। ওই সুন্দরীদের রূপের সাথে পাল্লা দেয় যৌবন আর যৌবনের সাথে পাল্লা দেয় রূপ কিন্তু সেটা এক রক্ত নহর বহা একনগরী… স্ত্রীর জন্য ৭ পুরের (গ্রামের) জল ও মাটি সংগ্রহ করে পুব্যা এক যুবক। তবে শর্ত ছিল পথিমধ্যে কারো সাথে কথা-টথা বলতে পারবে না সে। যুবকটি কেন বলছে, হায় নারী! হায় স্ত্রী আমার! তুমি আমার অর্ধেক নও, তুমি আমার পুরো পৃথিবী… এরকম অসংখ্য মজাদার কথামালায় রচিত এই দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা উপন্যাসটি। শরীফ শামিলের লেখনী শক্তি ও কল্পনা শক্তি প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর প্রথম উপন্যাস দীর্ঘ রাত্রির বিরুদ্ধে জেগে থাকা এর ব্যাপারে লিখেছিলাম, ওটি বাংলা উপন্যাসে এক নতুন সংযোজন। আর এ ‘দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা’ উপন্যাসটি বাংলা উপন্যাসে আরেক (সম্পূর্ণ) নতুন সংযোজন।
আবু এম ইউসুফ
প্রকাশক
দুই প্রহরের প্রেম ও বিপরীত যাত্রা
কবিতাই তাঁর একমাত্র সাধনা। পরম আশ্রয়। আড়াল, প্রতীক, নিহিত শূন্যতা, প্রেম, দ্রোহ তার কবিতার মূল উপজীব্য বিষয়। অন্তর্জাত বেদনাকে রঙের মিশেলে, শব্দের গাঁথুনিতে তুলে আনেন অপরিসীম দক্ষতায়। তিনি কবি মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম সুনামগঞ্জ জেলায় ০১ অক্টোবর ১৯৬৫। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর (১৯৮৯)। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা নিয়ে সিলেটে বাসবাস করছেন। দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবৎ কবিতার ধ্যান ও জ্ঞানে অতিবাহিত করছেন। তিনি একজন আপাদমস্তক কবি।
কখনো মেঘগুলো-পাখিগুলো নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, কখনো বা বৃষ্টির গান মায়াবাস্তবতা নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন চারপাশ। প্রগতির চাকায় ভর করে, রূপ প্রকৃতির বিনম্র চিঠি বিলি করছেন কবিতার মুসাফির হয়ে। জলের গ্রাফিতি কিংবা রক্তাক্ত পেরেকের গান তাঁকে সারাক্ষণ নিমগ্ন রাখে। ছবি ও চেনাগন্ধের মেটাফর তাঁকে অন্যলোকে নিয়ে যায়। তখন তিনি তুমুল বাজিয়ে চলেন অন্ধকার। কবি মোহাম্মদ হোসাইন নির্বিবাদী, দেশপ্রেমে উদ্বেলিত একজন কবি। তিনি নিরহংকার ও আধুনিক মননের একজন উদার মানুষ। এ পর্যন্ত তাঁর ২০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
Ochena Kalkut By Mohammed Hossain
“বেলা অবেলার গল্প” নামের এই বইটিতে যে গল্পগুলো আছে তা আসলে আমাদেরই গল্প। আমাদের সমাজ, সমাজের মানুষ, এই জনপদ, পরিবেশ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের গল্প। চরিত্রগুলোও বহুল পরিচিত আমাদের চারপাশের রক্তে, মাংসে গড়া মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ। এতে মোট বারটি গল্প আছে। তবে প্রতিটি গল্পেই যেমন আছে বিষয় ভিন্নতা তেমনি বৈচিত্র্যময়। অর্থাৎ প্রতিটি গল্পের স্বাদ, গন্ধ আলাদা আলাদা। আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা প্রবাহ, মান অভিমান, প্রেম ভালবাসা, হতাশা পূর্ণতা, বিরহ মিলন, এক কথায় আমাদের জীবনের গল্পগুলোই এখানে রসময় হয়ে স্থান করে নিয়েছে।
Bela Obelar Golpo - Baby Naz Karim
সাহিত্যের অন্যতম সংরূপ ছোটগল্প। জীবনের খণ্ড খণ্ড মুহূর্তগুলোকে গল্পকারগণ শিল্পরূপ দিতে ব্যপ্ত হলেও বোদ্ধাদের তীর্যক চোখের তরবারি দীপ্তিতে শিল্পস্বীকৃতি পেতে বাধা পায়। তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণদৃষ্টিতে গল্পের ভাব-সুষমা, আঙ্গিক-প্রাঙ্গিক, গঠনশৈলী, পরিবেশনভঙ্গিতে ত্রুটি দৃশ্যত হলেও সৌমেন দেবনাথের গল্পগুলি পাঠান্তে মনে হয়েছে বর্ণনা নান্দনিক, শিল্পশর্তেও উত্তীর্ণ। দৈর্ঘ্যে হ্রস্ব কাহিনি-কল্পে মাধুর্য ও সৌন্দর্য সুপরিস্ফুট। সমাজ-সমস্যা, আদর্শ-বৈষম্য, অসামঞ্জস্য, বিসংগতির পাশাপাশি সৌন্দর্যতন্ময়তা, ভাবাদর্শ, স্বপ্ন-কল্পনার সংমিশ্রণে যে গল্পসৌষ্ঠব নির্মিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। মহাকালের ঘূর্ণাবর্তে ব্যক্তিসত্ত্বা হারালেও সৃষ্টিশীল কর্ম মূর্ত-বিমূর্ত পাতায় বেঁচে থাকে। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের পাড়ে জন্ম সৌমেন দেবনাথের গল্পের ভেতরের যে জীবন বীক্ষণ-পর্যবেক্ষণ, চারিত্রিক লীলার বিকার-বিকাশ, রস-সৌন্দর্য, যুগ-চিত্ত চৈতন্য উন্মোচিত তা বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক যা কালোত্তীর্ণ হতেও পারে। সৃষ্টিশীল কর্ম শিল্পমানে অনুত্তীর্ণ হলেও সমালোচনার পরিবর্তে সাধুবাদ জানানো যুক্তিযুক্ত। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দারিদ্র্যের কাঠগড়ায়’ এর মতই তাঁর এই দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘এক উপেনের জীবনালেখ্য’ পাঠকমহলে জনপ্রিয়তা পাক এবং তাঁর মনের মধ্যের গল্পসাহিত্যের সত্ত্বা চারাটি বৃক্ষ রূপ নিয়ে পত্র-পল্লবে সুশোভিত হয়ে ফুলে-ফলে মঞ্জুরিত-বিকশিত হোক এই প্রত্যাশা থাকলো।
এক উপেনের জীবনালেখ্য
চুরিবিদ্যা- শিল্পিত সুন্দর, যদি হয় বই চুরির দুপুর
বই চুরির দুপুর গড়িয়ে যে-রোদ পাক হতো বিকেল
তোমার জানালা তখন সুরতালে রোদেলা কত্থক
এই এক সম্ভাবনার কাছে বাঁশিটার আসতো জ্বর
হাতে থাকতো পাহাড়ি শরীর ছিঁড়ে আনা বুনোফুল
খেলতে গিয়ে মাঠের অনুমতি নিতে নেই
তাতে ঘাসের বয়স বেড়ে যায়
শিশিরের স্পর্শসুখ হতে বঞ্চিত করে শরীর
সব সম্ভাবনার কাছে অনুমতির প্রশ্ন এলেই, অবলীলায়
জানতে চাইতে- কিছু অসুখী ফুলের নাম
এক একটা গোটা-দুপুর কীভাবে হয় দুখি ফুল
সব আকাক্সক্ষার ফুলবাগানে বিকেল যেন মন্ত্রধাম
মন্ত্র জপি আমি বন্দনার বাগানে তৃষ্ণার্ত আঙুল
মন্ত্র নই তৃষার আঙুল
রোবট শিশুর পিতা-মাতা
সন্তোষ কুমার শীল ১৯৭৩ সালের ১৫ অক্টোবর (সার্টিফিকেট অনুসারে) পিরোজপুর জেলার বাটনাতলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পড়াশুনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন এবং একই পেশায় বর্তমান আছেন। রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত এই গল্পকার মূলতঃ একজন সর্বগ্রাসী পাঠক। বই পড়া, গান শোনা এবং সাহিত্য সাধনায় সময় যাপন তার একান্ত প্রিয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ এবং রম্য রচনার চর্চা করেন। এ পর্যন্ত তার ছয়টি গল্পগ্রন্থ এবং দু’টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। “বিখ্যাত হবার টোট্কা” তার প্রথম রম্যগল্প সঙ্কলন।
বিখ্যাত হবার টোট্কা
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.






















There are no reviews yet.