Additional information
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.41 $ 1.88
আলতো ঠোঁটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া পাখিদের কলকাকলি, ঝরনার সুরেলা সংগীত, বৃষ্টির বেহালা বাজানো বা নূপুর নৃত্য, নদীর স্রোত বা ডায়মন্ডের মালা গাঁথা ঢেউ তাঁকে হাতছানি দিত, অহরহ। তখন ঘরে বসে থাকতে পারতেন না তিনি- ডাকে সাড়া দিতেন আগ্রহ চিত্তে, দিনে, রাতবিরেতে। এসবের সঙ্গ পান করতেন, বিমুগ্ধ নয়নে। একে অপরকে বুঝতেন। কথা বলতেন অফুরান।
চাঁদের বুড়ি তো নাতী সম্বোধন করে প্রায়ই টেনে নিয়ে যেতেন পড়ার টেবিল থেকে। আদরে-আপ্যায়নে ভরে দিতেন নৈঃশব্দের উঠোন, ঘরের ছাদ, পথঘাট কিংবা জলস্থলের বেশির ভাগ এলাকা। হাসি মাখা গল্প বাড়িয়ে দিতেন সুগোল বাটিতে। কখনো শহরের পাশ ঘেঁষে এঁকেবেঁকে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রের কাছে টেনে নিয়ে যেতেন একাকী। আবার কখনো সদলবলে। ঢেউয়ে ঢেউয়ে নাচ তুলতেন। হেসে কুটিকুটি হতেন। এমন উপভোগে ভাগ বসাতে কার না মন চায়! জনৈক ভাবুক তো বটেই সাধারণ সৌন্দর্য-পিপাসুও পিপাসা নিবারণ করতে একশো ভাগ।
শহরের ব্যস্ততম জীবন, আর গ্রামের কিছুটা হালকা আমেজের মধ্যিখানেই তাঁর কেটে যাওয়া সময়ের সিংহভাগ। ফলে, তিনি এক হাতে গ্রহণ করছেন গ্রামীণ সারল্য, আর অন্য হাতে শহরে ব্যস্ততার সুলভ ও দুর্লভ দৃষ্টান্ত। তাঁর কবিতা পাঠে এ সবের মুখরিত ধ্বনি টের পায় পাঠক।
ইদানীং এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশ-বিভুঁয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও। তাই বলা যায়, বহুমাত্রিক স্বাদে তাঁর লেখার উপাদান।
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
সিদ্দিক প্রামানিক। জন্ম: ২১শে আগস্ট ১৯৭৯, কুস্টিয়ার কুমারখালী থানার চরভবানীপুরগ্রামে। বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এবং বাম প্রগতিশীল সংগঠনের সক্রিয় সংগঠক ও সংস্কৃতকর্মী। প্রথম বই ‘হাঙরের সমুদ্রে মননশীল মাছ’।
উন্মাদের কনসার্ট
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
ফারহানা খানম। জন্ম: ১৯শে এপ্রিল ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপে। ‘ভুগোল ও পরিবেশ’ বিষয়ে স্নাততোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে ব্যাংকে চাকুরি শুরু করলেও বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। নয় ভাই-বোনের মাঝে সবার ছোট বলেই আদরও পেয়েছেন বেশি। প্রথম প্রকাশিত বই, ‘ইছামতি’ (কলকাতা থেকে প্রকাশিত)।
তৃষ্ণার্ত বালুতট
রনক জামান। জন্ম:১৬ই ডেসেম্বর ১৯৯১, মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায়। লেখালেখির হাতেখড়ি ছোটবেলাতেই কবিতার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই তার প্রতি ভালোবাসা। এটাই কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে, যৌথ কবিতাগুচ্ছ ‘মায়ানগরীর বৃষ্টিকথন’, কবিতার ই-বুক ‘শরীর ছোঁয়া আঙুলগুলো’ এবং অনুবাদ উপন্যাস ‘ললিতা’।
ঘামগুলো সব শিশিরফোঁটা
লেখক পরিচিতি :
নিখিল নওশাদ। জন্মসন: ১৯৮৯ইং। বড়িয়া, ধুনট, বগুড়া, বাংলাদেশ। ‘বিরোধ, ‘নিওর’ ও ‘নীড়’ পত্রিকার সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই। এছাড়া ছোটগল্প বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।
এটি একটি চিৎকার
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ হোসাইন। জন্ম: ৩১শে অক্টোবর। বিএসসি ও এমএসসি’র শিক্ষা সমাপন শেষে এখন শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত আছেন। লেখকের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ১১টি। ‘ভালোবাসা নির্বাসনে গেছে’ ‘মেঘগুলো পাখিগুলো’ ‘অরণ্যে যাবে অস্তিত্বে পাপ’ উল্লেখযোগ্য বইয়ের শিরোনাম।
অনুদিত রোদের রেহেল
রঞ্জনা বিশ্বাস। জন্ম: ১০ডিসেম্বর, ১৯৮১। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন’ ও ‘আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি’ কাব্যগ্রন্থ দু’টি কবির প্রকাশিত কাব্যফসল। এছাড়া কবি কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও ব্রত হিসাবে নিয়েছেন। নৃ-তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী কবির আরও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি বাংলা একাডেমির ‘তরুণ লেখক প্রকল্প’ ও ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়া এখন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কর্মরত আছেন।
বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
দেবাশীষ ধর। জন্ম: ৫ই জানুয়ারি, ১৯৮৯। চট্টগ্রাম। কবিতার ছোটকাগজ ‘বাঙাল’ এর সম্পাদক। কবির এটি প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
ফসিলের কারুকাজ
ছৌ মুখোশের মুখ
কবি ফিরোজ আহমেদ এর জন্ম ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া থানার অন্তর্গত গিমাডাংগা গ্রামে। পিতা শেখ আব্দুর সাত্তার ও মা সুফিয়া বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহনের পর তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং একটি পুত্র সন্তানের জনক। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রাথমিক পথ চলার পর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ” গহীনে শূন্যতা” প্রকাশিত হয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শোভা প্রকাশ থেকে। তারপর নিয়মিত তার কবিতা প্রকাশ হতে থাকে নানা প্রকাশ মাধ্যমে। সাহিত্যের ছোট কাগজগুলোতে তার কবিতা নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে। “ঘাসফুল” নামক সাহিত্য সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে তিনি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “স্বদেশ খবর” এর সাহিত্য সম্পাদচকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুই বাংলার মুখপত্র ” পূর্বপশ্চিম” পত্রিকার উপসম্পাদক হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন।
কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহঃ
১। গহীনে শূন্যতাÑ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩ Ñশোভা প্রকাশ।
২। দ্বীপের সবুজÑ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ Ñঘাসফুল প্রকাশনী।
৩। জলবাড়িÑ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ Ñঘাসফুল প্রকাশনী।
৪। নির্বাসনের আগেÑ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ Ñশোভা প্রকাশ।
৫। নিষিদ্ধ সুন্দরÑ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ Ñকালজয়ী প্রকাশ।
প্রকাশিতব্য গ্রন্থসমূহঃ
১। জীবনের পদাবলি
২। মধুমতির তীরে
৩। উত্তরাধুনিক ছায়াবাড়ি
জল ও মাটির গল্প
বাতাসের সাথে বচসা
নদীর কিনারে বসে যেন কান্না শুনি
নাকি নদী তার দুঃখ বাজায় অন্তরে
কুলকুল শব্দে বয়ে যায় সেই কান্না
অনুযোগ অভিযোগে তুলছে অনুরণন মনে
ফুলে ফুলে প্রজাপতি পরাগায়নের ক্লান্তি নিয়ে
বিশ্রামের আয়োজন মরু বালুকায়
বাতাসের সাথে সব বচসা কথন
জ্বালায় ক্রোধের এবং প্রতিশোধের অনল
০৬.০৫.২০১৮
বাতাসের সাথে বচসা
ভূমিকাঃ
‘সন্ধ্যার পিদিম’ হাতে কেউ কখনও উলুবনে গেছে কিনা আমার জানা নেই। ব্যাখ্যাহীন আঙুলে কীসের গোপন- এমন প্রশ্নের উত্তর জানারও অবকাশ থাকে না, যখন ‘তারার হাটে মুদ্রিত কিছু শাদাকে’ খুঁজে পেতে ‘ঐতিহ্যের বড়শিতে ঝুলে থাকা শতাব্দীর মাছ’ হয়ে জীবনযাপন করতে হয় আমাদের। বস্তুত নাগরিক ব্যস্ততার কিঞ্চিত অবসরে দ্বীপ সরকারের কবিতা নস্টালজিক এক ঘোরে তলিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে। ‘বোধশূন্য শব্দক্রীড়ার কাব্যচর্চার’ ডামাডোলে দ্বীপ সরকারের কিছুটা অনাড়ষ্ট প্রকাশভঙ্গিমা মুগ্ধতা জাগায়। কিন্তু ‘শিশিরের জিবের ভেতর গুঁজিয়ে দিলো টেরাকাঁটা (!) মাছ’ জাতীয় পঙ্ক্তিগুলো নির্দিষ্ট কোনও অর্থময়তা বা কোনও ধরনের চিত্রকল্প নির্দেশ করে কিনা- বোধগম্য নয়। হতে পারে, এটা আমার অনভিজ্ঞতা। তবে তার ভাষাবুদ্বুদে খুব একটা জটিলতা নেই; বিপরীতে, ছন্দহীনতাও পীড়াদায়ক। তিনি তার সময়ের অন্যদের মতন ‘অনর্থময়তার’ গান গেয়েছেন; তবে সে স্বর খানিকটা পেলব- মোহন সৌন্দর্যখচিতও বলা যায়।
রুচির পৃথকতার কারণে যে ধরনের কবিতার প্রতি আমার দুর্বলতা, দ্বীপ সরকারের কবিতা ঠিক তেমন নয়। শিল্পবিচার কিংবা আলোচনার ক্ষেত্রে ‘ব্যক্তির রুচি আর শিল্পের নৈর্ব্যক্তিকতা পরস্পরের কাছে দুরাত্মা নয়, দুরাত্মীয়’- এটা মনে রেখেই দ্বীপ সরকারের ‘ডারউইনের মুরিদ হবো’ পাণ্ডুলিপি আমি একজন সাধারণ পাঠক। ফলে তার কবিতার পাঠকে নিবিড়তম পাঠ হয়ত বলা যায় না, কিন্তু সর্বাংশে খণ্ডিত নয়- আমার বিশ্বাস। তা ছাড়া আমি পণ্ডিত নই। শাদাকে শাদা আর কালোকে উচ্চৈঃস্বরে কালো বলি। কবিতার শব্দজট, অর্থহীনতা, উপদেশ; আবার, কখনও-কখনও দায়বদ্ধতার চাকচিক্যে আটকে যায় পাঠরুচি। নিজের অক্ষমতার বিষয়টিও ভুলি না। এসব টোটকা বিবেচনায় দ্বীপ সরকারের কবিতা আমার পাঠরুচি টপকাতে না পারলেও; কাব্যবোধের ক্ষেত্রে তার এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কখনও কখনও লক্ষ্যযোগ্য হয়ে ওঠে।
‘কবিতার মৌলদায় কী’- এমন জিজ্ঞাসা আমার চিরকালীন। দ্বীপ সরকারের কবিতার পাঠ শেষে এ প্রশ্ন আবারও বেগবান হয়েছে। মোটাদাগে, দ্বীপ সরকারকে ‘কবিতা কারিগর’ হিসেবে দেখতে চাই; তবে মনে রাখা দরকার, এ-পথ সাধনায় সিদ্ধি অর্জনের, পরম অধ্যবসায়ের। পাশাপাশি সৃজনীদক্ষতার মাধ্যমে পঙ্ক্তিগুলো ইঙ্গিতময় করে তোলার ব্রত নিয়ে পরিশিষ্টের পথে এগিয়ে যাওয়ার। শোচনীয়ভাবে স্বীকার করছি, এ-পথে এগিয়ে যেতে বেশিরভাগই ব্যর্থ হন। কবিতার ভেতর কার্যসিদ্ধির কোনও ধরনের প্রচেষ্টা না রাখলে দ্বীপ সরকারও এগিয়ে যেতে পারেন, এ আভাস কিছুটা হলেও তার কবিতার অন্তঃপুরে দুল্যমান। ‘ডারউইনের মুরিদ হবো’ পাণ্ডুলিপির কবিতাগুলো পাঠকের ভালো লাগবে, এমন প্রত্যাশাও জিইয়ে রাখছি।
বীরেন মুখার্জী
কবি ও প্রাবন্ধিক
ঢাকা
১৪ অক্টোবর, ২০১৮।
ডারউইনের মুরিদ হবো
আশরাফ উদ্দীন আহ্মদের গল্প রচনার দক্ষতা স্বীকৃত। সমাজের পিছিয়ে পড়া সামান্য মানুষদের অসামান্য করে উপস্থাপন করা তাঁর গল্পগুলো পাঠককে গভীরভাবে জাগ্রত করবে। নি¤œবিত্ত এবং নি¤œমধ্যবিত্ত বা বিত্ত ছাড়া মানুষকে নিয়েই তাঁর গল্পের আঙ্গিক গল্পের বিষয়, গল্পের অস্থি-মজ্জা। ভাষায় সরলতা এবং তাঁর গল্পের চরিত্রেরা চেনা-জানা মানুষের মুখ। তবে প্রতি গল্পই স্বতন্ত্র কাহিনী সূত্রে গাঁথা। কখনো হয়তো মনে হবে, গল্পের ভাষায় কাব্যিকতায় ঠাসা, কিন্তু পরক্ষণে মনে হবে, আমারই মনের কথাগুলো সাজিয়ে তুলেছেন এখানে। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন গল্পের বিষয়ে। তাঁর প্রতিটি গল্পই জীবন-জগতের অর্থাৎ মানুষেরই কথা বলে এবং সে মানুষগুলো হয়ে ওঠে গল্পের একেকটা পাত্র-পাত্রী এবং সেখানেও আশরাফ নিজেকে মিলিয়ে ফেলেন গল্পের চরিত্রে। প্রকৃত কথাশিল্পী হিসেবে তাঁকে এখানে খুঁজে পাওয়া যায়, তিনি হয়ে যান জীবনশিল্পী। মৃত্তিকা সংলগ্ন যে সমস্ত মানুষ, যারা গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে দিনগুজরান করেন, জীবনে যাদের কোনো আশা নেই, ভাষা নেই, স্বপ্ন নেই, আমাদের চারপাশে তাদের অবাধ বিচরণ, কিন্তু আমরা তাদের চিনেও চিনি না, দেখেও দেখি না, কতো সামান্য মানুষ তারা, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আশরাফ প্রতিনিধিত্ব করেন গল্পের মাধ্যমে তার পরিচয় পাওয়া যায়।
তারপর অন্ধকার, দুঃসময়
ভ্রমণকাহিনি কেবল কোনো জায়গার প্রকৃতি বা রূপ বর্ণনাই নয়, তার সঙ্গে অনুপান হিসেবে থাকতে হয় জায়গাটার ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষ এবং তাদের জীবনযাপনের সুলুক-সন্ধানও। তবে তথ্য বা ইতিহাসের অনুপাত কতখানি হবে, তারও রয়েছে কিছু অলিখিত হিসাব। তথ্য-উপাত্ত এবং সাহিত্যরসের ভারসাম্য রক্ষা করে একটা উপাদেয় ভ্রমণবৃত্তান্ত উপস্থাপন করার ক্ষমতা একজন কুশলী ভ্রমণলেখকের বিরল গুণ। এই বইতে এসব উপাদান ও রসে জারিত সাতটি ভ্রমণগল্প পাঠককে নিয়ে যাবে জর্ডানের ইতিহাসের অলিগলিতে যেখানে থমকে আছে হাজার বছর আগের সময়, যার পরতে পরতে পাওয়া যাবে নানান জানা-অজানা তথ্য।
গ্রেকো-রোমান সময়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের নাম ছিল ফিলাডেলফিয়া, আরব দেশ হলেও জর্ডানে যে একসময় গ্রিক রোমানদের জবরদস্ত উপস্থিতি ছিল-সেসব নিদর্শনের সুস্বাদু বর্ণনা ও ইতিহাস পাওয়া যাবে এই বইতে। নরম হলুদ গমের মতো মিঠে রোদমাখা আরাম পাওয়া যাবে ওয়াদিরাম মরুভূমিতে যাযাবর বেদুইনদের ঘরবাড়ি আর জীবনযাত্রার অনুপুঙ্খ বর্ণনায়। আবার পাওয়া যাবে একই মরুভূমিতে তাঁবুর ভেতর রাতের তারা দেখে রাত কাটানোর বিরল অভিজ্ঞতাও। প্রাচীন রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য সুন্দর পাথুরে নগরী পেত্রার ভেতর ফারাও রাজাদের ধন ভান্ডারের দরজাও যেন খুলে যাবে বর্ণনার মুনশীয়ানায়। জর্ডানের মৃত সাগরের জীবন্ত বর্ণনার সঙ্গে এই সাগরটি সম্পর্কে বহু মিথ ভেঙে দিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্য-আগ্রাসনে এই বিচিত্র সাগর যে ক্রমে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে লেখকের উদ্বেগের আভাসও পাওয়া যাবে এই বইতে।
Kunafar Shahore - Khama Mahmud
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.










There are no reviews yet.