Description
গৌরাঙ্গ মোহান্ত অ্যামেরিকান কবি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতায় চিত্রকল্প ও প্রতীকের প্রয়োগ সম্পর্কে গবেষণা করে পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর কাব্যের ভেতর আধিপ্রান্তর জুড়ে ছায়াশরীর (২০০৯), শূন্যতা ও পালকপ্রবাহ (২০১২), ট্রোগনের গান (২০১৬), জলময়ূরের শত পালক (২০১৬), প্রমগ্ন কবিতাবলি (২০১৭, ২০১৮), A Green Dove in Silence (২০১৮, ২০১৯), এক হরা ফাখ্তা মৌন-সা (২০১৮), পদ্মরাইজোম ও আনথিয়ার পুষ্পাধার (২০২৩) উল্লেখ্য। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ Robert Frost: A Critical Study in Major Images and Symbols (২০০৯) এবং অনুবাদগ্রন্থ ঝলকে ওঠা স্বপ্নডাঙা (২০১৬), কর্ডোফোনের প্রতিধ্বনি (২০২৩), ঝলকে ওঠা স্বপ্নডাঙা: চীনের ট্যাং কবিতা ((২০২৪) প্রণিধানযোগ্য। যৌথ সম্পাদনার স্বাক্ষর বেগম রোকেয়া স্মারক গ্রন্থ (২০০৫) ও পুথি রহিব নিশানী: হেয়াত মামুদ (২০০৬)। গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতা অন্যান্য পত্রিকার সাথে লন্ডনের Poetry Out Loud পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। ঢাকা ট্রান্সলেশন ফেস্টিভ্যালের তিনি একজন উদ্যোক্তা।














































‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’
There are no reviews yet.