Additional information
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.76 $ 2.35
নিজেকে বিক্রি করতে পারা কিংবা বিক্রি করার চেষ্টা করা অথবা নিজের বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়ে বিশ্লেষণ করা এই সময়ের মুখচ্ছবি। সেখানে বাস্তব কিংবা কাল্পনিক চরিত্ররা একেকটি বিস্ময়! অন্ধকার ফুটপাত থেকে উঁচু মুখের থাবায় চলে যায় অন্ধ রেলগাড়ি। আর অতিরিক্ত ঘ্রাণে জড়িয়ে যায় মুদি থেকে গোরস্তান। মৃত্যুস্রোত ও গহীনের আলো আনন্দকে ডুবিয়ে দেয় চেহারার ঘনত্ব। তারপরও রক্তভ্রম, আহত কি-বোর্ড, শীতবইয়ের শর্তসমূহ ঘেউমারা পড়শি চোখের যাদুতে জেগে থাকে দীর্ঘপথ। পাশাপাশি হাঁটতে থাকা ছায়াগুলো কানে-মুখে ঢুকে যায়। আবার বেরিয়েও যায় উচ্চতায়, নিজস্বতায় অথবা নানা পরিচ্ছেদে। গল্পের বয়ানে উহ্য আছে এমন অনেক গোপন সাঁকো। পথ জুড়ে শর্তের ভেতরের চোখকে আবিষ্কার করার চেষ্টায় চারপাশে তৈরি হয়েছে খণ্ড খণ্ড দৌড়। ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর’ গল্পগ্রন্থটি এমনই দশটি গল্প কিংবা দশটি পরিচ্ছেদে দাঁড়িয়ে আছে।
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
কামরুজ্জামান কাজল বয়সে অনেক নবীন হওয়া সত্ত্বেও [জন্ম ২৫ মার্চ ১৯৯১] এবং অণুগল্প চর্চায় খুব বেশিদিন অতিবাহিত না করলেও ‘দলছুট শালিকগণ’ নামে যে বইটি প্রকাশিত হল;-এর বৈচিত্র্যপুর্ণ বিষয়বস্তু এবং অণুগল্প সম্পর্কিত ধারণার সাথে লেখকের যে নিবিড় ঐক্য স্থাপিত হয়েছে- বইটির পাঠশেষে এই কথাটাই মনে করবেন বিজ্ঞপাঠকগণ।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা এই যুবকের ইতিপুর্বে ‘ শ্যাম পাহাড়ের আড়ালে’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬’র একুশে বইমেলায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে স্নাতক শেষ করে লেখক বর্তমানে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছেন।
‘দলছুট শালিকগণ’ কামরুজ্জামান কাজলের প্রথম অণুগল্পগ্রন্থ। অণুগল্পের ভিত্তি, বিকাশ এবং প্রচারে এই বইটি একটি মাইলফলক হিসেবে ভবিষ্যতে উচ্চারিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
দলছুট শালিকগন
১৯৬২ সালের ৫ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহে কবি আশুতোষ পাল ও শিউলি পালের সংসারে জন্ম।
লেখাপড়া- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতক এবং সুইডেন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা।
পেশা- এনজিও কর্মী দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।
প্রকাশিত অন্যান্য বই- রাতপঞ্জি (২০০৩),পুননির্বাচিত আমি- ২০১১।
Asochorachor
হাসান মাহবুব। জন্ম ১৯৮১ সালের ৭ নভেম্বর, ঢাকায়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি বুঝেছিলেন এ জায়গা তার জন্য নয়। চলে আসেন
আনন্দভ্রম
বিলাল হোসেন। জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৭৪। মাদারিপুর জেলার রাজারচর কাজীকান্দি গ্রামে। প্রথম প্রকাশিত বই বিরুপা’র শুঁড়িবাড়ি, সেরা ১০০ অণুগল্প। গল্প সংকলনÑ পঞ্চাশ। অণুগল্পের বিষয়-বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান। ‘কালজয়ী পঙক্তিমালা’ নামক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক।
মহাপ্রভু ও অন্যান্য অণুগল্প
ফজিলা ইসলাম ফৌজি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৯৭২ সালের ৮ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃনিবাস মেহেরপুর জেলার কোলা গ্রামের বাবু পাড়ায়। পিতার নাম মোঃ হাফিজ উদ্দিন মাতার নাম মোছাঃ রাকিবা বেগম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (অনার্স মাষ্টার্স) শেষ করে ১৯৯৯ সালে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ
শাশ্বত নিপ্পন। জন্ম: মেহেরপুর, মে ১৮, ১৯৭০। পেশা: শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা। এবং সংস্কৃতিকর্মী ও নাট্যকর্মী। তার আরো দুটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছেÑ অনতিক্রম (২০১৩), পুনরুত্থান (২০১৪)।
অশনির ছন্দ
সোলায়মান সুমন। জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য।
ভগ্ন সময়ের কোলাজ
মুখর জীবনগদ্য
আবু সাঈদ আহমেদের জন্ম ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নের সময়েই জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে প্রতিবেদন লেখার মাধ্যমে লেখক জীবনে প্রবেশ। কলেজ জীবন হতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু লেখাকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেন নাই। তিনিই বাংলা ব্লগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ‘হরবোলা’। অনলাইনে নির্মোহ রাজনৈতিক প্রবন্ধ, তীক্ষ্ম স্যাটায়ার, কবিতা আর অণুগল্প তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আমমানুষের পক্ষের একজন লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে একাধিকবার শারীরিক হামলার স্বীকার হয়েছেন, কিন্তু নীরব হন নাই।
লংকা কিন্তু জ্বলছে না
১০০ অণুগল্প
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ: মুই তোরে কোচ পাং (২০০৯), সম্পাদনাÑ পঞ্চায়ুথ। সম্পাদিত পত্রিকাÑ রুদ্র, গল্প।
বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প
সোলায়মান সুমনÑ জন্ম ১মে ১৯৭৯, চাঁপাই নবাবগঞ্জ। তরুণ বয়সে লেখালেখি শুরু। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। পেশায় শিক্ষক। ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন প্রকাশনের সাথে যুক্ত।
ছায়াগুলো জেগে থাকে
অষ্টম বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা
হাজার হ্রদের দেশ নক্ষত্র দিনের কথা মনে করো
মনে করো মাছ ধরি, ঘুরে বেড়াই।
মনে করো পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপে
আঁশ ছাড়ানো পাটের গন্ধ শুঁকি,
শাদা কাশফুলের শরৎ দেখি।
নিশীথ সূর্যের আইসল্যান্ড, নক্ষত্র দিন
রাতহীন রাতের কথা মনে করো।
কিছুই কি মনে পড়ে না?
অর্ধেক আকাশ ছড়িয়ে ক্ষণেক্ষণে বিদায় নাও
এ কেমন স্বভাব?
অর্ধেক ডুবিয়ে বিষাক্ত করো না
মাছি ডুবানোর মতো করে ডুবিয়ে মারো
ডুবিয়েই হও প্রশান্ত।
মনে করো রোমানদের মতো স্বচ্ছ মনের আয়নায়
চীনের চিত্রশিল্পের প্রতিফলন দেখি।
ডুবিয়ে মারো, পিষে মারো
মৃত্যুতে ভয় নেই
মৃত্যুর দরজা জানালা সবসময় খোলা।
Vul Pronoyer Gandha - Irene Sultana
আপনার বুকের চাতালে তখনও ফসল শুকাচ্ছেন কৃষাণ কৃষাণী,
আপনার চোখ সাঁতরে যাচ্ছেন একদল নাবিক, কাচের দেয়াল নেই
তবুও শত্রুর ফাঁদ, তবুও আপনি চুপচাপ নিশানার কেন্দ্র বিন্দু।
অমৃতা আমার আত্মার কোণে একটুকরো আলোক বিন্দুর নাম,
কারণ- প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে বলে ওঠতে পারেন আপনি-
মরেও মরে না যে তার নাম এই অমৃতা, ক্ষুধার হাঙর অসহিষ্ণু,
গিলে ফেলছে আমাদের, তুমি শীত বস্ত্র নিয়ে চলে যাও চলে যাও-
… কী মসৃণ তকতকে অপরূপ তিলরঙা নদীতট
ওর ভেতর ধিকিধিকি জ্বলে এ কীসের আগুন?
ছুঁতে নেই এমন আগুন যে ব্যক্তিগত নয়…
… ও চাঁদ সরো, ও চাঁদ সরো কাঁপছে বেবাক ছই
কেমন করে আমি বলো অন্যকারো হই?
… বুকের উপর যখনি নদী থেমে যায়- হাঙরের গন্ধ পাই,
নিবিড় হয় জলপাই-রঙ, মাথা তুলে দম নেই, আকাশ দেখি
টের পাই ইন্দ্রিয় শান্তির জন্য কতটা কাঙ্গাল…
… তোমাকে ছোঁয়া যদি সহজ হতো আমি কি তোমাকে ছুঁয়ে দিতাম?
যাবতীয় কর্ম-শেষে ছন্নছাড়া দশটি অঙুল
উর্ধমুখী রাখি ঠিকই, তাই বলে কী ছুঁয়ে দিতাম…
… সীমান্তের চিহ্ন তুলে দেখ বহুবার পৃথিবী হতে চেয়েছি
উদ্যম ভালোবাসায় মানুষের কাছে হারিয়ে যেতে চেয়েছি।
তুমিতো জাননি বাঁচার লোভে কতটা কাঙাল মন
কতটা অনিহায় আঙুল থেকে মুছে দিয়েছি আঙুলের ক্রন্দন
… এই খঞ্জর কাটুক তার সুতীক্ষ্ণ আবেগে, কাটুক করাতকলের চেয়ে দ্রুত গতিতে,
দোহন করে নিঃশেষ করুক পৃথিবীর ওলান
তৃষ্ণাকাতর সুবিধাবাদীর দল-অপেক্ষায় সনদের।
Je Katha Hoyni Bola Je Katha Shonar by Roshon Rube
কবি সিদ্ধিলাভ করেন তখনই যখন তিনি তার নিজস্ব কাব্যভাষা খুঁজে পান। দীর্ঘদিন হতে মোহাম্মদ আন্ওয়ারুল কবীর কবিতা লিখে আসছেন এবং সময়ের সাথে সাথে তার কবিতার উত্তরণ সুষ্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। স্বকীয় কাব্যভাষায় অনন্য শৈলীতে লেখা কবীরের কবিতা সমকালীন অন্যান্য কবিদের কবিতা থেকে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। ছোট ক্যানভাসে গভীর ভাবনায় পাঠককে নিমজ্জিত করা – কবীরের কবিতার বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য। এছাড়া বিজ্ঞানের সাথে কবিতার মেলবন্ধন আনয়নে কবীরের জুড়ি নেই। এ কাব্যের বেশকিছু কবিতা এর সাক্ষ্য দিবে।
‘জলছাপে বিম্বিত সময়’ অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত কবীরের দ্বিতীয় কাব্য। আশা করছি এ গ্রন্থটিও কাব্যরসিক পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
– প্রকাশক
জলছাপে বিম্বিত সময় - Jolochape Bimbito Samoy
‘সব মেঘে বৃষ্টি হয় না’ একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এটি কথাসাহিত্যিক বাসার তাসাউফের একাধারে জীবনচরিত ও নব্বইয়ের দশকের সোনালি সময়ের স্মৃতিচারণ। পরিমার্জিত ও প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি পুরনো সেই সব দিনের কথা ও সেই সব সময়ের মানুষের জীবন-যাপন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনা করেছেন।
বাসার তাসাউফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনন্তপুর নামের সবুজ বৃক্ষের ছায়া ছায়া মায়াময় নিভৃত এক গ্রামে। জন্মস্থান ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই গ্রামের মানুষ, গাছপালা, পশু-পাখি, নদ-নদী তাকে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে তার কিষান পিতা তার জীবনজুড়ে এতটাই মিশে আছেন যে, এই উপন্যাসের সব পাতা ভরেও তিনি উপস্থিত আছেন। পিতা ছিলেন তার বেঁচে থাকার, স্বপ্ন দেখার একমাত্র উপাদান। কিন্তু আকস্মিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুতে তিনি ভীষণ মুষড়ে পড়েন। তাই নিজের জবানে বলা নিজের জীবনকাহিনি লেখা শুরু করেছেন পিতার মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে। এরপর মানবজীবনের নানা চড়াই-উৎরাইয়ের কথা, বিশেষ করেÑ দরিদ্র কিষান পিতার পাতায় ছাওয়া লতায় ঘেরা ছোট কুটিরে জন্ম নিয়ে তিনি যে অপূর্ণতার হাহাকারে জীবন ভর দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন তা এমন ভাবে বর্ণনা করেছেন মনে হয়, যেন সেই দীর্ঘশ^াসের উষ্ণ আঁচ এসে আমাদের হৃদয়ও উত্তপ্ত করে তোলে। তার মায়ের দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার বর্ণনা হৃদয়ের গহিনে এমনভাবে আঘাত করে যে, রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। বৃষ্টির জল আর পোকামাকড় খসে পড়া ছনের ছাউনির তলে একডজন মানুষের বসবাস আর খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকার কথাগুলো এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা পাঠকের চোখে জল এনে দেয়।
বাসার তাসাউফ বইয়ের ভূমিকা অংশে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি একজন অসফল মানুষ। আমার আব্বা একজন দরিদ্র কিষান ছিলেন। ফলে অনেক নিগূঢ়তা ও নিষ্ঠুরতা অতিক্রম করে জীবন চলার পথে আমাকে চলতে হয়েছে, পার হতে হয়েছে অসর্পিল ও কণ্টকাকীর্ণ অনেক পথ। কিন্তু গন্তব্য আজো রয়ে গেছে অচিনপুরে। সব পথেরই নির্র্দিষ্ট একটা সীমানা থাকে। কিন্তু আমার জীবন চলার পথের যেন কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমি চলেছি তো চলেছি, না পেরিয়েছি সীমানা, না পেয়েছি গন্তব্য। জীবন চলার পথ অতিক্রম করে গন্তব্য পৌঁছাতে পারলে মানুষ অমরত্ব লাভ করে। অমরত্বে আমার লোভ ছিল না কোনোদিন। তাই হয়তো জীবনপথের দুর্গম সীমানা আমি আজো পার হতে পারিনি…।’
বলাবাহুল্য, একজন লেখক নিজের জীবনের গল্প নিজের জবানে বলার পর এর যে নিগূঢ় তাৎপর্য পাওয়া যায়, কাল্পনিক গল্পে তা পাওয়া যায় না। বাসার তাসাউফের এই বইয়ের গল্পে রূপকথার বয়ান নেই, আছে দরিদ্র এক কিষান পিতার ঘাম-জল সিঞ্চনের গল্প। নিতান্তই একজন ব্যর্থ মানুষের অপূর্ণতার গল্প। ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হয়েও বাঁক বদল করে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার গল্প।
যে মেঘে বৃষ্টি য় না
নিজেকে বিক্রি করতে পারা কিংবা বিক্রি করার চেষ্টা করা অথবা নিজের বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়ে বিশ্লেষণ করা এই সময়ের মুখচ্ছবি। সেখানে বাস্তব কিংবা কাল্পনিক চরিত্ররা একেকটি বিস্ময়! অন্ধকার ফুটপাত থেকে উঁচু মুখের থাবায় চলে যায় অন্ধ রেলগাড়ি। আর অতিরিক্ত ঘ্রাণে জড়িয়ে যায় মুদি থেকে গোরস্তান। মৃত্যুস্রোত ও গহীনের আলো আনন্দকে ডুবিয়ে দেয় চেহারার ঘনত্ব। তারপরও রক্তভ্রম, আহত কি-বোর্ড, শীতবইয়ের শর্তসমূহ ঘেউমারা পড়শি চোখের যাদুতে জেগে থাকে দীর্ঘপথ। পাশাপাশি হাঁটতে থাকা ছায়াগুলো কানে-মুখে ঢুকে যায়। আবার বেরিয়েও যায় উচ্চতায়, নিজস্বতায় অথবা নানা পরিচ্ছেদে। গল্পের বয়ানে উহ্য আছে এমন অনেক গোপন সাঁকো। পথ জুড়ে শর্তের ভেতরের চোখকে আবিষ্কার করার চেষ্টায় চারপাশে তৈরি হয়েছে খণ্ড খণ্ড দৌড়। ‘লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর’ গল্পগ্রন্থটি এমনই দশটি গল্প কিংবা দশটি পরিচ্ছেদে দাঁড়িয়ে আছে।
লাবণ্য দাশের সাথে দেখা হওয়ার পর
অনুপ্রাণনের চড়াই উৎরাই-
তরুণ লেখকদের শিল্প ও সাহিত্য চর্চার একটি মঞ্চ বা জমিন নির্মাণ করার কাজের অঙ্গীকার নিয়েই শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক, অনুপ্রাণন, যাত্রার সূচনা করেছিল। আজ দশ বছর পরে এসে যদি এই প্রশ্ন নিয়ে ফিরে তাকাই যে, এই অঙ্গীকার পূরণে অনুপ্রাণন কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে? অথবা, যদি প্রশ্ন রাখা যায় যে নবীন ও তরুণদের শিল্প-সাহিত্যের চর্চার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণনের মঞ্চ বা জমিনটাই বা কতটুকু প্রসারিত? প্রশ্নের জবাবে অনুপ্রাণনের সফলতা ও ব্যর্থতার একটা প্রতিবেদন হয়তো দেয়া যাবে কিন্তু সে চিত্রটিকে আমাদের সমাজের সামগ্রিক প্রেক্ষিত ও সেটার সাথে সম্পর্কিত মানবিক বোধের ধারায় শিল্প-সাহিত্যের চর্চার বাস্তব পরিধি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।
ব্যক্তিক প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠে সংগঠন এবং সুগঠিত সাংগঠনিক চেষ্টার মধ্য দিয়ে বস্তুগত শর্ত ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। যে শর্ত ও পরিবেশের উপর ভিত্তি করে ভৌত উন্নয়নের পাশাপাশি জনগোষ্ঠীর সৃজনশীল মন, মনন, উদ্ভাবন-মনস্কতা, নান্দনিক ও মানবিক বোধ জাগ্রত হতে পারে এবং সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধি অর্জন করা যেতে পারে। তাই, এই লক্ষ্য অর্জনের পথে যৎসামান্য অবদান হিসেবে অনুপ্রাণনের উদ্যোগে পরিচালিত সৃজনশীল শিল্প-সাহিত্য চর্চার কাজে আমাদের ব্যক্তিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা কতটুকু কার্যকর ছিল সেই মূল্যায়নের ভার অনুপ্রাণনের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের হাতে। এই বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থেকেছে।
বিগত প্রায় দশ বছরের ইতিহাসে অনুপ্রাণনের সম্পাদনা পরিষদ নানা ভাঙ্গা গড়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, যার ফলে প্রচেষ্টার প্রত্যাশিত গমনপথ ও গতিতে পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ অনুপ্রাণনের চলার পথ মসৃণ ছিল না। চড়াই, উৎরাই, অথবা কখনো বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই অনুপ্রাণনকে অগ্রসর হতে হয়েছে।
ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন এ-৪ সাইজের ১৬০টি পৃষ্ঠা নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। ছাপার পূর্ববর্তী কাজ, কাগজ ও প্রেসের খরচ প্রতিটির বিনিময় মূল্য ৳ ১৫০/- দিয়ে হিসাব করলে পুরোটা খরচ উঠে আসে না। কর্পোরেট হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অনুপ্রাণন, বিজ্ঞাপন সংগ্রহ ও তা প্রকাশ করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় নি। প্রথম থেকেই অনুপ্রাণনের সম্পাদকেরা কোন সম্মানী ছাড়াই একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখকেরাও কোন সম্মানী ছাড়াই লেখা দিচ্ছেন। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুপ্রাণনের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি করার প্রস্তাব জোরালো যুক্তি নিয়ে সামনে চলে আসছে। কিন্তু, অনুপ্রাণন ত্রৈমাসিক পত্রিকার বিনিময় মূল্য বাড়ালে পাঠকের উপর যে বাড়তি চাপ পরবে এই বিষয়েও অনুপ্রাণন সম্পাদনা পরিষদ সচেতন রয়েছে।
শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক, অনুপ্রাণন ১০ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা
কবি আব্দুল্লাহ্ জামিল সমকালীন বাংলা কবিতার একজন সনিষ্ঠ সাধক। একাধারে তিনি কবি, সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর কবিতা পাঠ এক ধরনের নিমগ্নতার ঘোরে পরিভ্রমণ করায়। বন্ধুত্ব বা আন্তরিকতার সুবাদে হোক, তাঁর প্রায় প্রতিটি গ্রন্থ ও কবিতা পাঠের সুযোগ হয়েছে। তাঁর কবিতার প্রধান প্রবণতা হলো, যেন তিনি কবিতায় স¤পূর্ণ নির্লিপ্ত থেকে অত্যন্ত বলিষ্ঠ উচ্চারণ করেন। অত্যন্ত কমনীয় সুরে গভীর ও উচ্চকিত বোধের চূড়ান্তে পৌঁছে দেন পাঠককে। তাঁর কবিতাগুলি আকারে ছোট কিন্তু বিষয় ও উচ্চারণে ব্যাপক প্রেক্ষাপট। গৌরী সিরিজ তাঁর কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তাঁর পাঠকগণ হয়তো অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে, এই গৌরী কবিকে আচ্ছন্ন করেছে। গৌরী সিরিজের প্রতিটি কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি স্বদেশ, সমাজ, বিশ্ব রাজনীতি থেকে মানবমন, একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা, প্রেম, বিরহ, বিষাদ কিংবা অসিÍত্ব-অনস্তিত্বের টানাপোড়েনও ধারণ
করেছেন। গৌরী সম্মুখে বসে নেপথ্যে রেখেছেন এক বিশাল কালখণ্ড, যা কবির ভাবনায়-মননে।
‘নির্বিকার কফির ঘ্রাণ’ গৌরী সিরিজের তৃতীয় পর্ব। এ গ্রন্থের কবিতাগুলো ঋজু, নির্মেদ ও সাবলীল।
ছন্দোবদ্ধ কবিতাগুলো কখনো কখনো প্রবল শক্তিশালী হয়ে কবির শক্তিকে ইঙ্গিত করেছে।
আব্দুল্লাহ্ জামিলের কাব্যভাষা সমসাময়িক ও শব্দ নির্বাচনে তিনি সতর্ক পরিব্রাজক। কবিতার মেটাফোর ও চিত্রকল্পগুলো নতুন ভাবনাতাড়িত কবির গভীর অনুধ্যান।
— কবি ওবায়েদ আকাশ
Nirbikar Kofir Ghran - Gouri series- 3
কবিতা নিয়ে আসলেই কি ভাবা যায় ! কী ভাবা যায় ! ধরুন, আপনি একটি গাছের নীচে বসে আছেন। সামনেই একটি বড় পথ। সেই পথ দিয়ে মানুষজন যাতায়ত করছে। আপনি বসে বসে দেখছেন। এই যে মানুষেরা গেল আসলো, তারা একেকটা পরিচ্ছেদ। একেকটা গোপন কুটুরি! এই কুটুরি আপনি খুলতে পারছেন না। আপনি তাদের চেনেন না। জানেন না। তাদের গন্তব্য কোথায়- তাও অজানা আপনার!
কবিতা সেরকমই। আপনার সামনে দিয়েই বয়ে যায়। আপনি দেখেন। ছুঁতে পারেন না। এক রহস্যঘোর আপনাকে পরিভ্রমণ করে।
কবিতার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। ব্যাখ্যা চাওয়াও যায় না। একটা করাত আমাকে কাটছে। আমি দ্বিখণ্ডিত- বহুখণ্ডিত হচ্ছি। এই বহুখণ্ডের ভেতরে সে আলোর ফোয়ারা আমাকে কাছে ডাকে, এগিয়ে নেয়— সেটাই পংক্তিঘোর। কবিতায় ঘোর না থাকলে তা ফ্যাকাশে লাগে। অনেকটা ঘ্রাণহীন পাপড়ির মতো।
আমার ‘নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’ প্রকাশ করছে বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রকাশনী সংস্থা ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন’। এর সত্ত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় আবু এম ইউসুফ ও তাঁর টিমকে বিনীত ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা, সবাইকে প্রীতি।
ফকির ইলিয়াস
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
নিউইয়র্ক
Nirbachito Premer Kabita by Faqir Eliyas
ইতালির বিখ্যাত লেখক আলবের্তো মোরাভিয়ার মোট আটটি গল্প এ বইটিতে অনূদিত হয়েছে। গল্পগুলি ইতালির গত শতকের প্রথম দিককার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনকে তুলে এনেছে। যেখানে দরিদ্রতা, প্রতারণা, ব্যক্তি মানুষের অবমাননা ও অসহায়ত্ব হাত ধরাধরি করে চলেছে। জীবন যেখানে এক কঠিন ধূসর সময়ক্ষেপনের প্রেক্ষাপট মাত্র। মোরাভিয়া নির্মোহ ভাষায় সেসব ব্রাত্য মানুষের জীবনকেই তুলে এনেছেন গল্পগুলিতে। গল্পগুলির পাত্রপাত্রী যেন আমাদের খুব চেনা। এখনও চারদিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই মোরভিয়ার গল্পগুলির চরিত্ররা আমাদের চারপাশে দীনহীন বিবর্ণ জীবনযাপন করে যাচ্ছে। এখানেই মোরাভিয়ার প্রাসঙ্গিকতা মূর্ত হয়ে রয়েছে।
The Clown by Alberto Moravia, translated by Amal Saha
একটা জাদুকরি কলম কিংবা ছোটোগল্পের জাদুর বাক্স আছে তাঁর- সেখান থেকে তিনি বের করেন একটার পর একটা গল্প। কুশলী কথাশিল্পী হিসেবে দিলারা মেসবাহ তার গল্পগুলোয় জীবনের খণ্ড খণ্ড আখ্যানের ভেতর দিয়ে সমগ্রতার যে সন্ধান কিংবা গন্তব্যের অভিপ্রায় নির্মাণ করছেন, শেষপর্যন্ত সেটাই হয়ে ওঠে মানুষের মানচিত্র- যার অপর নাম অবাক করা এক গল্পভুবন।
দিলারা মেসবাহ আমাদের কথাশিল্পের আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছেন বাতিঘরের মতোন। এখন সময় হয়েছে অনিবার্য। আশা করছি অনালোচনা অনাবিষ্কারের ঘেরাটোপ থেকে তাঁর অনুরাগী লেখক-পাঠকরা নিশ্চয়ই তাঁকে তুলে ধরবেন। তিনি হবেন সৃষ্টিগুণে মূল্যায়িত। তাঁর জন্য অপার শুভ কামনা।
Jahalam Gachir Gantobya - Dilara Mesbah
স্বপঞ্জয় চৌধুরী মূলত কবি হলেও কথাসাহিত্যে তার হাত বেশ পরিপক্ক। শুধু পরিপক্ক বললে ভুল হবে, আধুনিক ছোটগল্পের সকল বৈশিষ্ট্যই তার লেখায় বিদ্যমান। চিন্তাকে ভেঙেচুড়ে সে নতুন ফরম্যাট দাঁড় করতে সিদ্ধহস্ত। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলোর সাথে আমি বেশ পরিচিত। তার লেখায় রয়েছে মা, মাটি, প্রকৃতি, জাতীয় চেতনা ও নিম্নবর্গীয় মানুষের আর্তি। তিনি গল্প লেখেন জীবন ও বাস্তবতার অভিধায়। কল্পনার উচ্চস্তরে তিনি খুঁজে বেড়ান মানুষের না বলা নিগূঢ় কথার ধ্বনি। ‘মৃৎচক্রের দিনগুলি’ নাম ভূমিকার গল্পটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা। আমাদের জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্যকে তিনি এইগল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ষোলটি গল্প রয়েছে যা আমার মতো আপনাদেরও তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ^াস।
গৌতম তালুকদার
কবি ও গল্পকার
কোলকাতা, ভারত।
মৃতচক্রের দিনগুলো - Mritachakrer Dinguli
মুঠোর মধ্যে আটকে রাখা যায় জল বা বালু?
মুঠোর ফাঁক গলে বের হয়ে যাবেই বালু বা জল। কেনো? নিজস্ব ব্যাকরণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ছোটগল্প এমনই শক্তির অপরূপ রহস্য। লুকিয়ে রাখা যায় না গল্পের রসবতী ফল, পেকে টসটসে বুকের আস্তিনে তীক্ষè ছুরির গতিতে বের হয়েই আসে কলমের ডগায়, রুদ্ধ মনের দুয়ার খুলে।
রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র দ্বিতীয় গল্পের বই ‘অলৌকিক গৃহকোণ’। প্রথম গল্পের বই ‘ঘুঙুরবাড়ি’ বের হয়েছিল ২০২২ সালে। আঁকিয়ে শিল্পী হাতুড়ি বাটালী হাতে পাথরের বুকে খোদাই করেন বিম্বিত মনের অন্বয়, গল্পকার মণিও শব্দের কারুবাসনায়, কল্পমনের ইজেলে গল্পের ক্যানভাসে আঁকেন পীড়িত মনের আগুন সংরাগ, চলমান সময়ের বিদ্যুৎ কামনা ভৈরবী, সংসার যাতাকলের যন্ত্রনার শতকাহন, বৈরী সময়ের বিপরীতে সোনার বাটায় পান শুপারীর নি:স্ব সর্ম্পকের নির্যাস।
‘অলৌকিক গৃহকোণ’ গল্পগন্থের গল্পগুলো রক্তজবার তিল হয়ে জ্বলছে গল্পকারের অস্তিত্বের যাতাকলে যেমন, উল্টোপথে দগ্ধ পাঠকের মনের কার্নিসেও দিচ্ছে অনুগত শৌর্যবার্তা। বইয়ের নয়টি গল্প সহ¯্র দিগন্তের আলো ও অন্ধকারের এক প্রবাল দ্বীপ, যেখানে ওঠে ঝড়, ভাঙ্গে তীর, নাচে দানব, কাঁদে আয়াত দৃষ্টির অচলায়তন।
আসুন, রোখসানা ইয়াসমিন মণি’র গল্প পড়ি আর চেতনসমুদ্রের অলৌকিক জলে সাঁতার কাটতে থাকি…
Oloukik Grihokon - Rokshana Yesmin Mony
জখমগুচ্ছ
যে জখমের পা নেই, হাত নেই, তাকে
দেখাও যায় না। মূলত জখমেরও শরীর
থাকা চাই; বিশেষত হাত-পা
হাত পা থাকলে সারা শরীর ঘুরে ঘুরে
আস্ত তুলে আনতাম দুঃখবীজ
শরীরের শাখে শাখে, মননে, মস্তিষ্কে
পাঁজরের কোনায় কোনায়
চোখের কোটরে বসত করা যত ঘা
অথবা সিথানে পরিত্যাক্ত ভেজা বালিশের ঘ্রাণ
আস্ত তুলে আনতাম-
যদি জখমেরও শরীর বলে কিছু থাকতো
হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে আয়না বসিয়ে
ঝকঝকে আলোয় খুঁজে আনতাম বেদনার মীন
ওহে বেদনার মীন-ওহে জখম মাছ!
রগে রগে, পেশিগুল্মে থেকে একটু বাইরে এসে
একবার করে ঘুরে যেও-প্রতিদিন প্রতিরাতে
দেখবে কিছু বেদনা-
দুঃখ হয়ে সমুদ্র এসে মিশে গ্যাছে
সমুদ্র মিশে গ্যাছে বাঁ চোখের গর্তে-
চোখের ভেতর রুই কাতলার জটলা
চারদিকে আমার অথৈ জখম,হরেক রকম
জখমগুচ্ছ - Jokhomguccho
বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাস খুব পুরানো নয়, তবু এগিয়েছে পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে। আলাদা করে বলতে গেলে, বাংলাদেশের ছোটোগল্পের যে স্বকীয়তা তা বোধ করি সচেতন পাঠকগণ সহজেই অনুমান করতে পারেন। একুশ শতকের দুটি দশক পার হবার পরে বাংলা ছোটোগল্প এখন তার আধুনিকায়নের নতুন স্তরে পৌঁছে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এদেশর তরুণ গল্পকারেরা বিষয় নির্বাচনে গ্রাম্যজীবন ছেড়ে এখন হয়েছে নগরমুখী। আধুনিক নাগরিক জীবনের একাকিত্ব, অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রেম, হতাশা, চিন্তা চেতনা, যৌনতা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এসেছে ভিন্নতা। সেই নগর জীবনের একাকী মানুষ থেকে শুরু করে দেশের ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় গল্প হয়ে উঠে এসেছে ‘পিওর মশগ্রীন’ গল্পগ্রন্থে। এই এক মলাটে স্থান পেয়েছ মোট দশটি গল্প। দশটি গল্পের প্রতিটি গল্পকে আলাদা করা যায় তার বিষয় বৈচিত্রতায়। গল্পগুলোতে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশভাগ, করোনাকালীন সময়ে ব্রোথেলের অভ্যন্তরিন সংকট, রাজশাহী অঞ্চলের লোকসংগীত আলকাপ শিল্পীর অর্থনৈতিক দৈউলিয়াত্ব ও পর্ণগ্রাফির মতো বিষয়। গল্পের বিষয় ভিন্নতা ও তার আধুনিক উপস্থাপনের কারণে গল্পগুলো পাঠকের মনে এক দীর্ঘ চিন্তার খোরাক যোগাবে বলে মনে করি।
Pure Mossgreen - Abdullah Al Baky
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.




























There are no reviews yet.