Description
সন্তোষ কুমার শীল
১৯৭৩ সালে পিরোজপুর জেলার বাটনাতলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । বর্তমানে একই জেলার নাজিরপুর উপজেলায় শ্রীরামকাঠী বন্দরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্ত্রী কাজল বিশ্বাস জয়া এবং দুই সন্তান- সুস্মিতা ও শ্রেষ্ঠা-কে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন। নিভৃতচারী এই গল্পকার পেশায় একজন শিক্ষক। গান শোনা, বই পড়া এবং সাহিত্য চর্চায় সময় কাটানো এই লেখক বৈষম্যহীন, সুন্দর একটি পৃথিবীর স্বপ্নে মগ্ন থাকেন। তাঁর প্রকাশিত ছোটগল্পের সঙ্কলন- “স্বপ্নযাত্রা”, “প্রস্তরময়”, “অজেয়”, “বৃদ্ধ লোকটি ও একটা চারাগাছ”, “একটি স্বেচ্ছামৃত্যু ও কিছু রসিকতা”, “রবীন্দ্রনাথের বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন”, “লোকটা আইন ভঙ্গ করেছিল”।
উপন্যাস- “দুঃখ জয়ের গান”, “একাত্তরের কথকতা”, “মোহনায় যেতে যেতে” এবং রম্যগল্প “বিখ্যাত হবার টোটকা”।
লিটল ম্যাগ সম্পাদনা- “অন্বেষণ” ও “কালস্রোত”।
ইমেইল – santoshsheel.1605@gmail.com






































সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই কবির কাজ। কিন্তু এটা নেহায়েৎ সহজ কোনো কাজ নয়। এজন্য কবিকে সারা জীবন সাধনা করে যেতে হয়, হতে হয় দুঃসময়ের মখোমুখি আর কবি হয়ে ওঠেন সুন্দরের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সৌন্দর্য ক্রমেই সংক্রামিত হয়ে মানুষের মনের মন্দিরে রূপ লাভ করে।





‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’





There are no reviews yet.