Additional information
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.13 $ 1.88
চিত্রকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা সহযোগে রেজা রাজা’র কবিতায় চেতন ও অবচেতনের অদৃশ্য জগত মূর্ত হয়ে ওঠে। তাঁর কবিতা স্বপ্ন, কল্পনা, কামনা, বাসনার চিরন্তন প্রবৃত্তিকে অনন্য কাব্য ভাষায় প্রকাশ করে। অভিজ্ঞতার ঐশ্বর্যে ঋদ্ধ এসব কবিতা। যেন ঘোরলাগা মধ্যাহ্নের মাতাল মিউজিক বেজে ওঠে তাঁর পংক্তির পর পংক্তিতে। জাগতিক যন্ত্রণা আর অযথা হট্টগোলে অসহায় কবি রচনা করেন অনন্য কবিতা। প্রেম, কামনা, বাসনা, নস্টালজিক আবেগ, অনুভূতি কবিতার পরতে পরতে আলো ছড়ায়। কবিতাগুলি বেশির ভাগই বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত।
| Weight | 0.200 kg |
|---|---|
| Published Year |
আত্মমুগ্ধ শিকল
হাসানআল আব্দুল্লাহ। জন্ম: ১৪ই এপ্রিল, ১৯৬৭। গোপালগঞ্জ জেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি প্রবর্তন করেছেন নুতনধারার সনেট। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থর সংখ্যা দশ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিতার অনুবাদে প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবিতার কয়েকছত্র। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা, আঁধারের সমান বয়স, এক পশলা সময় প্রভৃতি। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স শহরের পোয়েট লরিয়েট ফাইনালিস্টের সন্মান পেয়েছেন।
বৃত্তের কেন্দ্রেও কবিতার মুখ
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
আবু জাঈদ। জন্ম: ২২শে জুলাই ১৯৮৩, ঢাকা। পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে একসময় কবি বাউণ্ডুলে জীবনের এলোমেলো আলপথে নেমে যান বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তাই বলে কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। এক সন্তানের জনক। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
মানচিত্রের ফাঁসি চাই
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
আলতাফ হোসেন-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪৯। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কৈশোর কেটেছে পাটনা, কলকাতা, চাটগাঁ, করাচি ও ঢাকায়। ১৯৬৪ থেকে পুরোপুরিভাবে ঢাকায় বসবাস। অনার্স ও এমএ করেছেন বাংলায়। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস, ঢাকা থেকে দু-বছর ফরাসি ভাষা শিখে সনদ পেয়েছেন।
কফি জেগে থাকে
অরণ্যক তপু। জন্ম: ১৯৯৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর, ঢাকার ঝিগাতলা। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলায়। বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
ব্যথিত ভায়োলিন
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
কিছু একটা বলাটাই যখন বাধ্যবাধকতাÑবাহুল্য এবং আপেক্ষিক বাতুলতা বাদ রাইখা মাহবুব লীলেন থাইকা ধার কইরা বলতে হয়Ñ ‘আনফিট মিসফিট হইয়া হামাগুড়ি দিয়া হাঁটি, আর রাত্তিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ টাইনা চিক্কুর দিয়া কইÑ যাহ শালা বাঁইচা গেলাম আরও একটা দিন।’
এইটা বড়োবেশি জৈবিক বাঁচা
মানবিক বাঁচনের স্বপ্নও দেখি না বহুদিন
বড়ো তরাসে আছি
বড়ো বেশি চাইপা আছি, নিজের গলা নিজে।
দ্বান্দ্বিক দ্বন্দ্ব বিষয়ক আজাইরা প্রলাপ
রনক জামান। জন্ম:১৬ই ডেসেম্বর ১৯৯১, মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায়। লেখালেখির হাতেখড়ি ছোটবেলাতেই কবিতার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই তার প্রতি ভালোবাসা। এটাই কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে, যৌথ কবিতাগুচ্ছ ‘মায়ানগরীর বৃষ্টিকথন’, কবিতার ই-বুক ‘শরীর ছোঁয়া আঙুলগুলো’ এবং অনুবাদ উপন্যাস ‘ললিতা’।
ঘামগুলো সব শিশিরফোঁটা
লেখক পরিচিতি :
হামীম ফারুক। পুরো নাম: গোলাম ফারুক হামীম। জন্ম: ২৪শে অক্টোবর, ১৯৬৩, ঢাকা। প্রথম তারুণ্যে কাজ করেছেন ইংরেজি পত্রিকা নিউ নেশন-এ। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে এখন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। মূলস্রোতের সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে একটানা লিখেছেন ১৯৮৭ পর্যন্ত। মাঝখানে বিরতি দিয়ে পুনরায় আগমন প্রথম কবিতার বই ‘রোদ ও ক্রোধ, মাঝখানে সাঁকো’ দিয়ে। একটি ই-বুক আছে, ‘নক্ষত্রের চিরকূট’। এটি লেখকের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
প্রকৃতি পুরাণ
সাহিত্য নিয়ে আমি ভাবি।এরমাঝে,কবিতা আমার আরাধ্য বিষয়।কবিতার বিশ্বমাঠে
আমি বিচরণ করতে ভালোবাসি। এই যে বিচরণ,তা থেকে অনেক পুষ্প,অনেক পাতা
আমি ঘরে তুলি। সেগুলো বার বার ফিরে দেখি।
এই যে চয়নপর্ব- তা থেকে আকর নিয়ে আমি লিখি আমার মতো করে।
বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য,কবিতার মাঝে আমি বাঙালি কবিদের প্রাধান্য এজন্যে দিই-
কারণ আমিও এই ভাষারই একজন লেখক।এই গ্রন্থে তেমনই কিছু প্রিয় লেখক,তাঁদের
লেখা, শিল্প-সংস্কৃতি-কবিতার বিভিন্ন জ্যোতিরেখা নিয়ে আমি লিখেছি।
‘যতিকল্পের প্রতিপৃষ্ঠা’-নামটি এক আধ্যাত্মিক আদেশে পাওয়া। কারণ এই বইয়ের নাম আমি চার বার বদলিয়েছি মনে মনে। যা সাধারণত আমি করি না। আমার বইয়ের নাম এক ভাবনায়ই ঠিক হয়ে যায়। এই বইটির নাম,একটি ঝলকের মাধ্যমে একটি শক্তি আমাকে পৌঁছে দিয়েছে। সে এক মহান অভিজ্ঞতা। এর বেশি এখানে শেয়ার করা সঙ্গত হবে না।
বইয়ে ৩৩টি প্রবন্ধ আছে। পাঠকসমাজ, পড়ে নিজের মত মিলিয়ে দেখতে পারেন। এই বইটি খুব যত্নের সাথে প্রকাশ করেছে- অনুপ্রাণন প্রকাশন,ঢাকা।
এর স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় আবু এম ইউসুফ ও তাঁর টিমের কাছে বিনীত কৃতজ্ঞতা।
সাহিত্য মানুষকে ভাবায়। আর সেই ভাবনার উদ্রেক করতে যারা কাজ করেন তারা সত্যিই মহান। আমাদের সকলের মহানুভবতা,সাহিত্যকে মানুষের আরও
কাছাকাছি নিয়ে আসুক।
সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা, এই গ্রন্থ থেকে অন্তত কিছু লেখা আপনাদের ভালো লাগলেই
আমার সার্থকতা ।
অনেক প্রীতি সবাইকে।
ফকির ইলিয়াস
২৮ ডিসেম্বর ২০২১
নিউইয়র্ক
যতিকল্পের প্রতিপৃষ্ঠা
অনুভূতিগুলো ভীষণ ব্যক্তিগত। তবু পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রই এই অনুভূতিগুলোর আকার দেয়। আবার বারবার এই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রই সেই অনুভূতিকে আঘাত করে। তাই গল্পগুলো ভীষণ ব্যক্তিগত হতে হতেও হয়ে ওঠে সমাজ, দেশ আর সময়ের প্রতিচ্ছবি। ভীষণ সহজ ভাবনাগুলোও আরও একবার ভাবিয়ে তোলে ভেতরে ভেতরে।
Diner Alor Govire - Sohel Mahroof
মাহবুব মিত্র বিশ্বাস করেন মানুষই শিল্প; মানবতাই ধর্ম। মানুষবিহীন পৃথিবী শস্যহীন প্রান্তরের মতো। তিনি মনে করেন সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ শিল্প মানুষের সৌন্দর্য। তাঁর প্রিয় বিখ্যাত দু’টি উক্তিÑ “মানুষ দেখার আনন্দে তুমি কখনো ক্লান্ত হয়ো না”, “ভুল মানুষের কাছে আমি নতজানু নই।” নীতির সাথে আপোসহীন চির প্রতিবাদী সতত ডানার মানুষ এক ক্লান্তিহীন গেয়ে যান ভালোবাসার গান, সমতার গান, মানবতার গান, সুন্দরের গান।
মাহবুব মিত্র বস্তুবাদী দার্শনিক মতবাদে বিশ্বাসী। আবার ভাববাদী দর্শনও মাঝে-মধ্যে তাঁকে ভাবায়। এই দুই মতবাদের ভিতর দিয়ে পথ হাঁটছেন। তিনি বুকে ধারণ করে আছেন সৃষ্টি জগতের সকল সুন্দরের নির্যাস। সাহিত্য ও শিল্পের বাগানে শব্দ বুনে-বুনে তৈরী করছেন মানব হৃদয়ের নৈবেদ্য। এই নিবিড় সংসারে একাকি নিঃসঙ্গ পথিক এক খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সৌন্দর্যের অবিরাম ধারাপাত। তিনি মানব হৃদয়ে খুঁজে বেড়ান সুন্দরের স্বর্গভূমি।
তিনি সর্বদা আশাবাদী একজন প্রাণবন্ত-প্রফুল্ল মানুষ। তুমুল অন্ধকারের মাঝে খুঁজে ফেরেন আলোর ফোয়ারা। মানুষ তখনই মৃত যখন তার ভিতরের আনন্দ মরে যায়। চিরন্তন সুন্দরের জন্য হাহাকার-আকাক্সক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধের উপলব্ধি, স্বতন্ত্র বোধের-চেতনার আলোয় উদ্ভাসিত তাঁর ভাবনার আকাশ। তাঁর সুকুমার কোমল প্রবৃত্তি আপন আলোয় ভাস্বর, দীপ্ত-শোভান্বিত, সদা জাগ্রত।
শাদা কফিনে মেঘের শব্দ
কামরুল ইসলাম
জন্ম: কুষ্টিয়ার ফিলিপ নগর গ্রামের গোলাবাড়ি পাড়ায়। পেশা: অধ্যাপনা (ইংরেজির অধ্যাপক)। বর্তমানে এইচ এস টি টি আই, রাজশাহীতে পরিচালক পদে ( প্রেষণে) কর্মরত আছেন। নব্বইয়ের দশকে চ‚ড়ান্তভাবে কবিতার জগতে প্রবেশ। তিনি একজন দ্বি-ভাষিক কবি। শালুক, একবিংশ, কবিতাপত্র, উলুখাগড়া, চিহ্ন, কালি ও কলম, অনুপ্রাণনসহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগ ও সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন। এছাড়াও বাক, শব্দকুঞ্জ, শিল্পচিন্তা, ঐহিক, তীরন্দাজসহ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অনেক ওয়েব ম্যাগাজিনেও তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
তার ইংরেজিতে লেখা কবিতা পৃথিবীর নানা দেশের ওয়েব ম্যাগাজিন ও অ্যান্থলজিতে প্রকাশিত হয়ে আসছে। ভারত ভিশন, অতুনিস পোয়েট্রি, ওয়ার্ল্ডপোয়েট্রি ম্যাগাজিন, পোয়েটস আনলিমিটেড, টাইফাস, কালচারাল রেভারেন্স, স্টার কাউন্টার ম্যাগাজিনসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় তার কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। স্প্যানিশ, ফরাসি, ইতালীয় ও রোমানীয় ভাষায় অন‚দিত হয়েছে তার অনেক কবিতা ।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
দ্বিধাান্বিত সুখে আছি যমজ পিরিতে (১৯৯৯), ঘাসবেলাকার কথা (২০০১), যৌথ খামারের গালগল্প (২০০৬)
সেইসব ঝড়ের মন্দিরা (২০০৮), চারদিকে শব্দের লীলা (২০১০) অবগাহনের নতুন কৌশল (২০১১),
মন্ত্রপড়া সুতোর দিকে হাওয়া, (২০১৪)।
প্রবন্ধগ্রন্থ-
কবিতার বিনির্মাণ ও অন্যান্য (২০০৯), রবীন্দ্রনাথ: বিচিত্রের দ‚ত (২০১৩)
কবিতার স্বদেশ ও বিশ্ব
ভিন্নরকম অলঙ্করণে, সেনসিটিভ ইমাজিনেশনের রিলে-জগৎ ও জীবনকে দেখার এক নৈর্ব্যক্তিক বিভঙ্গ আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে অরূপ কিষানের কবিতার আলপথজুড়ে, যার নহরপথে বহমান ইউফোনিক ভাবকল্পের প্রোজ মিউজিক। পাণ্ডুলিপি পড়াকালে সময়ে সময়ে অবাক হতে হয়েছে চকিত করার মতো ইনোভেটিভ সিমিলি-মেটাফরের অদেখা মঞ্জিমা দেখে। কবিতার প্রজেক্টরে চিন্তাদর্শনের প্রজেকশনে অরূপ কিষান দেখিয়েছেন ডিলিউশনে ভোগা, সিজোফ্রেনিয়ায় কাতরানো বিশ্বশক্তির অরূপ স্বরূপ, যেখানে ‘প্রেমিকাও স্তনে মেখে রাখে বিষ!’
কবি এই ‘সিটিগোল্ডের রাজ্যে’ নিজেকে আগন্তুক ভাবেন। মানুষের মহাফেজখানায় ঢুকে তিনি দেখতে পান, ‘আগুনলাগা বিমানের ন্যায় ধোঁয়া’ দিয়ে যাচ্ছে আমাদের শিক্ষা-বাণিজ্য-বিশ্বসংসার। তার মনে হয়, আমরা যেন পৃথিবীর গায়ে এক অটিজম। এই আলট্রা মডার্ন যুগে এসেও যেন আমরা তুমুল বর্বর। হাইব্রিড চেতনায় খেই হারিয়ে ফেলা এক প্রাণসত্তা। আমাদের তাড়ায় নিখোঁজ হচ্ছে কত প্রজাতির প্রাণী। আর কবির আত্মাও যেন ততই গুম হয়ে যাচ্ছে। কবি দেখছেন, আমরা এমন আধুনিক পাখি, যারা ‘পরাবাস্তব ওড়া’র ডানা নিয়েই খুশি, চলে যাই আইসোলেশনে। কবির চেতনায় আসে- বসন্ত দ্বিতীয়বার এলে কপালে প্রথমবারের মহিমাদাগ ফুটিয়ে তোলে।
প্রযুক্তির জাদুতে আজ খরগোশও যে ঘোড়া হয়ে যাচ্ছে, তা-ও কবির ফ্রেমবন্দি। অন্যদিকে ‘দুটো চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, একটা মাছ সাঁতার কাটছে অন্য মাছের দিকে’- এমন নান্দনিক ইমেজ আমাদের প্রেমচৈতন্যকে সজাগ করে তোলে। আর বিচ্ছেদের রূপও আসে এভাবে- অশ্রুভেজা চোখ যেন আঁশের জ্যাকেট-পরা মাছ। মিথ আসে ‘ডোমনির চুল’ বেয়ে, ‘কাহ্নপার রক্তে’ ভেসে। এভাবেই অরূপ কিষানের কবিতায় মানুষ, বিশ্বচেতনা, মিথোলজি হ্যাজাকের আলোর মতো সমবেত স্বরে জেগে ওঠে।
~ নকিব মুকশি
In the Errors, in the Travels - Orup Kishan
মধুপুরে ওরা গিদিমা রেমাদের মাগাস্তিনগর গ্রামে যাওয়ার পথে এক জায়গায় গাড়ি থামায়। ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ব্যাগ সব নিয়ে রওনা হয়। ওখানে সিরিন নকরেক ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। বন বিভাগের সৌজন্যে বনের ভেতরে রাস্তা তৈরি হয়েছে। সিরিন বলে, এই সব বন, সারি সারি শাল-সেগুন গাছ সব এক সময় আমাদের ছিল। আমরা তো বনেরই সন্তান।কিন্তু এ বন আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
রাকিব বলে, আগে যখন রাষ্ট্র ছিল না। একেক জাতি নানা গোত্রে গোষ্ঠিবদ্ধ হয়ে থাকতো তখন খাবার, পানি, ভূমির জন্য অন্য গোত্রের মানুষের সাথে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকতো। এখন আধুনিক রাষ্ট্র হয়েছে কিন্তু সেই কামড়া-কামড়ি রয়ে গেছে। এটা হয়তো চিরন্তন, চলতেই থাকবে। তবে মান্দিরা নিজের দেশে, নিজের ভূমিতেও নিজেদের অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এই আধুনিক রাষ্ট্রযন্ত্র বনের উপর ওদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ওরা তো বনের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বসবাস করে, কোনো ক্ষতি করে না। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা দেশটাকে শুধু নিজেদের সম্পত্তি ভাবতে শুরু করেছি। এখানে যে অন্য জাতি-ভাষার মানুষ আছে তা যেন গ্রাহ্যই করতে চাই না।
Paroshpor by Novera Hossain
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.









There are no reviews yet.