Additional information
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
$ 1.54 $ 2.06
চুরিবিদ্যা- শিল্পিত সুন্দর, যদি হয় বই চুরির দুপুর
বই চুরির দুপুর গড়িয়ে যে-রোদ পাক হতো বিকেল
তোমার জানালা তখন সুরতালে রোদেলা কত্থক
এই এক সম্ভাবনার কাছে বাঁশিটার আসতো জ্বর
হাতে থাকতো পাহাড়ি শরীর ছিঁড়ে আনা বুনোফুল
খেলতে গিয়ে মাঠের অনুমতি নিতে নেই
তাতে ঘাসের বয়স বেড়ে যায়
শিশিরের স্পর্শসুখ হতে বঞ্চিত করে শরীর
সব সম্ভাবনার কাছে অনুমতির প্রশ্ন এলেই, অবলীলায়
জানতে চাইতে- কিছু অসুখী ফুলের নাম
এক একটা গোটা-দুপুর কীভাবে হয় দুখি ফুল
সব আকাক্সক্ষার ফুলবাগানে বিকেল যেন মন্ত্রধাম
মন্ত্র জপি আমি বন্দনার বাগানে তৃষ্ণার্ত আঙুল
| Weight | 0.225 kg |
|---|---|
| Published Year |
নাহিয়ান ফাহিম। জন্ম: ২৩শে মার্চ, ১৯৮৪। ময়মনসিংহ জেলা। ঢাকাতে বেড়ে ওঠা। মূলতঃ পাঠক, ফলতঃ লেখক। সাহিত্য পত্রিকা ‘জলমাঝি’র সম্পাদক। মার্কেংটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর। পেশাগত জীবনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভিনদুপুরের নোটবই’।
মধ্যবিত্ত কবিতা
লেখক পরিচিতি :
শঙ্করী দাস। জন্ম: ৮ই মে, ১৯৫৮ সনে নিজ জেলা জামালপুরে। কবি প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থগুলোÑ গল্প: ‘প্রতিবিম্ব ও অন্যান্য গল্প’ ‘জলমাটির গল্প’ ও ‘রাহুর চন্দ্রগ্রাস’। কবিতাÑ ‘ঘাসবোনা গ্রাম তাঁতবোনা গ্রাম’। স্মৃতিচারণমূলকÑ ‘গণমানুষের স্মৃতিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’। গল্পের জন্যে পেয়েছেন পাক্ষিক ঐকতান (বর্ধমান) পত্রিকা পদক। শিশু কবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ও নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার।
বিহান বেলার ঈশ্বর
লেখক পরিচিতি :
প্রজ্ঞা মৌসুমী। জন্ম: এক শরতে দাদুবাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জে। ঊনিশ বছর থেকে পড়াশুনার জন্যে প্রবাস জীবন। এক এসাইনমেন্টের জন্যে প্রথম ইংরেজি কবিতা লিখার শুরু। প্রথম জীবনের কবিতাগুলো ইংরেজিতেই লেখা, কিন্তু মন আঁকুপাঁকু করে বাংলায় লিখতে; তারই ফলশ্রুতিতে আজকের প্রথম কবিতা ফসল ‘পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ’। লেখক কবিতা ও গল্প লিখে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার তাই বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জল আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার স্বপ্ন দেখেন অহর্নিশ।
পৌরাণিক রোদ এবং অতিক্রান্ত কাঠগোলাপ
মুর্শিদা জামান। জন্ম: ১৯৮৩ সনে বর্তমান বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণের খুলনা শহরে। বাংলায় অনার্স সহ এমএ করেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট কাগজ ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকাতে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি ও পশু-পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সখ্যতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত।
অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি
সৈয়দ সাইফুর রহমান সাকিব। জন্ম: ১৯৭৮ সালে বরিশাল জেলা সদরে করিমকুটির নামক স্থানে। তার লেখার বিষয় মূলতঃ কবিতা। সময় নাট্যদলের সাথে একযুগ পার করেছেন। গানও লিখতেন কিন্তু বন্ধুবরের প্রয়ানে, অভিমানে আর সেপথ মারাননি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকলেও নিজেকে একজন কবিতার শতরঞ্জি মোড়ানো শ্রমিক বলেই মনে করেন। এটি কবির প্রথম বই।
রূপোর দ্যুতি
দেবাশীষ ধর। জন্ম: ৫ই জানুয়ারি, ১৯৮৯। চট্টগ্রাম। কবিতার ছোটকাগজ ‘বাঙাল’ এর সম্পাদক। কবির এটি প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
ফসিলের কারুকাজ
কাজী রহমান। পরবাসী লেখক নিজের পছন্দ মতো বাঁচতে দু-যুগ আগে মার্কিন মুলুকে চলে আসেন স্ত্রী ও প্রথম শিশুকন্যা সাথে নিয়ে। বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া’য়। জ্ঞান হবার পরপরই নিজেকে আবিষ্কার করেছেন ঘরের পাশের গ্রন্থাগারে, বিভিন্ন শিশু সংগঠন আর সমাজসেবামূলক সংগঠনের আলোছায়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দুরন্ত কিশোর স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে আর আতঙ্কের দিন গুনেছেন সারাক্ষণ মুক্তিযোদ্ধা দু’ভাইয়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। গ্রাজুয়েশন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবন কেটেছে বিদেশী এয়ার লাইন্সের কর্মকর্তা হিসেবে।
তারাধুলো জল ও নস্টালজিয়া
আলী রেজা। জন্ম: ১৯৫৭। মুক্তিযুদ্ধে আলোড়িত কবি, সত্তর দশকে মূলত ছোটকাগজে লেখালেখি শুরু করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
আলী রেজা
মেঘ অদিতি। কবি ও গল্পকার হিসেবে ‘দু’বাংলাতে পরিচিত। জন্ম: ৪মে, জামালপুর। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জলডুমুরের ঘুম (কাব্য)’ ‘অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া (গল্প)’ ‘অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি (কাব্য)’ এবং ‘সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ (মুক্তগদ্য)।
প্রবেশিধকার সংরক্ষিত
তুহিন দাস, কবি ও লিটলম্যাগ কর্মী। জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৮৫, জল ও কবিতার শহর বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘সমাধিপৃষ্ঠা’। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা শুরু করেন। সম্পাদনার জন্যে ২০১১ সালে ‘চিহ্ন সন্মাননা’ পেয়েছেন। বর্তমানে ‘আরক’ পত্রিকা ও প্রকাশনায় কর্মরত আছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়, ‘বনসাই প্রকল্পের মানুষ’ ‘অসুখময় দিনরাত্রি’ ‘বিষাদনীলঘোড়া’ ‘কাজল বিক্রেতার স্বপ্ন’ ‘বাগান সিরিজ’ ও ‘দূরের পাড়া কাছের বাড়ি’।
কাঠের মুখ
আবু জাঈদ। জন্ম: ২২শে জুলাই ১৯৮৩, ঢাকা। পড়াশুনা অসমাপ্ত রেখে একসময় কবি বাউণ্ডুলে জীবনের এলোমেলো আলপথে নেমে যান বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তাই বলে কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। এক সন্তানের জনক। এটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই।
মানচিত্রের ফাঁসি চাই
লেখক পরিচিতি :
তানভীর আহমেদ হৃদয়। জন্ম: ৩ডিসেম্বর, ১৯৮৫ইং। মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ছড়া। এছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থের তালিকায় আছে কবিতা ও গল্প। লেখকের লেখা প্রতিনিয়ত দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।
অচেনা রৌদ্রের রঙ
এই বইয়ে চৌদ্দটি গল্প আছে। চৌদ্দটি গল্পে চৌদ্দ রকমের কাহিনি আছে- একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও মিল নেই। প্লট, চরিত্র ও বর্ণনায় আছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। সব গল্পই উত্তম পুরুষে লেখা হয়েছে, একটি বাদে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে মনোলগ। এটিই বাসার তাসাউফের লেখালিখির স্বতন্ত্র ধাঁচ। জীবনের গভীরে তার অনুসন্ধিৎসু অভিগমন আছে। তাই গল্প সাজাতে গিয়ে কাল্পনিক পথে খুব বেশি হাঁটতে হয় না। তাঁর গল্পের কাহিনিতে অভিনবত্ব, সুচারু ভাষাশৈলী, কাব্যিক বর্ণনা- ক্লান্তিকর পাঠের অস্বস্তিতে পড়তে হয় না পাঠককে। ঘটনা বর্ণনায় মেদ কিংবা অসংযত আবেগের প্রকাশ নেই। একই সঙ্গে কালাকাল, উত্তরণ-সন্তরণ অতিক্রম করে বাস্তবের গাছতলায় আশ্রয় নেয়। এখানেই বাসার তাসাউফের গদ্যভাষা ব্যতিক্রমী।
গল্পের বইয়ে একসঙ্গে কয়েকটা গল্প পড়া যায়। এতে সুবিধা যেমন আছে অসুবিধাও আছে। সুবিধা হলো- একটি দীর্ঘ স্কেপের মধ্যে বা দৃশ্যের পর দৃশ্য চিহ্নিত করতে করতে পাঠ চালিয়ে যাওয়া যায়। আর অসুবিধা, মনোটনি। তবে এই বইয়ের গল্পগুলোর বিষয়-বৈচিত্রের কারণে সেটা অতিক্রম হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতিটি গল্পের ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল। ছোট-ছোট শব্দ, বাক্য গঠন, উপমা, কাঠামো, কাহিনিতে বৈচিত্র ও অনুপম কাব্যিক গদ্য পাঠককে বুঁদ করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো। প্রথম গল্প ‘এলেন পোর বিড়াল হয়ে এসেছিল’ থেকে ‘ইউ টার্ন’, ‘কখনও মাস্টার হতে চাইনি’, ‘একই আকাশের নিচে’, ‘তৃতীয় প্রজন্ম’, ‘দিব্যনারী’, ‘চোখের মধ্য দিয়ে মনের ভেতরে’, কিংবা ‘বিষণ্ন স্মৃতির প্রসন্নতায়’ গল্পগুলোতে গদ্যের সরু সাঁকোতে স্বচ্ছন্দ হেঁটে বেরিয়েছেন লেখক, সঙ্গে পাঠকও হেঁটে যেতে পারে তরতর করে। এটাই বোধহয় সার্থক শিল্পের আয়না। যেখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার পাশাপাশি পাঠককেও দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
আদিমকালের গুহাচিত্রের সাংকেতিক রেখা নয়, আধুনিককাল বা উত্তরাধুনিককালের রিয়েলিজম বিমূর্ত ক্যানভাসে শিল্পের মৌলিকতা ও অভিনবত্ব প্রকাশিত হয়েছে এই বইয়ের গল্পগুলোতে।
Ghughur Mukhe Jolpai Pata - Basar Tasauf
গত তিনচার দশকে ছড়ার অনেক বাঁকবদল হয়েছে। ছড়া এখন বাঁধহীন বাহুল্য, অকারণ অলঙ্কার, অদরকারি আবেগ ছেড়ে ঝরঝরে, নির্মেদ হয়েছে। নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্যেও এসেছে পরিবর্তন। এখনকার স্মার্ট ছড়ালেখকের হাত দিয়ে নির্মিত হচ্ছে স্মার্ট সব ছড়া। হালকা চালে, রম্যের ভাষায় ছড়ায় বলা হচ্ছে সেইসব কথা যা সাহিত্যের অন্যকোনো শাখায় এত প্রাঞ্জলভাবে বলা হয় না। বলা যায় না।
সুমন শামসের ‘থলের বেড়াল’ এমনই একটি ছড়ার বই যেখানে এই সমাজের নানান অসঙ্গতি, অপূর্ণতা, অসততার কথা বলা হয়েছে হাস্যরসিকতার আবরণে, ছন্দের ভাষায়। ভ্রষ্ট্য রাজনীতিবিদ, নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষ, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, অসৎ ব্যবসায়ীসহ সকল ভণ্ডের বিরুদ্ধে ছড়াকার শব্দের তোপ দেগেছেন।
‘থলের বেড়াল’ পাঠককে হাসাবে, রাগাবে, ভাবাবে।
-ব্রত রায়
Tholer Biral - Sumon Shams
কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে, যার কোনো নাম হয় না; নামকরণও করা যায় না। এই নামহীন সম্পর্কগুলো আয়নায় লাগা জলের দাগের মতো লেগে থাকে। জল দিয়ে সেই দাগ মুছতে গেলে লেগে যায় আরো জলের দাগ। প্রতিবিম্বের গায়ে সেইসব জন্মদাগের মতো চিহ্ন রেখে যায়—সম্পর্ক এমনও হয়।
গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক নয়। কারো সঙ্গেই কোনো ঐক্য নেই। তবে এ অনৈক্যের মাঝেও এক আন্ত আছে বৈকি! ওরা সকলেই শিরোনামহীন-সম্পর্কে আবদ্ধ।
নামহীন মৃত্যুর শিরোনাম
নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতা আমার ভালো লাগে, এমনকি তার সাহিত্যিক তৎপরতাও আমার পছন্দের। কারণ কবি হওয়ার জন্য একজন মানুষের যতটা নিমজ্জন, পরিশুদ্ধতা দরকার- তার মধ্যে সেটা আছে। সামাজিক মাধ্যমেও আমি তাকে অনুসরণ করি, তার কবিতা পড়ি এবং সাহিত্যিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড লক্ষ করি। এবার তার ‘ভ্রূণফুল’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পড়তে গিয়ে এ ধারণা আরও প্রগাঢ় হলো। সত্যি সত্যি এই বইয়ের কবিতাগুলো আমায় মুগ্ধ করল। সচারচর অনেকে কবিতা লেখার ক্ষেত্রে পরিবেশ স্থানিকতা ভাষা এবং লৈঙ্গিক উপস্থিতি সঠিকমাত্রায় উপলব্ধি করতে পারে না; এতে কবিতায় কৃত্রিমতা ভর করে। কিন্তু মুন্নির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি, তার কবিতার বিষয়, ভাষাশৈলী বেশ জীবন্ত এবং ভাবের উদ্রেককারী। একটি গার্হস্থ্য জীবন, সমকালীন রাজনৈতিক জীবন, মানবচরিত্রের কপটতা- তিনি শব্দ, উপমা, উৎপ্রেক্ষার দ্বারা তুলে ধরেন; তাই বলে তিনি ভুলে যান না প্রাণ-প্রকৃতি, প্রেম-রিরংসা, মানবচৈতন্যের রূপবৈচিত্র্য। মুন্নির কবিতার মধ্যে, বাক্যবন্ধের মধ্যে, শিরোনাম ও ভাষাশৈলীর মধ্যে এক সপ্রাণতা রয়েছে- যা কাব্যপাঠককে সহজে উজ্জীবিত করতে পারে, ভাবের ঘরে নিয়ে যেতে পারে। যেমন তার দুএকটি কবিতার কথা উল্লেখ করা যায়- আঙুলের মদ গিলে কামনার খইফুল, গ্রাফিতি জীবন, রক্ত ফোটে গাছে গাছে, মুখোশ পরা দিন, আমার খেয়ালে ছেঁড়া মানচিত্র, কাটা মাদুলীর নিহত স্বর, ঠোঁট ও উদ্ভ্রান্ত বিকেল, জংলি ফুল, বউ হবো, চেনা মুখ অপরিচিত ছায়া। আমার বিশ্বাস কাব্যপাঠক নুরুন্নাহার মুন্নির কবিতার নান্দনিক উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হবেন না।
-মজিদ মাহমুদ
কবি ও প্রাবন্ধিক
Vrunful - Nurunnahar Munni
‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে- রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন। সহজ কথা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক আর সংবেদনার ভাষা, দর্শনের একরকম উন্মোচনই তো!
লীনা ফেরদৌস কবি এবং তার এই কবিতাগুলোর ভেতর শৈশবস্মৃতি, একাকীত্ব, নৈঃসঙ্গ্য-স্বরূপ আর দেশ-ভাবনা ডুব-সাঁতারের মতোই পাঠকের কাছে ধরা দেয়।
‘নদী আসলে নরম নয়-অভিমানের স্রোতে সব ভাসায়।‘
কিংবা-
‘নারীরাই হয়তো নীল আকাশ, প্রতিটি মেঘে লুকিয়ে আছে একটি অপেক্ষমান জন্ম।’
দুটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে লীনার এর আগে, এটি তৃতীয় বই-সম্ভাবনার একরাশ পাপড়ি ছড়ানো লীনার কবিতা। বইটির পাঠক-মনোযোগ আকৃষ্ট হোক প্রভূত পরিমাণে-এই প্রত্যাশা করাই যায় অনায়াসে।
Ataler Padmapuran - Lina Ferdows
বিশিষ্ট ছড়াকার, উপন্যাসিক, গবেষক, সম্পাদক প্রবীর বিকাশ সরকার এর জন্ম ১৯৫৯ সালে, বাংলাদেশের সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে। ১৯৭৬ সালে চাঁদের হাট সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক থাকাকালীন সাহিত্যচর্চার সূচনা। ১৯৮৪ সালে জাপান গমন। তার আরো ১১টি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে।
জানা অজানা জাপান (তৃতীয় খণ্ড)
কবি মনিকা মারইয়াম প্রেম এবং বিপ্লবের কবি। এ বিপ্লব প্রথাগত বিপ্লব নয়, এ বিপ্লব গোটা বিশ্বের কাঠামোগত সমাজ পরিবর্তনের। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায় তিনি বিপ্লবের এক অসাধারণ কঠিন সাহসী প্রতীক।
মানুষ, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য তিনি নিজেকে প্রতিশ্রুতিশীল লেখক মনে করেন। সৃষ্টি জগতের সকল প্রাণীর জন্য রয়েছে তার নিজস্ব অন্তর্গত দায়বদ্ধতা এবং মাতৃসুলভ কোমল মায়া।
ছন্দের সীমানা ভেঙে সাবলীল শব্দের গায়ে শব্দ বসিয়ে কবি শৈল্পিক দক্ষতার প্রয়াস দেখিয়েছেন “নীল সমুদ্রস্নানে” কাব্যগ্রন্থে। “রাষ্ট্র যখন বেওয়ারিশ বেশ্যা (প্রকাশিতব্য)” “পুঁজিবাদী ঈশ্বর এবং প্রেমিকা (প্রকাশিতব্য)”, “নিভৃত ছায়া ও মাতাল রোদের কনসার্ট (প্রকাশিতব্য)”।
ত্রিমাত্রিক এই কাব্যধারার নামকরণের মাধ্যমেই বোঝা যায় কবি কতোটা শক্তি ধারণ করে রেখেছেন নিজের ভেতরে। বিবেকবর্জিত, মূল্যবোধহীন এই ক্ষয়িষ্ণু সমাজের কালচিত্র তিনি অঙ্কন করেছেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বিশ্বস্ত উপমায়। পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল বাদ দিয়ে সাহিত্যের গভীর অরণ্যে একাকী হেঁটে চলা এক নিভৃতচারী পথিক তিনি। তার কলমের জাদুতে বাস্তবতা এবং পরাবাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রিত দ্যোতনার ঐশ্বরিক মায়াজাল পাঠককে কাব্যগ্রন্থের প্রথম থেকে শেষ অবধি এক ঘোরের মধ্যে নিমজ্জিত করে রাখবে। একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে কাব্যরস আস্বাদনে আমাকেও ধ্যানমগ্ন হতে হয়েছে এই কবিতার হেরাগুহায়।
কাজী সালাহউদ্দীন
সাবেক সাহিত্য সম্পাদক
বেতার বাংলা এবং দৈনিক আজাদ।
Neel Samudrasnane by Monika Mariyam
তমসা অরণ্য নামের ভেতরে যেন খুব ক্রূর, বিকারগ্রস্ত, নিকষকালো অন্ধকার এক বনাঞ্চলের বাস। সেখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটা প্রাণী প্রতিনিয়ত কামড়াকামড়ি করছে আর অন্ধকার বনাঞ্চল নিজে সেই কামড়াকামড়ি উপভোগ করছে। আমাদের সমাজও এ দশার ব্যতিক্রম নয়; এখানে ব্যক্তি নানান সমস্যায় জেরবার আর সমাজ সেই টানাপোড়েন দেখে যাচ্ছে নির্বিকারে। অবশ্য লেখক এ বইয়ে তাঁর গল্পগুলোয় সমাজ ও ব্যক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে এক ধরনের চিৎকার কিংবা ধিক্কার, বদল কিংবা কোন্দল তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছেন।
জীবন, মানুষ ও সমাজকে দেখার ব্যাপারে লেখকের নিজস্ব দর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গল্পগুলোয়। দক্ষ শিল্পীর হাতের সামান্য কাজও যেমন ফেলনা হয় না, তেমনি পরিশ্রমী ও নিবেদিত লেখকের লেখা বরাবরই পাঠককে সমৃদ্ধ করে। তাই একজন কবি যখন গল্পের জাদু ছড়িয়ে দেন, আমরা পাঠকেরা সেই জাদু দেখে মুগ্ধ হই। শেষ পৃষ্ঠায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে জাদু লেগে থাকে আমাদের চোখে, আঙ্গুলে। যেহেতু তমসা অরণ্যের লেখার নিজস্ব একটা ধরণ আছে, আশা করা যায় তিনি সেখানে টাইপড না হয়ে বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন। এখন দেখার বিষয়- এ বইয়ে লেখকের চিন্তার গভীরতা, দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং প্রাসঙ্গিক মেটাফোর পাঠককে কতটা নাড়া দিতে পারে।
Nai Santaner Janani - Tomosha Aronny
Get access to your Orders, Wishlist and Recommendations.















There are no reviews yet.