Description
অমল সাহা।
জন্ম- ১৫ জুলাই, ১৯৬৪। পড়ালেখা আর বড় হয়ে উঠেছেন চাঁদপুর শহরে। জীবন শুরু করেছেন পাইকারী চাল বিক্রেতা হিসাবে। স্বল্প সময়ের জন্য সিনিয়র মাদ্রাসায় শিক্ষকতা। লেখার দূর্নিবার আকাংক্ষাই টেনে আনে ঢাকা শহরে। সেই থেকে শুরু। জাতীয় পত্রিকাগুলিতে অসংখ্য গল্প এবং অনুদিত ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে সাইন্স ফিকশনও লিখতে পছন্দ করেন। লিখেছেন টেলিভিশনের জন্য ১২টি একক নাটক। এ পর্যন্ত ৩০ টি বই প্রকাশিত। এর মধ্যে, ইতালির বিখ্যাত লেখক আলবের্তো মোরাভিয়ার ২ টি অনুদিত ছোট গল্পের বই। ১ টি বড়দের উপন্যাস। ছোটদের ২ টি কিশোর উপন্যাস। ১টি রম্যসাহিত্য ও ১টি জোকস সংকলন। বাকীগুলো কিশোর গল্পগ্রন্থ ও শিশুদের পিকচার বুক। জাতীয় পত্রপত্রিকায় শতাধিক ছোটদের গল্প, কিছু ছড়া, বড়দের কবিতা, বড়দের গল্প, প্রবন্ধ, অগুনতি ফিচার এবং অন্যান্য লেখা প্রকাশিত। কিশোর গল্পগ্রন্থ, ‘সস্তায় হাতি কেনা’, ‘বিলু মামার দাঁত কপাটি’, ‘পঞ্চানন কাকুর গাড়ি’, ‘ড্রাম খিচুড়ি’, ‘ডাক্তারের পাল্লায়’, ‘মানচিত্র রহস্য’ অন্যতম। বিজ্ঞান বিষয়ে ‘বিজ্ঞানের যতো কথা’, সাইন্স ফিকশন ‘রেড মেসেজ’, ‘এলিয়েনের হাসি’, জীবনী গ্রন্থ, ‘আমাদের জাতির পিতা’, ‘Our Father of the Nation’, ‘ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’, ‘ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ অন্যতম। সর্বশেষ প্রকাশিত বড়দের গল্পগ্রন্থ ‘মৌসুমি বৃষ্টির গল্প’। প্যারিস ভিত্তিক ফরাসী-বাংলা দ্বি-ভাষিক একটি সাহিত্য পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন। চাকুরী করেছেন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ও জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থায়। কর্মসূত্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। ভ্রমণ করেছেন ইতালি, দুবাই ও ভারত।
সখ- লেখা ও দিবাস্বপ্ন দেখা, নিজের কথায়, দুটোই বিনে পয়সায়! প্রিয় কোটেশন- ম্যাক্সিম গোর্কির, “ম্যান ইজ ইউনিভার্সাল এসেন্স”।









































‘দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ কথাটা শুনে ভীষণ ভড়কে যায় আকলিমা। আরও কয়েকবার ফোন দিয়ে একই কথা শুনতে পায় সে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। বুকের খোড়লে শব্দ হয় দুমদুম। ভাবে, এ কোন পরীক্ষায় পড়লো সে। নানারকম চিন্তা মাথায় জট পাকায়। ছেলেটির কোনো বিপদ হলো না তো! না কি ইচ্ছে করেই তার সাথে এমনটি করছে সে। কিন্তু কেন করবে এমন? বিশ্বাস করতে পারে না আকলিমা। কিন্তু তার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে বহু ঘটনা ঘটে যেটার মীমাংসা মানুষ করতে পারে না। তাই খেয়ালে-বেখেয়ালে মানুষ মানুষকে নিয়ে খেলে আশ্চর্য সব ভয়ংকর খেলা। তবু আশা ছাড়ে না আকলিমা। অপেক্ষায় থাকে অদেখা ছেলেটির ফোনের জন্য। কিন্তু কিছু অপেক্ষার হয়তো শেষ থাকতে নেই। জীবনকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে ভারমুক্ত করতে চায়। নিজেকে ভাগ্যের ঘরে ঠেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পায় না সে। বায়বীয় এক সম্পর্কের টানে এতো দূর চলে আসা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ মাত্র। দূরে পশ্চিমে লাল সূর্যটা ঝুলে আছে মায়া লাগিয়ে। একপা দু’পা করে সামনে এগোয় সে। হাঁটতে হাঁটতে একটি পুলিশ বক্সের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ নিশ্বাস বাতাসে মিশে হু হু করে ছুটে পালাচ্ছে পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে। কড়া বিকালটা চুপ হয়ে নরম বিকেল হয়ে উঠেছে কেবল। দুজন কনস্টেবল তাকে ফলো করে কাছে এসে দাঁড়ায়। সাদারঙের পুলিশটা মাথা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাবে?’
There are no reviews yet.